সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান স্মরণসভায় সিসিক প্রশাসক সিলেট চেম্বারের প্রশাসকের সাথে ভারত থেকে আগত বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় খুলনার কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদের সহযোগী জয়নাল গ্রেপ্তার সিলেটে ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ, অধ্যক্ষ শিক্ষক আন্দোলনে উত্তাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ৭ হাজার কেজি ভারতীয় পণ্যসহ আটক ২ সিলেটে দুই বেকারিতে অভিযান, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা সিলেটে অনিয়ম-অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন, ৫৩৬ মামলায় জরিমানা ২৪ লাখ সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজারে ৩ পদে চাকরির সুযোগ সিলেটে সেমিনারে সিসিক প্রশাসক সিলেট থেকে শুরু ‘রবি বোলারহান্ট’-এর ট্রায়াল শুরু

সিলেট সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে আওয়ামী লীগ নেতারা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৭:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৪ ১৭৯ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেটের রাজপথে ছিল তাদের দুর্দণ্ড প্রতাপ। অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে মহড়া দিতেন আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের ক্যাডাররা। অস্ত্রধারী ক্যাডার ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা আত্মরক্ষার্থে সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পাড়ি জমিয়েছেন ভারতের মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে।

বর্তমানে শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে অবস্থান করছেন। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দালালরা তাদেরকে নিরাপদে ভারত পাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এই দালাল চক্রে রয়েছেন গরু ও চিনি চোরাকারবারিরা। সীমান্তের একাধিক সূত্র ও শিলংয়ে অবস্থানকরা একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

৪ আগস্ট নগরীর কোর্ট পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেন। দাপটের সাথে তারা দিনভর কোর্ট পয়েন্টের দখল ধরে রাখেন। কিন্তু পরদিন সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের বাসা-বাড়ি, অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।এরপর থেকে ‘লাপাত্তা’ হয়ে যান প্রভাবশালী নেতারা। বাসাবাড়ি ছেড়ে তারা চলে যান আত্মগোপনে। কিন্তু দেশের ভেতর গা ঢাকা দিয়ে থাকা নিরাপদ মনে না করে তারা পার্শ্ববর্তী ভারতে পাড়ি জমানোর চেষ্টা চালান।

সূত্র জানায়, সরকার পতনের পর পর  সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাড়ি জমান জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ ও মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদ। ওই সময় গুঞ্জন ওঠে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারত পাড়ি জমিয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এরপর একে একে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করতে থাকেন।

সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে যারা ভারতের শিলংয়ে অবস্থান করছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট রণজিৎ সরকার, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ ও বিধান কুমার সাহা, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠু, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও ঢাকার বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতা বর্তমানে শিলংয়ে অবস্থান করছেন। এর আগে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পৌঁছান সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও সিলেট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব। বর্তমানে তারা ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে চলে গেছেন বলে ঘনিষ্টজনরা নিশ্চিত করেছেন। আনোয়ার ও হাবিব দু’জনই যুক্তরাজ্য প্রবাসী।

আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ভারতে অবস্থানরত কয়েকজন নেতার পাসপোর্টে বিভিন্ন দেশের ভিসা রয়েছে। তারা অন্য গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। একাধিক সূত্রের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, গরু ও চিনি চোরাচালানের সাথে জড়িত সীমান্তের দুইপাড়ের চোরাকারবারীরা মূলত নেতাদের ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। সীমান্ত পারাপারের জন্য দুইপাড়ের চোরাকারবারিরা ১ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে। সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের সময় গত শুক্রবার রাতে আটক হন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দীন আহমদ মানিক।

এছাড়া পাহাড়ী এলাকা দিয়ে শিলং যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না মারা যাওয়ারও খবর মিলেছে। পান্নাও সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেট সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে আওয়ামী লীগ নেতারা

আপডেট সময় : ১১:১৭:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেটের রাজপথে ছিল তাদের দুর্দণ্ড প্রতাপ। অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে মহড়া দিতেন আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের ক্যাডাররা। অস্ত্রধারী ক্যাডার ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা আত্মরক্ষার্থে সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পাড়ি জমিয়েছেন ভারতের মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে।

বর্তমানে শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে অবস্থান করছেন। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দালালরা তাদেরকে নিরাপদে ভারত পাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এই দালাল চক্রে রয়েছেন গরু ও চিনি চোরাকারবারিরা। সীমান্তের একাধিক সূত্র ও শিলংয়ে অবস্থানকরা একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

৪ আগস্ট নগরীর কোর্ট পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেন। দাপটের সাথে তারা দিনভর কোর্ট পয়েন্টের দখল ধরে রাখেন। কিন্তু পরদিন সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের বাসা-বাড়ি, অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।এরপর থেকে ‘লাপাত্তা’ হয়ে যান প্রভাবশালী নেতারা। বাসাবাড়ি ছেড়ে তারা চলে যান আত্মগোপনে। কিন্তু দেশের ভেতর গা ঢাকা দিয়ে থাকা নিরাপদ মনে না করে তারা পার্শ্ববর্তী ভারতে পাড়ি জমানোর চেষ্টা চালান।

সূত্র জানায়, সরকার পতনের পর পর  সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাড়ি জমান জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ ও মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদ। ওই সময় গুঞ্জন ওঠে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারত পাড়ি জমিয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এরপর একে একে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করতে থাকেন।

সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে যারা ভারতের শিলংয়ে অবস্থান করছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট রণজিৎ সরকার, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ ও বিধান কুমার সাহা, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠু, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও ঢাকার বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতা বর্তমানে শিলংয়ে অবস্থান করছেন। এর আগে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পৌঁছান সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও সিলেট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব। বর্তমানে তারা ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে চলে গেছেন বলে ঘনিষ্টজনরা নিশ্চিত করেছেন। আনোয়ার ও হাবিব দু’জনই যুক্তরাজ্য প্রবাসী।

আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ভারতে অবস্থানরত কয়েকজন নেতার পাসপোর্টে বিভিন্ন দেশের ভিসা রয়েছে। তারা অন্য গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। একাধিক সূত্রের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, গরু ও চিনি চোরাচালানের সাথে জড়িত সীমান্তের দুইপাড়ের চোরাকারবারীরা মূলত নেতাদের ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। সীমান্ত পারাপারের জন্য দুইপাড়ের চোরাকারবারিরা ১ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে। সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের সময় গত শুক্রবার রাতে আটক হন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দীন আহমদ মানিক।

এছাড়া পাহাড়ী এলাকা দিয়ে শিলং যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না মারা যাওয়ারও খবর মিলেছে। পান্নাও সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে।