সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট বেকারি ফ্যাক্টরি ও মসলা গুড়াকরণ মিলে প্রশাসনের অভিযানে দুটি মামলায় ৪৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড সিলেট ভারতে পাচারকালে ৮ রোহিঙ্গাসহ ৪ দালাল আটক দেশের বিভিন্ন বিভাগে ভারি বৃষ্টির শঙ্কা— সিলেটে বদলি গণপূর্তের ১৩ প্রকৌশলী ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর,শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত সিলেটে বা*সা-বা*ড়ি নির্মাণ নিয়ে নির্দেশনা দিল সিউক— সিলেট উপশহরে একটি বাসায় এসি চুরি করতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু সিলেটে ট্রিপল মার্ডার নিয়ে রহস্য, তৈরি হয়েছে জটিলতা পুলিশ খুঁজছে প্রেমের সূত্র, পরিবারের দাবি সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব*** আগামী ৫দিন সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে সিলেটে রায়নগর ট্রি প ল মার্ডার, বাবুল ৪দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর

সিলেট ভারতে পাচারকালে ৮ রোহিঙ্গাসহ ৪ দালাল আটক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

কানাইঘাট প্রতিনিধি :

সিলেটের কানাইঘাটে দনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে ৮ রোহিঙ্গাসহ চার দালালকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কুওরেরমাটি মাদ্রাসার সামনে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৮ রোহিঙ্গাসহ ১২ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

আটক চার দালালের মধ্যে রয়েছেন-কানাইঘাটের লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের এরালীগুল বাঙ্গীছড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আছাদ আহমদ, বড়খেরড় গ্রামের বাতা মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন এবং দুই সিএনজি অটোরিকশাচালক সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাইকাপন গ্রামের মৃত হেদায়েতুল ইসলামের ছেলে রফিক আহমদ ও নেত্রকোনা সদর উপজেলার মইন নুরুলীয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশের ছেলে এলাছ উদ্দিন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট নগরীর কদমতলী এলাকা থেকে দুই সিএনজি অটোরিকশাযোগে ওই ৮ রোহিঙ্গাকে কানাইঘাটে নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের দনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। কানাইঘাটের দনা সীমান্ত এলাকার কথিত দালাল সাদ্দাম হোসেন ও আছাদ আহমদের মাধ্যমে তাদের আনা হয় বলে জানা গেছে।

আটক ৮ রোহিঙ্গা হলেন-এনায়েত হোসেন (১৮), আব্দুল মুবিন (২৪), জুবের আহমদ (১৮), আজিদা বেগম (১৮), জামিলা বেগম (২০), ফাতেমা বিবি (১৮), নুর ফাতেমা (১৮) ও আজিদা (১৮)।

তারা সবাই মিয়ানমারের নাগরিক এবং কক্সবাজারের উখিয়া থানার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, কাজের সন্ধানে ওই রোহিঙ্গারা কুতুপালং ক্যাম্প থেকে বের হয়ে সাদ্দাম ও আছাদের মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সাদ্দাম ও আছাদ দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তারা অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে কানাইঘাটের বিভিন্ন সীমান্তপথে ভারতে পাচার এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা করে আসছিলেন বলেও স্থানীয়রা জানান

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, রোহিঙ্গাদের দ্রুত দনা সীমান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কুওরেরমাটি গ্রামের বটরবাজার এলাকায় সুরমা নদীর ঘাটে একটি নৌকা ভাড়া করে রাখা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নেমে নৌকাযোগে তাদের সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

তবে সাদ্দাম ও আছাদ রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসতে কিছুটা দেরি করায় নৌকার মাঝি একাধিকবার তাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা কুওরেরমাটি মাদ্রাসার কাছে অবস্থান নেওয়া দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা রোহিঙ্গা ও দালালদের আটক করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সীমান্ত এলাকার আরও কয়েকজন দালাল জড়িত রয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, দালালসহ ৮ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। তারা কক্সবাজারের উখিয়া থানার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কানাইঘাট হয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়া চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেট ভারতে পাচারকালে ৮ রোহিঙ্গাসহ ৪ দালাল আটক

আপডেট সময় : ০৪:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

কানাইঘাট প্রতিনিধি :

সিলেটের কানাইঘাটে দনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে ৮ রোহিঙ্গাসহ চার দালালকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কুওরেরমাটি মাদ্রাসার সামনে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৮ রোহিঙ্গাসহ ১২ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

আটক চার দালালের মধ্যে রয়েছেন-কানাইঘাটের লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের এরালীগুল বাঙ্গীছড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আছাদ আহমদ, বড়খেরড় গ্রামের বাতা মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন এবং দুই সিএনজি অটোরিকশাচালক সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাইকাপন গ্রামের মৃত হেদায়েতুল ইসলামের ছেলে রফিক আহমদ ও নেত্রকোনা সদর উপজেলার মইন নুরুলীয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশের ছেলে এলাছ উদ্দিন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট নগরীর কদমতলী এলাকা থেকে দুই সিএনজি অটোরিকশাযোগে ওই ৮ রোহিঙ্গাকে কানাইঘাটে নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের দনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। কানাইঘাটের দনা সীমান্ত এলাকার কথিত দালাল সাদ্দাম হোসেন ও আছাদ আহমদের মাধ্যমে তাদের আনা হয় বলে জানা গেছে।

আটক ৮ রোহিঙ্গা হলেন-এনায়েত হোসেন (১৮), আব্দুল মুবিন (২৪), জুবের আহমদ (১৮), আজিদা বেগম (১৮), জামিলা বেগম (২০), ফাতেমা বিবি (১৮), নুর ফাতেমা (১৮) ও আজিদা (১৮)।

তারা সবাই মিয়ানমারের নাগরিক এবং কক্সবাজারের উখিয়া থানার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, কাজের সন্ধানে ওই রোহিঙ্গারা কুতুপালং ক্যাম্প থেকে বের হয়ে সাদ্দাম ও আছাদের মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সাদ্দাম ও আছাদ দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তারা অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে কানাইঘাটের বিভিন্ন সীমান্তপথে ভারতে পাচার এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা করে আসছিলেন বলেও স্থানীয়রা জানান

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, রোহিঙ্গাদের দ্রুত দনা সীমান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কুওরেরমাটি গ্রামের বটরবাজার এলাকায় সুরমা নদীর ঘাটে একটি নৌকা ভাড়া করে রাখা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নেমে নৌকাযোগে তাদের সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

তবে সাদ্দাম ও আছাদ রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসতে কিছুটা দেরি করায় নৌকার মাঝি একাধিকবার তাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা কুওরেরমাটি মাদ্রাসার কাছে অবস্থান নেওয়া দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা রোহিঙ্গা ও দালালদের আটক করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সীমান্ত এলাকার আরও কয়েকজন দালাল জড়িত রয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, দালালসহ ৮ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। তারা কক্সবাজারের উখিয়া থানার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কানাইঘাট হয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়া চলছে।