সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান হবিগঞ্জের মাধবপুরে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সংবাদপত্রে সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ,,প্রচার সংখ্যা ও প্রকাশনাস্থল বিবেচনায় নতুন হার নির্ধারণ, সর্বোচ্চ মূল্যসীমাও নির্ধারিত সুনামগঞ্জ জগন্নাথপুরে সড়ক বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা সিলেটে হাসপাতালে একদিনে ভর্তি ১২৩ ‘৪২টি ওয়ার্ডের প্রতিটি সড়ককে উন্নয়নের নেটওয়ার্কে আনতে চাই’ হযরত শাহাজালাল (র:) মাজার এলাকা থেকে উদ্ধার নিখোঁজ ৪ শিক্ষার্থী দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে আয়োজনে সিসিকের সর্বাত্মক প্রস্তুতি লতিফিয়া ছাত্র সংসদের অভিষেক অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক লাউয়াই ও তপোবন আবাসিকএলাকায় সিসিক প্রশাসকেরপরিদর্শন সৌদি ফেরত নির্যাতিত রেহেনাকে ১০ হাজার টাকা সহায়তা দিলেন মাধবপুরের ইউএনও

পাসপোর্ট সংক্রান্ত নথিপত্র ও কম্পিউটারসহ ২৩ জনকে গ্রেপ্তার,লাখ টাকায় স্বল্প সময়ে পাসপোর্ট পায় রোহিঙ্গারা,জড়িত আনসাররাও

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ১৫৭ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

ঢাকার আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে পাসপোর্ট, পাসপোর্ট সংক্রান্ত নথিপত্র ও কম্পিউটারসহ ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি, ডিএমপি) লালবাগ বিভাগ।

দুই দফায় শুক্র ও রবিবার (২৩ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি) অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি রয়েছে বাংলাদেশি দালাল চক্র ও আনসার সদস্যরা।প্রথম দফায় তিন রোহিঙ্গা ও দশজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার, টাঙ্গাইল এবং ঢাকা থেকে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন।

অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোট ১৭টি পাসপোর্ট, ১৩টি এনআইডি, পাঁচটি কম্পিউটার, তিনটি প্রিন্টার, ২৪টি মোবাইল ফোন এবং পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট শত শত দলিলপত্র জব্দ করেছে।গ্রেপ্তার রোহিঙ্গারা হলো- উম্মে ছলিমা (ছমিরা), মরিজান ও রশিদুল; রোহিঙ্গা দালাল আইয়ুব আলী ও মোস্তাকিম; বাংলাদেশি দালাল রাজু শেখ, শাওন হোসেন নিলয়, ফিরোজ হোসেন ও মো. তুষার মিয়া এবং আনসার সদস্য জামসেদুল ইসলাম ও মো. রায়হান। 

আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, উত্তরায় কম্পিউটারের দোকান খুলে এ কাজে লিপ্ত দালালরা হলো- মো. শাহজাহান শেখ, মো. শরিফুল আলম, জোবায়ের মোল্লা,  শিমুল শেখ, আহমেদ হোসেন, মো. মাসুদ আলম, মো. আব্দুল আলিম, মো. মাসুদ রানা, ফজলে রাব্বি শাওন, রজব কুমার দাস দীপ্ত, আল আমিন, মো. সোহাগ।ডিবি জানায়, শক্তিশালী এই চক্রটি মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শিশু, নারী ও পুরুষদের লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে জন্ম সনদ, এনআইডি ও পাসপোর্ট বানিয়ে দেয়।

চক্রটির একটি দল কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি থেকে রোহিঙ্গাদের ঢাকায় নিয়ে আসে। আরেকটি দল তাদের জন্ম সনদ, এনআইডি বানিয়ে দেয়। সর্বশেষে অন্য দলটি ঢাকাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আনসার সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাংকে “এক্সপ্রেস”সুপার এক্সপ্রেস”ক্যাটেগরিতে টাকা জমা দেওয়া, বায়োমেট্রিক ও ছবি তোলার ব্যবস্থা করে দেয়।ছয় ঘণ্টার মধ্যে জন্ম সনদের জন্য তারা পাঁচ থেকে ১২ হাজার পর্যন্ত টাকা নিয়ে থাকে। তিন দিনের মধ্যে এনআইডি করে দিতে ২৫ হাজার টাকা এবং পাসপোর্ট তৈরির জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে থাকে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। 

