সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান হবিগঞ্জ সীমান্তে পুশইন সতর্ক ৫৫ বিজিবি, পাহারায় চা বাগানের শ্রমিকরাও সংবাদপত্র হকার্স সমবায় সমিতির বার্ষিক বনভোজন ও পুনর্মিলনী সিলেট কাষ্টঘরে বিশেষ অভিযান, উদ্ধার ৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা বড়ি ও নগদ ১ লাখ ৮৬ হাজার ২০৬টাকাসহ গ্রেফতার ১ সিলেটে মাদক আস্তানায় গ্রেফতার ২ সিলেটে পুলিশের চিরুনি অভিযান, গ্রেফতার ৯৪ সিলেট অস্ত্র ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক উদ্ধার সিলেটে নতুন জেলা প্রশাসক- রেজা হাসান সিলেটে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু,নগরবাসীর সহযোগিতা চাইলেন সিসিক প্রশাসক আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার- শিক্ষামন্ত্রী লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প

হাসিনার দেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত: জি এম কাদের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯২ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

দেশে ফিরে এসে শেখ হাসিনার বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

নির্বাচন ও সংস্কার প্রশ্নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল শনিবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেছে। দলটি তাদের সেই প্রস্তাব সম্পর্কে জানাতে সংবাদ সম্মেলন করে আজ।

সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ছাত্র–জনতা হত্যার দায়ে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবির বিষয়ে জাতীয় পার্টির অবস্থান কী, এ প্রশ্নের জবাবে জাপা নেতা জি এম কাদের বলেন, ‘ওনার নিজের এখানে এসে বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত। উনি এ দেশের নেতা ছিলেন। সবার সামনে ওনার জবাবদিহি করা, দোষ করলে স্বীকার করা, না করলে অস্বীকার, যেটাই হোক বিচার হওয়া উচিত তাঁর। আমি মনে করি, এটা স্বাভাবিক বিষয়।

এ প্রসঙ্গে জি এম কাদের আরও বলেন, ‘আমাদের নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশ ছেড়ে চলে যাননি। ওনাকে অনেকভাবে চেষ্টা করা হয়েছিল। অফার দেওয়া হয়েছিল। উনি বলেছিলেন, আমি জনগণের সামনে কোনো অপরাধ করিনি। আমি জনগণের সামনে দাঁড়াব। ওনার (শেখ হাসিনার) যদি সাহস থাকে, তার দেশে আসা উচিত। আর সাহস না থাকলে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়া উচিত।’

আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের শাসনে বিতর্কিত সব নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়েও সাংবাদিকেরা প্রশ্ন তুলেছিলেন। জবাবে জি এম কাদের বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপিও অংশ নিয়েছিল। নির্বাচনে অংশ নিলেই যদি সরকারকে বৈধতা দেওয়া হয়, সেই বৈধতা বিএনপিও দিয়েছিল।

২০২৪ সালে বারবার নির্বাচন থেকে সরে আসতে চেয়েও পারেননি বলে দাবি করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত বল প্রয়োগ করে আমাদের নির্বাচন থেকে সরে আসার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হয়েছে। মিডিয়ার অনেক লোক, রাজনৈতিক অনেক নেতা এই বিষয়টি জানেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালে আমাদের যখন নির্বাচন করতে বাধ্য করা হলো, তখন আমাদের কাছে কোনো অপশন ছিল না। নির্বাচনে যেহেতু অংশ নিয়েছি, তাতে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা যদি না যেতাম, তাহলে কি নির্বাচন হতো না?  আমরা যদি না যেতাম, আমাদের অন্য পক্ষকে নিয়ে যেত। আমরা না গেলেও নির্বাচন হতো। তাদের (আওয়ামী লীগের) পতন হয়েছে নির্বাচনের কারণে নয়, তাদের দুশাসন, গোঁয়ার্তুমি ও জেদের জন্য।’

জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো দিতে অন্তবর্তীকালীন সরকারকে জাপা পরামর্শ দিয়েছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জি এম কাদের বলেন, সংস্কারের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিলে বোঝা যাবে পদ্ধতিতা কতটা কার্যকর হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তিনি দলীয় প্রধান হতে পারবেন না বলেও মত দিয়েছেন তিনি।

জি এম কাদের বলেন, এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রী থাকলে তাঁর স্বৈরাচারী মনোভাব প্রকাশ পায়। তাই দুইবারের বেশি কেউ যাতে প্রধানমন্ত্রী হতে না পারে, সেই পরামর্শ জাপার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার কথাও বলেছেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হাসিনার দেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত: জি এম কাদের

আপডেট সময় : ০২:০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

দেশে ফিরে এসে শেখ হাসিনার বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

নির্বাচন ও সংস্কার প্রশ্নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল শনিবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেছে। দলটি তাদের সেই প্রস্তাব সম্পর্কে জানাতে সংবাদ সম্মেলন করে আজ।

সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ছাত্র–জনতা হত্যার দায়ে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবির বিষয়ে জাতীয় পার্টির অবস্থান কী, এ প্রশ্নের জবাবে জাপা নেতা জি এম কাদের বলেন, ‘ওনার নিজের এখানে এসে বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত। উনি এ দেশের নেতা ছিলেন। সবার সামনে ওনার জবাবদিহি করা, দোষ করলে স্বীকার করা, না করলে অস্বীকার, যেটাই হোক বিচার হওয়া উচিত তাঁর। আমি মনে করি, এটা স্বাভাবিক বিষয়।

এ প্রসঙ্গে জি এম কাদের আরও বলেন, ‘আমাদের নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশ ছেড়ে চলে যাননি। ওনাকে অনেকভাবে চেষ্টা করা হয়েছিল। অফার দেওয়া হয়েছিল। উনি বলেছিলেন, আমি জনগণের সামনে কোনো অপরাধ করিনি। আমি জনগণের সামনে দাঁড়াব। ওনার (শেখ হাসিনার) যদি সাহস থাকে, তার দেশে আসা উচিত। আর সাহস না থাকলে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়া উচিত।’

আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের শাসনে বিতর্কিত সব নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়েও সাংবাদিকেরা প্রশ্ন তুলেছিলেন। জবাবে জি এম কাদের বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপিও অংশ নিয়েছিল। নির্বাচনে অংশ নিলেই যদি সরকারকে বৈধতা দেওয়া হয়, সেই বৈধতা বিএনপিও দিয়েছিল।

২০২৪ সালে বারবার নির্বাচন থেকে সরে আসতে চেয়েও পারেননি বলে দাবি করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত বল প্রয়োগ করে আমাদের নির্বাচন থেকে সরে আসার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হয়েছে। মিডিয়ার অনেক লোক, রাজনৈতিক অনেক নেতা এই বিষয়টি জানেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালে আমাদের যখন নির্বাচন করতে বাধ্য করা হলো, তখন আমাদের কাছে কোনো অপশন ছিল না। নির্বাচনে যেহেতু অংশ নিয়েছি, তাতে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা যদি না যেতাম, তাহলে কি নির্বাচন হতো না?  আমরা যদি না যেতাম, আমাদের অন্য পক্ষকে নিয়ে যেত। আমরা না গেলেও নির্বাচন হতো। তাদের (আওয়ামী লীগের) পতন হয়েছে নির্বাচনের কারণে নয়, তাদের দুশাসন, গোঁয়ার্তুমি ও জেদের জন্য।’

জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো দিতে অন্তবর্তীকালীন সরকারকে জাপা পরামর্শ দিয়েছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জি এম কাদের বলেন, সংস্কারের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিলে বোঝা যাবে পদ্ধতিতা কতটা কার্যকর হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তিনি দলীয় প্রধান হতে পারবেন না বলেও মত দিয়েছেন তিনি।

জি এম কাদের বলেন, এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রী থাকলে তাঁর স্বৈরাচারী মনোভাব প্রকাশ পায়। তাই দুইবারের বেশি কেউ যাতে প্রধানমন্ত্রী হতে না পারে, সেই পরামর্শ জাপার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার কথাও বলেছেন তিনি।