সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান শিশুকে যৌ’ন নি’র্যাতন ও হ’ত্যার ঘটনায় চাচা গ্রে’প্তার মাজারে আসা প্রতিবন্ধী তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৩ সিলেট পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৮ সিলেটে হাম উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু সিলেটে ওসমানীতে হাম রোগীদের জন্য নতুন ইউনিট ও আইসিইউ চালু সিলেটে ‘হবিগঞ্জ এক্সপ্রেসের যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ ও দগ্ধ হয়ে এক যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার সকল আসামী খালাস প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি- জনগণ এমন রাষ্ট্র চায়, যেখানে অবিচার অনাচার থাকবে না হবিগঞ্জে ৪ থানার ওসি বদলী নবীগঞ্জে র‌্যাবের অভিযান ৪৫ কেজি গাঁজাসহ আটক ২ চুনারুঘাটে বিজিবি’র অভিযান ভারতীয় গাঁজা ও বিয়ার উদ্ধার

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট লাখো মানুষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৫:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ এপ্রিল ২০২৪ ১২৮ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ প্রতিবেদন :

তাপদাহ গরমের পাশাপাশি চলছে সিয়াম সাধনার পবিত্র মাস রমজান।সামনে মুসল্লীদের আনন্দের ঈদ। জমে উঠেছে মানুষের কেনাকাটার মহোৎসব।লোডশেডিং কারনে কোন কিছুই সঠিকভাবে কেনাকাঠা করতে পারছে না । অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় হচ্ছে সমস্যা। দাপ্তরিক কাজে ঘটছে ব্যাঘাত। আবার হঠাৎ এই গরমের যন্ত্রণায় শিশু-বয়োবৃদ্ধরা সম্মুখীন হচ্ছে নানান ব্যাধিতে। অর্থাৎ সবমিলিয়ে বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের জন্য লাখো মানুষের জীবনযাত্রা পড়ছে চরম বিপাকে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।

এ দিকে পবিত্র রমজান মাসেও সিলেটে চলছে চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাট। সেহরি ও ইফতারের সময়েও লোডশেডিং থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ার খেলায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।গত কয়েকদিন ধরে সিলেটে এ সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলছেন, এ যেন আসা-যাওয়ার খেলা। সামান্য বৃষ্টি কিংবা ঝড়ের আভাস পেলেই আসা-যাওয়া করতে থাকে বিদ্যুৎ। উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধান চান সাধারণ লোকজন।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সিলেট এর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর হায়দার জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম সরবরাহের কারণে এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে বলেও জানান তিনি।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেট অঞ্চলে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ২শ’ মেগাওয়াট। অনেক সময় সরবরাহ করা হয় চাহিদার অর্ধেক। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম পাওয়ার কারণে সিলেটের গ্রাহকরা বিদ্যুৎ নিয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরাও নিজেদের মার্কেট, শপিংমল ও দোকানপাটে করেছেন আলোকসজ্জা। কিন্তু, দিন ও রাতের বেশিরভাগ সময় লোডশেডিংয়ের কবলে থাকায় জেনারেটর দিয়ে চলছে তাদের ব্যবসা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং থাকায় ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।সেহরি ও ইফতারের সময়েও মোমবাতি, মোবাইল চার্জার জ্বালিয়ে সিলেটবাসীকে রমজান পালন করতে হচ্ছে। শহরাঞ্চলের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে এ পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।তথ্যে জানাযায়, শাল্লা উপজেলায় বিদ্যুতের দুটি বিভাগের সংযোগ রয়েছে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুতায়ন উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), অপরটি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (বিপিবিএস)।

লোডশেডিংয়ের কারন জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিদ্যুতায়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ জেলার এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (নির্বাহী প্রকৌশলী) আবু নোমান বলেন, শাল্লার লাইন হচ্ছে অনেক দূর্গম ও দীর্ঘ লাইন। তারপর লাইনে অনেক সময় পাখি বসলে, গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়লে এবং পিন ব্রাস্ট হলে ফল্ট খুঁজে বের করার জন্য শাটডাউন দেওয়া হয়। আপনাদের এখানে চাহিদা মনে হয় ৫ মেগাওয়াট আর দিচ্ছে মাত্র ৩ মেগাওয়াট। এইজন্যই ফোর্স লোডশেড অর্থাৎ পর্যায়ক্রমে লাইন বন্ধ রাখতে হয়। বিশেষ করে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছি না এর কারন হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম। তবে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে সোলার নেওয়ার জন্য যাতে দিনে একটা লাইট ও ফ্যান চালাতে পারেন।

শাল্লা উপজেলা সদর (ঘুঙ্গিয়ারগাঁও) বাজারের অনেক ব্যবসায়ী জানান, গরম শুরু হওয়ার সাথে সাথেই কারেন্টের সমস্যা শুরু হয়েছে। এখন পবিত্র রমজান মাস। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে অন্তত ১৫ ঘন্টা কারেন্ট থাকলে চলে। কিন্তু সারাদিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭-৮ঘণ্টা থাকে। যা আমাদের ব্যবসায় মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। ইফতারের সময় প্রতিদিন বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ আসে রাত নয়টার দিকে। রাতের খাওয়া শেষে ১১টার দিকে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেই, এমন সময় আবারও বিদ্যুৎ চলে যায়। রাতে এমন আরও কয়েকবার হয়। এমনকি সেহরি খাবার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়েছি আমরা।

গার্মেন্টস ব্যবসায় কারেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিন রোজা রেখে ক্রেতারা ইফতার করে কেনাকাটা করতে আসা। বিদ্যুৎ না থাকায় সঠিকভাবে জিনিসপত্র ক্রয় করতে ও ব্যবসায়িরা বিক্রি করতে পারছে না । বিদ্যুৎ অতিরিক্ত লোডশেডিং করায় ব্যবসা ভাল হচ্ছে না। এইমুহূর্তে ২৪ ঘন্টার মধ্যে বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছেনা ।

শাল্লার অধিকাংশ গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অসহনীয় গরমের মধ্যে বিদ্যুতের সমস্যায় চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান সাধারণ মানুষ। বাজারের মতো গ্রামের অবস্থাও প্রায় একইরকম। গ্রামের বাসিন্দারা জানান, গরম আসার সাথে সাথেই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। অনেক এলাকায় দিনের বেলায় অল্পসময় বিদ্যুৎ থাকে। বিকালে কিছু সময় থাকে আবার সন্ধ্যার দিকে বিদ্যুৎ চলে যায় এমন লোডশেডিং হলে কেমনে কি করা। আর যদি বৃষ্টি বা হালকা বাতাস দেয় তাহলে এইদিন বা রাত কারেন্টে আরাম পাইলায়। ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখায় কি ক্ষতি হচ্ছে এগুলো বইলা আর কি করমু। তবে বিদ্যুত অফিসে কল দিলে তারা ধরে না, কল ধরলেও বিভিন্ন অজুহাত দেখায় কিতা কয় উৎপাদন কম, লাইনে সমিস্যা এই সেই আরও কত কি ! লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশি হওয়ায় গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। কারেন্ট চলে গেলে গরমের যন্ত্রণায় রাতের বেলা বাচ্চা কাচ্ছা নিয়ে বাইরে আসতে হয় বলে মন্তব্য করেন এলাকার মানুষ। সরজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিদ্যুৎ লোডশেডিং এর দৃশ্য দেখাযায়।

শাল্লার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা যশোবন্ত ভট্টাচার্য জানান, কারেন্ট না থাকায় চিকিৎসা কাজে ব্যঘাত ঘটে। আমাদের এখানে নরমাল ডেলিভারি এবং ভর্তি রোগীেদর জন্য সমস্যা হয়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের জন্য গরমে মারাত্মক সমস্যা হয়। আমাদের যে আইপিএস আছে এটা দিয়ে কয়েক ঘন্টা সার্ভিস দেওয়া যায়।

সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মিলন কুমার কুন্ডু জানান, গ্যাস সল্পতার জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কম এটাই হচ্ছে মেইন কারন৷ বাংলাদেশের নিয়মানুযায়ী আবহাওয়া ঠান্ডা থাকলে বিদ্যুৎ বেশী থাকে, গরম হলে বিদ্যুৎ কম থাকে। আমাদের সুনামগঞ্জ টোটাল চাহিদা ৪৭ মেগাওয়াট আর আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি মাত্র ৩০-৩২ মেগাওয়াট। শাল্লার জন্য কতটুকু বিদ্যুতের চাহিদা বা সাপ্লাই দিচ্ছেন কতটুকু বললে তিনি প্রতিবেদকে জানান, এই মুহুর্তে আমি বলতে পারছি না তবে জেনে আপনাকে জানাতে পারব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট লাখো মানুষ

আপডেট সময় : ১০:১৫:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ এপ্রিল ২০২৪

ভিউ নিউজ ৭১ প্রতিবেদন :

তাপদাহ গরমের পাশাপাশি চলছে সিয়াম সাধনার পবিত্র মাস রমজান।সামনে মুসল্লীদের আনন্দের ঈদ। জমে উঠেছে মানুষের কেনাকাটার মহোৎসব।লোডশেডিং কারনে কোন কিছুই সঠিকভাবে কেনাকাঠা করতে পারছে না । অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় হচ্ছে সমস্যা। দাপ্তরিক কাজে ঘটছে ব্যাঘাত। আবার হঠাৎ এই গরমের যন্ত্রণায় শিশু-বয়োবৃদ্ধরা সম্মুখীন হচ্ছে নানান ব্যাধিতে। অর্থাৎ সবমিলিয়ে বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের জন্য লাখো মানুষের জীবনযাত্রা পড়ছে চরম বিপাকে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।

এ দিকে পবিত্র রমজান মাসেও সিলেটে চলছে চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাট। সেহরি ও ইফতারের সময়েও লোডশেডিং থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ার খেলায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।গত কয়েকদিন ধরে সিলেটে এ সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলছেন, এ যেন আসা-যাওয়ার খেলা। সামান্য বৃষ্টি কিংবা ঝড়ের আভাস পেলেই আসা-যাওয়া করতে থাকে বিদ্যুৎ। উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধান চান সাধারণ লোকজন।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সিলেট এর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর হায়দার জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম সরবরাহের কারণে এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে বলেও জানান তিনি।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেট অঞ্চলে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ২শ’ মেগাওয়াট। অনেক সময় সরবরাহ করা হয় চাহিদার অর্ধেক। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম পাওয়ার কারণে সিলেটের গ্রাহকরা বিদ্যুৎ নিয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরাও নিজেদের মার্কেট, শপিংমল ও দোকানপাটে করেছেন আলোকসজ্জা। কিন্তু, দিন ও রাতের বেশিরভাগ সময় লোডশেডিংয়ের কবলে থাকায় জেনারেটর দিয়ে চলছে তাদের ব্যবসা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং থাকায় ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।সেহরি ও ইফতারের সময়েও মোমবাতি, মোবাইল চার্জার জ্বালিয়ে সিলেটবাসীকে রমজান পালন করতে হচ্ছে। শহরাঞ্চলের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে এ পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।তথ্যে জানাযায়, শাল্লা উপজেলায় বিদ্যুতের দুটি বিভাগের সংযোগ রয়েছে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুতায়ন উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), অপরটি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (বিপিবিএস)।

লোডশেডিংয়ের কারন জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিদ্যুতায়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ জেলার এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (নির্বাহী প্রকৌশলী) আবু নোমান বলেন, শাল্লার লাইন হচ্ছে অনেক দূর্গম ও দীর্ঘ লাইন। তারপর লাইনে অনেক সময় পাখি বসলে, গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়লে এবং পিন ব্রাস্ট হলে ফল্ট খুঁজে বের করার জন্য শাটডাউন দেওয়া হয়। আপনাদের এখানে চাহিদা মনে হয় ৫ মেগাওয়াট আর দিচ্ছে মাত্র ৩ মেগাওয়াট। এইজন্যই ফোর্স লোডশেড অর্থাৎ পর্যায়ক্রমে লাইন বন্ধ রাখতে হয়। বিশেষ করে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছি না এর কারন হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম। তবে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে সোলার নেওয়ার জন্য যাতে দিনে একটা লাইট ও ফ্যান চালাতে পারেন।

