সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে শাহপরান (রহ.)মাজারের প্রস্তুতি পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক সিলেট জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রস্তুতি, মঙ্গলবার সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি সচেতনতামূলক র‌্যালি উদ্বোধনকালে সিসিক প্রশাসক গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি নের্তৃবৃন্দকে ব্যবসায়ীদের মিষ্টিমূখ সিলেটে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫১ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ রাষ্ট্রপতিকে সিলেট সফর ও নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি জানালেন সিসিক প্রশাসক সিলেট ১ শিশুর মৃত্যু, প্রায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৬০ সিলেটে (এসএমপি) বিশেষ উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া ৫২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন

মাধবপুরে অপহরণকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ১২৫ বার পড়া হয়েছে

মাধবপুর প্রতিনিধি:

মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী সোয়াবই ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামে দুই চিহ্নিত মাদক কারবারিকে কেন্দ্র করে অপহরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনার জেরে গতকাল সোমবার সকালে তা সহিংস রূপ নেয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা রাজেন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা মাদক ব্যবসায়ী মাহফুজ মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করলে তার পাকা বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোয়াবই গ্রামের বাসিন্দা ফুয়াদ হাসান সাকিব ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মাহফুজ মিয়ার মধ্যে মাছের দিঘি নিয়ে কিছু দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে শনিবার রাতে গন্ধবপুর এলাকায় সাকিবের মাছের খামারে হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজেন্দ্রপুর মাহফুজ মিয়ার নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল সাকিবের খামারে গিয়ে ভাংচুর ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং সেখান থেকে সাকিবকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। সাকিবের স্বজন ও গ্রামবাসীর দাবি, ঘটনার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় সোয়াবই গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গত রবিবার রাতে গ্রামবাসীর উদ্যোগে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সাকিবকে উদ্ধারের দাবিতে গতকাল সোমবার সকালে রাজেন্দ্রপুর গ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী রাজেন্দ্রপুর গ্রামে গিয়ে সাকিবের সন্ধান করতে থাকে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মাহফুজ মিয়াকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যায়িত করে বাড়িতে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। আগুনে তার পাকা বসত ঘরের একটি অংশ পুড়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে কাশিমনগর ফাঁড়ি ও মাধবপুর থানা পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সোয়াবই গ্রামের বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, “সাকিবকে অপহরণের ঘটনায় পুরো গ্রামে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাকে উদ্ধারের জন্যই গ্রামবাসী রাজেন্দ্রপুরে গিয়েছিল। তবে সেখানে গিয়ে কিছু লোক উত্তেজিত হয়ে মাদক ব্যবসায়ী মাহফুজের বাড়িতে আগুন দেয়।

এদিকে অপহরণের শিকার সাকিবের পিতা সিরাজুল ইসলাম মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মাহফুজ মিয়ার দাবি তার পরিবার সাকিবের বিষয়ে কিছুই জানেনা। গতকাল সোমবার লোকজন তার বাড়িতে আগুন দিয়ে বিনা কারনে পুড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি আইনের আশ্রয় নিবেন বলে দাবি করেন। কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, “সাকিব নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। একই সঙ্গে মাহফুজ মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও তদন্ত করা হচ্ছে।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “অপহরণ ও অগ্নিসংযোগ দুই ঘটনাকেই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা হবে না। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মাধবপুরে অপহরণকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ

আপডেট সময় : ০২:১৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

মাধবপুর প্রতিনিধি:

মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী সোয়াবই ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামে দুই চিহ্নিত মাদক কারবারিকে কেন্দ্র করে অপহরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনার জেরে গতকাল সোমবার সকালে তা সহিংস রূপ নেয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা রাজেন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা মাদক ব্যবসায়ী মাহফুজ মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করলে তার পাকা বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোয়াবই গ্রামের বাসিন্দা ফুয়াদ হাসান সাকিব ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মাহফুজ মিয়ার মধ্যে মাছের দিঘি নিয়ে কিছু দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে শনিবার রাতে গন্ধবপুর এলাকায় সাকিবের মাছের খামারে হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজেন্দ্রপুর মাহফুজ মিয়ার নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল সাকিবের খামারে গিয়ে ভাংচুর ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং সেখান থেকে সাকিবকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। সাকিবের স্বজন ও গ্রামবাসীর দাবি, ঘটনার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় সোয়াবই গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গত রবিবার রাতে গ্রামবাসীর উদ্যোগে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সাকিবকে উদ্ধারের দাবিতে গতকাল সোমবার সকালে রাজেন্দ্রপুর গ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী রাজেন্দ্রপুর গ্রামে গিয়ে সাকিবের সন্ধান করতে থাকে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মাহফুজ মিয়াকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যায়িত করে বাড়িতে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। আগুনে তার পাকা বসত ঘরের একটি অংশ পুড়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে কাশিমনগর ফাঁড়ি ও মাধবপুর থানা পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সোয়াবই গ্রামের বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, “সাকিবকে অপহরণের ঘটনায় পুরো গ্রামে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাকে উদ্ধারের জন্যই গ্রামবাসী রাজেন্দ্রপুরে গিয়েছিল। তবে সেখানে গিয়ে কিছু লোক উত্তেজিত হয়ে মাদক ব্যবসায়ী মাহফুজের বাড়িতে আগুন দেয়।

এদিকে অপহরণের শিকার সাকিবের পিতা সিরাজুল ইসলাম মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মাহফুজ মিয়ার দাবি তার পরিবার সাকিবের বিষয়ে কিছুই জানেনা। গতকাল সোমবার লোকজন তার বাড়িতে আগুন দিয়ে বিনা কারনে পুড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি আইনের আশ্রয় নিবেন বলে দাবি করেন। কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, “সাকিব নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। একই সঙ্গে মাহফুজ মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও তদন্ত করা হচ্ছে।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “অপহরণ ও অগ্নিসংযোগ দুই ঘটনাকেই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা হবে না। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।