ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় গিয়ে মানুষের দুর্ভোগ দেখলেন সিসিক প্রশাসক হবিগঞ্জ জমিজমা বিরোধে সংঘর্ষ- মাধবপুরে বৃদ্ধ নিহত, আহত অন্তত ৩০ সিলেটে সুরঞ্জিত সেনের বিস্ফোরক মামলায় হাজিরা দিলেন আরিফ, গউছ, বাবর সিলেটে শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা নিশ্চিত করতে গণবিজ্ঞপ্তি, অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি বাংলাদেশের ৮টি মহানগরীর মধ্যে নিরাপত্তা ও কম অপরাধপ্রবণ নগরীর তালিকায় সেরা সিলেট সিলেটের জাফলং পাথরখেকোদের গ্রাসে বিলীন হচ্ছে জাফলং রাজবাড়ী সিলেট সীমান্ত থেকে নারী ও শিশুসহ ৯ জন আটক সুনামগঞ্জ,হবিগঞ্জ বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ- কালনী নদীর ভাঙ্গনে নি:স্ব শতাধিক পরিবার, আতঙ্কে অসংখ্য মানুষ সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন চলছে ম্যানুয়ালি, বৈদ্যুতিক গোলোযোগ থেকে অগ্নিকাণ্ড জেলা পরিষদের প্রশাসকের সাথে ওলামা দল ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

কলাম নারী কথা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

আকলিমা আক্তার :

নারী কেবলই একটি স্বত্তা নয়, নারীকে তার জন্মগত অধিকারসমূহ সমুন্নত রাখার নিশ্চয়তা প্রথমেই পরিবারকে বহন করতে হয়। একটি কন্যা শিশু স্বভাবত বাবার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করে। শৈশবের দুরন্তপনা এবং কৈশোর সময়ের জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে যৌবনে বিয়ে প্রথার নিয়মে আবদ্ধ হয়ে স্বামীর বাড়িতে নতুন অধ্যায় শুরু হয়।

অর্থাৎ একজন নারীর বাবার বাড়ি ও স্বামীর বাড়ি থাকে এবং বাস্তব সত্য এই যে, নারীর নিজের কোনো বাড়ি নেই। এরই সাথে ঐ নারী যদি পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক যুগোপযোগী শিক্ষা না থাকে নারীকে তার জীবনের প্রতিটি স্তরে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এক ভয়াবহ সংগ্রামের পথ বেছে নিতে বাধ্য করা হয়।

নারীর জীবনে শুরু হয় অমর্যাদা , বঞ্চনা, অবহেলা ও অমানুষিক অত্যাচার। এক পর্যায়ে বহু নারী মানিয়ে নেয় কেবলই মৌলিক চাহিদা ও সামাজিক নিরাপত্তা জনিত কারণে। কিন্তু যে নারী মেনে নিতে বা মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়, তাদের একটি অংশ আত্মহননের পথ বেচে নেয় কারণ নারী স্বত্তা ও তার জীবনের গুরুত্ব সামাজিক ও পারিবারিক অনিয়মের কাছে একেবারেই নগণ্য ও মূল্যহীন হয়ে পড়ে, তৎপ্রেক্ষিতে বিচারের বণীও নির্ভৃতে কাঁদে (!)

কারণ আকাশের লক্ষ কোটি তারার মাঝে কখন কোথায় কোন তারা ঝরে গেল, আকাশ কি মনে রাখে ? নারী শিক্ষা ও নারী অধিকার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবী।

নবাগত কন্যা শিশুর জন্মের পর থেকে তার অধিকার, পরিবারের দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ, মেয়ে শিশুর শিক্ষা ব্যবস্থায় বাধ্যবাধকতা, বেড়ে উঠার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং একজন পূর্ণ বয়স্ক নারীকে স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোপরি রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের সহযোগিতা আবশ্যিক। ফলশ্রুতিতে একজন স্বনির্ভর শিক্ষিত নারী তার আত্মমর্যদা বজায় রেখে রাষ্ট্রে, সমাজে ও পরিবারে নিজের অবদানটুকু রাখতে পারবে।

