ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় গিয়ে মানুষের দুর্ভোগ দেখলেন সিসিক প্রশাসক হবিগঞ্জ জমিজমা বিরোধে সংঘর্ষ- মাধবপুরে বৃদ্ধ নিহত, আহত অন্তত ৩০ সিলেটে সুরঞ্জিত সেনের বিস্ফোরক মামলায় হাজিরা দিলেন আরিফ, গউছ, বাবর সিলেটে শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা নিশ্চিত করতে গণবিজ্ঞপ্তি, অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি বাংলাদেশের ৮টি মহানগরীর মধ্যে নিরাপত্তা ও কম অপরাধপ্রবণ নগরীর তালিকায় সেরা সিলেট সিলেটের জাফলং পাথরখেকোদের গ্রাসে বিলীন হচ্ছে জাফলং রাজবাড়ী সিলেট সীমান্ত থেকে নারী ও শিশুসহ ৯ জন আটক সুনামগঞ্জ,হবিগঞ্জ বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ- কালনী নদীর ভাঙ্গনে নি:স্ব শতাধিক পরিবার, আতঙ্কে অসংখ্য মানুষ সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন চলছে ম্যানুয়ালি, বৈদ্যুতিক গোলোযোগ থেকে অগ্নিকাণ্ড জেলা পরিষদের প্রশাসকের সাথে ওলামা দল ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

ঐতিহাসিক মার্চ মাস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক : ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ । ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রমনার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন লাখো মানুষের সমাবেশে শেখ মুজিব বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ ওই ভাষণে বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরা ও দেশবাসীর করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা ছিল বলে অনেকে মনে করেন।

৭ মার্চের ভাষণের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ ঘরে-ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। সেই প্রস্তুতির চূড়ান্ত রূপ পায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসজুড়েই দেশের নানা ঘটনাপ্রবাহ ইতিহাসে স্থান করে নেয়। ঘটনাবহুল এ মাস বাংলাদেশের জন্ম এবং বাঙালির আত্মত্যাগের এক অবিস্মরণীয় মাস।

এ মাসের শুরু থেকে প্রায় প্রতিটি দিন ঐতিহাসিক ঘটনায় উজ্জ্বল।

৭ মার্চের ভাষণ সাধারণভাবে জনপ্রিয় হলেও ২০২০ সালের আগ পর্যন্ত দিনটিকে কোনো দিবস হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ থেকে ৭ মার্চকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করে এক মাসের মধ্যে গেজেট জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মুজিববর্ষ উপলক্ষে সব জেলা ও উপজেলায় ‘বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল’ স্থাপনের নির্দেশও দেওয়া হয়।

২০১৭ সালে এ নিয়ে আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছিল। সে বছরই ইউনেসকো ৭ মার্চের ভাষণকে ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করে পরিপত্র জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ‌যাপন বা পালনসংক্রান্ত পরিপত্রে ৭ মার্চকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে তখন প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এই ভাষণকে ২০১৭ সালে ইউনেসকো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় ২০২১ সাল থেকে সরকারিভাবে ব্যাপক আয়োজনে দিবসটি পালন করা শুরু হয়। তবে গত বছর এবং এবারো  ভিন্ন প্রেক্ষাপটে  দিবসটি  সামনে এসেছে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এখনো তিনি সেখানেই আছেন। দেশে মানবাধিকার বিরোধী অপরাধের দায়ে তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বেশির ভাগ পলাতক, অনেকে আছেন কারাগারে।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ওই বছরের ১৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার ৭ মার্চসহ আটটি জাতীয় দিবস উদযাপন বা পালন না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঐতিহাসিক মার্চ মাস

আপডেট সময় : ০২:৪২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক : ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ । ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রমনার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন লাখো মানুষের সমাবেশে শেখ মুজিব বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ ওই ভাষণে বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরা ও দেশবাসীর করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা ছিল বলে অনেকে মনে করেন।

৭ মার্চের ভাষণের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ ঘরে-ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। সেই প্রস্তুতির চূড়ান্ত রূপ পায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসজুড়েই দেশের নানা ঘটনাপ্রবাহ ইতিহাসে স্থান করে নেয়। ঘটনাবহুল এ মাস বাংলাদেশের জন্ম এবং বাঙালির আত্মত্যাগের এক অবিস্মরণীয় মাস।

এ মাসের শুরু থেকে প্রায় প্রতিটি দিন ঐতিহাসিক ঘটনায় উজ্জ্বল।

৭ মার্চের ভাষণ সাধারণভাবে জনপ্রিয় হলেও ২০২০ সালের আগ পর্যন্ত দিনটিকে কোনো দিবস হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ থেকে ৭ মার্চকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করে এক মাসের মধ্যে গেজেট জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মুজিববর্ষ উপলক্ষে সব জেলা ও উপজেলায় ‘বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল’ স্থাপনের নির্দেশও দেওয়া হয়।

২০১৭ সালে এ নিয়ে আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছিল। সে বছরই ইউনেসকো ৭ মার্চের ভাষণকে ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করে পরিপত্র জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ‌যাপন বা পালনসংক্রান্ত পরিপত্রে ৭ মার্চকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে তখন প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এই ভাষণকে ২০১৭ সালে ইউনেসকো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় ২০২১ সাল থেকে সরকারিভাবে ব্যাপক আয়োজনে দিবসটি পালন করা শুরু হয়। তবে গত বছর এবং এবারো  ভিন্ন প্রেক্ষাপটে  দিবসটি  সামনে এসেছে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এখনো তিনি সেখানেই আছেন। দেশে মানবাধিকার বিরোধী অপরাধের দায়ে তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বেশির ভাগ পলাতক, অনেকে আছেন কারাগারে।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ওই বছরের ১৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার ৭ মার্চসহ আটটি জাতীয় দিবস উদযাপন বা পালন না করার সিদ্ধান্ত নেয়।