শাল্লা উপজেলা সদর (ঘুঙ্গিয়ারগাঁও) বাজারের অনেক ব্যবসায়ী জানান, গরম শুরু হওয়ার সাথে সাথেই কারেন্টের সমস্যা শুরু হয়েছে। এখন পবিত্র রমজান মাস। আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে অন্তত ১৫ ঘন্টা কারেন্ট থাকলে চলে। কিন্তু সারাদিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭-৮ঘণ্টা থাকে। যা আমাদের ব্যবসায় মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। ইফতারের সময় প্রতিদিন বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ আসে রাত নয়টার দিকে। রাতের খাওয়া শেষে ১১টার দিকে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেই, এমন সময় আবারও বিদ্যুৎ চলে যায়। রাতে এমন আরও কয়েকবার হয়। এমনকি সেহরি খাবার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়েছি আমরা।

গার্মেন্টস ব্যবসায় কারেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিন রোজা রেখে ক্রেতারা ইফতার করে কেনাকাটা করতে আসা। বিদ্যুৎ না থাকায় সঠিকভাবে জিনিসপত্র ক্রয় করতে ও ব্যবসায়িরা বিক্রি করতে পারছে না । বিদ্যুৎ অতিরিক্ত লোডশেডিং করায় ব্যবসা ভাল হচ্ছে না। এইমুহূর্তে ২৪ ঘন্টার মধ্যে বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছেনা ।

শাল্লার অধিকাংশ গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অসহনীয় গরমের মধ্যে বিদ্যুতের সমস্যায় চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান সাধারণ মানুষ। বাজারের মতো গ্রামের অবস্থাও প্রায় একইরকম। গ্রামের বাসিন্দারা জানান, গরম আসার সাথে সাথেই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। অনেক এলাকায় দিনের বেলায় অল্পসময় বিদ্যুৎ থাকে। বিকালে কিছু সময় থাকে আবার সন্ধ্যার দিকে বিদ্যুৎ চলে যায় এমন লোডশেডিং হলে কেমনে কি করা। আর যদি বৃষ্টি বা হালকা বাতাস দেয় তাহলে এইদিন বা রাত কারেন্টে আরাম পাইলায়। ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখায় কি ক্ষতি হচ্ছে এগুলো বইলা আর কি করমু। তবে বিদ্যুত অফিসে কল দিলে তারা ধরে না, কল ধরলেও বিভিন্ন অজুহাত দেখায় কিতা কয় উৎপাদন কম, লাইনে সমিস্যা এই সেই আরও কত কি ! লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশি হওয়ায় গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। কারেন্ট চলে গেলে গরমের যন্ত্রণায় রাতের বেলা বাচ্চা কাচ্ছা নিয়ে বাইরে আসতে হয় বলে মন্তব্য করেন এলাকার মানুষ। সরজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিদ্যুৎ লোডশেডিং এর দৃশ্য দেখাযায়।

শাল্লার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা যশোবন্ত ভট্টাচার্য জানান, কারেন্ট না থাকায় চিকিৎসা কাজে ব্যঘাত ঘটে। আমাদের এখানে নরমাল ডেলিভারি এবং ভর্তি রোগীেদর জন্য সমস্যা হয়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের জন্য গরমে মারাত্মক সমস্যা হয়। আমাদের যে আইপিএস আছে এটা দিয়ে কয়েক ঘন্টা সার্ভিস দেওয়া যায়।

সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মিলন কুমার কুন্ডু জানান, গ্যাস সল্পতার জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কম এটাই হচ্ছে মেইন কারন৷ বাংলাদেশের নিয়মানুযায়ী আবহাওয়া ঠান্ডা থাকলে বিদ্যুৎ বেশী থাকে, গরম হলে বিদ্যুৎ কম থাকে। আমাদের সুনামগঞ্জ টোটাল চাহিদা ৪৭ মেগাওয়াট আর আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি মাত্র ৩০-৩২ মেগাওয়াট। শাল্লার জন্য কতটুকু বিদ্যুতের চাহিদা বা সাপ্লাই দিচ্ছেন কতটুকু বললে তিনি প্রতিবেদকে জানান, এই মুহুর্তে আমি বলতে পারছি না তবে জেনে আপনাকে জানাতে পারব।