ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান যেসব কারণে এই গরমে দই খাওয়া জরুরি কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকে প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা দিতে নীতিমালা করা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী তেল ছাড়াই ১২০ কিমি. গেল রতনের ‘বাইক’ এক্সিম ব্যাংকের প্রতারণার শিকার জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া হবিগঞ্জ মাধবপুরে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ৫ সিলেট জৈন্তাপুরে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ, আটক ১ হবিগঞ্জ বনবিভাগের অভিযানে পাচার করা আকাশমনি কাঠ জব্দ সিলেট রবিবার যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

প্রচন্ড গরমে হবিগঞ্জ জেলা জুড়ে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৭:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৬৫ বার পড়া হয়েছে

Exif_JPEG_420

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

 প্রচন্ড গরমে হবিগঞ্জ জেলা জুড়ে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

গত বছরের তুলনায় এবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ডায়রিয়া রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

প্রতিদিন ডায়রিয়া রোগী দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে দিনমজুর, স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিশুদের সংখ্যাই বেশি। প্রখর রোদের পাশাপাশি ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি মিলেছে না কোথাও। ছোট-বড় সবাই গরমে কাবু হচ্ছে। অনেক সময় আমাদের নিজেদের অজান্তেই দূষিত পানি ঢুকে যাচ্ছে পেটে, আর দেখা দিচ্ছে ডায়রিয়া। ডায়রিয়া আক্রান্তদের অনেকে আমাশয়, টাইফয়েড জ্বরেও আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগীর চাপ সামাল দিতে না পেরে বাইরে তাবু টাঙিয়ে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন কর্তব্যরতরা। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনদের অভিযোগ- হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঔষধ থাকলেও শুধুমাত্র খাবার স্যালাইন আর প্যারাসিটামল ছাড়া বাকী ঔষধগুলো বাহিরের ফার্মেসী থেকে চরামূল্যে আনতে হয়। সেই সাথে রয়েছে দালালদের হয়রানী।


কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে গরমে বাইরের দূষিত পানি পান ও নষ্ট খাবার খাওয়াসহ নানা কারণে। গরমে ডায়রিয়ার ব্যাকটেরিয়ার প্রজনন ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এছাড়া গরমে খাবারও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। সেই পচাবাসি খাবার খেলে ডায়রিয়া হয়। এ কারণে গরমে শিশুরা যাতে বিশুদ্ধ পানি পান করে, সতেজ খাবার খায় ও প্রতিবার খাওয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নেয়-সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তিনি আরো বলেন, ডায়রিয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ওরস্যালাইন খেলেই ভাল হয়ে যায়। তবে ‘সিবিয়ার ডায়রিয়া’ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবা নিতে হবে।

কারণ সেক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হতে পারে। বিশুদ্ধ পানি পান এবং পচাবাসি ও বাইরের শরবত খাওয়া পরিহার করার পরামর্শ দেন তিনি। অপর এক ডাক্তার বলেন, বাইরের খোলা শরবত বা অন্য কোনো কোমল পানি পান করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অধিকাংশ ডায়রিয়া রোগীর ওষুধ প্রয়োজন পড়ে না। শুধু খাবার স্যালাইনেই সারে। ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে পানি ও লবণ জাতীয় পদার্থ বেরিয়ে গিয়ে পানিস্বল্পতা দেখা দেয়। ডায়রিয়ার সঙ্গে কখনও কখনও জ্বর, বমি কিংবা পেটের ব্যথাও হতে পারে। কেউ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে বারবার খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। বেশি করে তরল খাবার যেমন ভাতের মাড়, চিড়ার পানি, ডাবের পানি খাওয়াতে হবে। আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ টিউবওয়েলের পানি খাওয়াতে হবে। টিউবওয়েলের পানি পাওয়া না গেলে পুকুর বা নদীর পানি চুলায় চড়িয়ে বুদবুদ ওঠা থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত ফুটিয়ে খাওয়াতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

প্রচন্ড গরমে হবিগঞ্জ জেলা জুড়ে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

 প্রচন্ড গরমে হবিগঞ্জ জেলা জুড়ে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

গত বছরের তুলনায় এবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ডায়রিয়া রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

প্রতিদিন ডায়রিয়া রোগী দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে দিনমজুর, স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিশুদের সংখ্যাই বেশি। প্রখর রোদের পাশাপাশি ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি মিলেছে না কোথাও। ছোট-বড় সবাই গরমে কাবু হচ্ছে। অনেক সময় আমাদের নিজেদের অজান্তেই দূষিত পানি ঢুকে যাচ্ছে পেটে, আর দেখা দিচ্ছে ডায়রিয়া। ডায়রিয়া আক্রান্তদের অনেকে আমাশয়, টাইফয়েড জ্বরেও আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগীর চাপ সামাল দিতে না পেরে বাইরে তাবু টাঙিয়ে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন কর্তব্যরতরা। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনদের অভিযোগ- হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঔষধ থাকলেও শুধুমাত্র খাবার স্যালাইন আর প্যারাসিটামল ছাড়া বাকী ঔষধগুলো বাহিরের ফার্মেসী থেকে চরামূল্যে আনতে হয়। সেই সাথে রয়েছে দালালদের হয়রানী।


কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে গরমে বাইরের দূষিত পানি পান ও নষ্ট খাবার খাওয়াসহ নানা কারণে। গরমে ডায়রিয়ার ব্যাকটেরিয়ার প্রজনন ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এছাড়া গরমে খাবারও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। সেই পচাবাসি খাবার খেলে ডায়রিয়া হয়। এ কারণে গরমে শিশুরা যাতে বিশুদ্ধ পানি পান করে, সতেজ খাবার খায় ও প্রতিবার খাওয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নেয়-সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তিনি আরো বলেন, ডায়রিয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ওরস্যালাইন খেলেই ভাল হয়ে যায়। তবে ‘সিবিয়ার ডায়রিয়া’ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবা নিতে হবে।

কারণ সেক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হতে পারে। বিশুদ্ধ পানি পান এবং পচাবাসি ও বাইরের শরবত খাওয়া পরিহার করার পরামর্শ দেন তিনি। অপর এক ডাক্তার বলেন, বাইরের খোলা শরবত বা অন্য কোনো কোমল পানি পান করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অধিকাংশ ডায়রিয়া রোগীর ওষুধ প্রয়োজন পড়ে না। শুধু খাবার স্যালাইনেই সারে। ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে পানি ও লবণ জাতীয় পদার্থ বেরিয়ে গিয়ে পানিস্বল্পতা দেখা দেয়। ডায়রিয়ার সঙ্গে কখনও কখনও জ্বর, বমি কিংবা পেটের ব্যথাও হতে পারে। কেউ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে বারবার খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। বেশি করে তরল খাবার যেমন ভাতের মাড়, চিড়ার পানি, ডাবের পানি খাওয়াতে হবে। আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ টিউবওয়েলের পানি খাওয়াতে হবে। টিউবওয়েলের পানি পাওয়া না গেলে পুকুর বা নদীর পানি চুলায় চড়িয়ে বুদবুদ ওঠা থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত ফুটিয়ে খাওয়াতে হবে।