সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান নাগরিকত্বের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে চাইলে ভিসা আবেদন বাতিল ঢাকা-দিল্লি পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ মে দিবসের র‌্যালি ও আলোচনায় সিসিক প্রশাসক শ্রমিকদের সকল সমস্যার সমাধান হবে সিলেট চাঁদনীঘাটে প্রকল্প উদ্বোধন করলেন- প্রধানমন্ত্রী সিলেটের বাসিয়া নদী পূণঃখনন, নদীর দুই তীরে লাগানো হবে অর্ধলক্ষ গাছ বিএনপি সরকার কৃষকবান্ধব সরকার, সবসময় কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করে- প্রধানমন্ত্রী সিলেটের শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্যে বললেন দেশকে একদিন তোমরাই নেতৃত্ব দিবে- প্রধানমন্ত্রী সিলেট ভারতীয় পণ্য ও গ্রেফতার দুই সিলেটে মাদক ব্যবসায়ীসহ গ্রেপ্তার ৮৪ সিলেটে গত ২৪ ঘন্টায় হামে ১ শিশুর মৃত্যু

হবিগঞ্জ আজমিরীগঞ্জে পঞ্চায়েত কমিটির সিদ্ধান্তে ২ শিশুর লাশ ভাসানো হলো নদীতে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪ ১৪৮ বার পড়া হয়েছে

আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের বদলপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুরে ফুটবল খেলা শেষে পুকুরে গোসল করতে নেমে মৃত দুই শিশু প্রলয় দাস (৭) ও সুর্য দাস (৬) এর শেষ ঠিকানা হয়েছে কালনী-কুশিয়ারা নদীতে।

প্রলয় দাসকে মাটি চাপা দেয়ার পরও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির তোপের মুখে প্রলয় দাসের লাশ সন্ধ্যায় বস্তায় ভরে নদীতে ফেলতে  বাধ্য হয় তার পিতা গোবিন্দ দাস। একই সাথে রুবেল দাসের পুত্র সুর্য দাসের লাশও নদীতে ফেলা হয়। 

প্রলয় দাসকে মাটি চাপা দেয়ার পরও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির তোপের মুখে প্রলয় দাসের লাশ সন্ধ্যায় বস্তায় ভরে নদীতে ফেলতে  বাধ্য হয় তার পিতা গোবিন্দ দাস। একই সাথে রুবেল দাসের পুত্র সুর্য দাসের লাশও নদীতে ফেলা হয়। 

“মাটি চাপা দেয়া নিজ পুত্রের লাশ না তুলতে সমাজপতিদের পায়ে পড়ে কান্না করেও মন গলাতে পারেনি মৃত শিশুর পিতা গোবিন্দ দাস”।

মৃত শিশু প্রলয় দাসের পিতা গোবিন্দ দাস জানান, শনিবার (২৯ জুন) দুপুরে  খেলা শেষে পুকুরে গোসল করতে নেমে আমার সাত বছরের ছেলে প্রলয় ও আমার প্রতিবেশী রুবেল দাসের ছয় বছর বয়সী ছেলে সুর্য দাস পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করে। বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে আমি আমার ছেলেকে পাহাড়পুর মহাশশ্মানের দেয়াল সংলগ্ন মাটির নীচে সমাধি দেই। কিন্তু গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিপেশ দাস ও কোষাধ্যক্ষ অসিত সরকারসহ গ্রাম পঞ্চায়েতের লোকেরা আমাকে ডেকে লাশ তুলে নদীতে ভাসিয়ে দিতে বলেন। আমি লাশ না তোলার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষসহ উপস্থিত সবার  হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করলেও তারা আমার কথা শুনেননি। অবশেষে পঞ্চায়েত কমিটির চাপে বাধ্য হয়ে সন্ধ্যায় আমি ছেলের লাশ তুলে নদীতে ভাসিয়ে দেই। 

অপর শিশুর পিতা রুবেল দাস জানান, শশ্মানে গোবিন্দ দাসের ছেলের লাশ সমাধিতে বাঁধার বিষয়টি জানার পর বাধ্য হয়ে আমার ছেলে সুর্যের লাশ বস্তায় ভরে নদীতে ফেলি। 

গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির কোষাধ্যক্ষ অসিত সরকার বলেন, গ্রামের কমিটির সিদ্ধান্ত হল শশ্মানের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার জন্য পাশে কোনো সমাধি করা যাবে না। এই সিদ্ধান্ত এলাকার সবার, আমার একার নয়। 

কমিটির সাধারণ সম্পাদক  দিপেশ সরকার বলেন, এটি আমার একার সিদ্ধান্ত নয়, গ্রাম কমিটির সবার সিদ্ধান্ত।

বদলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুসেনজিৎ চৌধুরীর মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। ঘটনাটি অমানবিক। শশ্মান তো মানুষের সৎকারের জন্যই। এখানে সমাধিত করা হলে শশ্মানের পরিচ্ছন্নতার বিষয় কেন আসবে। 

আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.ডালিম আহমেদ বলেন, এ বিষযে খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগ পেলে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হবিগঞ্জ আজমিরীগঞ্জে পঞ্চায়েত কমিটির সিদ্ধান্তে ২ শিশুর লাশ ভাসানো হলো নদীতে

আপডেট সময় : ০৯:০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪

আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের বদলপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুরে ফুটবল খেলা শেষে পুকুরে গোসল করতে নেমে মৃত দুই শিশু প্রলয় দাস (৭) ও সুর্য দাস (৬) এর শেষ ঠিকানা হয়েছে কালনী-কুশিয়ারা নদীতে।

প্রলয় দাসকে মাটি চাপা দেয়ার পরও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির তোপের মুখে প্রলয় দাসের লাশ সন্ধ্যায় বস্তায় ভরে নদীতে ফেলতে  বাধ্য হয় তার পিতা গোবিন্দ দাস। একই সাথে রুবেল দাসের পুত্র সুর্য দাসের লাশও নদীতে ফেলা হয়। 

প্রলয় দাসকে মাটি চাপা দেয়ার পরও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির তোপের মুখে প্রলয় দাসের লাশ সন্ধ্যায় বস্তায় ভরে নদীতে ফেলতে  বাধ্য হয় তার পিতা গোবিন্দ দাস। একই সাথে রুবেল দাসের পুত্র সুর্য দাসের লাশও নদীতে ফেলা হয়। 

“মাটি চাপা দেয়া নিজ পুত্রের লাশ না তুলতে সমাজপতিদের পায়ে পড়ে কান্না করেও মন গলাতে পারেনি মৃত শিশুর পিতা গোবিন্দ দাস”।

মৃত শিশু প্রলয় দাসের পিতা গোবিন্দ দাস জানান, শনিবার (২৯ জুন) দুপুরে  খেলা শেষে পুকুরে গোসল করতে নেমে আমার সাত বছরের ছেলে প্রলয় ও আমার প্রতিবেশী রুবেল দাসের ছয় বছর বয়সী ছেলে সুর্য দাস পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করে। বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে আমি আমার ছেলেকে পাহাড়পুর মহাশশ্মানের দেয়াল সংলগ্ন মাটির নীচে সমাধি দেই। কিন্তু গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিপেশ দাস ও কোষাধ্যক্ষ অসিত সরকারসহ গ্রাম পঞ্চায়েতের লোকেরা আমাকে ডেকে লাশ তুলে নদীতে ভাসিয়ে দিতে বলেন। আমি লাশ না তোলার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষসহ উপস্থিত সবার  হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করলেও তারা আমার কথা শুনেননি। অবশেষে পঞ্চায়েত কমিটির চাপে বাধ্য হয়ে সন্ধ্যায় আমি ছেলের লাশ তুলে নদীতে ভাসিয়ে দেই। 

অপর শিশুর পিতা রুবেল দাস জানান, শশ্মানে গোবিন্দ দাসের ছেলের লাশ সমাধিতে বাঁধার বিষয়টি জানার পর বাধ্য হয়ে আমার ছেলে সুর্যের লাশ বস্তায় ভরে নদীতে ফেলি। 

গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির কোষাধ্যক্ষ অসিত সরকার বলেন, গ্রামের কমিটির সিদ্ধান্ত হল শশ্মানের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার জন্য পাশে কোনো সমাধি করা যাবে না। এই সিদ্ধান্ত এলাকার সবার, আমার একার নয়। 

কমিটির সাধারণ সম্পাদক  দিপেশ সরকার বলেন, এটি আমার একার সিদ্ধান্ত নয়, গ্রাম কমিটির সবার সিদ্ধান্ত।

বদলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুসেনজিৎ চৌধুরীর মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। ঘটনাটি অমানবিক। শশ্মান তো মানুষের সৎকারের জন্যই। এখানে সমাধিত করা হলে শশ্মানের পরিচ্ছন্নতার বিষয় কেন আসবে। 

আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.ডালিম আহমেদ বলেন, এ বিষযে খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগ পেলে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।