সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প সিলেটের সংবাদপত্র এজেন্ট এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ইসমাইলের মৃত্যুতে শোকবার্তা সিলেটে জলাবদ্ধতা নিরসনে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ – বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেট শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ডিসির দেয়া ৫ লাখ টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ১২ সদস্যের কমিটি গঠন কারবালার যুদ্ধে ইমাম হুসাইন (রাঃ) ও মাওলা আবুল ফজল আব্বাস আলামদার (আঃ)-এর শাহাদাত হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দানবাক্স বিতর্ক আর এক রহস্যময় বার্তা দিলেন সাবেক সিটি মেয়র ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমের বিত্তান্ত তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট মহানগর শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন,আরিফ সামাদ সভাপতি, মাহমুদুর রহমান সাধারণ সম্পাদক

বিশ্বনাথে উৎসাহ-উদ্দীপনায় পলো বাওয়া উৎসব সম্পন্ন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৩:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫ ১০১ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :

আদি বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। আদি উৎসবের মধ্যে পলো দিয়ে মাছ শিকার করা একটি ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন সিলেটের বিশ্বনাথের গোয়াহরি গ্রামের মানুষ। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বুধবার সম্পন্ন হলো বিশ্বনাথের গোয়াহরি গ্রামের দক্ষিণের বড়বিলে পলো বাওয়া উৎসব।

গ্রামবাংলার পুরোনো একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব হচ্ছে পলো বাওয়া। একসময় গ্রামজুড়ে বর্ষা মৌসুম বা শীতের শেষে শীতকে উপক্ষো করে বাঁশ দিয়ে বিশেষ কায়দায় তৈরি পলো দিয়ে নদী-নালা ও খাল-বিলে সারিবদ্ধভাবে মাছ শিকার করতে দেখা যেত মানুষকে। কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে এই পলো বাওয়া উৎসব। কমে গেছে হাওর-বাওর, বিল-খালের সংখ্যা। মিঠা পানিতে উৎপাদিত মাছের পরিমাণ দিন দিন কমছে। মাছ কমুক, তাতে কী? উৎসবে ভাটা পড়বে? অবশ্যই না। ঐতিহ্য বিলুপ্ত হোক তা অবশ্যই কাম্য নয়। যে সকল ঐতিহ্য বিলুপ্ত হচ্ছে তা টিকিয়ে রাখতে চলছে নানা তৎপরতা। বিলুপ্তির পথে থাকা গ্রামীণ এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে বিশ্বনাথে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মাছ ধরার উৎসব পলো বাওয়া পালিত হয়েছে।

আবহমান কাল ধরে চলে আসা নিয়ম অনুসারে পহেলা মাঘ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামের দক্ষিণের (বড়) বিলে পলো বাওয়া উৎসব সম্পন্ন হলো। পলো বাওয়া উৎসব উপলক্ষে সকাল ১১টা থেকে সবাই এক সঙ্গে বিলে নেমে পড়েন মাছ শিকার করতে। এতে গোয়াহরি গ্রামের সৌখিন কয়েকশ মাছ শিকারি অংশ নেন। পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গোয়াহরি গ্রামের মানুষ ছাড়া অন্য গ্রামের কেউ এই পলো বাওয়ায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ নেই।

এই উৎসবে দূর-দূরান্তের নানা বয়সের লোকজন, শিশু থেকে বৃদ্ধ, যে যার মতো পলো বাওয়া উৎসব দেখতে সমবেত হন। সকাল ১১টায় পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুসারে বিলের মধ্যে নানা বয়সের মানুষ মাছ ধরতে নামেন। তাদের মাছ ধরা দেখতে বিলের পাড়ে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকেন বিভিন্ন বয়সের মানুষজন। ঝপাশ-ঝপাশ শব্দের তালে মুখরিত হয় বিলে চারপাশ। স্বল্প পানি ও কচুরিপানা না থাকায় সহজেই মাছ শিকার করে ঘরে ফিরেছেন অনেকে। অনেকের ভাগ্যে জোটেনি বড় মাছ। শিকার করা মাছের মধ্যে ছিল বোয়াল, শোল, কার্প, বাউস, গনিয়া ও রুইসহ বিভিন্ন জাতের ছোট মাছ। মাছ শিকারে অংশ নেন প্রবাস থেকে আসা গ্রামের অনেক বাসিন্দাও।

গোয়াহরি গ্রামের মুরব্বি ছুরত খান ও তারিজ আলী বলেন, এই উৎসব আনুমানিক তিনশ বছর ধরে চলে আসছে। মাঘ মাসের প্রথম দিনে প্রতি বছর গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে এ ঐতিহ্য পালন করে আসছেন। তবে আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। মাছ পাওয়া না গেলেও আনন্দ ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এই উৎসব পালন করি আমরা। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দূর-দূরান্তের আত্মীয়-স্বজনও আমাদের গ্রামের বাড়িতে আসেন। আমরা চাই ভবিষ্যতেও এই ধারা চলমান থাকুক। মিডিয়ার কল্যাণে দেশে-বিদেশে এই উৎসবের আমেজ পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

পলো বাওয়া উৎসব দেখতে দূর-দূরান্তের এবং আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ বিলের পাড়ে উপস্থিত হয়ে উৎসব উপভোগ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিশ্বনাথে উৎসাহ-উদ্দীপনায় পলো বাওয়া উৎসব সম্পন্ন

আপডেট সময় : ০২:০৩:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :

আদি বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। আদি উৎসবের মধ্যে পলো দিয়ে মাছ শিকার করা একটি ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন সিলেটের বিশ্বনাথের গোয়াহরি গ্রামের মানুষ। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বুধবার সম্পন্ন হলো বিশ্বনাথের গোয়াহরি গ্রামের দক্ষিণের বড়বিলে পলো বাওয়া উৎসব।

গ্রামবাংলার পুরোনো একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব হচ্ছে পলো বাওয়া। একসময় গ্রামজুড়ে বর্ষা মৌসুম বা শীতের শেষে শীতকে উপক্ষো করে বাঁশ দিয়ে বিশেষ কায়দায় তৈরি পলো দিয়ে নদী-নালা ও খাল-বিলে সারিবদ্ধভাবে মাছ শিকার করতে দেখা যেত মানুষকে। কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে এই পলো বাওয়া উৎসব। কমে গেছে হাওর-বাওর, বিল-খালের সংখ্যা। মিঠা পানিতে উৎপাদিত মাছের পরিমাণ দিন দিন কমছে। মাছ কমুক, তাতে কী? উৎসবে ভাটা পড়বে? অবশ্যই না। ঐতিহ্য বিলুপ্ত হোক তা অবশ্যই কাম্য নয়। যে সকল ঐতিহ্য বিলুপ্ত হচ্ছে তা টিকিয়ে রাখতে চলছে নানা তৎপরতা। বিলুপ্তির পথে থাকা গ্রামীণ এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে বিশ্বনাথে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মাছ ধরার উৎসব পলো বাওয়া পালিত হয়েছে।

আবহমান কাল ধরে চলে আসা নিয়ম অনুসারে পহেলা মাঘ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামের দক্ষিণের (বড়) বিলে পলো বাওয়া উৎসব সম্পন্ন হলো। পলো বাওয়া উৎসব উপলক্ষে সকাল ১১টা থেকে সবাই এক সঙ্গে বিলে নেমে পড়েন মাছ শিকার করতে। এতে গোয়াহরি গ্রামের সৌখিন কয়েকশ মাছ শিকারি অংশ নেন। পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গোয়াহরি গ্রামের মানুষ ছাড়া অন্য গ্রামের কেউ এই পলো বাওয়ায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ নেই।

এই উৎসবে দূর-দূরান্তের নানা বয়সের লোকজন, শিশু থেকে বৃদ্ধ, যে যার মতো পলো বাওয়া উৎসব দেখতে সমবেত হন। সকাল ১১টায় পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুসারে বিলের মধ্যে নানা বয়সের মানুষ মাছ ধরতে নামেন। তাদের মাছ ধরা দেখতে বিলের পাড়ে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকেন বিভিন্ন বয়সের মানুষজন। ঝপাশ-ঝপাশ শব্দের তালে মুখরিত হয় বিলে চারপাশ। স্বল্প পানি ও কচুরিপানা না থাকায় সহজেই মাছ শিকার করে ঘরে ফিরেছেন অনেকে। অনেকের ভাগ্যে জোটেনি বড় মাছ। শিকার করা মাছের মধ্যে ছিল বোয়াল, শোল, কার্প, বাউস, গনিয়া ও রুইসহ বিভিন্ন জাতের ছোট মাছ। মাছ শিকারে অংশ নেন প্রবাস থেকে আসা গ্রামের অনেক বাসিন্দাও।

গোয়াহরি গ্রামের মুরব্বি ছুরত খান ও তারিজ আলী বলেন, এই উৎসব আনুমানিক তিনশ বছর ধরে চলে আসছে। মাঘ মাসের প্রথম দিনে প্রতি বছর গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে এ ঐতিহ্য পালন করে আসছেন। তবে আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। মাছ পাওয়া না গেলেও আনন্দ ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এই উৎসব পালন করি আমরা। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দূর-দূরান্তের আত্মীয়-স্বজনও আমাদের গ্রামের বাড়িতে আসেন। আমরা চাই ভবিষ্যতেও এই ধারা চলমান থাকুক। মিডিয়ার কল্যাণে দেশে-বিদেশে এই উৎসবের আমেজ পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

পলো বাওয়া উৎসব দেখতে দূর-দূরান্তের এবং আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ বিলের পাড়ে উপস্থিত হয়ে উৎসব উপভোগ করেন।