সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু,নগরবাসীর সহযোগিতা চাইলেন সিসিক প্রশাসক আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার- শিক্ষামন্ত্রী লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প সিলেটের সংবাদপত্র এজেন্ট এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ইসমাইলের মৃত্যুতে শোকবার্তা সিলেটে জলাবদ্ধতা নিরসনে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ – বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেট শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ডিসির দেয়া ৫ লাখ টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ১২ সদস্যের কমিটি গঠন কারবালার যুদ্ধে ইমাম হুসাইন (রাঃ) ও মাওলা আবুল ফজল আব্বাস আলামদার (আঃ)-এর শাহাদাত হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দানবাক্স বিতর্ক আর এক রহস্যময় বার্তা দিলেন সাবেক সিটি মেয়র ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

স্থাপনায় জং ধরছে হাজার কোটি টাকার দেশের প্রথম সিমেন্ট কারখানা ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী ২০২৫ ২১৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি :

দেশের প্রথম সিমেন্ট কারখানা সিলেটের ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি। যা সুরমা নদীর তীরে ১৯৪১ সালে আসাম বেঙ্গল সিমেন্ট কোম্পানি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু দেশের প্রাচীনতম এই ফ্যাক্টরি প্রধান কাঁচামাল গ্যাস ও চুনাপাথরের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না। ফলে ধীরে ধীরে জং ধরছে হাজার কোটি টাকার ছাতক সিমেন্ট কারখানায়।

এক হাজার ৪১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে ‘ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদন পদ্ধতি ওয়েট প্রসেস থেকে ড্রাই প্রসেসে রূপান্তরকরণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প। চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মোট ব্যয় হয়েছে ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এই কারখানার নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়েছে দেড় বছর আগে।

কিন্তু প্রধান কাঁচামাল গ্যাস ও চুনাপাথরের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কারখানাটি। ভারত থেকে চুনাপাথর আনার জন্য দুই দেশে রোপওয়ে (খুঁটি পুঁতে তারের মাধ্যমে পথ তৈরি করে চুনাপাথর আনার পদ্ধতি) নির্মাণ করা হয়নি। এমনকি সিলেট থেকে কারখানা পর্যন্ত গ্যাস আনার জন্য নতুন সঞ্চালন লাইনও স্থাপন করা হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে জং ধরছে হাজার কোটি টাকার ছাতক সিমেন্ট কারখানায়। জং ধরা থেকে কারখানাকে রক্ষা করতে নিয়মিত ‘ট্রায়াল রান’ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, ২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাস মহামারির সময় ভারত চুনাপাথর রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলে কারখানাটি কাঁচামালের অভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও ভারত সরকার কেএলএমসির নিবন্ধন নবায়ন না করায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে চুনাপাথর আসা বন্ধ থাকে। যদিও এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত চুনাপাথর আমদানির চুক্তি ছিল ছাতক সিমেন্ট কারখানার। এখন আমদানির বিষয়টি নির্ভর করছে কেএলএমসির অনুমোদন পাওয়ার ওপর।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) জানান যে, চুক্তির কোনো অংশে পরিবর্তন করতে হলে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সাধারণ ঠিকাদার অথবা রোপওয়ে কাজের জন্য সাধারণ ঠিকাদারের নিয়োগ করা উপ-ঠিকাদারের মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদন করা যেতে পারে।

নতুন পাইপলাইন নির্মাণের কাজই শুরু হয়নি সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমস লিমিটেড (জেজিটিডিএসএল) এত দিন ছাতক অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের মূল লাইন থেকে ছাতক সিমেন্ট কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করত। কিন্তু নতুন কারখানায় যে পরিমাণ গ্যাস লাগবে, তা এ লাইন থেকে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই কারখানাটি চালু করতে গ্যাস সরবরাহের জন্য আলাদা সংযোগ লাইন লাগবে। কিন্তু কারখানাটি স্থাপনে যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়, তাতে গ্যাসলাইন স্থাপনের বিষয়টি ছিল নয়। সর্বশেষ প্রকল্পটির মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর যে প্রস্তাব তৈরি করেছে, সেখানে ৪৩ কিলোমিটার নতুন গ্যাসলাইন স্থাপনের জন্য ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিসিআইসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) গাজী কামরুল হোসেন বলেন, কারখানার কাজ শতভাগ সম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু ভারত থেকে চুনাপাথর আনার পথ এখনও তৈরি হয়নি। ভারতের অনুমতি মেলেনি। বাংলাদেশের কাজ চলছে। ভারতের অংশের কাজের চুক্তি হয়েছে। রোপওয়ের কাজ করবে চীনা কোম্পানি। এজন্য রাজি হচ্ছে না ভারত। ভারত চীনের সঙ্গে চুক্তি করবে না। নানান টানাপোড়েন হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক যাচ্ছে না। এতে নতুন সমস্যা হচ্ছে।

কামরুল হোসেন বলেন, ‘এটা একটা শঙ্কার কারণ। দীর্ঘদিন কোনো যন্ত্রপাতি পড়ে থাকলে জং ধরাটা স্বাভাবিক। মূল কারখানার কাজ হয়ে গেছে। গ্যাসলাইন টানতে হবে, টাকাও পেয়েছি। কিন্তু গ্যাসের অনুমতি মিলছে না। যন্ত্রপাতি জং ধরা ঠেকাতে আমরা ১৫ দিন পর পর সচল রাখছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

স্থাপনায় জং ধরছে হাজার কোটি টাকার দেশের প্রথম সিমেন্ট কারখানা ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি

আপডেট সময় : ০৪:০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী ২০২৫

নিজস্ব প্রতিনিধি :

দেশের প্রথম সিমেন্ট কারখানা সিলেটের ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি। যা সুরমা নদীর তীরে ১৯৪১ সালে আসাম বেঙ্গল সিমেন্ট কোম্পানি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু দেশের প্রাচীনতম এই ফ্যাক্টরি প্রধান কাঁচামাল গ্যাস ও চুনাপাথরের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না। ফলে ধীরে ধীরে জং ধরছে হাজার কোটি টাকার ছাতক সিমেন্ট কারখানায়।

এক হাজার ৪১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে ‘ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদন পদ্ধতি ওয়েট প্রসেস থেকে ড্রাই প্রসেসে রূপান্তরকরণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প। চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মোট ব্যয় হয়েছে ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এই কারখানার নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়েছে দেড় বছর আগে।

কিন্তু প্রধান কাঁচামাল গ্যাস ও চুনাপাথরের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কারখানাটি। ভারত থেকে চুনাপাথর আনার জন্য দুই দেশে রোপওয়ে (খুঁটি পুঁতে তারের মাধ্যমে পথ তৈরি করে চুনাপাথর আনার পদ্ধতি) নির্মাণ করা হয়নি। এমনকি সিলেট থেকে কারখানা পর্যন্ত গ্যাস আনার জন্য নতুন সঞ্চালন লাইনও স্থাপন করা হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে জং ধরছে হাজার কোটি টাকার ছাতক সিমেন্ট কারখানায়। জং ধরা থেকে কারখানাকে রক্ষা করতে নিয়মিত ‘ট্রায়াল রান’ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, ২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাস মহামারির সময় ভারত চুনাপাথর রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলে কারখানাটি কাঁচামালের অভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও ভারত সরকার কেএলএমসির নিবন্ধন নবায়ন না করায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে চুনাপাথর আসা বন্ধ থাকে। যদিও এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত চুনাপাথর আমদানির চুক্তি ছিল ছাতক সিমেন্ট কারখানার। এখন আমদানির বিষয়টি নির্ভর করছে কেএলএমসির অনুমোদন পাওয়ার ওপর।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) জানান যে, চুক্তির কোনো অংশে পরিবর্তন করতে হলে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সাধারণ ঠিকাদার অথবা রোপওয়ে কাজের জন্য সাধারণ ঠিকাদারের নিয়োগ করা উপ-ঠিকাদারের মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদন করা যেতে পারে।

নতুন পাইপলাইন নির্মাণের কাজই শুরু হয়নি সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমস লিমিটেড (জেজিটিডিএসএল) এত দিন ছাতক অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের মূল লাইন থেকে ছাতক সিমেন্ট কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করত। কিন্তু নতুন কারখানায় যে পরিমাণ গ্যাস লাগবে, তা এ লাইন থেকে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই কারখানাটি চালু করতে গ্যাস সরবরাহের জন্য আলাদা সংযোগ লাইন লাগবে। কিন্তু কারখানাটি স্থাপনে যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়, তাতে গ্যাসলাইন স্থাপনের বিষয়টি ছিল নয়। সর্বশেষ প্রকল্পটির মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর যে প্রস্তাব তৈরি করেছে, সেখানে ৪৩ কিলোমিটার নতুন গ্যাসলাইন স্থাপনের জন্য ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিসিআইসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) গাজী কামরুল হোসেন বলেন, কারখানার কাজ শতভাগ সম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু ভারত থেকে চুনাপাথর আনার পথ এখনও তৈরি হয়নি। ভারতের অনুমতি মেলেনি। বাংলাদেশের কাজ চলছে। ভারতের অংশের কাজের চুক্তি হয়েছে। রোপওয়ের কাজ করবে চীনা কোম্পানি। এজন্য রাজি হচ্ছে না ভারত। ভারত চীনের সঙ্গে চুক্তি করবে না। নানান টানাপোড়েন হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক যাচ্ছে না। এতে নতুন সমস্যা হচ্ছে।

কামরুল হোসেন বলেন, ‘এটা একটা শঙ্কার কারণ। দীর্ঘদিন কোনো যন্ত্রপাতি পড়ে থাকলে জং ধরাটা স্বাভাবিক। মূল কারখানার কাজ হয়ে গেছে। গ্যাসলাইন টানতে হবে, টাকাও পেয়েছি। কিন্তু গ্যাসের অনুমতি মিলছে না। যন্ত্রপাতি জং ধরা ঠেকাতে আমরা ১৫ দিন পর পর সচল রাখছি।