সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে শাহপরান (রহ.)মাজারের প্রস্তুতি পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক সিলেট জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রস্তুতি, মঙ্গলবার সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি সচেতনতামূলক র‌্যালি উদ্বোধনকালে সিসিক প্রশাসক গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি নের্তৃবৃন্দকে ব্যবসায়ীদের মিষ্টিমূখ সিলেটে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫১ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ রাষ্ট্রপতিকে সিলেট সফর ও নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি জানালেন সিসিক প্রশাসক সিলেট ১ শিশুর মৃত্যু, প্রায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৬০ সিলেটে (এসএমপি) বিশেষ উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া ৫২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন

সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্তে চোরাচালান বেড়েই চলছে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ১৬৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ;

সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাচালানের ঘটনা বেড়েই চলছে। কাপড় থেকে শুরু করে প্রসাধন-সামগ্রী এমনকি আপেল, কম্বল, গরুসহ বিভিন্ন পণ্য আসছে যেমন ঠিক তেমনিভাবে হাজার হাজার কেজির বড় চালানের বাংলাদেশী রসুন যাচ্ছে সীমান্তের ওপারে। সঙ্গে মাদক তো নিয়মিতই। বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তে চোরাচালান ঠেকাতে তারা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছেন।নিয়মিত চলছে অভিযান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট ও বিয়ানীবাজার সীমান্ত দিয়ে চোরাই পণ্য দেদার প্রবেশ করে। এছাড়াও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারিরা তৎপর। তারা ভারতের কিছু ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করে চোরাই পথে ভারতীয় পণ্য দেশে আনছেন। আর এপার থেকে ভারত যাচ্ছে দেশী রসুন, ইলিশ, শিং ও শুকনো সুপারিসহ বিভিন্ন পণ্য।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সকালে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৪ হাজার ৮৪০ কেজি রসুন আটক করা হয়। এ অভিযানে রসুন ছাড়াও ৭২টি ভারতীয় শাড়ি, ২১৭.৫ মিটার পর্দার কাপড়, দুটি মোটরসাইকেল, ১৪ হাজার ৮৪০ কেজি রসুন এবং অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারী পাঁচটি নৌকাসহ অন্যান্য ভারতীয় পণ্য আটক করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৯৩ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকা।

আর আগে রোববার (১০ নভেম্বর) সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির চোরাচালান বিরোধী অভিযানে সিলেট জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে রসুন ৬০ কেজি আটক হয়। এদিন রসুনের সঙ্গে জব্দ হয় ভারতীয় শাড়ি ৪১৮ পিস, লেহেঙ্গা ৩৮ পিস, জুতা ৪১২ জোড়া, কম্বল পাঁচ পিস, সাবান ১১০ পিস, মদ ৮৮ বোতল, দুটি ট্রলি ও অবৈধ পাথর উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত ছয়টি নৌকাসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়। যার বাজারমূল্য আনুমানিক এক কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার ২শ টাকা বলে জানায় বিজিবি।

১৪ অক্টোবর ও ১৫ অক্টোবর সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮৮০ কেজি বাংলাদেশি রসুন আটক করে বিজিবি। ২০ অক্টোবর সিলেট ও সুনামগঞ্জের পৃথক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ৪১ হাজার ৮৭৭ কেজি বাংলাদেশি রসুন জব্দ করে বিজিবি।

২৭ অক্টোবর ও ২৯ অক্টোবর লেট এবং সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) ৭হাজার ৬৮৮ কেজি রসুন জব্দ করে। ২ অক্টোবর সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৮০০ কেজি রসুন জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এছাড়াও ভারত থেকে চোরাই পথে প্রায় প্রতিদিনই আসছে ভারতীয় চিনি। সিলেটের বাজারসহ এই চিনি পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন এলাকায়। চোরাচালানে আসা এসব চিনি সিলেটে ‘বুঙ্গার চিনি’ নামে পরিচিত। সিলেট মহানগর পুলিশ ও বিজিবি এসব চোরাচালান নির্মূল করতে অভিযান করলেও কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না।

সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান পিএসসি বলেন, ঊর্ধ্বতন সদরের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বতোভাবে অব্যাহত আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্তে চোরাচালান বেড়েই চলছে

আপডেট সময় : ০৫:৩২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক ;

সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাচালানের ঘটনা বেড়েই চলছে। কাপড় থেকে শুরু করে প্রসাধন-সামগ্রী এমনকি আপেল, কম্বল, গরুসহ বিভিন্ন পণ্য আসছে যেমন ঠিক তেমনিভাবে হাজার হাজার কেজির বড় চালানের বাংলাদেশী রসুন যাচ্ছে সীমান্তের ওপারে। সঙ্গে মাদক তো নিয়মিতই। বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তে চোরাচালান ঠেকাতে তারা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছেন।নিয়মিত চলছে অভিযান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট ও বিয়ানীবাজার সীমান্ত দিয়ে চোরাই পণ্য দেদার প্রবেশ করে। এছাড়াও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারিরা তৎপর। তারা ভারতের কিছু ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করে চোরাই পথে ভারতীয় পণ্য দেশে আনছেন। আর এপার থেকে ভারত যাচ্ছে দেশী রসুন, ইলিশ, শিং ও শুকনো সুপারিসহ বিভিন্ন পণ্য।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সকালে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৪ হাজার ৮৪০ কেজি রসুন আটক করা হয়। এ অভিযানে রসুন ছাড়াও ৭২টি ভারতীয় শাড়ি, ২১৭.৫ মিটার পর্দার কাপড়, দুটি মোটরসাইকেল, ১৪ হাজার ৮৪০ কেজি রসুন এবং অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারী পাঁচটি নৌকাসহ অন্যান্য ভারতীয় পণ্য আটক করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৯৩ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকা।

আর আগে রোববার (১০ নভেম্বর) সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির চোরাচালান বিরোধী অভিযানে সিলেট জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে রসুন ৬০ কেজি আটক হয়। এদিন রসুনের সঙ্গে জব্দ হয় ভারতীয় শাড়ি ৪১৮ পিস, লেহেঙ্গা ৩৮ পিস, জুতা ৪১২ জোড়া, কম্বল পাঁচ পিস, সাবান ১১০ পিস, মদ ৮৮ বোতল, দুটি ট্রলি ও অবৈধ পাথর উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত ছয়টি নৌকাসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়। যার বাজারমূল্য আনুমানিক এক কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার ২শ টাকা বলে জানায় বিজিবি।

১৪ অক্টোবর ও ১৫ অক্টোবর সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮৮০ কেজি বাংলাদেশি রসুন আটক করে বিজিবি। ২০ অক্টোবর সিলেট ও সুনামগঞ্জের পৃথক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ৪১ হাজার ৮৭৭ কেজি বাংলাদেশি রসুন জব্দ করে বিজিবি।

২৭ অক্টোবর ও ২৯ অক্টোবর লেট এবং সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) ৭হাজার ৬৮৮ কেজি রসুন জব্দ করে। ২ অক্টোবর সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৮০০ কেজি রসুন জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এছাড়াও ভারত থেকে চোরাই পথে প্রায় প্রতিদিনই আসছে ভারতীয় চিনি। সিলেটের বাজারসহ এই চিনি পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন এলাকায়। চোরাচালানে আসা এসব চিনি সিলেটে ‘বুঙ্গার চিনি’ নামে পরিচিত। সিলেট মহানগর পুলিশ ও বিজিবি এসব চোরাচালান নির্মূল করতে অভিযান করলেও কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না।

সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান পিএসসি বলেন, ঊর্ধ্বতন সদরের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বতোভাবে অব্যাহত আছে।