সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভা জিন্দাবাজারে নালায় আবর্জনা-পয়োবর্জ্য, স্বাস্থ্য ঝুঁকি সিলেট সীমান্তে ৩৫ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ সিলেট ফায়ার সার্ভিসকে একটি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেট জৈন্তাপুরে নৌকাপ্রতি ২ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ সিলেটে সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন নবনিয়োগপ্রাপ্ত ১৬ কর্মকর্তা সিলেটের ৩ কর্মকর্তা বদলি, একই সঙ্গে পদায়ন নয়াবাজার মণিপুরী পাড়ায় মতবিনিময় সভায় সিসিক প্রশাসক সিলেট ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক সিসিক প্রশাসকের সঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল স্পিকার মুস্তাক আহমদের সাক্ষাৎ

পোশাক আমদানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতির মুখে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ মে ২০২৫ ১৪০ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

ভারত সরকার স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন গার্মেন্টস পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এতে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। 

শনিবার ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তর (ডিজিএফটি) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক এবং গার্মেন্টস পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

ওই নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদেশ হতে তৈরি পোশাক এবং গার্মেন্টস সামগ্রীগুলো শুধুমাত্র কলকাতা সমুদ্রপথে আমদানি করার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এদিকে নির্দেশ জারি হওয়ার পূর্বে যেসব গার্মেন্টস পণ্য গেট পাস অনুমোদন পেয়েছে সেই পণ্যগুলো বাংলাদেশ থেকে ভারত আমদানি করবে। পরবর্তীতে ওই পণ্যগুলোর নতুন করে গেট পাশ অনুমোদন দেবে না।

এ বিষয়ে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, ভারত সরকার স্থলবন্দর দিয়ে গার্মেন্টস সামগ্রী আমদানি নিষেধাজ্ঞা জারি করায় চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা। বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত হওয়ায় স্থলপথে গার্মেন্টস সামগ্রী রপ্তানিতে কিছুটা হলেও সুবিধা পাচ্ছিল বাংলাদেশ। খরচ অনেক কম হতো কিন্তু সমুদ্র ও ইয়ার বন্ধ দিয়ে পণ্য রপ্তানিকে খরচ অনেক বেশি হবে।

গার্মেন্টস সামগ্রী রপ্তানিকারকের একজন প্রতিনিধি বলেন, বেনাপোল থেকে গার্মেন্টস সামগ্রী রপ্তানিতে বড় পার্ট ছিলাম আমরা। এই পণ্যটির রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একেবারে বেকার হয়ে গেলাম। এবার বউ-বাচ্চা নিয়ে না খেয়ে মরার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মহসিন মিলন বলেন, গার্মেন্টস সামগ্রী রপ্তানিতে বাংলাদেশ আরও একধাপ ক্ষতির মুখে পড়ল। এখন থেকে বিমানে এবং সমুদ্রপথে এ পণ্য রপ্তানি করতে গেলে সময় এবং খরচ দুটোই বাড়বে এবং বন্দরে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক যারা প্রতিনিয়ত বন্দরে কাজ করে থাকেন এসব শ্রমিকদের কাজ অনেকটাই কমে যাবে। ফলে তারা বেকার হয়ে যেতে পারেন।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, রোববার সকালে একটি চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। ভারত সরকার নতুন করে গার্মেন্টস সামগ্রী আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় বেনাপোলসহ সারা দেশে স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি অনেকাংশ কমে গেছে। বেনাপোল দিয়ে যে পরিমাণ পণ্যবাহী ট্রাক ভারতের রপ্তানি হতো এখন তা কমে তিনভাগের একভাগ হবে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি করা হয় এখন সেটির অর্ধেকের কম প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি করা হবে। এর ফলে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পোশাক আমদানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতির মুখে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ০২:১৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ মে ২০২৫

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

ভারত সরকার স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন গার্মেন্টস পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এতে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। 

শনিবার ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তর (ডিজিএফটি) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক এবং গার্মেন্টস পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

ওই নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদেশ হতে তৈরি পোশাক এবং গার্মেন্টস সামগ্রীগুলো শুধুমাত্র কলকাতা সমুদ্রপথে আমদানি করার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এদিকে নির্দেশ জারি হওয়ার পূর্বে যেসব গার্মেন্টস পণ্য গেট পাস অনুমোদন পেয়েছে সেই পণ্যগুলো বাংলাদেশ থেকে ভারত আমদানি করবে। পরবর্তীতে ওই পণ্যগুলোর নতুন করে গেট পাশ অনুমোদন দেবে না।

এ বিষয়ে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, ভারত সরকার স্থলবন্দর দিয়ে গার্মেন্টস সামগ্রী আমদানি নিষেধাজ্ঞা জারি করায় চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা। বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত হওয়ায় স্থলপথে গার্মেন্টস সামগ্রী রপ্তানিতে কিছুটা হলেও সুবিধা পাচ্ছিল বাংলাদেশ। খরচ অনেক কম হতো কিন্তু সমুদ্র ও ইয়ার বন্ধ দিয়ে পণ্য রপ্তানিকে খরচ অনেক বেশি হবে।

গার্মেন্টস সামগ্রী রপ্তানিকারকের একজন প্রতিনিধি বলেন, বেনাপোল থেকে গার্মেন্টস সামগ্রী রপ্তানিতে বড় পার্ট ছিলাম আমরা। এই পণ্যটির রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একেবারে বেকার হয়ে গেলাম। এবার বউ-বাচ্চা নিয়ে না খেয়ে মরার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মহসিন মিলন বলেন, গার্মেন্টস সামগ্রী রপ্তানিতে বাংলাদেশ আরও একধাপ ক্ষতির মুখে পড়ল। এখন থেকে বিমানে এবং সমুদ্রপথে এ পণ্য রপ্তানি করতে গেলে সময় এবং খরচ দুটোই বাড়বে এবং বন্দরে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক যারা প্রতিনিয়ত বন্দরে কাজ করে থাকেন এসব শ্রমিকদের কাজ অনেকটাই কমে যাবে। ফলে তারা বেকার হয়ে যেতে পারেন।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, রোববার সকালে একটি চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। ভারত সরকার নতুন করে গার্মেন্টস সামগ্রী আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় বেনাপোলসহ সারা দেশে স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি অনেকাংশ কমে গেছে। বেনাপোল দিয়ে যে পরিমাণ পণ্যবাহী ট্রাক ভারতের রপ্তানি হতো এখন তা কমে তিনভাগের একভাগ হবে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি করা হয় এখন সেটির অর্ধেকের কম প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি করা হবে। এর ফলে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।