গ্রেপ্তার দালালদের মোবাইলে শত শত পাসপোর্ট করে দেয়ার প্রাসঙ্গিক সফট ডকুমেন্টস, ডেলিভারি স্লিপ পাওয়া গেছে। যার মধ্যে গত তিন মাসে রোহিঙ্গাদের জন্য করা ১৪৩টি পাসপোর্টের সন্ধান মিলেছে। ২০১৯ সাল থেকে চক্রটি রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি দেশের দাগি অপরাধীদের ভিন্ন নাম ও ঠিকানায় পাসপোর্ট করে দিচ্ছে বলে স্বীকার করেছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রংপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও বরিশাল জেলার ঠিকানা ব্যবহার করে জন্ম সনদ ও এনআইডি বানিয়ে তার ভিত্তিতে পাসপোর্ট বানিয়ে থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পাসপোর্ট সংক্রান্ত নথিপত্র ও কম্পিউটারসহ ২৩ জনকে গ্রেপ্তার,লাখ টাকায় স্বল্প সময়ে পাসপোর্ট পায় রোহিঙ্গারা,জড়িত আনসাররাও

আপডেট সময় : ০২:০৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

ঢাকার আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে পাসপোর্ট, পাসপোর্ট সংক্রান্ত নথিপত্র ও কম্পিউটারসহ ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি, ডিএমপি) লালবাগ বিভাগ।

দুই দফায় শুক্র ও রবিবার (২৩ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি) অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি রয়েছে বাংলাদেশি দালাল চক্র ও আনসার সদস্যরা।প্রথম দফায় তিন রোহিঙ্গা ও দশজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার, টাঙ্গাইল এবং ঢাকা থেকে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন।

অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোট ১৭টি পাসপোর্ট, ১৩টি এনআইডি, পাঁচটি কম্পিউটার, তিনটি প্রিন্টার, ২৪টি মোবাইল ফোন এবং পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট শত শত দলিলপত্র জব্দ করেছে।গ্রেপ্তার রোহিঙ্গারা হলো- উম্মে ছলিমা (ছমিরা), মরিজান ও রশিদুল; রোহিঙ্গা দালাল আইয়ুব আলী ও মোস্তাকিম; বাংলাদেশি দালাল রাজু শেখ, শাওন হোসেন নিলয়, ফিরোজ হোসেন ও মো. তুষার মিয়া এবং আনসার সদস্য জামসেদুল ইসলাম ও মো. রায়হান। 

আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, উত্তরায় কম্পিউটারের দোকান খুলে এ কাজে লিপ্ত দালালরা হলো- মো. শাহজাহান শেখ, মো. শরিফুল আলম, জোবায়ের মোল্লা,  শিমুল শেখ, আহমেদ হোসেন, মো. মাসুদ আলম, মো. আব্দুল আলিম, মো. মাসুদ রানা, ফজলে রাব্বি শাওন, রজব কুমার দাস দীপ্ত, আল আমিন, মো. সোহাগ।ডিবি জানায়, শক্তিশালী এই চক্রটি মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শিশু, নারী ও পুরুষদের লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে জন্ম সনদ, এনআইডি ও পাসপোর্ট বানিয়ে দেয়।

চক্রটির একটি দল কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি থেকে রোহিঙ্গাদের ঢাকায় নিয়ে আসে। আরেকটি দল তাদের জন্ম সনদ, এনআইডি বানিয়ে দেয়। সর্বশেষে অন্য দলটি ঢাকাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আনসার সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাংকে “এক্সপ্রেস”সুপার এক্সপ্রেস”ক্যাটেগরিতে টাকা জমা দেওয়া, বায়োমেট্রিক ও ছবি তোলার ব্যবস্থা করে দেয়।ছয় ঘণ্টার মধ্যে জন্ম সনদের জন্য তারা পাঁচ থেকে ১২ হাজার পর্যন্ত টাকা নিয়ে থাকে। তিন দিনের মধ্যে এনআইডি করে দিতে ২৫ হাজার টাকা এবং পাসপোর্ট তৈরির জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে থাকে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। 

গ্রেপ্তার দালালদের মোবাইলে শত শত পাসপোর্ট করে দেয়ার প্রাসঙ্গিক সফট ডকুমেন্টস, ডেলিভারি স্লিপ পাওয়া গেছে। যার মধ্যে গত তিন মাসে রোহিঙ্গাদের জন্য করা ১৪৩টি পাসপোর্টের সন্ধান মিলেছে। ২০১৯ সাল থেকে চক্রটি রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি দেশের দাগি অপরাধীদের ভিন্ন নাম ও ঠিকানায় পাসপোর্ট করে দিচ্ছে বলে স্বীকার করেছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রংপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও বরিশাল জেলার ঠিকানা ব্যবহার করে জন্ম সনদ ও এনআইডি বানিয়ে তার ভিত্তিতে পাসপোর্ট বানিয়ে থাকে।