সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪ প্রতিদিন রাতে গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে মিলবে যেসব উপকার ৪০ বছর পর বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান

পবিত্র আশুরা ১৭ জুলাই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৭:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪ ২১১ বার পড়া হয়েছে

ইসলাম ডেস্ক :

বাংলাদেশের আকাশে শনিবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। সোমবার (৮ জুলাই) শুরু হচ্ছে মহররম মাস ও নতুন বছর ১৪৪৬ হিজরি। আগামী ১৭ জুলাই বুধবার (১০ মহররম) দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু.আ. আউয়াল হাওলাদার।

সভায় অতিরিক্ত সচিব জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের আকাশে কোথাও হিজরি ১৪৪৬ সনের মহররম মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। রোববার (৭ জুলাই) জিলহজ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সোমবার থেকে মহররম মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ১৭ জুলাই (১০ মহররম) বুধবার দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

হিজরি সনের প্রথম মাস হচ্ছে মহররম। আশুরার দিন দেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকে। শিয়ারা বিশেষভাবে আশুরা পালন করেন।

কারবালা প্রান্তরে হযরত মুহাম্মদ (স.) এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) এর শাহাদতবরণের শোকাবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মূলত আমাদের দেশে আশুরা উদযাপিত হয়। তবে ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র আশুরা আরও কিছু তাৎপর্যময় ঘটনায় উজ্জ্বল হয়ে আছে। আশুরার রোজা (আশুরার দিন এবং আগে বা পরে একদিন) রাখার বিষয়ে বিশেষ ফজিলতের কথা বলা হয়েছে হাদিসে।

আশুরার দিনে ফেরাউনের হাত থেকে নবি মূসা (আ.) ও তার অনুসারীদের মুক্তি পাওয়া ছাড়া আর কোনো ঘটনা সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। আশুরার দিনে হযরত আদমের (আ.) তাওবা কবুল, মহাপ্লাবনের পর নূহ (আ.) এর নৌকা জুদি পর্বতের ওপর থামা ও ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করার কথা অনির্ভরযোগ্য সূত্রে কোন কোন সাহাবি-তাবিই থেকে বর্ণিত।

আশুরায় নবিজির (সা.) রোজা পালনের কারণ ও ফজিলত

মহররম। হিজরি সনের প্রথম মাস। ১০ মহররম পবিত্র আশুরা। আল্লাহ তাআলা ঘোষিত সম্মানিত এ মাসের অন্যতম আমল রোজা। এ মাসের রোজা পালনে রয়েছে বিশেষ কারণ। আবার আশুরার রোজার ফজিলত এবং মর্যাদাও অনেক বেশি। আশুরায় নবিজির রোজা পালনের কারণ ও ফজিলত ফুটে ওঠেছে হাদিসের একাধিক বর্ণনায়। কী সেই সব কারণ ও ফজিলত?

আশুরার রোজা রাখার কারণ ও নবিজির নির্দেশ

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় এসে দেখলেন, ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখছে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কিসের রোজা?

তারা (ইহুদিরা) বলল, এটা একটা উত্তম দিন। আল্লাহ তাআলা এ দিন বনি ইসরাইল জাতিকে তাদের দুশমন (ফেরাউন)-এর আক্রমণ থেকে নিরাপদ করেছেন। তাই হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এ দিন রোজা রেখেছিলেন। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের চেয়ে আমিই হজরত মুসা আলাইহিস সালামের (আদর্শ  পালনে) বেশি হকদার। কাজেই তিনি নিজে আশুরার রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরকেও রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন।’ (বুখারি,মুসলিম, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, বায়হাকি)

আশুরার রোজার ফজিলত

১. হজরত আবু কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমি আশা রাখি যে, আশুরার রোজা বিগত এক বছরের গোনাহের কাফফারা হবে।’ (মুসলিম, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

২. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো মুহররম মাসের দোয়া।’ (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি)

৩. হজরত আবু কাতাদাহ আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আশুরার রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আশুরার রোজা বিগত এক বছরের গোনাহের কাফফারাহ হবে।’ (মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)

মুমিন মুসলমানের উচিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ-অনুকরণ ও ফজিলত বর্ণনায় আশুরার উপদেশ মেনে যথাযথভাবে রোজা পালনের আমল করা জরুরি। আর এতে জারি হবে নবিজির সুন্নাত। আর তা হবে পুরো এক বছরের গুনাহের কাফফারা। মিলবে পরকালের নাজাত। পালন হবে হজরত মুসা আলাইহিস সালামের সুন্নাতও।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আশুরার রোজা পালনের তাওফিক দান করুন। সুন্নাতের অনুসরণ ও অনুকরণের তাওফিক দান করুন। সম্মানিত মাস মহররমের মর্যাদা দেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আশুরা উপলক্ষে যেসব আমল নিষিদ্ধ

মহররমের ১০ তারিখ আশুরা। সে হিসেবে ৯ আগস্ট (মঙ্গলবার) পালিত হবে পবিত্র আশুরা। আশুরা উপলক্ষ্যে দেশবিদেশে অনেক আমল-উৎসব-আয়োজন পালিত হয়ে থাকে। আশুরায় রোজা পালন বিশুদ্ধ আমল হলেও নিষিদ্ধ অনেক রুসুম-রেওয়াজ প্রচলিত আছে। যা ইসলামে একেবারেই নিষিদ্ধ। কী সেসব আমল?

আশুরায় রোজা ও অন্যান্য সময়ের মতো নফল ইবাদত-বন্দেগি ছাড়া বিশেষ কোনো ইবাদত-বন্দেগি কিংবা রুসুম রেওয়াজের দিকনির্দেশনা নেই। আশুরা উপলক্ষে প্রচলিত যেসব কাজ ও ইবাদত সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা নেই; বরং নিষিদ্ধ সেগুলো হলো-

১. আশুরা উপলক্ষ্যে নিজেদের শরীরকে চাকু, ব্লেড, ছুরি কিংবা লাঠির আঘাতে রক্তাক্তকরণ। এ বছর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাও নিজেদের শরীরকে রক্তাক্ত করার বিষয়টিকে হারাম ফতোয়া দিয়েছেন।

২. আশুরা উপলক্ষ্যে রণ-প্রস্তুতির মহড়া প্রদর্শন;

৩. আশুরা উপলক্ষ্যে আলোক-সজ্জা প্রদর্শন;

৪. আশুরা উপলক্ষ্যে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা।

৫. তাজিয়া মিছিল ও প্রদর্শনী করা।

৬. মর্সিয়া করা।

৭. মহররমে বিয়ে শাদি থেকে বিরত থাকা।

৮. আশুরা উপলক্ষ্যে নির্ধারিত নামাজ ও দোয়া পড়া।

বিশেষ করে

৯. আশুরা উপলক্ষ্যে বিশেষ বরকত পাওয়ার আশায় ঘরে ঘরে হালুয়া-রুটি বিতরণের রুসম-রেওয়াজ পালন করা। অনেকেই গরিব-অসহায়দের খাওয়ানোর দোহাই দিয়ে এটি জায়েজ বা বৈধ করার প্রচেষ্টা চালায়। মূলতঃ তা হয়না বললেই চলে। তবে পারাবারিকভাবে ঘরে ভালো খাবার আয়োজনের ব্যাপারে হাদিসের একটি বর্ণনা রয়েছে।

আশুরার দিনে যথাসাধ্য খাবারে প্রশস্ততা প্রদর্শন করা। যথাসম্ভব ভালো খাবার খাওয়া। হজরত আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি আশুরার দিনে পরিবারে প্রশস্ততা প্রদর্শন করবেসে সারা বছর প্রশস্ততায় থাকবে।’ (তাবরানিমুজামে কবির, বায়হাকি)

তারপরও আশুরা উপলক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী কিছু সংগঠন ও ব্যক্তি বিশেষ উল্লেখিত রুসুম রেওয়াজগুলো উদযাপন করে থাকেন। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিকোন থেকে কিংবা কুরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মোতাবেক এসবের কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।

মনে রাখতে হবে

আশুরা উপলক্ষ্যে রোজা রাখার ব্যাপারে রয়েছে হাদিসের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। তাছাড়া রোজা রাখার দিনক্ষণ সম্পর্কেও রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা। আর তাহলো-

১. আশুরার নফল রোজা মহররম মাসের ১০ তারিখ পালন করা সুন্নাত। এ দিন রোজা পালনকারীর বিগত বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয় বলে ঘোষণা করেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

২. সাহাবায়ে কেরাম যখন নবিজিকে জানালেন যে, ইহুদিরাও এ দিন আশুরা উপলক্ষ্যে রোজা পালন করেন। তখন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, তবে আমরা মহররমের নবমিতেও তথা ৯ তারিখও আমরা রোজা রাখব। সে হিসেবে ৯ ও ১০ মহররম রোজা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম।

তবে ইহুদিদের অনুসরণ ও অনুকরণ থেকে নিজের বিরত রাখতে অনেকে নবমিতে রোজা রাখতে না পারলে আশুরার পরের দিন রোজা পালন করে থাকেন। আর তাতে দুইটি রোজা পালন করা হয।

সেক্ষেত্রে ৯ ও ১০ মহররম রোজা রাখলে হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশনা পালন হয়ে যায়। আর ৯ তারিখ রোজা রাখতে না পারলে ১০ ও ১১ মহররম রোজা পালনের মাধ্যমে ইহুদিদের অনুসরণ থেকে বিরত থাকা যায়। আর এ কারণে অধিকাংশ ইসলামিক স্কলাররা আশুরার পরের দিন রোজা পালন করাকে বৈধ বলে মত দিয়েছেন। তবে উত্তম হলো ৯ ও ১০ মহররম রোজা পালন করা। কেউ কেউ আবার ৯-১১ মহররম এ তিনদিন রোজা পালনের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আশুরায় ইবাদত-বন্দেগি মনে করে রুসুম রেওয়াজ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা থেকে নিজেদের বিরত রাখার পাশাপাশি হাদিসের নির্দেশনা মোতাবেক রোজা পালন করার তাওফিক দান করুন। শোহাদায়ে কারবালাসহ আশুরায় ঘটে যাওয়া সব ঘটনার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা ও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নবিজি (সা.) আশুরার যে ঘটনা বর্ণনা করেছেন

আজ পবিত্র আশুরা। ১০ মহররম। হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ আশুরা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষ্যে মুসলিম উম্মাহর অনেকে রোজা পালন করেন। কারণ রমজানের পর গুরুত্বপূর্ণ রোজা এটি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র আশুরার বিশেষ ঘটনা বর্ণনা করেছেন। কী সেই ঘটনা?

যুগ যুগ ধরে আশুরা নিয়ে রয়েছে নানা কথা ও ঘটনার বর্ণনা। এ নিয়ে রচিত হয়েছে অনেক বই ও ডকুমেন্টরি। যা এখনো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। তবে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শুধু কারবালার প্রান্তরে হৃদয় বিদারক ঘটনার জন্য আশুরা মর্যাদাবান ও গুরুত্বপূর্ণ হয়নি। বরং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের বর্ণনায় ফুটে ওঠেছে আশুরার মর্যাদার প্রকৃত ঘটনা। যে কারণে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশুরার দিনে রোজা রাখার কথা বলেছেন। বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফারের কথা বলেছেন।

সমাজে প্রচলিত আশুরার কিছু ঘটনা

আশুরা নিয়ে সমাজে রয়েছে নানা ধরনের কথা ও ঘটনা। যা মানুষের মাঝে বিভেদ তৈরি করছে। এ সব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। তাহলো-

১. কেয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়া

অনেকেই বলে থাকেন যে, আশুরার দিনে কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। নির্ভরযোগ্য কোনো বর্ণনায় এ কথা প্রমাণিত নয়। এ দিন কেয়ামত সংঘঠিত হোক আর না হোক, কেয়ামত আসার আগেই মুমিন ব্যক্তির উচিত পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

২. হজরত আদম আলাইহিস সালামের তাওবা কবুল

আশুরায় তাওবা কবুল হয়। হাদিসে পাকে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা এসেছে। আর আশুরার দিনে হজরত আদম আলাইহিস সালামের তাওবা কবুল হয়েছে মর্মে আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব কিতাবে এ সম্পর্কিত একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তবে ওলামায়ে কেরাম এ হাদিসের সনদকে দুর্বল বলেছেন।

যেহেতু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন আশুরার দিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেন। তাই মানুষের উচিত এ দিন বেশি বেশি তাওবা করা।

৩. জুদি পাহাড়ে নুহ আলাইহিস সালামের নৌকা নোঙর

আশুরার দিন হজরত নুহ আলাইহিস সালামের নৌকা জুদি পাহাড়ে নোঙর করেছিল বলে শোনা যায়। হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ মুসনাদে আহমাদের একটি বর্ণনায় এ তথ্য পাওয়া যায়। এ হাদিসটিকেও দুর্বল বলা হয়েছে।

