যেভাবে চুলের যত্ন নেন মালাইকা
- আপডেট সময় : ০৫:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১২০ বার পড়া হয়েছে
লাইফস্টাইল ডেস্ক ;
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হন সেসবের মধ্যে চুলের সমস্যা অন্যতম। ত্বকের উজ্জ্বলতা কমার পাশাপাশি চুল ঝরে পড়া ও পাতলা হয়ে যেতে থাকে অনেক নারীর।
সদ্য পঞ্চাশের ঘর পেরিয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা। তবে তাকে দেখলে তা বুঝার উপার নেই। নিজেকে ফিট রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা করেন তিনি। আর চুলের যত্নে তিনি পুরোপুরি নির্ভর করেন ঘরোয়া পদ্ধতিতে বানানো তেল ও মাস্কের ওপর।
চলুক আজকে জেনে নেওয়া যাক মালাইকার সেই তেল ও মাস্ক তৈরির উপকরণ ও পদ্ধতি সম্পর্কে।
কী কী লাগে সেই তেল বানাতে?
· একটি পাত্রে সমপরিমাণে নারকেল তেল, অলিভ অয়েল এবং ক্যাস্টর অয়েল নিন।
· এর মধ্যে এক মুঠো মেথি এবং কারিপাতা দিয়ে দিন।
· ভুলেও আগুনের আঁচে এই মিশ্রণ ফোটাতে যাবেন না। শিশির মুখ বন্ধ করে রেখে দিন বেশ কয়েকটি দিন।
· কিন্তু মাখার আগে অবশ্যই এটি গরম করে নিতে হবে। গোসলের আধ ঘণ্টা আগে মাথায় মেখে রাখতে পারেন। তার পর মাইল্ড কোনো শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।
নতুন চুল গজানোর জন্য বাড়িতেই বিশেষ এক ধরনের মাস্ক তৈরি করেন মালাইকা।
কী কী লাগে সেই মাস্ক তৈরি করতে?
· প্রথমে একটি পেঁয়াজ গ্রেট করে তা থেকে রস বার করে নিন।
· এ বার তুলোয় করে সেই রস নিয়ে পুরো মাথার ত্বকে মেখে ফেলুন।
· আধ ঘণ্টা রেখে দিন। তার পর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। মাথা থেকে পেঁয়াজের গন্ধ দূর করতে হলে পানিতে সামান্য ভিনিগার মিশিয়ে চুল ধুয়েও ফেলতে পারেন।
ভিটামিন ই ক্যাপসুল ব্যবহারে কমবে চুলের যেসব সমস্যা

ভিটামিন ই ক্যাপসুল ত্বকের জন্য উপকারী। ত্বকে পুষ্টি জোগাতে এই ভিটামিনের জুড়ি মেলা ভার। তবে শুধু ত্বক নয়, চুলেরও উপকারে আসে ভিটামিন ই ক্যাপসুল।
গবেষণা বলছে, ক্ষতিকর ইউভি বিকিরণ এবং দূষণ দ্বারা উৎপাদিত মুক্ত র্যাডিকেলগুলো দূর করতে সাহায্য করে ভিটামিন ই। জেনে নিন চুলের যত্নে কীভাবে ভিটামিন ই ক্যাপসুল ব্যবহার করবেন।
১. ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল মিশিয়ে নিন নারকেল তেল বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে। আমন্ড অয়েলের মতো তেলেও ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে চুলের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। এমনকি ঘনও হয় চুল।
২. অ্যালোভেরা জেল ব্লেন্ড করে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন।
৩. যেকোনো হেয়ার মাস্কে ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল মিশিয়ে নিন। এই হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলে চুলের আর্দ্রতা বজায় থাকবে। চুলের ক্ষয়ও প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
৪.একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল ছিদ্র করে সরাসরি ঘষে ঘষে লাগান মাথার ত্বকে। একটু সময় নিয়ে ম্যাসাজ করবেন। ১ ঘণ্টা পর ভেষজ শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুল ধুয়ে ফেলুন।
৫. চুলের আগা ফাটা দূর করার জন্য কয়েকটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল থেকে তেল সংগ্রহ করে হাতের তালুতে নিন। এবার চুলের আগায় লাগান এই তেল।
৬. ২ টেবিল চামচ টক দইয়ের সঙ্গে কয়েকটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল মেশান। মিশ্রণটি চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগিয়ে রাখুন ৪০ মিনিট। মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করে পরিষ্কার করে ফেলুন চুল।
৭. চুলে নিয়মিত হেয়ার সিরাম ব্যবহার করলে চুল মসৃণ ও ঝলমলে হয়। নারকেল তেল, জোজোবা অয়েলের সঙ্গে ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল মিশিয়ে সিরাম বানিয়ে নিন। দু’ফোঁটা করে এই সিরাম চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন।
৮. চার/পাঁচটি জবা ফুলের পাপড়ি ছেঁচে নিন। এতে দুটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল মেশান। প্যাকটি চুলে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
চুলের ক্ষতির কারণ যেসব খাবার
চুলের জন্য উপকারী খাবার খাওয়ার পাশাপাশি আরেকটি দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সেটি হলো, এমন সব খাবার বাদ দেওয়া বা এড়িয়ে যাওয়া যেগুলো চুলের ক্ষতি করতে পারে। কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো আপনার চুলের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। সেসব খাবার খেলে তা চুল শুষ্ক করে দিতে পারে। সেইসঙ্গে চুল ভেঙে যাওয়া বা চুলের আগা ফাটার মতো সমস্যা হতে পারে। আর চুল পড়া তো বেড়ে যায়ই। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেসব খাবার সম্পর্কে-
১. পরিশোধিত চিনি
পরিশোধিত চিনি হলো আমাদের খাওয়া খাবারের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ জিনিস। এটি কেবল স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যারই সৃষ্টি করে না, আমাদের চুলের ক্ষতিও করে। এর কারণ হলো, চিনি খাওয়ার ফলে রক্ত সঞ্চালন খারাপ হয়, চুলে এর প্রবাহকে প্রভাবিত করে এবং পুষ্টির শোষণ ব্যাহত হয়।
২. প্রক্রিয়াজাত খাদ্য
আপনি যদি স্বাস্থ্যকর চুল চান তবে প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এসব খাবারে উপস্থিত ট্রান্স ফ্যাট চুলের ফলিকলগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে চুল আরও দুর্বল হয়ে যায়। এটি ঘটলে তা মেলানিনের উৎপাদনকে সরাসরি প্রভাবিত করে। মেলানিন হলো স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য প্রয়োজনীয় একটি রঙ্গক।
৩. কাঁচা ডিমের সাদা অংশ
হ্যাঁ, কাঁচা ডিমের সাদা অংশও আপনার চুলের জন্য খারাপ হতে পারে! ভাবছেন, কেন? কারণ কাঁচা ডিম বায়োটিনের অভাব সৃষ্টি করতে পারে। বায়োটিন হলো একটি ভিটামিন যা কেরাটিন উৎপাদনে সহায়তা করে। সুতরাং, ডিম আপনার ডায়েটে একটি চমৎকার সংযোজন হলেও, নিশ্চিত করুন যে আপনি কাঁচা ডিমের সাদা অংশ খাচ্ছেন না।
এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চললে চুল ভালো রাখা সহজ হবে। সব ধরনের ভাজাপোড়া খাবার যতটা সম্ভব কম খাবেন। এর পরিবর্তে তাজা ফল ও শাক-সবজি বেশি করে খাবেন। নিয়মিত বাদাম খেলেও চুল সুন্দর থাকে। পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। এর পাশাপাশি চুলের যত্নে নিয়মিত তেল ও হেয়ারপ্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। এভাবে যত্ন নিলে চুল থাকবে সুন্দর ও ঝলমলে।




























