সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প সিলেটের সংবাদপত্র এজেন্ট এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ইসমাইলের মৃত্যুতে শোকবার্তা সিলেটে জলাবদ্ধতা নিরসনে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ – বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেট শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ডিসির দেয়া ৫ লাখ টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ১২ সদস্যের কমিটি গঠন কারবালার যুদ্ধে ইমাম হুসাইন (রাঃ) ও মাওলা আবুল ফজল আব্বাস আলামদার (আঃ)-এর শাহাদাত হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দানবাক্স বিতর্ক আর এক রহস্যময় বার্তা দিলেন সাবেক সিটি মেয়র ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমের বিত্তান্ত তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট মহানগর শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন,আরিফ সামাদ সভাপতি, মাহমুদুর রহমান সাধারণ সম্পাদক

ওসমানী বি মা ন ব ন্দ রে কাজ না করেই ‘লোপাট’ ২১২ কোটি টাকা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৫ ৯৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

২০২০ সালে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুরু হওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালে। কিন্তু সাড়ে ৪ বছরে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ২২ ভাগ। অথচ কাজ না করেই ২১২ কোটি টাকা তুলে নেয়া হয়েছে।

এমন অভিযোগে বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও বিমান মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মো. মুহিবুল হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার মামলাটি দায়ের করা হয়।

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের ৮১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছে।

জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে ২ হাজার ১১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ওসমানী বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো ও দেশি-বিদেশি ফ্লাইট চালুর জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়। যা ২০২০ সালের ২৭ আগস্ট কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ২৭ মের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে সাড়ে ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। বরং কাজ না করেই অগ্রিম বিল হিসেবে ২১২ কোটি টাকা ছাড় করিয়ে নেয়া হয়েছে। এই অভিযোগে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক।

মামলায় আসামিরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মো. মুহিবুল হক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব জনেন্দ্রনাথ সরকার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাবেক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান, বেবিচকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেক, সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. হাবিবুর রহমান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এরোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল আনাম, পরিচালক লুত্ফুল্লাহ মাজেদ, প্রকল্প পরিচালক মইদুর রহমান মো. মওদুদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপ-সচিব শাহ জুলফিকার হায়দার (বর্তমানে উপ সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়) এবং সাবেক যুগ্মসচিব মো. আনিছুর রহমান (বর্তমানে অতিরিক্ত সচিব)।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ কাজে স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে বেআইনি সুবিধা নিয়ে ও দিয়ে অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড কো-কন্ট্রাকটর হয়ে কার্যাদেশ পেয়ে তা বাস্তবায়নে নিয়োজিত থাকে। অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড দেশের বিমানবন্দরগুলোর কোনও প্রকল্পে সরাসরি, আবার কোনও প্রকল্পে বিদেশি কোম্পানির লোকাল এজেন্ট হয়ে কাজ করেছে। আইন ও চুক্তি লঙ্ঘন করে পরস্পর যোগসাজশে প্রকল্পগুলোর সামগ্রিক কাজে অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে সম্পৃক্ত করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাজিফ আহমদ সিলেটভিউ-কে বলেন, ২০২০ সালে শুরু হলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি। প্রকল্পের ২২ ভাগের চেয়ে একটু বেশি কাজ শেষ হয়েছে। কাজ বন্ধ থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, যেহেতু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে, সেহেতু একটা নিয়মের মধ্য দিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ওসমানী বি মা ন ব ন্দ রে কাজ না করেই ‘লোপাট’ ২১২ কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :

২০২০ সালে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুরু হওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালে। কিন্তু সাড়ে ৪ বছরে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ২২ ভাগ। অথচ কাজ না করেই ২১২ কোটি টাকা তুলে নেয়া হয়েছে।

এমন অভিযোগে বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও বিমান মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মো. মুহিবুল হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার মামলাটি দায়ের করা হয়।

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের ৮১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছে।

জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে ২ হাজার ১১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ওসমানী বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো ও দেশি-বিদেশি ফ্লাইট চালুর জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়। যা ২০২০ সালের ২৭ আগস্ট কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ২৭ মের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে সাড়ে ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। বরং কাজ না করেই অগ্রিম বিল হিসেবে ২১২ কোটি টাকা ছাড় করিয়ে নেয়া হয়েছে। এই অভিযোগে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক।

মামলায় আসামিরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মো. মুহিবুল হক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব জনেন্দ্রনাথ সরকার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাবেক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান, বেবিচকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেক, সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. হাবিবুর রহমান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এরোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল আনাম, পরিচালক লুত্ফুল্লাহ মাজেদ, প্রকল্প পরিচালক মইদুর রহমান মো. মওদুদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপ-সচিব শাহ জুলফিকার হায়দার (বর্তমানে উপ সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়) এবং সাবেক যুগ্মসচিব মো. আনিছুর রহমান (বর্তমানে অতিরিক্ত সচিব)।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ কাজে স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে বেআইনি সুবিধা নিয়ে ও দিয়ে অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড কো-কন্ট্রাকটর হয়ে কার্যাদেশ পেয়ে তা বাস্তবায়নে নিয়োজিত থাকে। অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড দেশের বিমানবন্দরগুলোর কোনও প্রকল্পে সরাসরি, আবার কোনও প্রকল্পে বিদেশি কোম্পানির লোকাল এজেন্ট হয়ে কাজ করেছে। আইন ও চুক্তি লঙ্ঘন করে পরস্পর যোগসাজশে প্রকল্পগুলোর সামগ্রিক কাজে অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে সম্পৃক্ত করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাজিফ আহমদ সিলেটভিউ-কে বলেন, ২০২০ সালে শুরু হলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি। প্রকল্পের ২২ ভাগের চেয়ে একটু বেশি কাজ শেষ হয়েছে। কাজ বন্ধ থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, যেহেতু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে, সেহেতু একটা নিয়মের মধ্য দিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে।