সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান শিশুকে যৌ’ন নি’র্যাতন ও হ’ত্যার ঘটনায় চাচা গ্রে’প্তার মাজারে আসা প্রতিবন্ধী তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৩ সিলেট পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৮ সিলেটে হাম উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু সিলেটে ওসমানীতে হাম রোগীদের জন্য নতুন ইউনিট ও আইসিইউ চালু সিলেটে ‘হবিগঞ্জ এক্সপ্রেসের যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ ও দগ্ধ হয়ে এক যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার সকল আসামী খালাস প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি- জনগণ এমন রাষ্ট্র চায়, যেখানে অবিচার অনাচার থাকবে না হবিগঞ্জে ৪ থানার ওসি বদলী নবীগঞ্জে র‌্যাবের অভিযান ৪৫ কেজি গাঁজাসহ আটক ২ চুনারুঘাটে বিজিবি’র অভিযান ভারতীয় গাঁজা ও বিয়ার উদ্ধার

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, নিম্নাঞ্চলে বাড়ছে পানি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪ ১২৫ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ প্রতিবেদন :

ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেট  সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বুধবার (২৯ মে) বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চলে দ্রুত বাড়তে শুরু করে পানি। রাতে অনেকের ঘর বাড়িতে পরিপূর্ণ হয়ে যায় পানি । এতে চরম বিপাকে পড়েছেন বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর মানুষ। অনেকে রাতে নৌকা নিয়ে তাদের উদ্ধার করতে ভার্চুয়াল মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। অনেক স্রোতের কারণে কেউ উদ্ধারের জন্য আসতে পারছে না, সুন্দর এই ভুবনে বাঁচার অনেক ইচ্ছা। জৈন্তাপুর উপজেলার আরও কয়েকটি জায়গা থেকে উজানের ঢলে আকস্মিক বন্যায় আটকে পড়া কয়েকজন নৌকা চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন।

এদিকে উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনী চেয়ে জৈন্তাপুর উপজেলার বাসিন্দা সাংবাদিক ফারুক আহমদ তার ফেসবুক আইডিতে লেখেন- ‘উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী নিয়োজিত করা জরুরি। জৈন্তাপুর গোয়াইনঘাট, কানাইঘাটে ভয়াবহ বন্যা। ’ তিনি এই পোস্টে ট্যাগ করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে।

সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাহেদ আহমদ পানিবন্দি মানুষের জন্য সহযোগিতা চেয়ে ফেসবুকে লেখেন, ‘কেউ নিজপাট ময়নারহাটি, মাঝেরটুকে একটি নৌকা পাঠান, কিছু লোক আটকা পড়েছেন।জানা গেছে, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ  ও কানাইঘাট উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে এই তিন উপজেলার বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চল। অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র। পানিবন্দি মানুষরা বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে উঠতে শুরু করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়ন, লেঙ্গুড়া, ডৌবাড়ি, নন্দীরগাঁও, পূর্ব ও পশ্চিম আলীরগাও, পশ্চিম জাফলং, মধ্য জাফলংয়ে প্লাবনের পরিমাণ বেশি হয়েছে। এই উপজেলা ১৩ টি ইউনিয়নে মোট ৫৬ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রয়েছে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও প্লাবন প্রবণ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে জনগণকে দ্রুত অবস্থান নিতে মাইকিং করা হচ্ছে।

এছাড়া সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক তলিয়ে যাওয়ার কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।জৈন্তাপুর উপজেলায় নিজপাট লামাপড়া, বন্দরহাটি, ময়নাহাটি, জাঙ্গালহাটি, বড়খেলা, মেঘলী, তিলকৈপাড়া, ফুলবাড়ী, নয়াবাড়ী, হর্নি, বাইরাখেল, গোয়াবাড়ী, ডিবির হাওর, ঘিলাতৈল, মুক্তাপুর, বিরাইমারা হাওর, খারুবিল, লমানীগ্রাম, কাটাখাল, বাউরভাগ ও বাওন হাওরসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র।

এছাড়াও প্লাবিত হয়েছে কোম্পানীগঞ্জ ও কানাইঘাটের বিভন্ন এলাকা। গ্রামীণ সড়ক ডুবে যোগাযোগ ব্যাহত রয়েছে অনেক জায়গায়।সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোবারক হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ইতোমধ্যেই গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ  ও কানাইঘাট উপজেলায় আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গোয়াইনঘাটের কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষ উঠতে শুরু করেছে। এছাড়া আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে। সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সার্বক্ষণিক তদারকি করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, সিলেট সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি-গোয়াইনসহ প্রত্যেকটি নদীতে পানি বেড়েছে। বেশিরভাগ পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, নিম্নাঞ্চলে বাড়ছে পানি

আপডেট সময় : ০৭:২২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

ভিউ নিউজ ৭১ প্রতিবেদন :

ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেট  সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বুধবার (২৯ মে) বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চলে দ্রুত বাড়তে শুরু করে পানি। রাতে অনেকের ঘর বাড়িতে পরিপূর্ণ হয়ে যায় পানি । এতে চরম বিপাকে পড়েছেন বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর মানুষ। অনেকে রাতে নৌকা নিয়ে তাদের উদ্ধার করতে ভার্চুয়াল মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। অনেক স্রোতের কারণে কেউ উদ্ধারের জন্য আসতে পারছে না, সুন্দর এই ভুবনে বাঁচার অনেক ইচ্ছা। জৈন্তাপুর উপজেলার আরও কয়েকটি জায়গা থেকে উজানের ঢলে আকস্মিক বন্যায় আটকে পড়া কয়েকজন নৌকা চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন।

এদিকে উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনী চেয়ে জৈন্তাপুর উপজেলার বাসিন্দা সাংবাদিক ফারুক আহমদ তার ফেসবুক আইডিতে লেখেন- ‘উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী নিয়োজিত করা জরুরি। জৈন্তাপুর গোয়াইনঘাট, কানাইঘাটে ভয়াবহ বন্যা। ’ তিনি এই পোস্টে ট্যাগ করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে।

সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাহেদ আহমদ পানিবন্দি মানুষের জন্য সহযোগিতা চেয়ে ফেসবুকে লেখেন, ‘কেউ নিজপাট ময়নারহাটি, মাঝেরটুকে একটি নৌকা পাঠান, কিছু লোক আটকা পড়েছেন।জানা গেছে, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ  ও কানাইঘাট উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে এই তিন উপজেলার বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চল। অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র। পানিবন্দি মানুষরা বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে উঠতে শুরু করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়ন, লেঙ্গুড়া, ডৌবাড়ি, নন্দীরগাঁও, পূর্ব ও পশ্চিম আলীরগাও, পশ্চিম জাফলং, মধ্য জাফলংয়ে প্লাবনের পরিমাণ বেশি হয়েছে। এই উপজেলা ১৩ টি ইউনিয়নে মোট ৫৬ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রয়েছে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও প্লাবন প্রবণ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে জনগণকে দ্রুত অবস্থান নিতে মাইকিং করা হচ্ছে।

এছাড়া সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক তলিয়ে যাওয়ার কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।জৈন্তাপুর উপজেলায় নিজপাট লামাপড়া, বন্দরহাটি, ময়নাহাটি, জাঙ্গালহাটি, বড়খেলা, মেঘলী, তিলকৈপাড়া, ফুলবাড়ী, নয়াবাড়ী, হর্নি, বাইরাখেল, গোয়াবাড়ী, ডিবির হাওর, ঘিলাতৈল, মুক্তাপুর, বিরাইমারা হাওর, খারুবিল, লমানীগ্রাম, কাটাখাল, বাউরভাগ ও বাওন হাওরসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র।

এছাড়াও প্লাবিত হয়েছে কোম্পানীগঞ্জ ও কানাইঘাটের বিভন্ন এলাকা। গ্রামীণ সড়ক ডুবে যোগাযোগ ব্যাহত রয়েছে অনেক জায়গায়।সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোবারক হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ইতোমধ্যেই গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ  ও কানাইঘাট উপজেলায় আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গোয়াইনঘাটের কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষ উঠতে শুরু করেছে। এছাড়া আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে। সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সার্বক্ষণিক তদারকি করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, সিলেট সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি-গোয়াইনসহ প্রত্যেকটি নদীতে পানি বেড়েছে। বেশিরভাগ পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে ।