সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: ইউনূস-আসিফ নজরুল-রিজওয়ানাদের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৩ জনের মৃত্যু দণ্ড- সিলেটে ও সুনামগঞ্জে পাথর উত্তোলন নিয়ে যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোম্পানীগঞ্জে ভারতীয় বিস্কুটসহ আটক ২ সিলেটে পরিবহণ শ্রমিকদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু শাহজালাল (রহ.) মাজারে দেশ-বিদেশ থেকে আগত হাজারো ভক্ত-অনুরাগীর মিলনমেলা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মাজারে গিলাফ ছড়ালেন সিসিক প্রশাসক কর্মশালায় সিসিক প্রশাসক শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে হামের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন সিসিক প্রশাসক এসএমপির ৮ মাসের তৎপরতায় বড় ধরনের সাফল্য

সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে নিয়োগের নামে ভুয়া বিজ্ঞাপন!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৭:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ১৪৮ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকুরির ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করছে কে বা কারা।এর আগে  এ হাসপাতাল এবং ডা. শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভুয়া চাকুরির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করা হয়েছে।আগের দুই ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখন পর্যন্ত ধরা পড়েনি কেউ।ফলে আরও প্রতারণার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রতারক চক্র।  

জানা গেছে,গত কয়েকদিন ধরে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, অধ্যক্ষের কার্যালয়, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি’ শিরোনামে একটি বিজ্ঞাপন ভার্চুয়াল বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।এতে প্রথম আলো পত্রিকার লগো দেওয়া।এ বিজ্ঞপ্তিতে ৬টি পদের নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন শর্ত ও নিয়মাবলী দিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবেদন করার জন্য বলা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তির নিচে ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাক্তার শিশির রঞ্জন চক্রবর্তীর নাম দেওয়া।

এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের-কে জানান বিজ্ঞপ্তিটি ভুয়া।এরকম কোনো বিজ্ঞপ্তি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ দেননি।প্রতারণার ফাঁদে যাতে কেউ পা না দেন,সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসের শুরুতে ওসমানী হাসপাতালের আরেকটি ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।যেখানে হাসপাতালের বেশ কয়েকটি পদের নাম উল্লেখ করা হয়।বিজ্ঞপ্তিতে প্রাক্তন একজন পরিচালকের নামও উল্লেখ করা হয়, তবে সেখানে তার স্বাক্ষর ছিল না।এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।ছড়িয়ে পড়া ওই বিজ্ঞপ্তিতেও প্রথম আলো পত্রিকার লোগোওযুক্ত করে দিয়েছিলো প্রতারকরা।

এ ঘটনায় ৫ ডিসেম্বর বিকেলে সিলেট মহানগরের কোতোয়ালি থানায় জিডিটি করেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হানিফ।এতে তিনি অভিযোগ করেন,প্রথম আলো’ পত্রিকার লোগো ব্যবহার করে কে বা কারা অনলাইনে হাসপাতালের নাম এবং প্রাক্তন একজন পরিচালকের নাম উল্লেখ করে স্বাক্ষরবিহীন একটি ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে দিয়েছে।এই ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যেসব পদ উল্লেখ আছে,সেসব পদ এ হাসপাতালে বর্তমানে নেই।তাই ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশকারীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনুরোধ জানাচ্ছে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া সে সময় সিলেটভিউ-কে জানান, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আমরা বিষয়টি অবগত হই।কে বা কারা বিভ্রান্তি ছড়াতেই ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অনলাইনে ছড়িয়েছে। এতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি। আর যারা এটা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমরা থানায় জিডি করেছি।এর আগের মাসে (নভেম্বরে) সিলেটের করোনা ডেডিকেটেড হসপিটাল শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে (পুরাতন সিলেট সদর হাসপাতাল) চাকুরির ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করে প্রতারক চক্র।এ বিষয়ে হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ১৫ নভেম্বর সিলেট কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেন।

 জিডি সূত্রে জানা যায়, ‘সিলেট জবস’ নামক একটি সাইটে (ফেসবুক পেইজ) ‘সিলেট সদর হাসপাতালের টিকেট কাউন্টারে দুজন নারী নিয়োগ দেওয়া হবে।বেতন ১৭ হাজার টাকা’এমন একটি বিজ্ঞাপন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়।বিজ্ঞাপনের সঙ্গে একটি মোবাইল ফোন নাম্বারও দেওয়া হয় এবং বেলাল খান রাজ নামের একজন এ পোস্ট করেন।কিন্তু এ বিজ্ঞাপনের সঙ্গে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

 এ বিষয়ে শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সে সাংবাদিকদেরকে বলেন- এমন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ-ই হয় না।এ হাসপাতালে নিয়োগের প্রয়োজন হলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে সরকারি নীতিমালা মেনে নিয়োগ দেওয়া হবে।এমন বিজ্ঞাপন নিশ্চয় কোনো প্রতারক চক্র প্রকাশ করেছে।এ চক্রের সদস্যদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।তা না হলে মানুষ বিভ্রান্ত হবে এবং হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে।এদিকে, অনলাইনে প্রকাশ করা বিজ্ঞাপনের সঙ্গে দেওয়া প্রতারকের মোবাইল ফোন নাম্বারটি অনেক দিন সচল ছিলো। কিন্তু তারপরও তাকে বা তাদের কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে নিয়োগের নামে ভুয়া বিজ্ঞাপন!

আপডেট সময় : ০৩:৪৭:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকুরির ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করছে কে বা কারা।এর আগে  এ হাসপাতাল এবং ডা. শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভুয়া চাকুরির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করা হয়েছে।আগের দুই ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখন পর্যন্ত ধরা পড়েনি কেউ।ফলে আরও প্রতারণার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রতারক চক্র।  

জানা গেছে,গত কয়েকদিন ধরে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, অধ্যক্ষের কার্যালয়, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি’ শিরোনামে একটি বিজ্ঞাপন ভার্চুয়াল বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।এতে প্রথম আলো পত্রিকার লগো দেওয়া।এ বিজ্ঞপ্তিতে ৬টি পদের নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন শর্ত ও নিয়মাবলী দিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবেদন করার জন্য বলা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তির নিচে ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাক্তার শিশির রঞ্জন চক্রবর্তীর নাম দেওয়া।

এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের-কে জানান বিজ্ঞপ্তিটি ভুয়া।এরকম কোনো বিজ্ঞপ্তি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ দেননি।প্রতারণার ফাঁদে যাতে কেউ পা না দেন,সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসের শুরুতে ওসমানী হাসপাতালের আরেকটি ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।যেখানে হাসপাতালের বেশ কয়েকটি পদের নাম উল্লেখ করা হয়।বিজ্ঞপ্তিতে প্রাক্তন একজন পরিচালকের নামও উল্লেখ করা হয়, তবে সেখানে তার স্বাক্ষর ছিল না।এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।ছড়িয়ে পড়া ওই বিজ্ঞপ্তিতেও প্রথম আলো পত্রিকার লোগোওযুক্ত করে দিয়েছিলো প্রতারকরা।

এ ঘটনায় ৫ ডিসেম্বর বিকেলে সিলেট মহানগরের কোতোয়ালি থানায় জিডিটি করেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হানিফ।এতে তিনি অভিযোগ করেন,প্রথম আলো’ পত্রিকার লোগো ব্যবহার করে কে বা কারা অনলাইনে হাসপাতালের নাম এবং প্রাক্তন একজন পরিচালকের নাম উল্লেখ করে স্বাক্ষরবিহীন একটি ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে দিয়েছে।এই ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যেসব পদ উল্লেখ আছে,সেসব পদ এ হাসপাতালে বর্তমানে নেই।তাই ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশকারীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনুরোধ জানাচ্ছে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া সে সময় সিলেটভিউ-কে জানান, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আমরা বিষয়টি অবগত হই।কে বা কারা বিভ্রান্তি ছড়াতেই ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অনলাইনে ছড়িয়েছে। এতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি। আর যারা এটা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমরা থানায় জিডি করেছি।এর আগের মাসে (নভেম্বরে) সিলেটের করোনা ডেডিকেটেড হসপিটাল শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে (পুরাতন সিলেট সদর হাসপাতাল) চাকুরির ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করে প্রতারক চক্র।এ বিষয়ে হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ১৫ নভেম্বর সিলেট কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেন।

 জিডি সূত্রে জানা যায়, ‘সিলেট জবস’ নামক একটি সাইটে (ফেসবুক পেইজ) ‘সিলেট সদর হাসপাতালের টিকেট কাউন্টারে দুজন নারী নিয়োগ দেওয়া হবে।বেতন ১৭ হাজার টাকা’এমন একটি বিজ্ঞাপন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়।বিজ্ঞাপনের সঙ্গে একটি মোবাইল ফোন নাম্বারও দেওয়া হয় এবং বেলাল খান রাজ নামের একজন এ পোস্ট করেন।কিন্তু এ বিজ্ঞাপনের সঙ্গে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

 এ বিষয়ে শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সে সাংবাদিকদেরকে বলেন- এমন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ-ই হয় না।এ হাসপাতালে নিয়োগের প্রয়োজন হলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে সরকারি নীতিমালা মেনে নিয়োগ দেওয়া হবে।এমন বিজ্ঞাপন নিশ্চয় কোনো প্রতারক চক্র প্রকাশ করেছে।এ চক্রের সদস্যদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।তা না হলে মানুষ বিভ্রান্ত হবে এবং হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে।এদিকে, অনলাইনে প্রকাশ করা বিজ্ঞাপনের সঙ্গে দেওয়া প্রতারকের মোবাইল ফোন নাম্বারটি অনেক দিন সচল ছিলো। কিন্তু তারপরও তাকে বা তাদের কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।