জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন
- আপডেট সময় : ১১:১৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫ ১৪৪ বার পড়া হয়েছে
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে (জেসিপিএসসি) ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৫’ উদ্যাপন করা হয়েছে।

বুধবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়।
সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় প্রতিষ্ঠানের ছোট মাঠে প্রাতঃসমাবেশে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব শুরু হয়। বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও স্কাউট দল যৌথভাবে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন। কুচকাওয়াজ শেষে সিনিয়র শিক্ষক মো. হারুন অর রশিদের পরিচালনায় চতুর্থ শ্রেণির বালকদের দৌড় প্রতিযোগিতা ও দ্বিতীয় শ্রেণির বালিকাদের চকলেট দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১১:০০ টায় প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মাইমুনুল করিম চৌধুরী, এমফিল, এইসি, উপাধ্যক্ষ সহকারী অধ্যাপক শারমীন আক্তার, শিক্ষকমণ্ডলী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক সুপ্রীয়া তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাওহীদুল ইসলাম শিমুল।
মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইয়ান রশীদ শুভ মাননীয় প্রধান উপদেষ্ঠার বাণী পাঠ করেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সাকিয়ে কাউসার মাহিয়ান এবং সম্মাননীয় সেনাপ্রধানের বাণী পাঠ করেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তালুকদার মুহাম্মদ তাসিন। শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল মুহিত ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাজী নভেরা রওশান।
অধ্যক্ষ তাঁর বক্তব্যের শুরুতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহিদদের এবং অন্যান্য সকল মুক্তিযোদ্ধার প্রতি যাঁদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি।
দিবসটির তাৎপর্য উল্লেখ করে তিনি বলেন বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের শৌর্য-বীর্যের এক অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন আজ। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন-সার্বভৌম ভূখণ্ডের নাম জানান দেওয়ার দিন। তাই ২৬ শে মার্চ সমগ্র বাঙালির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক দিন। আমাদের জাতীয় জীবনে এ দিনটির প্রধান তাৎপর্য হচ্ছে-এ দিন সমগ্র দেশবাসীর বহুকালের লালিত মুক্তি ও সংগ্রামের অঙ্গীকারে ভাস্বর। এই দিবসটি দারিদ্র্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ। সে হিসেবে এ দিন আমাদের আত্মপরিচয়ের গৌরবে উজ্জ্বল, ত্যাগে ও বেদনায় মহীয়ান। তাই প্রতি বছর গৌরবময় এ দিনটি পালন করতে গিয়ে আমাদের কর্তব্য হয়ে ওঠে স্বাধীনতার স্বপ্ন ও সাধ আমরা কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছি, জাতীয় জীবনে আমাদের অর্জন কতটুকু আর বিশ্বে আমাদের অবস্থান কোথায় সেসব মিলিয়ে দেখা। এদিক বিবেচনায় ২৬শে মার্চ আমাদের আত্মসমালোচনার দিন, হিসেব মেলাবার দিন এবং সর্বোপরি আত্ম-জিজ্ঞাসার দিন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অধ্যক্ষ বলেন, স্বাধীনতা অমূল্য সম্পদ। আমাদের এ অমূল্য সম্পদকে রক্ষা করতে হবে। অর্থবহ করে তুলতে হবে একে। স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে হলে তোমাদেরকে উপযুক্তভাবে তৈরি হতে হবে। কেননা স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। তাই তোমাদের মধ্যে দেশাত্মবোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশকে মনেপ্রাণে ভালোবাসতে হবে। সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য তোমাদের শপথ নিতে হবে। আমাদের স্বাধীনতা যাতে হুমকির সম্মুখীন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই এদিনকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তোমরা জানো, জেনারেশন-জেড (জেন-জি) জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়ে একজন স্বৈরশাসকের পতন ঘটিয়ে থেমে যায়নি। একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের আগে তোমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থী এবং স্কাউটরা ট্রাফিক পুলিশ, নগর পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘জুলাই বিপ্লব’ থেকে শিক্ষা নিয়ে তোমাদেরকে দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেতে হবে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত দৌড় প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থী, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও বক্তব্যে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রদর্শক চিন্ময় চন্দ, সদস্য হিসেবে ছিলেন শিক্ষকবৃন্দ এবং অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপাধ্যক্ষ।


























