সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প সিলেটের সংবাদপত্র এজেন্ট এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ইসমাইলের মৃত্যুতে শোকবার্তা সিলেটে জলাবদ্ধতা নিরসনে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ – বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেট শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ডিসির দেয়া ৫ লাখ টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ১২ সদস্যের কমিটি গঠন কারবালার যুদ্ধে ইমাম হুসাইন (রাঃ) ও মাওলা আবুল ফজল আব্বাস আলামদার (আঃ)-এর শাহাদাত হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দানবাক্স বিতর্ক আর এক রহস্যময় বার্তা দিলেন সাবেক সিটি মেয়র ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমের বিত্তান্ত তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট মহানগর শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন,আরিফ সামাদ সভাপতি, মাহমুদুর রহমান সাধারণ সম্পাদক

সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক-হুমায়ূন রশিদ চত্বর থেকে ভোগান্তির শুরু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪১:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫ ৯০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

মহাসড়কের হুমায়ূন রশিদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক হয়ে ওঠেছে ভোগান্তির শুরু। এই দুই কিলোমিটারেই শুরু হয় ঢাকা পর্যন্ত আড়াইশ’ কিলোমিটারের যাত্রা ভোগান্তি। প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়ক দিয়ে সিলেট থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে একসময় সময় লাগতো ৫ থেকে ৬ ঘন্টা। এখন সময় লাগে প্রায় দ্বিগুণ। ৬ লেনে সম্প্রসারণের কাজ এবং স্থানে স্থানে খানাখন্দের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে মহাসড়কটি।

সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক হয়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে কয়েক হাজার গাড়ি। টার্মিনাল থেকে ছেড়ে গাড়িগুলো হুমায়ূন রশিদ চত্বর হয়ে চন্ডিপুল দিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। যাত্রার শুরুতেই চালক ও যাত্রীদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে। বছর খানেক আগেও সিলেট থেকে বাসযোগে ঢাকায় যেতে ৫-৬ ঘন্টা সময় লাগতো। এখন সময় লাগছে প্রায় দ্বিগুণ।

বিশেষ করে মহাসড়কের হুমায়ূন রশিদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক হয়ে ওঠেছে ভোগান্তির শুরু। এই দুই কিলোমিটারেই শুরু হয় ঢাকা পর্যন্ত আড়াইশ’ কিলোমিটারের যাত্রা ভোগান্তি। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণের কাজে ধীরগতির কারণেই এই ভোগান্তি বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয়রা।

মহাসড়কজুড়ে সম্প্রসারণ কাজ, স্থানে স্থানে খানাখন্দ ও ভাঙাচোরার জন্য ধীরগতিতে চলতে হয় যানবাহনকে। ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের কারণে বেড়েছে দুর্ঘটনাও। স্থানীয়রা জানান, ২০২২ সালের বন্যায় হুমায়ূন রশিদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থান তলিয়ে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। এরপর সড়ক ও জনপথ বিভাগ মাঝে মধ্যে জরুরি মেরামত কাজ করলেও স্থায়ী সংস্কার করেনি।

সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। সম্প্রতি সড়কের এক অংশ বন্ধ রেখে আরেক অংশে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে সওজ। ফলে গত প্রায় একবছর ধরে মহাসড়কের শুরুর এই দুইকিলোমিটার অংশ যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সড়কের পিচ ওঠে গেছে। এতে বেড়েছে আরও ভোগান্তি। বাস চালকরা জানিয়েছেন, হুমায়ূন রশিদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পর্যন্ত যেতে আগে ৫ মিনিট সময়ও লাগতো না। এখন সময় লাগে ৪০ মিনিট থেকে একঘন্টা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, হুমায়ূন রশিদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পর্যন্ত অংশের দুইপাশে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু ভাঙাচোরা সড়ক আর ধুলোবালুর কারণে প্রায় একবছর ধরে তারা ব্যবসা করতে পারছেন না। ভোগান্তির কারণে মানুষ মহাসড়কের ওই অংশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসতে চান না।

সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনের কাজ ধীরগতিতে চলায় মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। আগের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগছে গন্তব্যে পৌঁছাতে। খানাখন্দের কারণে বয়স্ক ও অসুস্থরা মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রায় আড়াইশ’ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট। যানজটে বসে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা।

সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমির হোসেন জানান, হুমায়ূন রশিদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পর্যন্ত বেশি ভাঙা অংশের একপাশের কাজ শেষ হয়ে গেছে। দু’একদিনের মধ্যে ওই অংশ খুলে দিয়ে অপর অংশে কাজ শুরু হবে। তিনি জানান, মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নিতকরণের জন্য সিলেটের নাজিরবাজার থেকে শেরপুর পর্যন্ত কাজ চলছে। যে কারণে ওই অংশে যাত্রী ভোগান্তি বেশি। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই দুর্ভোগ শেষ হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক-হুমায়ূন রশিদ চত্বর থেকে ভোগান্তির শুরু

আপডেট সময় : ০২:৪১:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার :

মহাসড়কের হুমায়ূন রশিদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক হয়ে ওঠেছে ভোগান্তির শুরু। এই দুই কিলোমিটারেই শুরু হয় ঢাকা পর্যন্ত আড়াইশ’ কিলোমিটারের যাত্রা ভোগান্তি। প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়ক দিয়ে সিলেট থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে একসময় সময় লাগতো ৫ থেকে ৬ ঘন্টা। এখন সময় লাগে প্রায় দ্বিগুণ। ৬ লেনে সম্প্রসারণের কাজ এবং স্থানে স্থানে খানাখন্দের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে মহাসড়কটি।

সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক হয়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে কয়েক হাজার গাড়ি। টার্মিনাল থেকে ছেড়ে গাড়িগুলো হুমায়ূন রশিদ চত্বর হয়ে চন্ডিপুল দিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। যাত্রার শুরুতেই চালক ও যাত্রীদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে। বছর খানেক আগেও সিলেট থেকে বাসযোগে ঢাকায় যেতে ৫-৬ ঘন্টা সময় লাগতো। এখন সময় লাগছে প্রায় দ্বিগুণ।

বিশেষ করে মহাসড়কের হুমায়ূন রশিদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক হয়ে ওঠেছে ভোগান্তির শুরু। এই দুই কিলোমিটারেই শুরু হয় ঢাকা পর্যন্ত আড়াইশ’ কিলোমিটারের যাত্রা ভোগান্তি। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণের কাজে ধীরগতির কারণেই এই ভোগান্তি বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয়রা।

মহাসড়কজুড়ে সম্প্রসারণ কাজ, স্থানে স্থানে খানাখন্দ ও ভাঙাচোরার জন্য ধীরগতিতে চলতে হয় যানবাহনকে। ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের কারণে বেড়েছে দুর্ঘটনাও। স্থানীয়রা জানান, ২০২২ সালের বন্যায় হুমায়ূন রশিদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থান তলিয়ে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। এরপর সড়ক ও জনপথ বিভাগ মাঝে মধ্যে জরুরি মেরামত কাজ করলেও স্থায়ী সংস্কার করেনি।

সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। সম্প্রতি সড়কের এক অংশ বন্ধ রেখে আরেক অংশে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে সওজ। ফলে গত প্রায় একবছর ধরে মহাসড়কের শুরুর এই দুইকিলোমিটার অংশ যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সড়কের পিচ ওঠে গেছে। এতে বেড়েছে আরও ভোগান্তি। বাস চালকরা জানিয়েছেন, হুমায়ূন রশিদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পর্যন্ত যেতে আগে ৫ মিনিট সময়ও লাগতো না। এখন সময় লাগে ৪০ মিনিট থেকে একঘন্টা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, হুমায়ূন রশিদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পর্যন্ত অংশের দুইপাশে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু ভাঙাচোরা সড়ক আর ধুলোবালুর কারণে প্রায় একবছর ধরে তারা ব্যবসা করতে পারছেন না। ভোগান্তির কারণে মানুষ মহাসড়কের ওই অংশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসতে চান না।

সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনের কাজ ধীরগতিতে চলায় মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। আগের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগছে গন্তব্যে পৌঁছাতে। খানাখন্দের কারণে বয়স্ক ও অসুস্থরা মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রায় আড়াইশ’ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট। যানজটে বসে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা।

সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমির হোসেন জানান, হুমায়ূন রশিদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পর্যন্ত বেশি ভাঙা অংশের একপাশের কাজ শেষ হয়ে গেছে। দু’একদিনের মধ্যে ওই অংশ খুলে দিয়ে অপর অংশে কাজ শুরু হবে। তিনি জানান, মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নিতকরণের জন্য সিলেটের নাজিরবাজার থেকে শেরপুর পর্যন্ত কাজ চলছে। যে কারণে ওই অংশে যাত্রী ভোগান্তি বেশি। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই দুর্ভোগ শেষ হবে না।