সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধি সভায় সিসিক প্রশাসক জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক মতবিনিময় সভায় সিসিক প্রশাসকনতুন ওয়ার্ডগুলোতে নগরের সব সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে সুরমার তীরে মোবাইল ব্যবসার পরিত্যক্ত সামগ্রী সিলেটের জৈন্তাপুর থানা পুলিশের অভিয ০১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যের ৪,৩৪১ পিস ভারতীয় শাড়ীসহ গ্রেফতার ০১ কানিশাইল ও ঘাসিটুলা এলাকা পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৮ ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক জলাবদ্ধতা নিরসনে সিলেটের তিন ওয়ার্ডে ৬টি বর্জ্যবাহী ভ্যান বিতরণ সিলেট শহরের প্রতিটি স্কুলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে: সিসিক প্রশাসক সিলেটে মৃত্যু ১, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি আক্রান্ত রোগী ২০০

হালদার বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে পানি, পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৪ ২৫৭ বার পড়া হয়েছে

 চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ মারাত্মক আকার ধারণ করছে। নাজিরহাট পুরাতন ব্রিজ এলাকায় হালদা নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে হাটহাজারীর নাজিরহাট, মন্দাকিনী ফরহাদাবাদ এবং সুয়াবিল এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। স্থানীয় মসজিদ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে সবাইকে সচেতন হওয়ার জন্য।বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দিনগত রাত ১টায় জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মঞ্জুরুল কিবরিয়া।

বুধবার (২১ আগস্ট) রাতেই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বেঁড়িবাধ ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে হাটহাজারীর ফরহাদাবাদের ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায়। ধুরং ও হালদা নদীতে পানির চাপ বাড়ায় অন্তত ১৬টি স্থানে ভেঙে গেছে বেড়িবাঁধ। উপজেলার বেশিরভাগ গ্রামীণ সড়ক পানিতে ডুবে রয়েছে। ঘরবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ফসলি জমির। বন্যার কারণে ফটিকছড়ি থেকে হেঁয়াকো রামগড় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিতে ডুবে রয়েছে উপজেলার মাইজভান্ডার-রাউজান সড়কও।

ফটিকছড়ির সুন্দরপুর, ভুজপুর, বাগানবাজার, পাইন্দং এলাকার অবস্থা বেশি খারাপ। এ মুহূর্তে নাজিরহাটে হালদার পানি চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে ওপর দিয়ে পানি গড়াচ্ছে। তিনি জানান, তাদের বাড়িসহ আশপাশের এলাকাটি মোটামুটি উঁচু স্থানে। কিন্তু এ মুহূর্তে পাড়ার মসজিদ ও লোকালয় তলিয়ে আছে। ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোজ্জামেল হক চৌধুরী বলেন, ফটিকছড়ি দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদী ও বেশকিছু খালের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। পানিবন্দি লাখো মানুষ।

তিনি বলেন, ‘আমরা ১৮টি ইউনিয়নের জন্য ১৮ জন কর্মকর্তা নিয়োগ করেছি। তারা সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ আমাদের জানাচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি মনিটর করছে। ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় লোকজনকে আশ্রয় দিতে আমরা ৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছি।’

এ পরিস্থিতিতে বন্যাদুর্গতদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর (০১৭৩৩৩৩৪৩৪৮), সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দলের প্রধানের নম্বর (০১৭৬৯০০৯৫৯৭) এবং বিজিবির উদ্ধারকারী দলের প্রধানের নম্বরে (০১৬৬৯৬০১৪৩১ ) যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামে রাত সাড়ে ৯টা থেকে জোয়ার শুরু হয়েছে। রাত ৩টা ৫ মিনিটে সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৬ মিলিমিটার উচ্চতার জোয়ারের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে অবনতি হতে পারে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হালদার বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে পানি, পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৪

 চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ মারাত্মক আকার ধারণ করছে। নাজিরহাট পুরাতন ব্রিজ এলাকায় হালদা নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে হাটহাজারীর নাজিরহাট, মন্দাকিনী ফরহাদাবাদ এবং সুয়াবিল এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। স্থানীয় মসজিদ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে সবাইকে সচেতন হওয়ার জন্য।বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দিনগত রাত ১টায় জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মঞ্জুরুল কিবরিয়া।

বুধবার (২১ আগস্ট) রাতেই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বেঁড়িবাধ ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে হাটহাজারীর ফরহাদাবাদের ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায়। ধুরং ও হালদা নদীতে পানির চাপ বাড়ায় অন্তত ১৬টি স্থানে ভেঙে গেছে বেড়িবাঁধ। উপজেলার বেশিরভাগ গ্রামীণ সড়ক পানিতে ডুবে রয়েছে। ঘরবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ফসলি জমির। বন্যার কারণে ফটিকছড়ি থেকে হেঁয়াকো রামগড় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিতে ডুবে রয়েছে উপজেলার মাইজভান্ডার-রাউজান সড়কও।

ফটিকছড়ির সুন্দরপুর, ভুজপুর, বাগানবাজার, পাইন্দং এলাকার অবস্থা বেশি খারাপ। এ মুহূর্তে নাজিরহাটে হালদার পানি চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে ওপর দিয়ে পানি গড়াচ্ছে। তিনি জানান, তাদের বাড়িসহ আশপাশের এলাকাটি মোটামুটি উঁচু স্থানে। কিন্তু এ মুহূর্তে পাড়ার মসজিদ ও লোকালয় তলিয়ে আছে। ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোজ্জামেল হক চৌধুরী বলেন, ফটিকছড়ি দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদী ও বেশকিছু খালের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। পানিবন্দি লাখো মানুষ।

তিনি বলেন, ‘আমরা ১৮টি ইউনিয়নের জন্য ১৮ জন কর্মকর্তা নিয়োগ করেছি। তারা সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ আমাদের জানাচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি মনিটর করছে। ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় লোকজনকে আশ্রয় দিতে আমরা ৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছি।’

এ পরিস্থিতিতে বন্যাদুর্গতদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর (০১৭৩৩৩৩৪৩৪৮), সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দলের প্রধানের নম্বর (০১৭৬৯০০৯৫৯৭) এবং বিজিবির উদ্ধারকারী দলের প্রধানের নম্বরে (০১৬৬৯৬০১৪৩১ ) যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামে রাত সাড়ে ৯টা থেকে জোয়ার শুরু হয়েছে। রাত ৩টা ৫ মিনিটে সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৬ মিলিমিটার উচ্চতার জোয়ারের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে অবনতি হতে পারে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি।