সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে এসএসসিতে শিক্ষাবোর্ডে পাশের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ফেল ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ সিলেট দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ সিলেটে স্বামী উপপরিচালক ক্ষমতার কেন্দ্রে স্ত্রী! জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিতের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর দেশে প্রাইভেট টিউশন মহামারি আকার ধারণ করেছে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মাধবপুর ডিবির অভিযানে ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার সিলেটে হামের উপসর্গে মৃত্যু ৩ সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেপ্তার হবিগঞ্জ মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২ সিলেটে কাজ করতে সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মচারী বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু, আহত ২

শীতে প্রজনন স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে ৭ উপায়ে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭৭ বার পড়া হয়েছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক :

শীতকালে রোগবালাই একটু বেশিই হয়। এ সময় আপনার শরীরে নানা পরিবর্তন নিয়ে আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যব্যবস্থাতেও। অনেক পুরুষই বুঝতে পারেন না যে, শীতকালে দৈনন্দিন রুটিন, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ, ঘুম এবং মানসিক চাপের পরিবর্তনের কারণে নীরবে শুক্রাণুর স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে।

শীতকালে জীবনযাপনে সামান্য পরিবর্তন আনলেই পুরুষের উর্বরতায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন নার্চারের স্ত্রীরোগ ও আইভিএফ বিশেষজ্ঞ ডা. অর্চনা ধাওয়ান বাজাজ। তিনি বলেন, প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে এ মৌসুমে প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষা করার পাশাপাশি তা আরও উন্নত করা সম্ভব।

পুরুষের প্রজনন ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন দেখা দেয় তা তাপমাত্রা কমে গেলে, যা অনেক সময় অগোচরেই থেকে যায়। শীতের সময় হরমোনের ভারসাম্য, বিপাকক্রিয়া, দৈনন্দিন অভ্যাস— এমনকি রক্ত সঞ্চালনেও প্রভাব পড়ে। এর ফলে শুক্রাণুর গুণগতমান ও কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে। তবে এ সময়টিই সামান্য কার্যকর পরিবর্তনের মাধ্যমে পুরুষের উর্বরতা বাড়ানোর উপযুক্ত সুযোগ থাকে।

আর শীতকালে পুরুষের উর্বরতা রক্ষার একটি পূর্ণাঙ্গ পথ তৈরি করে সাতটি সহজ অভ্যাস।  শুধু চিকিৎসা নয়, দৈনন্দিন জীবনযাপনও প্রজনন স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা রাখে। মৌসুমি যত্ন শুক্রাণুর মান উন্নত করে এবং সামগ্রিক সুস্থতা বাড়ায়।

তবে হ্যাঁ, নিয়মিত এসব অভ্যাস মেনে চললে বেশিভাগ পুরুষ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন অনুভব করতে পারেন। শীতকাল ধীরগতির মনে হলেও, এটি আসলে শরীরকে নতুনভাবে সাজানোর একটি বিশেষ সুযোগ।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, যে সাতটি বিষয় শুক্রাণু বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ

১. শরীর উষ্ণ রাখা উচিত

শীতকালে শরীর, বিশেষ করে পেলভিক বা নিম্নাঙ্গ উষ্ণ রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ অতিরিক্ত ঠান্ডায় শুক্রাণুর গতিশীলতা কমে যায়। সুতরাং পর্যাপ্ত গরম পোশাক পরা রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

২. পানিশূন্যতা

শীতকালে পানির তৃষ্ণা কম লাগায় অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করে থাকেন। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি শুক্রাণুর তরলের পরিমাণ ঠিক রাখা এবং কোষের কার্যকারিতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৩. পুষ্টিকর খাবার

শীতকালে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার—যেমন সাইট্রাস ফল, আখরোট, টমেটো ও সবুজ শাকসবজি শুক্রাণুর ওপর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে, যা কম উর্বরতার অন্যতম কারণ।

৪. ব্যায়াম ও হরমোনের ভারসাম্য

শীতকালে অলস জীবনযাপন বেড়ে যায়। নিয়মিত ব্যায়াম টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়ায়, বিপাকক্রিয়া উন্নত করে এবং শুক্রাণু উৎপাদনে সহায়তা করে।

৫. ঘুম ও উর্বরতার সম্পর্ক

হরমোন নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। শীতে রাত জেগে স্ক্রিন দেখা বা অনিয়মিত রুটিনের কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে উর্বরতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

৬. মানসিক চাপ

বছরের শেষ দিকে মানসিক চাপ বাড়ে, যা হরমোনের স্বাভাবিক সংকেতকে ব্যাহত করে তোলে। গভীর শ্বাস নেওয়া, ধ্যান কিংবা দিনের আলোতে হাঁটার মতো অভ্যাস কর্টিসল হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা শুক্রাণু বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৭. অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলা

শীতকালে দীর্ঘ সময় গরমপানিতে গোসল ও গাড়ির হিটেড সিট ব্যবহার বা কোলে ল্যাপটপ রাখার অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত। অতিরিক্ত তাপ শুক্রাণুর সংখ্যা ও গঠন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শীতে প্রজনন স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে ৭ উপায়ে

আপডেট সময় : ০১:১৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

লাইফস্টাইল ডেস্ক :

শীতকালে রোগবালাই একটু বেশিই হয়। এ সময় আপনার শরীরে নানা পরিবর্তন নিয়ে আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যব্যবস্থাতেও। অনেক পুরুষই বুঝতে পারেন না যে, শীতকালে দৈনন্দিন রুটিন, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ, ঘুম এবং মানসিক চাপের পরিবর্তনের কারণে নীরবে শুক্রাণুর স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে।

শীতকালে জীবনযাপনে সামান্য পরিবর্তন আনলেই পুরুষের উর্বরতায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন নার্চারের স্ত্রীরোগ ও আইভিএফ বিশেষজ্ঞ ডা. অর্চনা ধাওয়ান বাজাজ। তিনি বলেন, প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে এ মৌসুমে প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষা করার পাশাপাশি তা আরও উন্নত করা সম্ভব।

পুরুষের প্রজনন ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন দেখা দেয় তা তাপমাত্রা কমে গেলে, যা অনেক সময় অগোচরেই থেকে যায়। শীতের সময় হরমোনের ভারসাম্য, বিপাকক্রিয়া, দৈনন্দিন অভ্যাস— এমনকি রক্ত সঞ্চালনেও প্রভাব পড়ে। এর ফলে শুক্রাণুর গুণগতমান ও কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে। তবে এ সময়টিই সামান্য কার্যকর পরিবর্তনের মাধ্যমে পুরুষের উর্বরতা বাড়ানোর উপযুক্ত সুযোগ থাকে।

আর শীতকালে পুরুষের উর্বরতা রক্ষার একটি পূর্ণাঙ্গ পথ তৈরি করে সাতটি সহজ অভ্যাস।  শুধু চিকিৎসা নয়, দৈনন্দিন জীবনযাপনও প্রজনন স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা রাখে। মৌসুমি যত্ন শুক্রাণুর মান উন্নত করে এবং সামগ্রিক সুস্থতা বাড়ায়।

তবে হ্যাঁ, নিয়মিত এসব অভ্যাস মেনে চললে বেশিভাগ পুরুষ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন অনুভব করতে পারেন। শীতকাল ধীরগতির মনে হলেও, এটি আসলে শরীরকে নতুনভাবে সাজানোর একটি বিশেষ সুযোগ।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, যে সাতটি বিষয় শুক্রাণু বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ

১. শরীর উষ্ণ রাখা উচিত

শীতকালে শরীর, বিশেষ করে পেলভিক বা নিম্নাঙ্গ উষ্ণ রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ অতিরিক্ত ঠান্ডায় শুক্রাণুর গতিশীলতা কমে যায়। সুতরাং পর্যাপ্ত গরম পোশাক পরা রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

২. পানিশূন্যতা

শীতকালে পানির তৃষ্ণা কম লাগায় অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করে থাকেন। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি শুক্রাণুর তরলের পরিমাণ ঠিক রাখা এবং কোষের কার্যকারিতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৩. পুষ্টিকর খাবার

শীতকালে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার—যেমন সাইট্রাস ফল, আখরোট, টমেটো ও সবুজ শাকসবজি শুক্রাণুর ওপর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে, যা কম উর্বরতার অন্যতম কারণ।

৪. ব্যায়াম ও হরমোনের ভারসাম্য

শীতকালে অলস জীবনযাপন বেড়ে যায়। নিয়মিত ব্যায়াম টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়ায়, বিপাকক্রিয়া উন্নত করে এবং শুক্রাণু উৎপাদনে সহায়তা করে।

৫. ঘুম ও উর্বরতার সম্পর্ক

হরমোন নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। শীতে রাত জেগে স্ক্রিন দেখা বা অনিয়মিত রুটিনের কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে উর্বরতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

৬. মানসিক চাপ

বছরের শেষ দিকে মানসিক চাপ বাড়ে, যা হরমোনের স্বাভাবিক সংকেতকে ব্যাহত করে তোলে। গভীর শ্বাস নেওয়া, ধ্যান কিংবা দিনের আলোতে হাঁটার মতো অভ্যাস কর্টিসল হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা শুক্রাণু বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৭. অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলা

শীতকালে দীর্ঘ সময় গরমপানিতে গোসল ও গাড়ির হিটেড সিট ব্যবহার বা কোলে ল্যাপটপ রাখার অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত। অতিরিক্ত তাপ শুক্রাণুর সংখ্যা ও গঠন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।