সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প সিলেটের সংবাদপত্র এজেন্ট এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ইসমাইলের মৃত্যুতে শোকবার্তা সিলেটে জলাবদ্ধতা নিরসনে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ – বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেট শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ডিসির দেয়া ৫ লাখ টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ১২ সদস্যের কমিটি গঠন কারবালার যুদ্ধে ইমাম হুসাইন (রাঃ) ও মাওলা আবুল ফজল আব্বাস আলামদার (আঃ)-এর শাহাদাত হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দানবাক্স বিতর্ক আর এক রহস্যময় বার্তা দিলেন সাবেক সিটি মেয়র ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমের বিত্তান্ত তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট মহানগর শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন,আরিফ সামাদ সভাপতি, মাহমুদুর রহমান সাধারণ সম্পাদক

সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে হত্যার বিচারের দাবিতে রাস্তায় দাঁড়ালেন রায়হানের মা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১০৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের রায়হান আহমদের মা রায়হানের মা সালমা বেগম ছেলে হত্যার বিচার দাবিতে ফের রাস্তায় দাঁড়ালেন । চার বছর পাঁচ মাসেও ছেলে হত্যার বিচার না পেয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রিয় শহিদমিনারের সামনে মানববন্ধনে তিনি ছেলে হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্নের দাবি জানান। ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে পুলিশের নির্যাতনে মারা যান নগরীর আখালিয়ার বাসিন্দা রায়হান আহমদ।

সালমা বেগম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ হাসিনা শুধু তার বাবার খুনিদের বিচার করেছে। আর কেউ বিচায় পায়নি। রায়হানকে ধরে নিয়ে পুলিশ যখন নির্যাতন করে খুন করে তখন তার মেয়ের বয়স ছিল মাত্র ২ মাস। এখন মেয়েও অনেক বড় হয়ে গেছে। মেয়ে যখন বাবার কথা জিজ্ঞেস করে তখন পরিবারের কেউ কোন জবাব দিতে পারেন না।

সালমা বেগম আরও বলেন, ‘চার বছর পাঁচ মাস ধরে ছেলে হারানোর কষ্ট বুকে নিয়ে তিনি আছেন। আশায় আশায় থাকলেও এখনো ছেলে হত্যার বিচার পাননি। আসামীরা মামলা থেকে রক্ষা পেতে নানা রকম কুটকৌশল করছে। তিনবার করে স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে চারজন জজ বদলি হয়েছেন। কিন্তু রায়হান হত্যার বিচার হয়নি। বিচার পেলে তিনি মনে কিছুটা হলেও শান্তি পেতেন।

রায়হানের মা দাবি করেন, ‘প্রধান আসামী বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া মামলা আপোসের জন্য নানা রকম প্রলোভন দেখিয়েছেন। ২০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অফার করেছে। আজীবনের জন্য রায়হানের পরিবারের দায়িত্ব নিতে চেয়েছে। কিন্তু কোন প্রলোভনে পরিবার আপোস করেনি। বিচারের মাধ্যমে রায়হানের খুনিরা ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলবে এমন আশায় অপেক্ষায় আছেন পরিবারের সদস্যরা- মানববন্ধনে এসে এমন কথা জানান রায়হানের মা সালমা বেগম।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে নগরীর আখালিয়ার রায়হান আহমদ নামের এক যুবককে ধরে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর তার পরিবারের কাছে ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না পেয়ে ফাঁড়ির ভেতর বেধড়ক মারপিট করা হয়। ১১ অক্টোবর ভোরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে পুলিশ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে রায়হান মারা যায়।

এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদি হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া, ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহি, এএসআই হাসান উদ্দিন, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, টিটু চন্দ্র দাস ও সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমানকে তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। অভিযোগপত্রে নোমানের বিরুদ্ধে এসআই আকবরকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা ও নির্যাতনের আলামত ধংসের অভিযোগ আনা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে হত্যার বিচারের দাবিতে রাস্তায় দাঁড়ালেন রায়হানের মা

আপডেট সময় : ০১:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের রায়হান আহমদের মা রায়হানের মা সালমা বেগম ছেলে হত্যার বিচার দাবিতে ফের রাস্তায় দাঁড়ালেন । চার বছর পাঁচ মাসেও ছেলে হত্যার বিচার না পেয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রিয় শহিদমিনারের সামনে মানববন্ধনে তিনি ছেলে হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্নের দাবি জানান। ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে পুলিশের নির্যাতনে মারা যান নগরীর আখালিয়ার বাসিন্দা রায়হান আহমদ।

সালমা বেগম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ হাসিনা শুধু তার বাবার খুনিদের বিচার করেছে। আর কেউ বিচায় পায়নি। রায়হানকে ধরে নিয়ে পুলিশ যখন নির্যাতন করে খুন করে তখন তার মেয়ের বয়স ছিল মাত্র ২ মাস। এখন মেয়েও অনেক বড় হয়ে গেছে। মেয়ে যখন বাবার কথা জিজ্ঞেস করে তখন পরিবারের কেউ কোন জবাব দিতে পারেন না।

সালমা বেগম আরও বলেন, ‘চার বছর পাঁচ মাস ধরে ছেলে হারানোর কষ্ট বুকে নিয়ে তিনি আছেন। আশায় আশায় থাকলেও এখনো ছেলে হত্যার বিচার পাননি। আসামীরা মামলা থেকে রক্ষা পেতে নানা রকম কুটকৌশল করছে। তিনবার করে স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে চারজন জজ বদলি হয়েছেন। কিন্তু রায়হান হত্যার বিচার হয়নি। বিচার পেলে তিনি মনে কিছুটা হলেও শান্তি পেতেন।

রায়হানের মা দাবি করেন, ‘প্রধান আসামী বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া মামলা আপোসের জন্য নানা রকম প্রলোভন দেখিয়েছেন। ২০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অফার করেছে। আজীবনের জন্য রায়হানের পরিবারের দায়িত্ব নিতে চেয়েছে। কিন্তু কোন প্রলোভনে পরিবার আপোস করেনি। বিচারের মাধ্যমে রায়হানের খুনিরা ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলবে এমন আশায় অপেক্ষায় আছেন পরিবারের সদস্যরা- মানববন্ধনে এসে এমন কথা জানান রায়হানের মা সালমা বেগম।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে নগরীর আখালিয়ার রায়হান আহমদ নামের এক যুবককে ধরে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর তার পরিবারের কাছে ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না পেয়ে ফাঁড়ির ভেতর বেধড়ক মারপিট করা হয়। ১১ অক্টোবর ভোরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে পুলিশ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে রায়হান মারা যায়।

এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদি হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া, ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহি, এএসআই হাসান উদ্দিন, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, টিটু চন্দ্র দাস ও সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমানকে তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। অভিযোগপত্রে নোমানের বিরুদ্ধে এসআই আকবরকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা ও নির্যাতনের আলামত ধংসের অভিযোগ আনা হয়।