নারী হবে না কারো বোঝা, নারী হবে আত্মমর্যাদাশীল এক স্বত্তা, নারীর ও থাকবে নিজের জন্যে এক টুকরো নিরাপদ আবাসস্থল, সম্মানের সাথে দু’মুঠো আহারের যোগাড়, নারীরও থাকবে সম্পূর্ণ নিজের আত্মনির্ভর পরিচিতি। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে “আজকের পদক্ষেপ আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” প্রতিপাদ্য ধারণপূর্বক এগিয়ে যাবে পৃথিবীর সকল নারী, এ প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক নারী দিবসে পৃথিবীর সকল নারীকে জানাই শুভেচ্ছা।

লেখক : অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর ও প্রশাসন), সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিলেট।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কলাম নারী কথা

আপডেট সময় : ০২:৩১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

আকলিমা আক্তার :

নারী কেবলই একটি স্বত্তা নয়, নারীকে তার জন্মগত অধিকারসমূহ সমুন্নত রাখার নিশ্চয়তা প্রথমেই পরিবারকে বহন করতে হয়। একটি কন্যা শিশু স্বভাবত বাবার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করে। শৈশবের দুরন্তপনা এবং কৈশোর সময়ের জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে যৌবনে বিয়ে প্রথার নিয়মে আবদ্ধ হয়ে স্বামীর বাড়িতে নতুন অধ্যায় শুরু হয়।

অর্থাৎ একজন নারীর বাবার বাড়ি ও স্বামীর বাড়ি থাকে এবং বাস্তব সত্য এই যে, নারীর নিজের কোনো বাড়ি নেই। এরই সাথে ঐ নারী যদি পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক যুগোপযোগী শিক্ষা না থাকে নারীকে তার জীবনের প্রতিটি স্তরে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এক ভয়াবহ সংগ্রামের পথ বেছে নিতে বাধ্য করা হয়।

নারীর জীবনে শুরু হয় অমর্যাদা , বঞ্চনা, অবহেলা ও অমানুষিক অত্যাচার। এক পর্যায়ে বহু নারী মানিয়ে নেয় কেবলই মৌলিক চাহিদা ও সামাজিক নিরাপত্তা জনিত কারণে। কিন্তু যে নারী মেনে নিতে বা মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়, তাদের একটি অংশ আত্মহননের পথ বেচে নেয় কারণ নারী স্বত্তা ও তার জীবনের গুরুত্ব সামাজিক ও পারিবারিক অনিয়মের কাছে একেবারেই নগণ্য ও মূল্যহীন হয়ে পড়ে, তৎপ্রেক্ষিতে বিচারের বণীও নির্ভৃতে কাঁদে (!)

কারণ আকাশের লক্ষ কোটি তারার মাঝে কখন কোথায় কোন তারা ঝরে গেল, আকাশ কি মনে রাখে ? নারী শিক্ষা ও নারী অধিকার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবী।

নবাগত কন্যা শিশুর জন্মের পর থেকে তার অধিকার, পরিবারের দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ, মেয়ে শিশুর শিক্ষা ব্যবস্থায় বাধ্যবাধকতা, বেড়ে উঠার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং একজন পূর্ণ বয়স্ক নারীকে স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোপরি রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের সহযোগিতা আবশ্যিক। ফলশ্রুতিতে একজন স্বনির্ভর শিক্ষিত নারী তার আত্মমর্যদা বজায় রেখে রাষ্ট্রে, সমাজে ও পরিবারে নিজের অবদানটুকু রাখতে পারবে।

নারী হবে না কারো বোঝা, নারী হবে আত্মমর্যাদাশীল এক স্বত্তা, নারীর ও থাকবে নিজের জন্যে এক টুকরো নিরাপদ আবাসস্থল, সম্মানের সাথে দু’মুঠো আহারের যোগাড়, নারীরও থাকবে সম্পূর্ণ নিজের আত্মনির্ভর পরিচিতি। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে “আজকের পদক্ষেপ আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” প্রতিপাদ্য ধারণপূর্বক এগিয়ে যাবে পৃথিবীর সকল নারী, এ প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক নারী দিবসে পৃথিবীর সকল নারীকে জানাই শুভেচ্ছা।

লেখক : অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর ও প্রশাসন), সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিলেট।