শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত – পরিদর্শনে নির্বাহী কর্মকর্তা
- আপডেট সময় : ০২:২৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ এপ্রিল ২০২৪ ১৪৭ বার পড়া হয়েছে
ভিউ নিউজ ৭১ প্রতিবেদন :
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রবিবার (৩১ মার্চ) রাত সোয়া ১০ টা থেকে শুরু হওয়া ঝড়ে একেকটি বিশাল আকারের শিলাবৃষ্টি ঝরে।চৈত্রের শেষে এমন শিলাবৃষ্টি বৈশাখী ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হঠাৎ করে শিলাবৃষ্টি শুরু হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। ইতিহাস সৃষ্টি করা শিলাবৃষ্টি অনেক মানুষের ঈদের আনন্দ কে নিরানন্দ করে দিয়েছে। বসে বসে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন। বসতবাড়ির চালের টিন ফুটো করে চাউল পরিষ্কার করার চালনির মত করে দিয়েছে। পশু পাখি যানবাহন ফসলহানিসহ আহত হয়েছেন মানুষজন। শিক্ষার্থীদের বই খাতা ঘরের আসবাবপত্র বাদ যায়নি শোয়ার বেড বিছানা। একেকটি শিলাবৃষ্টি টেনিস বলের মত আকার ছিলো।

গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গতকালকের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে গোয়াইনঘাটে প্রায় ২০ হেক্টর ফসলী জমি, সবজি ও পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি এবং দোকানঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের বসতবাড়ী, দোকানপাট ও ফসলি জমি।এদিকে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক রাতেই ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে উপজেলা কৃষি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সোমবার ১ এপ্রিল সকাল ১০ টায় গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম রানীগঞ্জ পরিদর্শন ও সালুটিকর বাজার মনিটরিং করেন। যাতে করে কোন ব্যবসায়ী ঢেউ টিনসহ প্রয়োজনীয় নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি করে বিক্রি না করে সুলভ মূল্যে বিক্রি করে।তিনি বাজারের সকল ব্যবসায়ীকে ন্যায্য মূল্যে পূন্য সামগী বিক্রি করার নির্দেশনা দেন।
এসময় পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন- গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শীর্ষেন্দু পুরকায়স্হ, গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব সভাপতি এম এ মতিন, জেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি, উপজেলা সহকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহফুজ আহমদ, সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের টু আই সি জহির উদ্দিন প্রমুখ।
এছাড়া নন্দিরগাঁও ইউ পি চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল ইঞ্জিন নৌকাযোগে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে ইউনিয়নের কচুয়ারপার দাড়িরপার দারীকান্দি এলাকার বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে নিজ নিজ ওয়ার্ড মেম্বার এর কাছে ঘরের ছবি ও নাম তালিকাভুক্ত করার আহ্বান জানান।
সরেজমিনে ঘুরে বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, এর আগে এরকম শিলাবৃষ্টি দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করছেন অনেকেই। ভোর রাতেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুরুষ মহিলার পাশাপাশি ঘরের শিশুদেরও কাজের ব্যস্ততায় দেখা যায়। ঘর পরিষ্কার আসবাবপত্র বই খাতা শুকানোসহ বিভিন্ন কাজে পরিবারের লোকজনকে সহযোগিতা করছে ঘরের শিশুরা। সকাল ৭ টায় স্হানীয় সালুটিকর বাজারে ঢেউটিন, পলিথিন ও চট বিক্রির ধুম পড়ে।দোকানে লাইন ধরে ক্রেতাদের এসব ক্রয় করতে দেখা যায়।ব্যবসায়ীরা কাস্টমার ছাড়া অন্য কারো সাথে কথা বলার ফুরফুরতে নেই।
চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল বলেন, কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে সব হারিয়ে নিঃস্ব শত শত পরিবার। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানরাও এগিয়ে আসা উচিৎ, কারণ ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অধিকাংশ হতদরিদ্র পরিবার।























