সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান হবিগঞ্জ সীমান্তে পুশইন সতর্ক ৫৫ বিজিবি, পাহারায় চা বাগানের শ্রমিকরাও সংবাদপত্র হকার্স সমবায় সমিতির বার্ষিক বনভোজন ও পুনর্মিলনী সিলেট কাষ্টঘরে বিশেষ অভিযান, উদ্ধার ৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা বড়ি ও নগদ ১ লাখ ৮৬ হাজার ২০৬টাকাসহ গ্রেফতার ১ সিলেটে মাদক আস্তানায় গ্রেফতার ২ সিলেটে পুলিশের চিরুনি অভিযান, গ্রেফতার ৯৪ সিলেট অস্ত্র ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক উদ্ধার সিলেটে নতুন জেলা প্রশাসক- রেজা হাসান সিলেটে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু,নগরবাসীর সহযোগিতা চাইলেন সিসিক প্রশাসক আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার- শিক্ষামন্ত্রী লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প

আদালতের রায় সত্ত্বেও চাকরি ফিরে পাননি পল্লী বিদ্যুতের ৩১ কর্মকর্তা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৪৭ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের রায় থাকার পরও চাকরি ফিরে পাননি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) বিভিন্ন প্রকল্পের ৩১ অভিজ্ঞ কর্মকর্তা-কর্মচারী।

নানা ছলছুতোয় তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই ৩১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। অথচ অভিজ্ঞ এসব জনবলকে চাকরির বাইরে রেখে প্রতি বছর সংশ্লিষ্ট পদে নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে আরইবিতে। 

চাকরিচ্যুত এসব কর্মকর্তারা হলেন- রবিউল হোসেন (সহকারী প্রকৌশলী), সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুহিবুর রহমান, মাইনুল ইসলাম-সহকারী পরিচালক (অর্থ), মাহমুদা সিদ্দীকা (উপ সহকারী প্রকৌশলী), মাহমুদ হাসান (সহকারী প্রকৌশলী), আল মামুন রেজা (সহকারী প্রকৌশলী), গৌতম পান্ডে (সহকারী প্রকৌশলী), সৈয়দ রইজ হোসেন (সহকারী প্রকৌশলী)।

এছাড়া ঈশিতা ইসলাম সোমা, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন), লিপিয়ারা খাতুন, সহকারী পরিচালক (অর্থ), নূশরাত জাহান (সহকারী প্রকৌশলী), হাফিজ আল মাসুদ, আনিসুর রহমান, শাওন ইবনে সিরাজ, আব্দুল আলিম শেখ, মুমিনুর রহমান সনিক, আল আমিন, আসাদুজ্জামান, আবু সুফিয়ান (হিসাবরক্ষক), রাশেদুল হাসান-সহকারী পরিচালক (অর্থ), শুভজিত কুমার রায়, নুর ই আলম সিদ্দিকী (হিসাবরক্ষক), আরিফুল ইসলাম, এনামুল হক, সুলতান সালাউদ্দিন আহম্মদ (স্টোরকিপার), স্মৃতি সূত্রধর (অফিস সহকারী), বুলবুল আহমেদ (অফিস সহকারী), মাহবুবুর রহমান (অফিস সহকারী), সাইদুর রহমান (গাড়িচালক), সেলিম হাওলাদার, হারুনুর রশিদ।

জানা গেছে, উল্লিখিত জনবল আরইবির বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। অভিজ্ঞ হওয়ায় ২০১০ সালের ৩০ জুন প্রকল্প সমাপ্তি হয়ে গেলেও কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি চলমান রাখে তৎকালীন ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়া ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি উপরোক্ত সবাইকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বাধ্য হয়ে তারা চাকরিচ্যুতির আদেশটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। 

হাইকোর্ট চাকরিচ্যুতির আদেশটি স্থগিত করেন এবং রুল জারি করেন। এতে আইন অনুযায়ী তাদের চাকরি পুনর্বহাল হয়। ২০১৪ সালে হাইকোর্ট চাকরিচ্যুতির আদেশটি আইনবহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করে তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের নির্দেশনা প্রদান করেন। এই আদেশের বিরুদ্ধেও আরইবি সুপ্রিমকোর্টে আপিল করে। কিন্তু আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে ২০১৫ সালে তাদের পক্ষে রায় দেন। 

জানা গেছে, রায় বাস্তবায়নের জন্য আরইবি নির্বাহী কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের আইন উপদেষ্টাদের কাছ থেকে মতামত জানতে চায়। আইন উপদেষ্টারা ২০১৬ সালে রায়ের পক্ষে মতামত দেন। কিন্তু আরইবি প্রশাসন বিভাগের একটি সিন্ডিকেট আইন উপদেষ্টাদের এই মতামত উপেক্ষা করে নানাভাবে সময়ক্ষেপণ করতে শুরু করেন। 

সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে ২ কর্মকর্তাকে চাকরিতে বহাল রাখলেও ২০২০ সালের ৩১ জুলাই সবাইকে বিনা নোটিশে ফের চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা হাইকোর্টে কনটেম্পট পিটিশন দায়ের করেন। ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর আরইবিকে ৭ দিনের মধ্যে রায় বাস্তবায়নের আদেশ দেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে আপিল বিভাগ আইন মেনে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে কনটেম্পট পিটিশনটি খারিজ করে দেন। 

