সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান শিশুকে যৌ’ন নি’র্যাতন ও হ’ত্যার ঘটনায় চাচা গ্রে’প্তার মাজারে আসা প্রতিবন্ধী তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৩ সিলেট পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৮ সিলেটে হাম উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু সিলেটে ওসমানীতে হাম রোগীদের জন্য নতুন ইউনিট ও আইসিইউ চালু সিলেটে ‘হবিগঞ্জ এক্সপ্রেসের যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ ও দগ্ধ হয়ে এক যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার সকল আসামী খালাস প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি- জনগণ এমন রাষ্ট্র চায়, যেখানে অবিচার অনাচার থাকবে না হবিগঞ্জে ৪ থানার ওসি বদলী নবীগঞ্জে র‌্যাবের অভিযান ৪৫ কেজি গাঁজাসহ আটক ২ চুনারুঘাটে বিজিবি’র অভিযান ভারতীয় গাঁজা ও বিয়ার উদ্ধার

খাদ্যের চাহিদা মেটাতে বেশী ধান উৎপাদন করতে হবে – কৃষিমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪ ১৮৭ বার পড়া হয়েছে

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা :

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি বলেছেন, আমাদের প্রধান খাদ্য ভাত। ক্রমবর্ধমান বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্যের চাহিদা মেটাতে হলে কম জমিতেই বেশী ধান উৎপাদন করতে হবে। দিনকে দিন শিল্প কারখানা আমাদের কৃষি জমিতে গড়ে উঠছে, ফলে আমাদের চাষের জমি কমে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের ধান গবেষণা কেন্দ্রের উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ব্রি ৮৯, ব্রি ৯৯, ক্লোন ১০০, বীনা ২৫ ও বঙ্গবন্ধু ১০০ জাতের ধান চাষ করে কৃষকরা অভূতপূর্ব ফলন পেয়েছেন। এলাকাভেদে এই জাতের ধান বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ মণ। যা আগে হতো সাত থেকে সাড়ে সাত মণ। তাই, পুরোনো জাত বাদ দিয়ে এখন নতুন উদ্ভাাবিত ধানের জাতগুলোর চাষ করতে হবে। এই উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ করে আমরা যেন বিদেশে রপ্তানি করতে পারি সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।

গতকাল সোমবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উত্তরসুর গ্রামে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট’র আয়োজনে ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র সহযোগিতায় বোরো ধান কর্তন উৎসবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের সারা বছরের মোট চাল উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি জোগান দেয় বোরো ধান। সেজন্য এ বছরও বোরোর আবাদ ও ফলন বাড়াতে আমরা ২১৫ কোটি টাকারও বেশি প্রণোদনা কৃষকদের দিয়েছি। এর ফলে এ বছর সারা দেশে ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এবার চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ২২ লক্ষ মেট্রিক টন। এখন ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। হাওরাঞ্চলে রোপণ করা ধানগুলো সঠিকভাবে ঘরে তুলতে পারলে আমাদের আর চালের ঘাটতি থাকবে না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষি মন্ত্রী বলেন, বোরো ধানের উৎপাদন খরচ হিসাব করেই ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান। গত বছরের চেয়ে এ বছর ধানের মূল্য কেজিপ্রতি ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি আর ও বলেন, ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকদের কৃষিযন্ত্র দিয়ে যাচ্ছেন। এটি বিশ্বের বিরল উদাহরণ। এ মুহূর্তে হাওরে প্রায় ৯ হাজার কম্বাইন হারভেস্টর দিয়ে ধান কাটা চলছে। এর ফলে দ্রুততার সঙ্গে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য জিল্লুর রহমান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট’র মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (সরেজমিন উইং) মো. তাজুল ইসলাম পাটোয়ারী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মতিউজ্জামান, শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান ভানুলাল রায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তালেব, পুলিশ সুপার মনজুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে কৃষিমন্ত্রী কৃষকদের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে কম্বাইন হারভেস্টর বিতরণ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

খাদ্যের চাহিদা মেটাতে বেশী ধান উৎপাদন করতে হবে – কৃষিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:৫৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা :

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি বলেছেন, আমাদের প্রধান খাদ্য ভাত। ক্রমবর্ধমান বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্যের চাহিদা মেটাতে হলে কম জমিতেই বেশী ধান উৎপাদন করতে হবে। দিনকে দিন শিল্প কারখানা আমাদের কৃষি জমিতে গড়ে উঠছে, ফলে আমাদের চাষের জমি কমে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের ধান গবেষণা কেন্দ্রের উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ব্রি ৮৯, ব্রি ৯৯, ক্লোন ১০০, বীনা ২৫ ও বঙ্গবন্ধু ১০০ জাতের ধান চাষ করে কৃষকরা অভূতপূর্ব ফলন পেয়েছেন। এলাকাভেদে এই জাতের ধান বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ মণ। যা আগে হতো সাত থেকে সাড়ে সাত মণ। তাই, পুরোনো জাত বাদ দিয়ে এখন নতুন উদ্ভাাবিত ধানের জাতগুলোর চাষ করতে হবে। এই উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ করে আমরা যেন বিদেশে রপ্তানি করতে পারি সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।

গতকাল সোমবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উত্তরসুর গ্রামে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট’র আয়োজনে ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র সহযোগিতায় বোরো ধান কর্তন উৎসবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের সারা বছরের মোট চাল উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি জোগান দেয় বোরো ধান। সেজন্য এ বছরও বোরোর আবাদ ও ফলন বাড়াতে আমরা ২১৫ কোটি টাকারও বেশি প্রণোদনা কৃষকদের দিয়েছি। এর ফলে এ বছর সারা দেশে ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এবার চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ২২ লক্ষ মেট্রিক টন। এখন ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। হাওরাঞ্চলে রোপণ করা ধানগুলো সঠিকভাবে ঘরে তুলতে পারলে আমাদের আর চালের ঘাটতি থাকবে না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষি মন্ত্রী বলেন, বোরো ধানের উৎপাদন খরচ হিসাব করেই ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান। গত বছরের চেয়ে এ বছর ধানের মূল্য কেজিপ্রতি ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি আর ও বলেন, ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকদের কৃষিযন্ত্র দিয়ে যাচ্ছেন। এটি বিশ্বের বিরল উদাহরণ। এ মুহূর্তে হাওরে প্রায় ৯ হাজার কম্বাইন হারভেস্টর দিয়ে ধান কাটা চলছে। এর ফলে দ্রুততার সঙ্গে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য জিল্লুর রহমান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট’র মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (সরেজমিন উইং) মো. তাজুল ইসলাম পাটোয়ারী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মতিউজ্জামান, শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান ভানুলাল রায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তালেব, পুলিশ সুপার মনজুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে কৃষিমন্ত্রী কৃষকদের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে কম্বাইন হারভেস্টর বিতরণ করেন।