সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিসিক প্রশাসকের সঙ্গে সেলফ্লেস ইউকের চিকিৎসক দলের সাক্ষাৎ সিলেট নগরীতে সড়ক ও জনপথ সব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পর্যায়ক্রমে এ গ্রেডে উন্নীত করা হবে- এমপি মুক্তাদির জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা মহোৎসবের আলোচনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসন নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে- ডা. শফিকুর রহমান সিলেটে বেসরকারি হাসপাতাল ও একটি হোটেলকে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা সিলেটের সেফওয়ে সিলগালা, স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোক সতর্কবার্তা সিলেট র‌্যাবের অভিযানে পুলিশের টিয়ারগ্যাস গ্রেনেড উদ্ধার চীন রেললাইনকে ডুয়েলগেজ রেললাইনে রূপান্তর প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ সিলেট মহানগরীর বাদামবাগিচা এলাকা পরিদর্শনে (সিসিক)কাইয়ুম চৌধুরী সিলেটে নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ সারোয়ার

সিলেটের জকিগঞ্জ সুরমা-কুশিয়ারার জন্য ১৭৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৫:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৪ ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

ভারত থেকে স্রোতস্বীনি বরাক নদী সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার আমলশীদ এসে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। সুরমা-কুশিয়ারা নামধারণ করে বয়ে চলেছে দুইদিকে। নদী দুটি সীমান্ত নদী হিসেবে, আবার কখনো বাংলাদেশের অভ্যন্তর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বর্ষায় ফুলেফেঁপে ওঠা নদী দুটির পানি তলানিতে ঠেকে শীতমৌসুমে। আর এই সময় শুরু হয় ভাঙন। এবার শুষ্কমৌসুমের শুরুতেই সুরমা-কুশিয়ারার অন্তত অর্ধশতাধিক স্থানে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। নদীগর্ভে ভিটেমাটি, ফসলিজমি, হাট-বাজার, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। ভাঙন ও বন্যারোধে দুই নদীর সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও নাব্যতা বৃদ্ধিতে ১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প তৈরি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। শিগগির এই প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পাউবো কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। এবার ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে জকিগঞ্জ উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে। এর মধ্যে জকিগঞ্জ পৌর এলাকার কেছরি, মাইজকান্দি, জকিগঞ্জ বাজার, ছয়লেন, নরসিংহপুর ও হাইদ্রাবন্দ গ্রাম রয়েছে ভাঙনের ঝুঁকিতে। এছাড়া উপজেলার যেসব গ্রামের লোকজন ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সেসব এলাকার মধ্যে রয়েছে- খলাছড়া ইউনিয়নের ভুঁইয়ারমুড়া, পশ্চিম লোহারমহল, কাপনা, গাগলাজুর, সোনাপুর, বেউর, সদর ইউনিয়নের ছবড়িয়া, মানিকপুর, বাখরশাল, শষ্যকুঁড়ি, রারাই, সুলতানপুর ইউনিয়নের খাদিমান, অজরগ্রাম, সুলতানপুর, ইছাপুর, গঙ্গাজল, ভক্তিপুর, সহিদাবাদ, রহিমপুর, বারঠাকুরী ইউনিয়নের পিল্লাকান্দি, উত্তরকুল, লাড়িগ্রাম, আমলশীদ, বারঠাকুরী, বিন্নাপাড়া, ছালেহপুর, কসকনকপুর ইউনিয়নের বলরামেরচক, হাজিগঞ্জ, মুন্সিপাড়া, মিয়াগুল, চেকপোস্ট, মৌলভীরচক, বিয়াবাইল, ইনামতি, মানিকপুর ইউনিয়নের হরাইত্রিলোচন, আকাশমল্লিক, বাল্লা, রঘুরচক, কাজলসার ইউনিয়নের নালুহাটি, বড়বন্দ, আটগ্রাম, বারহাল ইউনিয়নের চক, নিজগ্রাম, পুটিজুরি, চককোনাগ্রাম, নোয়াগ্রাম, বিরশ্রী ইউনিয়নের সোনাপুর, পিয়াইপুর, পীরনগর, ল²ীবাজার, বড়চালিয়া, উজিরপুর, কোনাগ্রাম, মাজরগ্রাম, লাফাকোনা, বড়পাথর, জামডহর, সুপ্রাকান্দি।

সূত্র জানায়, কুশিয়ারার ৪১ কিলোমিটার সীমান্ত নদী। প্রতিবছর বাংলাদেশ প্রান্ত ভেঙে বড় বড় চর জাগছে ভারত অংশে। এতে ভিটেমাটিহারা হচ্ছেন বাংলাদেশ অংশের মানুষ, অন্যদিকে চর এলাকা ভোগ করছে ভারত।

জকিগঞ্জ সদরের ছবড়িয়া গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আব্দুল মুকিত বলেন, ‘আমাদের গ্রামের বহু পরিবার নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যের বাড়িতে থাকছেন। ভাঙন এখনো থামেনি, গ্রামের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।’

জকিগঞ্জ পৌর এলাকার কেছরী গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘ছোটবেলায় কুশিয়ারা নদী জকিগঞ্জ বাজার থেকে অনেক দূরে দেখেছি। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে জকিগঞ্জ বাজারের অনেক জায়গা নদীগর্ভে চলে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় জকিগঞ্জ বাজার হারিয়ে যাবে।’

পাউবো  সিলেট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, সুরমা-কুশিয়ারার ভাঙন ও বন্যারোধে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দুই নদীর ১০৫ কিলোমিটার ড্রেজিং ও ৮ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত করা হবে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি প্রায় প্রস্তুত হয়ে গেছে, শিগগির মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। বাংলাদেশ প্রান্তে ভাঙন ও ভারত অংশে চর জেগে ওঠা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অংশে নদীর পাড়েই জনবসতি। আর সকল বাড়িতেই পুকুর রয়েছে। পুকুরের সাথে নদীর সংযোগ থাকায় মাটি ও বালু নিচে নেমে যায়। এতে ভাঙন দেখা দেয়। অন্যদিকে, ভারত অংশে নদীরপাড় থেকে প্রায় ৫শ’ মিটার দূরে জনবসতি হওয়ায় ওইপ্রান্ত না ভেঙে চর জাগছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটের জকিগঞ্জ সুরমা-কুশিয়ারার জন্য ১৭৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার :

ভারত থেকে স্রোতস্বীনি বরাক নদী সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার আমলশীদ এসে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। সুরমা-কুশিয়ারা নামধারণ করে বয়ে চলেছে দুইদিকে। নদী দুটি সীমান্ত নদী হিসেবে, আবার কখনো বাংলাদেশের অভ্যন্তর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বর্ষায় ফুলেফেঁপে ওঠা নদী দুটির পানি তলানিতে ঠেকে শীতমৌসুমে। আর এই সময় শুরু হয় ভাঙন। এবার শুষ্কমৌসুমের শুরুতেই সুরমা-কুশিয়ারার অন্তত অর্ধশতাধিক স্থানে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। নদীগর্ভে ভিটেমাটি, ফসলিজমি, হাট-বাজার, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। ভাঙন ও বন্যারোধে দুই নদীর সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও নাব্যতা বৃদ্ধিতে ১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প তৈরি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। শিগগির এই প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পাউবো কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। এবার ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে জকিগঞ্জ উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে। এর মধ্যে জকিগঞ্জ পৌর এলাকার কেছরি, মাইজকান্দি, জকিগঞ্জ বাজার, ছয়লেন, নরসিংহপুর ও হাইদ্রাবন্দ গ্রাম রয়েছে ভাঙনের ঝুঁকিতে। এছাড়া উপজেলার যেসব গ্রামের লোকজন ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সেসব এলাকার মধ্যে রয়েছে- খলাছড়া ইউনিয়নের ভুঁইয়ারমুড়া, পশ্চিম লোহারমহল, কাপনা, গাগলাজুর, সোনাপুর, বেউর, সদর ইউনিয়নের ছবড়িয়া, মানিকপুর, বাখরশাল, শষ্যকুঁড়ি, রারাই, সুলতানপুর ইউনিয়নের খাদিমান, অজরগ্রাম, সুলতানপুর, ইছাপুর, গঙ্গাজল, ভক্তিপুর, সহিদাবাদ, রহিমপুর, বারঠাকুরী ইউনিয়নের পিল্লাকান্দি, উত্তরকুল, লাড়িগ্রাম, আমলশীদ, বারঠাকুরী, বিন্নাপাড়া, ছালেহপুর, কসকনকপুর ইউনিয়নের বলরামেরচক, হাজিগঞ্জ, মুন্সিপাড়া, মিয়াগুল, চেকপোস্ট, মৌলভীরচক, বিয়াবাইল, ইনামতি, মানিকপুর ইউনিয়নের হরাইত্রিলোচন, আকাশমল্লিক, বাল্লা, রঘুরচক, কাজলসার ইউনিয়নের নালুহাটি, বড়বন্দ, আটগ্রাম, বারহাল ইউনিয়নের চক, নিজগ্রাম, পুটিজুরি, চককোনাগ্রাম, নোয়াগ্রাম, বিরশ্রী ইউনিয়নের সোনাপুর, পিয়াইপুর, পীরনগর, ল²ীবাজার, বড়চালিয়া, উজিরপুর, কোনাগ্রাম, মাজরগ্রাম, লাফাকোনা, বড়পাথর, জামডহর, সুপ্রাকান্দি।

সূত্র জানায়, কুশিয়ারার ৪১ কিলোমিটার সীমান্ত নদী। প্রতিবছর বাংলাদেশ প্রান্ত ভেঙে বড় বড় চর জাগছে ভারত অংশে। এতে ভিটেমাটিহারা হচ্ছেন বাংলাদেশ অংশের মানুষ, অন্যদিকে চর এলাকা ভোগ করছে ভারত।

জকিগঞ্জ সদরের ছবড়িয়া গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আব্দুল মুকিত বলেন, ‘আমাদের গ্রামের বহু পরিবার নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যের বাড়িতে থাকছেন। ভাঙন এখনো থামেনি, গ্রামের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।’

জকিগঞ্জ পৌর এলাকার কেছরী গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘ছোটবেলায় কুশিয়ারা নদী জকিগঞ্জ বাজার থেকে অনেক দূরে দেখেছি। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে জকিগঞ্জ বাজারের অনেক জায়গা নদীগর্ভে চলে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় জকিগঞ্জ বাজার হারিয়ে যাবে।’

পাউবো  সিলেট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, সুরমা-কুশিয়ারার ভাঙন ও বন্যারোধে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দুই নদীর ১০৫ কিলোমিটার ড্রেজিং ও ৮ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত করা হবে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি প্রায় প্রস্তুত হয়ে গেছে, শিগগির মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। বাংলাদেশ প্রান্তে ভাঙন ও ভারত অংশে চর জেগে ওঠা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অংশে নদীর পাড়েই জনবসতি। আর সকল বাড়িতেই পুকুর রয়েছে। পুকুরের সাথে নদীর সংযোগ থাকায় মাটি ও বালু নিচে নেমে যায়। এতে ভাঙন দেখা দেয়। অন্যদিকে, ভারত অংশে নদীরপাড় থেকে প্রায় ৫শ’ মিটার দূরে জনবসতি হওয়ায় ওইপ্রান্ত না ভেঙে চর জাগছে।’