সিলেটের পাথর কোয়ারি চালু নিয়ে ঢাকার সভায় সিদ্ধান্ত
- আপডেট সময় : ০২:৩৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার :
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো চালু নিয়ে সিদ্ধান্ত সরকারের। কোয়ারিগুলোর বর্তমান অবস্থা ও করণীয় নির্ধারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে ঢাকা হয়েছে সভা।(৭ মে) বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই সভার দিকে তাকিয়ে আছেন সিলেটবাসী।
স্থানীয়রা বলছেন, পরিবেশ রক্ষা করে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার দাবি তাদের দীর্ঘদিনের। কোয়ারিগুলো খুলে দিলে সিলেটে অন্তত লক্ষাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। আর পরিবেশবাদীরা বলছেন, কোয়ারিগুলো নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারের উচিত পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী হয়ে কোয়ারিগুলোকে পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা।
জানা গেছে, সিলেট জেলায় বেশ কয়েকটি পাথর কোয়ারি রয়েছে। এর মধ্যে ভোলাগঞ্জ (সাদাপাথর), জাফলং, সাদাপাথর, বিছনাকান্দি, লোভাছড়া, উৎমাছড়া, শ্রীপুর, রতনপুর ও শাহ আরেফিন টিলা অন্যতম। একসময় কোয়ারিগুলো থেকে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করতেন স্থানীয় শ্রমিকরা। ভোলাগঞ্জসহ কয়েকটি কোয়ারি নিয়মিত ইজারাও দেওয়া হতো। কিন্তু দিন দিন কোয়ারিগুলোতে যন্ত্র দিয়ে পাথর উত্তোলন বাড়লে হুমকির মুখে পড়ে পরিবেশ-প্রতিবেশ। একপর্যায়ে জাফলংকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়।
পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকান্ডের কারণে ২০১৮ সাল থেকে সিলেটের কোয়ারিগুলো থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া শুরু হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সবগুলো কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয় সরকার। পরিবেশবাদীদের রিটের প্রেক্ষিতে কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনের উপর উচ্চ আদালতও নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
এরপর থেকে কোয়ারিগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাথর উত্তোলন, ভাঙা ও পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিপুল সংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ বেকার হয়ে পড়েন। কোয়ারিগুলো চালুর দাবিতে বিভিন্ন সময় শ্রমজীবী লোকজন ও পরিবহন শ্রমিকরা আন্দোলন করলেও সরকার এ ব্যাপারে অনড় থাকে।
এই অবস্থায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরপরই সিলেটের সবগুলো কোয়ারি থেকে শত শত কোটি টাকার পাথর লুট হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সিলেটের ভোটের মাঠে আলোচনায় ছিল পাথর কোয়ারি চালুর বিষয়টি।
কোয়ারিবেষ্টিত সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর-কোম্পানীগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিজয়ী হলে পাথর কোয়ারিগুলো খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের জন্য জন্য কোয়ারি খুলে দেওয়ার এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুলত ভোটের মাঠে বাজিমাত করেন তিনি। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পর এলাকার মানুষের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সিলেট বিভাগের পাথর কোয়ারিগুলোর র্বতমান অবস্থা ও করণীয় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ২০৮ নম্বর কক্ষে সভা আহ্বান করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ওই সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ও সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরমধ্যে আরিফুল হক চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকায় তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, সিলেটের কোয়ারিগুলো নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সভা আহ্বানের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, ওই সভা থেকে কোয়ারি খুলে দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সিলেট ভ্রমণ গাইড
এ প্রসঙ্গে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরী বলেন, ‘শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনা করে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের শর্তে কোয়ারিগুলো খুলে দেওয়া হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। কোয়ারি বন্ধ থাকায় শ্রমজীবী মানুষ মানবেতর জীবন পার করছেন। কোয়ারি খুলে দিলে লক্ষাধিক শ্রমিক তাদের কর্মসংস্থান ফিরে পাবে।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবীদ সমিতি (বেলা) সিলেটের সমন্বয়ক এডভোকেট শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, ‘পাথর কোয়ারিগুলো নিয়ে উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কোয়ারিগুলোর পরিবেশ ধ্বংসের মুখে। সরকারের উচিত আদালতের এই নির্দেশনা অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট কোয়ারিগুলোকে পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা। পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় সরকার উদ্যোগী হবে এমন প্রত্যাশা আমাদের।’