৪. হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্ম

হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্ম আশুরার দিনে হয়েছে বলে এমনই বর্ণনা এসেছে আত-তারগিব ওয়াত-তারহিবে। আদম আলাইহিস সালামের তাওবার সনদের মতো এ বর্ণনার সনদও দুর্বল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও রয়েছে আরও অনেক কথা ও ঘটনা। মূলত এসব কারণে আশুরার মর্যাদা ঘোষিত হয়নি। তবে বনি ইসরাইলের সে ঘটনাটি হাদিসের বর্ণনায় ওঠে এসেছে-

হাদিসে আশুরার সুস্পষ্ট ঘটনার বর্ণনা

আশুরার দিনে দুটি ঘটনা সুস্পষ্ট। তার একটি হলো হজরত মুসা আলাইহিস সালামের কাওমের মুক্তি আর অন্যটি হলো ফেরাউন সম্প্রদায়ের ধ্বংস।

১. হজরত মুসা আলাইহিস সালাম ও তার সাথীরা ফেরাউন ও তার সৈন্যবাহিনীর হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আল্লাহ তাআলা সমুদ্রের মধ্যে তাদের জন্য রাস্তা বানিয়ে দেন। যা দিয়ে তারা সমুদ্র পাড়ি দেন।

২. ফেরাউন ও তার বাহিনী মুসা আলাইহিস সালামের কাওমকে তাড়া করে সমুদ্রে তৈরি রাস্তা প্রবেশ করলে সে রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। আর তাতে ডুবে ফেরাউন ও তার সৈন্যবাহিনী ধ্বংস হয়ে যায়।

৩. এছাড়াও কারবালার প্রান্তরে হজরত ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুসহ ৭০জন সঙ্গী সাথীর শাহাদতও ঘটে এ আশুরার দিনে। বিশ্বব্যাপী মানুষ এ দিনটিকে যদিও কারবালার হৃদয় বিদারক ঘটনার জন্য সবচেয়ে বেশি স্মরণ করে থাকে।

মনে রাখতে হবে

মুলতঃ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা অনুযায়ী আশুরায় নয় বরং মহররম মাসে আমল করার কথা বলেছেন। আর আশুরায় রোজা রাখার কথাও বলেছেণ। হাদিসে এসেছে-

এ মাসে বেশি বেশি নফল রোজা ও তাওবা ইসতেগফারের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। তাই মাসব্যাপী আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা মুমিন মুসলমানের জন্য একান্ত আবশ্যক।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি রমজানের পর আরও কোনো মাসে রোজা রাখতে চাও তবে মহররমে রোজা রাখ। কেননা সেটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেন। ভবিষ্যতেও আরও অনেক মানুষের তাওবা কবুল করবেন।’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমাদ)

তাওবা ও ইসতেগফারের জন্য সবচেয়ে উত্তম হলো কুরআন-হাদিসে বর্ণিত ইসতেগফার বিষয়ক দোয়াগুলো বুঝে বুঝে পড়া। এ দোয়াগুলোর মাধ্যমে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করে দেবেন।

উল্লেখ্য, আজ ৯ আগস্ট ১০ মুহররম। সে হিসেবে আজ মঙ্গলবার ১০ মহররম দিনভর আল্লাহ কাছে তাওবা-ইসতেগফার করা জরুরি। তাহলো-

১. اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ ، وَالإِيمَانِ ، وَالسَّلامَةِ ، وَالإِسْلامِ ، وَرِضْوَانٍ مِنَ الرَّحْمَنِ ، وَجَوَار مِنَ الشَّيْطَانِ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আদখিলহু আলাইনা বিল-আমনি, ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালঅমাতি, ওয়াল ইসলামি, ওয়া রিদওয়ানিম মিনার রাহমানি, ওয়া ঝাওয়ারিম মিনাশ শায়ত্বানি।’ (আল-মুঝাম আল আওসাত)

২. رَبَّنَا ظَلَمْنَاۤ اَنْفُسَنَا، وَ اِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَ تَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ

উচ্চারণ : রাব্বানা জ্বালামনা আংফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৩)

অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।’

৩. أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لاَ إلَهَ إلاَّ هُوَ الحَيُّ القَيُّومُ وَأَتُوبُ إلَيْهِ ، رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ

উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি; রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আংতাত তাওয়্যাবুল গাফুর।

৪. সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়া-

أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আশুরাসহ মহররম মাস জুড়ে বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার ও দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ভিউ নিউজ ৭১.কম লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পবিত্র আশুরা ১৭ জুলাই

আপডেট সময় : ০৩:৪৭:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪

ইসলাম ডেস্ক :

বাংলাদেশের আকাশে শনিবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। সোমবার (৮ জুলাই) শুরু হচ্ছে মহররম মাস ও নতুন বছর ১৪৪৬ হিজরি। আগামী ১৭ জুলাই বুধবার (১০ মহররম) দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু.আ. আউয়াল হাওলাদার।

সভায় অতিরিক্ত সচিব জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের আকাশে কোথাও হিজরি ১৪৪৬ সনের মহররম মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। রোববার (৭ জুলাই) জিলহজ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সোমবার থেকে মহররম মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ১৭ জুলাই (১০ মহররম) বুধবার দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

হিজরি সনের প্রথম মাস হচ্ছে মহররম। আশুরার দিন দেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকে। শিয়ারা বিশেষভাবে আশুরা পালন করেন।

কারবালা প্রান্তরে হযরত মুহাম্মদ (স.) এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) এর শাহাদতবরণের শোকাবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মূলত আমাদের দেশে আশুরা উদযাপিত হয়। তবে ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র আশুরা আরও কিছু তাৎপর্যময় ঘটনায় উজ্জ্বল হয়ে আছে। আশুরার রোজা (আশুরার দিন এবং আগে বা পরে একদিন) রাখার বিষয়ে বিশেষ ফজিলতের কথা বলা হয়েছে হাদিসে।

আশুরার দিনে ফেরাউনের হাত থেকে নবি মূসা (আ.) ও তার অনুসারীদের মুক্তি পাওয়া ছাড়া আর কোনো ঘটনা সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। আশুরার দিনে হযরত আদমের (আ.) তাওবা কবুল, মহাপ্লাবনের পর নূহ (আ.) এর নৌকা জুদি পর্বতের ওপর থামা ও ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করার কথা অনির্ভরযোগ্য সূত্রে কোন কোন সাহাবি-তাবিই থেকে বর্ণিত।

আশুরায় নবিজির (সা.) রোজা পালনের কারণ ও ফজিলত

মহররম। হিজরি সনের প্রথম মাস। ১০ মহররম পবিত্র আশুরা। আল্লাহ তাআলা ঘোষিত সম্মানিত এ মাসের অন্যতম আমল রোজা। এ মাসের রোজা পালনে রয়েছে বিশেষ কারণ। আবার আশুরার রোজার ফজিলত এবং মর্যাদাও অনেক বেশি। আশুরায় নবিজির রোজা পালনের কারণ ও ফজিলত ফুটে ওঠেছে হাদিসের একাধিক বর্ণনায়। কী সেই সব কারণ ও ফজিলত?

আশুরার রোজা রাখার কারণ ও নবিজির নির্দেশ

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় এসে দেখলেন, ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখছে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কিসের রোজা?

তারা (ইহুদিরা) বলল, এটা একটা উত্তম দিন। আল্লাহ তাআলা এ দিন বনি ইসরাইল জাতিকে তাদের দুশমন (ফেরাউন)-এর আক্রমণ থেকে নিরাপদ করেছেন। তাই হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এ দিন রোজা রেখেছিলেন। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের চেয়ে আমিই হজরত মুসা আলাইহিস সালামের (আদর্শ  পালনে) বেশি হকদার। কাজেই তিনি নিজে আশুরার রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরকেও রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন।’ (বুখারি,মুসলিম, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, বায়হাকি)

আশুরার রোজার ফজিলত

১. হজরত আবু কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমি আশা রাখি যে, আশুরার রোজা বিগত এক বছরের গোনাহের কাফফারা হবে।’ (মুসলিম, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

২. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো মুহররম মাসের দোয়া।’ (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি)

৩. হজরত আবু কাতাদাহ আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আশুরার রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আশুরার রোজা বিগত এক বছরের গোনাহের কাফফারাহ হবে।’ (মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)

মুমিন মুসলমানের উচিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ-অনুকরণ ও ফজিলত বর্ণনায় আশুরার উপদেশ মেনে যথাযথভাবে রোজা পালনের আমল করা জরুরি। আর এতে জারি হবে নবিজির সুন্নাত। আর তা হবে পুরো এক বছরের গুনাহের কাফফারা। মিলবে পরকালের নাজাত। পালন হবে হজরত মুসা আলাইহিস সালামের সুন্নাতও।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আশুরার রোজা পালনের তাওফিক দান করুন। সুন্নাতের অনুসরণ ও অনুকরণের তাওফিক দান করুন। সম্মানিত মাস মহররমের মর্যাদা দেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আশুরা উপলক্ষে যেসব আমল নিষিদ্ধ

মহররমের ১০ তারিখ আশুরা। সে হিসেবে ৯ আগস্ট (মঙ্গলবার) পালিত হবে পবিত্র আশুরা। আশুরা উপলক্ষ্যে দেশবিদেশে অনেক আমল-উৎসব-আয়োজন পালিত হয়ে থাকে। আশুরায় রোজা পালন বিশুদ্ধ আমল হলেও নিষিদ্ধ অনেক রুসুম-রেওয়াজ প্রচলিত আছে। যা ইসলামে একেবারেই নিষিদ্ধ। কী সেসব আমল?

আশুরায় রোজা ও অন্যান্য সময়ের মতো নফল ইবাদত-বন্দেগি ছাড়া বিশেষ কোনো ইবাদত-বন্দেগি কিংবা রুসুম রেওয়াজের দিকনির্দেশনা নেই। আশুরা উপলক্ষে প্রচলিত যেসব কাজ ও ইবাদত সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা নেই; বরং নিষিদ্ধ সেগুলো হলো-

১. আশুরা উপলক্ষ্যে নিজেদের শরীরকে চাকু, ব্লেড, ছুরি কিংবা লাঠির আঘাতে রক্তাক্তকরণ। এ বছর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাও নিজেদের শরীরকে রক্তাক্ত করার বিষয়টিকে হারাম ফতোয়া দিয়েছেন।

২. আশুরা উপলক্ষ্যে রণ-প্রস্তুতির মহড়া প্রদর্শন;

৩. আশুরা উপলক্ষ্যে আলোক-সজ্জা প্রদর্শন;

৪. আশুরা উপলক্ষ্যে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা।

৫. তাজিয়া মিছিল ও প্রদর্শনী করা।

৬. মর্সিয়া করা।

৭. মহররমে বিয়ে শাদি থেকে বিরত থাকা।

৮. আশুরা উপলক্ষ্যে নির্ধারিত নামাজ ও দোয়া পড়া।

বিশেষ করে

৯. আশুরা উপলক্ষ্যে বিশেষ বরকত পাওয়ার আশায় ঘরে ঘরে হালুয়া-রুটি বিতরণের রুসম-রেওয়াজ পালন করা। অনেকেই গরিব-অসহায়দের খাওয়ানোর দোহাই দিয়ে এটি জায়েজ বা বৈধ করার প্রচেষ্টা চালায়। মূলতঃ তা হয়না বললেই চলে। তবে পারাবারিকভাবে ঘরে ভালো খাবার আয়োজনের ব্যাপারে হাদিসের একটি বর্ণনা রয়েছে।

আশুরার দিনে যথাসাধ্য খাবারে প্রশস্ততা প্রদর্শন করা। যথাসম্ভব ভালো খাবার খাওয়া। হজরত আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি আশুরার দিনে পরিবারে প্রশস্ততা প্রদর্শন করবেসে সারা বছর প্রশস্ততায় থাকবে।’ (তাবরানিমুজামে কবির, বায়হাকি)

তারপরও আশুরা উপলক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী কিছু সংগঠন ও ব্যক্তি বিশেষ উল্লেখিত রুসুম রেওয়াজগুলো উদযাপন করে থাকেন। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিকোন থেকে কিংবা কুরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মোতাবেক এসবের কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।

মনে রাখতে হবে

আশুরা উপলক্ষ্যে রোজা রাখার ব্যাপারে রয়েছে হাদিসের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। তাছাড়া রোজা রাখার দিনক্ষণ সম্পর্কেও রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা। আর তাহলো-

১. আশুরার নফল রোজা মহররম মাসের ১০ তারিখ পালন করা সুন্নাত। এ দিন রোজা পালনকারীর বিগত বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয় বলে ঘোষণা করেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

২. সাহাবায়ে কেরাম যখন নবিজিকে জানালেন যে, ইহুদিরাও এ দিন আশুরা উপলক্ষ্যে রোজা পালন করেন। তখন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, তবে আমরা মহররমের নবমিতেও তথা ৯ তারিখও আমরা রোজা রাখব। সে হিসেবে ৯ ও ১০ মহররম রোজা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম।

তবে ইহুদিদের অনুসরণ ও অনুকরণ থেকে নিজের বিরত রাখতে অনেকে নবমিতে রোজা রাখতে না পারলে আশুরার পরের দিন রোজা পালন করে থাকেন। আর তাতে দুইটি রোজা পালন করা হয।

সেক্ষেত্রে ৯ ও ১০ মহররম রোজা রাখলে হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশনা পালন হয়ে যায়। আর ৯ তারিখ রোজা রাখতে না পারলে ১০ ও ১১ মহররম রোজা পালনের মাধ্যমে ইহুদিদের অনুসরণ থেকে বিরত থাকা যায়। আর এ কারণে অধিকাংশ ইসলামিক স্কলাররা আশুরার পরের দিন রোজা পালন করাকে বৈধ বলে মত দিয়েছেন। তবে উত্তম হলো ৯ ও ১০ মহররম রোজা পালন করা। কেউ কেউ আবার ৯-১১ মহররম এ তিনদিন রোজা পালনের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আশুরায় ইবাদত-বন্দেগি মনে করে রুসুম রেওয়াজ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা থেকে নিজেদের বিরত রাখার পাশাপাশি হাদিসের নির্দেশনা মোতাবেক রোজা পালন করার তাওফিক দান করুন। শোহাদায়ে কারবালাসহ আশুরায় ঘটে যাওয়া সব ঘটনার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা ও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নবিজি (সা.) আশুরার যে ঘটনা বর্ণনা করেছেন

আজ পবিত্র আশুরা। ১০ মহররম। হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ আশুরা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষ্যে মুসলিম উম্মাহর অনেকে রোজা পালন করেন। কারণ রমজানের পর গুরুত্বপূর্ণ রোজা এটি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র আশুরার বিশেষ ঘটনা বর্ণনা করেছেন। কী সেই ঘটনা?

যুগ যুগ ধরে আশুরা নিয়ে রয়েছে নানা কথা ও ঘটনার বর্ণনা। এ নিয়ে রচিত হয়েছে অনেক বই ও ডকুমেন্টরি। যা এখনো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। তবে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শুধু কারবালার প্রান্তরে হৃদয় বিদারক ঘটনার জন্য আশুরা মর্যাদাবান ও গুরুত্বপূর্ণ হয়নি। বরং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের বর্ণনায় ফুটে ওঠেছে আশুরার মর্যাদার প্রকৃত ঘটনা। যে কারণে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশুরার দিনে রোজা রাখার কথা বলেছেন। বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফারের কথা বলেছেন।

সমাজে প্রচলিত আশুরার কিছু ঘটনা

আশুরা নিয়ে সমাজে রয়েছে নানা ধরনের কথা ও ঘটনা। যা মানুষের মাঝে বিভেদ তৈরি করছে। এ সব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। তাহলো-

১. কেয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়া

অনেকেই বলে থাকেন যে, আশুরার দিনে কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। নির্ভরযোগ্য কোনো বর্ণনায় এ কথা প্রমাণিত নয়। এ দিন কেয়ামত সংঘঠিত হোক আর না হোক, কেয়ামত আসার আগেই মুমিন ব্যক্তির উচিত পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

২. হজরত আদম আলাইহিস সালামের তাওবা কবুল

আশুরায় তাওবা কবুল হয়। হাদিসে পাকে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা এসেছে। আর আশুরার দিনে হজরত আদম আলাইহিস সালামের তাওবা কবুল হয়েছে মর্মে আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব কিতাবে এ সম্পর্কিত একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তবে ওলামায়ে কেরাম এ হাদিসের সনদকে দুর্বল বলেছেন।

যেহেতু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন আশুরার দিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেন। তাই মানুষের উচিত এ দিন বেশি বেশি তাওবা করা।

৩. জুদি পাহাড়ে নুহ আলাইহিস সালামের নৌকা নোঙর

আশুরার দিন হজরত নুহ আলাইহিস সালামের নৌকা জুদি পাহাড়ে নোঙর করেছিল বলে শোনা যায়। হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ মুসনাদে আহমাদের একটি বর্ণনায় এ তথ্য পাওয়া যায়। এ হাদিসটিকেও দুর্বল বলা হয়েছে।

৪. হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্ম

হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্ম আশুরার দিনে হয়েছে বলে এমনই বর্ণনা এসেছে আত-তারগিব ওয়াত-তারহিবে। আদম আলাইহিস সালামের তাওবার সনদের মতো এ বর্ণনার সনদও দুর্বল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও রয়েছে আরও অনেক কথা ও ঘটনা। মূলত এসব কারণে আশুরার মর্যাদা ঘোষিত হয়নি। তবে বনি ইসরাইলের সে ঘটনাটি হাদিসের বর্ণনায় ওঠে এসেছে-

হাদিসে আশুরার সুস্পষ্ট ঘটনার বর্ণনা

আশুরার দিনে দুটি ঘটনা সুস্পষ্ট। তার একটি হলো হজরত মুসা আলাইহিস সালামের কাওমের মুক্তি আর অন্যটি হলো ফেরাউন সম্প্রদায়ের ধ্বংস।

১. হজরত মুসা আলাইহিস সালাম ও তার সাথীরা ফেরাউন ও তার সৈন্যবাহিনীর হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আল্লাহ তাআলা সমুদ্রের মধ্যে তাদের জন্য রাস্তা বানিয়ে দেন। যা দিয়ে তারা সমুদ্র পাড়ি দেন।

২. ফেরাউন ও তার বাহিনী মুসা আলাইহিস সালামের কাওমকে তাড়া করে সমুদ্রে তৈরি রাস্তা প্রবেশ করলে সে রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। আর তাতে ডুবে ফেরাউন ও তার সৈন্যবাহিনী ধ্বংস হয়ে যায়।

৩. এছাড়াও কারবালার প্রান্তরে হজরত ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুসহ ৭০জন সঙ্গী সাথীর শাহাদতও ঘটে এ আশুরার দিনে। বিশ্বব্যাপী মানুষ এ দিনটিকে যদিও কারবালার হৃদয় বিদারক ঘটনার জন্য সবচেয়ে বেশি স্মরণ করে থাকে।

মনে রাখতে হবে

মুলতঃ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা অনুযায়ী আশুরায় নয় বরং মহররম মাসে আমল করার কথা বলেছেন। আর আশুরায় রোজা রাখার কথাও বলেছেণ। হাদিসে এসেছে-

এ মাসে বেশি বেশি নফল রোজা ও তাওবা ইসতেগফারের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। তাই মাসব্যাপী আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা মুমিন মুসলমানের জন্য একান্ত আবশ্যক।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি রমজানের পর আরও কোনো মাসে রোজা রাখতে চাও তবে মহররমে রোজা রাখ। কেননা সেটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেন। ভবিষ্যতেও আরও অনেক মানুষের তাওবা কবুল করবেন।’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমাদ)

তাওবা ও ইসতেগফারের জন্য সবচেয়ে উত্তম হলো কুরআন-হাদিসে বর্ণিত ইসতেগফার বিষয়ক দোয়াগুলো বুঝে বুঝে পড়া। এ দোয়াগুলোর মাধ্যমে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করে দেবেন।

উল্লেখ্য, আজ ৯ আগস্ট ১০ মুহররম। সে হিসেবে আজ মঙ্গলবার ১০ মহররম দিনভর আল্লাহ কাছে তাওবা-ইসতেগফার করা জরুরি। তাহলো-

১. اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ ، وَالإِيمَانِ ، وَالسَّلامَةِ ، وَالإِسْلامِ ، وَرِضْوَانٍ مِنَ الرَّحْمَنِ ، وَجَوَار مِنَ الشَّيْطَانِ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আদখিলহু আলাইনা বিল-আমনি, ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালঅমাতি, ওয়াল ইসলামি, ওয়া রিদওয়ানিম মিনার রাহমানি, ওয়া ঝাওয়ারিম মিনাশ শায়ত্বানি।’ (আল-মুঝাম আল আওসাত)

২. رَبَّنَا ظَلَمْنَاۤ اَنْفُسَنَا، وَ اِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَ تَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ

উচ্চারণ : রাব্বানা জ্বালামনা আংফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৩)

অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।’

৩. أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لاَ إلَهَ إلاَّ هُوَ الحَيُّ القَيُّومُ وَأَتُوبُ إلَيْهِ ، رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ

উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি; রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আংতাত তাওয়্যাবুল গাফুর।

৪. সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়া-

أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আশুরাসহ মহররম মাস জুড়ে বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার ও দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ভিউ নিউজ ৭১.কম লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন ।