মাধবপুরে লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসির ছড়াছড়ি
- আপডেট সময় : ০৩:৪২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫ ১৪৬ বার পড়া হয়েছে
মাধবপুর প্রতিনিধি :
হবিগন্জের মাধবপুরে প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট ছাড়াই উপজেলার প্রতিটি হাট-বাজারের অলিতে-গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে প্রায় ১২শ’ ফার্মেসি।
সিলেটের ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক মো. শামীম হোসেনের কাছে নেই অবৈধ ফার্মেসির কোনো তালিকা। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এ তালিকায় রয়েছে ৩৫০ এর কিছু বেশি ফার্মেসি।
কিন্তু এর বিপরীতে একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে প্রায় ১২শ’র মত ফার্মেসি রয়েছে।
প্রশাসনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই চালিয়ে যাচ্ছে ওষুধ বিক্রির ব্যবসা। এসব ফার্মেসি চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক, নিষিদ্ধ, নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের বিভিন্ন ওষুধ বিক্রি করছে অবাধে।
এতে আর্থিক, শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন অনেক রোগী ও তাদের পরিবার। এখানকার মানুষ প্রতিনিয়ত অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। ফলে মাধবপুরের ৬ লাখ বাসিন্দা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়া ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে, বেশ কিছু ওষুধের দোকানে ওষুধ বিক্রি নয়, রোগীদের প্রেসক্রিপশন ও করা হয়।
সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, মাধবপুরে প্রায় দেড় হাজারের উপরে অননুমোদিত ফার্মেসি আছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত কোনো ফার্মেসিতেই ফার্মাসিস্ট কিংবা কেমিস্ট নেই। এর মধ্যে প্রায় হাজার খানেক দোকান আছে, যেগুলো খুবই নিম্নমানের। স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন ওষুধের চাহিদা বাড়ায় এসব দোকানের ব্যবসাও জমজমাট।
তদারকি কম থাকায় নকল, মানহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জাম বিক্রি হচ্ছে এসব দোকানে। তবে এসব ফার্মেসিতে ওষুধ মজুত, প্রদর্শন ও বিক্রয় ১৯৪৬ সালের ড্রাগস রুলস অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আবার লাইসেন্সবিহীন অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের পাশাপাশি আয়ুর্বেদী ওষুধের ফার্মেসি খুলে বসেছেন অনেকে। তবে ফার্মেসি পরিচালনার জন্য যে ন্যূনতম যোগ্যতার প্রয়োজন তাও আবার অনেক ফার্মেসি মালিকদের নেই।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে জানা যায়, তারা ফার্মেসি ব্যবসা শুরু করার আগে অন্যের ফার্মেসিতে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। সেখান থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিজেই শুরু করেছেন ফার্মেসি ব্যবসা।
ফার্মেসি চালু করার জন্য বাধ্যতামূলক হচ্ছে, ঔষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে ড্রাগ লাইসেন্স নেওয়া এবং প্রত্যেক ফার্মেসিতে একজন সনদপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট থাকা। অথচ বেশির ভাগ ফার্মেসিতেই নেই ড্রাগ লাইসেন্স আর সনদপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন রোগের স্পর্শকাতর ওষুধ বিক্রিরও অভিযোগ আছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাধবপুরে গ্রাম পর্যায়ে ছোটখাটো ফার্মেসিগুলোতে ওষুধ ব্যবসার আড়ালে ইন্ডিয়ান স্টেরোয়েড ট্যাবলেট বেঁচাকেনা করা হয়। এ ছাড়া ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে ভালো মানের ওষুধের চেয়ে বেশি কমিশন দেওয়া হচ্ছে।
এতে বেশি লাভের আশায় ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রিতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে ওষুধ ব্যবসায়ীরা। সাধারণ মানুষও কোন ওষুধটি আসল কোনটি নকল তা চিহ্নিত করতে অপারগ। এর ফলে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধের বাণিজ্য দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। আর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।
জানা যায়, একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট দ্বারা একটি ফার্মেসি পরিচালনার নিয়ম রয়েছে এবং ড্রাগ লাইসেন্স করার আগে ওষুধ বিক্রয় ও প্রদর্শনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিককে অবশ্যই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারসহ অলিতে-গলিতে ওষুধের দোকানে এ আইন অমান্য করা হচ্ছে। যার কারণে প্রশিক্ষণ ও ড্রাগ লাইসেন্সবিহীন ওষুধের দোকান দিন দিন বেড়েই চলেছে। একাধিক ফার্মেসি ঘুরে ভিন্ন এক চিত্র দেখা যায়। ডিগ্রিধারী, ডিপ্লোমাধারী ফার্মাসিস্ট ও ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই পুরো উপজেলায় চলছে হাজার হাজার ফার্মেসি। ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এসব ফার্মেসি থেকে বিক্রি হচ্ছে ওষুধ। এরমধ্যে অধিকাংশ ফার্মেসিগুলোতে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ছাড়পত্র নেই।
এছাড়া বড় বড় ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্স থাকলেও সেখানে নেই দক্ষ ফার্মাসিস্ট। কোনো ধরনের কেমিস্ট বা ফার্মাসিস্ট না থাকলেও সব ধরনের রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সিলেট ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয়ের ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক মো: শামীম হোসেনের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে মাধবপুরে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে ফার্মেসি বেশীর ভাগ ফার্মেসিতে নেই ড্রাগ লাইসেন্স ও ফার্মাসিস্ট।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কিভাবে নিশ্চিত হলেন ড্রাগ লাইসেন্স নাই। মাধবপুরে আমরা নিয়মিত কার্যক্রম চালাই। অন্য উপজেলাগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ড্রাগ লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মেসি এ উপজেলায়।
মাধবপুরে লাইসেন্স করা ফার্মসী আছে ৩৫০প্লাস। লাইসেন্সবিহীন কতটা থাকতে পারে সেটা আমার জানা নাই। যখন ড্রাগ লাইসেন্স দেয়া হয় তখন ফার্মাসিষ্ট এর লিগ্যাল ডকুমেন্ট যাচাই করেই দেওয়া হয়। পরে দেখা যায় ফার্মাসিষ্ট আগে একটায় ছিল পরে অন্যটায় চলে গেছে। আমরা ড্রাগ লাইসেন্জ সহজে দেই না।
মাধবপুর উপজেলায় মোট কতটি ফার্মেসি আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ তথ্য নিয়ে বসে নেই। কোন তথ্য প্রযোজন হলে আমার অফিসে আইসা নিয়ে যাবেন।
