এরপর আরইবি কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগের রায়ের প্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেন। মন্ত্রণালয় চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্তীকরণে কোনো বাধা নেই মর্মে সুপারিশ প্রদান করেন। এত কিছুর পরও আরইবির প্রশাসন বিভাগের একটি সিন্ডিকেট তাদের পুনর্বহালে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আদালতের রায় সত্ত্বেও চাকরি ফিরে পাননি পল্লী বিদ্যুতের ৩১ কর্মকর্তা

আপডেট সময় : ০৪:০২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৪

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের রায় থাকার পরও চাকরি ফিরে পাননি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) বিভিন্ন প্রকল্পের ৩১ অভিজ্ঞ কর্মকর্তা-কর্মচারী।

নানা ছলছুতোয় তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই ৩১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। অথচ অভিজ্ঞ এসব জনবলকে চাকরির বাইরে রেখে প্রতি বছর সংশ্লিষ্ট পদে নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে আরইবিতে। 

চাকরিচ্যুত এসব কর্মকর্তারা হলেন- রবিউল হোসেন (সহকারী প্রকৌশলী), সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুহিবুর রহমান, মাইনুল ইসলাম-সহকারী পরিচালক (অর্থ), মাহমুদা সিদ্দীকা (উপ সহকারী প্রকৌশলী), মাহমুদ হাসান (সহকারী প্রকৌশলী), আল মামুন রেজা (সহকারী প্রকৌশলী), গৌতম পান্ডে (সহকারী প্রকৌশলী), সৈয়দ রইজ হোসেন (সহকারী প্রকৌশলী)।

এছাড়া ঈশিতা ইসলাম সোমা, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন), লিপিয়ারা খাতুন, সহকারী পরিচালক (অর্থ), নূশরাত জাহান (সহকারী প্রকৌশলী), হাফিজ আল মাসুদ, আনিসুর রহমান, শাওন ইবনে সিরাজ, আব্দুল আলিম শেখ, মুমিনুর রহমান সনিক, আল আমিন, আসাদুজ্জামান, আবু সুফিয়ান (হিসাবরক্ষক), রাশেদুল হাসান-সহকারী পরিচালক (অর্থ), শুভজিত কুমার রায়, নুর ই আলম সিদ্দিকী (হিসাবরক্ষক), আরিফুল ইসলাম, এনামুল হক, সুলতান সালাউদ্দিন আহম্মদ (স্টোরকিপার), স্মৃতি সূত্রধর (অফিস সহকারী), বুলবুল আহমেদ (অফিস সহকারী), মাহবুবুর রহমান (অফিস সহকারী), সাইদুর রহমান (গাড়িচালক), সেলিম হাওলাদার, হারুনুর রশিদ।

জানা গেছে, উল্লিখিত জনবল আরইবির বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। অভিজ্ঞ হওয়ায় ২০১০ সালের ৩০ জুন প্রকল্প সমাপ্তি হয়ে গেলেও কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি চলমান রাখে তৎকালীন ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়া ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি উপরোক্ত সবাইকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বাধ্য হয়ে তারা চাকরিচ্যুতির আদেশটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। 

হাইকোর্ট চাকরিচ্যুতির আদেশটি স্থগিত করেন এবং রুল জারি করেন। এতে আইন অনুযায়ী তাদের চাকরি পুনর্বহাল হয়। ২০১৪ সালে হাইকোর্ট চাকরিচ্যুতির আদেশটি আইনবহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করে তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের নির্দেশনা প্রদান করেন। এই আদেশের বিরুদ্ধেও আরইবি সুপ্রিমকোর্টে আপিল করে। কিন্তু আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে ২০১৫ সালে তাদের পক্ষে রায় দেন। 

জানা গেছে, রায় বাস্তবায়নের জন্য আরইবি নির্বাহী কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের আইন উপদেষ্টাদের কাছ থেকে মতামত জানতে চায়। আইন উপদেষ্টারা ২০১৬ সালে রায়ের পক্ষে মতামত দেন। কিন্তু আরইবি প্রশাসন বিভাগের একটি সিন্ডিকেট আইন উপদেষ্টাদের এই মতামত উপেক্ষা করে নানাভাবে সময়ক্ষেপণ করতে শুরু করেন। 

সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে ২ কর্মকর্তাকে চাকরিতে বহাল রাখলেও ২০২০ সালের ৩১ জুলাই সবাইকে বিনা নোটিশে ফের চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা হাইকোর্টে কনটেম্পট পিটিশন দায়ের করেন। ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর আরইবিকে ৭ দিনের মধ্যে রায় বাস্তবায়নের আদেশ দেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে আপিল বিভাগ আইন মেনে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে কনটেম্পট পিটিশনটি খারিজ করে দেন। 

এরপর আরইবি কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগের রায়ের প্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেন। মন্ত্রণালয় চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্তীকরণে কোনো বাধা নেই মর্মে সুপারিশ প্রদান করেন। এত কিছুর পরও আরইবির প্রশাসন বিভাগের একটি সিন্ডিকেট তাদের পুনর্বহালে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।