সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ডিসির দেয়া ৫ লাখ টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ১২ সদস্যের কমিটি গঠন কারবালার যুদ্ধে ইমাম হুসাইন (রাঃ) ও মাওলা আবুল ফজল আব্বাস আলামদার (আঃ)-এর শাহাদাত হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দানবাক্স বিতর্ক আর এক রহস্যময় বার্তা দিলেন সাবেক সিটি মেয়র ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমের বিত্তান্ত তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট মহানগর শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন,আরিফ সামাদ সভাপতি, মাহমুদুর রহমান সাধারণ সম্পাদক জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে,পরিকল্পনা সভায় সিসিক প্রশাসক মার্কিন আধিপত্যের অবসান,বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার এখন চীনের হাতে বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাধবপুরে অপহরণকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ

নির্মিত সিলেট হাসপাতালের দায়িত্ব নিচ্ছে না কেউ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫ ১১১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রশাসনিক জটিলতায় থমকে আছে ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিলেট জেলা হাসপাতালের কার্যক্রম। ২০২৪ সালের শুরুতেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালের দায়িত্ব নিচ্ছে না কেউ। হাসপাতাল হস্তান্তরের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ পাচ্ছেনা গণপূর্ত বিভাগও। সমস্যা নিরসনে সম্প্রতি তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ দেওয়া হলেও আসছে না সুরাহা। ফলে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু নিয়ে জটিলতা রয়েই গেছে।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৭ একর জায়গার ওপর এই জেলা হাসপাতাল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণপূর্ত অধিদপ্তর হাসপাতালটির প্রথম ধাপের অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব দেয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। ১৫ তলা হাসপাতাল ভবনের আটতলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। রঙের কাজ, ইলেকট্রিক, টাইলস, গ্লাস, দরজা, জানালা লাগানোও সম্পন্ন। 

তবে জনবল সংকট, স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতামত না নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করাসহ বিভিন্ন কারণে হাসপাতাল ভবনের দায়িত্ব নিতে রাজি হচ্ছে না কেউ। 

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত জানান, হাসপাতালটি সিভিল সার্জন কার্যালয় নাকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালনা করবে, সেটি এখনো নির্ধারণ হয়নি। হাসপাতালটি এখনো কাউকে হস্তান্তর করা হয়নি। সম্প্রতি তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি ফলাফল আসবে।

গণপূর্ত বিভাগ সিলেটের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী-৩ খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, এক বছরের বেশি সময় ধরে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে হাসপাতালটি। বর্তমানে এটির রক্ষণাবেক্ষণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে শংকার বিষয় আগামী জুন মাস থেকে সেই দায়িত্ব ছেড়ে দেবে তারা৷ তখন দেখা দিবে নতুন জটিলতা।

এমন ঠেলাঠেলি বন্ধে হাসপাতালটি পরিচালনা বা তদারকির জন্য তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে এখানেও রয়েছে জটিলতা। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ), (তত্ত্বাবধায়ক অতিরিক্ত দায়িত্বে), ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানান, অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হলেও এখনও কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়নি। এমনকি প্রাঙ্গণ ঘেরার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। দেওয়া হয়নি কোন নির্দেশনা। নির্দেশনা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার কিথা জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

বর্তমানে সিলেট জেলার একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র হচ্ছে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এটি চালু হলে ওসমানী হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে। সিলেট অঞ্চলের রোগীরা এখান থেকে স্বাচ্ছন্দ্যে সেবা নিতে পারবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নির্মিত সিলেট হাসপাতালের দায়িত্ব নিচ্ছে না কেউ

আপডেট সময় : ১১:৫৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রশাসনিক জটিলতায় থমকে আছে ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিলেট জেলা হাসপাতালের কার্যক্রম। ২০২৪ সালের শুরুতেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালের দায়িত্ব নিচ্ছে না কেউ। হাসপাতাল হস্তান্তরের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ পাচ্ছেনা গণপূর্ত বিভাগও। সমস্যা নিরসনে সম্প্রতি তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ দেওয়া হলেও আসছে না সুরাহা। ফলে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু নিয়ে জটিলতা রয়েই গেছে।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৭ একর জায়গার ওপর এই জেলা হাসপাতাল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণপূর্ত অধিদপ্তর হাসপাতালটির প্রথম ধাপের অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব দেয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। ১৫ তলা হাসপাতাল ভবনের আটতলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। রঙের কাজ, ইলেকট্রিক, টাইলস, গ্লাস, দরজা, জানালা লাগানোও সম্পন্ন। 

তবে জনবল সংকট, স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতামত না নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করাসহ বিভিন্ন কারণে হাসপাতাল ভবনের দায়িত্ব নিতে রাজি হচ্ছে না কেউ। 

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত জানান, হাসপাতালটি সিভিল সার্জন কার্যালয় নাকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালনা করবে, সেটি এখনো নির্ধারণ হয়নি। হাসপাতালটি এখনো কাউকে হস্তান্তর করা হয়নি। সম্প্রতি তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি ফলাফল আসবে।

গণপূর্ত বিভাগ সিলেটের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী-৩ খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, এক বছরের বেশি সময় ধরে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে হাসপাতালটি। বর্তমানে এটির রক্ষণাবেক্ষণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে শংকার বিষয় আগামী জুন মাস থেকে সেই দায়িত্ব ছেড়ে দেবে তারা৷ তখন দেখা দিবে নতুন জটিলতা।

এমন ঠেলাঠেলি বন্ধে হাসপাতালটি পরিচালনা বা তদারকির জন্য তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে এখানেও রয়েছে জটিলতা। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ), (তত্ত্বাবধায়ক অতিরিক্ত দায়িত্বে), ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানান, অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হলেও এখনও কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়নি। এমনকি প্রাঙ্গণ ঘেরার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। দেওয়া হয়নি কোন নির্দেশনা। নির্দেশনা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার কিথা জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

বর্তমানে সিলেট জেলার একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র হচ্ছে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এটি চালু হলে ওসমানী হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে। সিলেট অঞ্চলের রোগীরা এখান থেকে স্বাচ্ছন্দ্যে সেবা নিতে পারবেন।