সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট জেলা হাসপাতাল অবশেষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, থাকছে যেসব সুবিধা সিলেটে আসেনি সালমান শাহ’র মরদেহ, উত্তোলনের আদেশ জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪

আজমিরীগঞ্জে ৪টি সরকারি স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রে নেই চিকিৎসক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০২৩ ১৫৯ বার পড়া হয়েছে

আজমিরীগঞ্জ,হবিগঞ্জ :

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার চারটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় সেবাবঞ্চিত হচ্ছে জনগণ। এসব মানুষ উপজেলা ও জেলা সদরে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার জলসুখা ও কাকাইলছেও ইউনিয়নে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং শিবপাশা ও বদলপুর ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে একজন করে এমবিবিএস চিকিৎসক খাতা-কলমে দায়িত্বে থাকলেও বাস্তবে তারা কর্মস্থলে নেই।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়,গত বছরের ১৩ জুলাই জলসুখা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডা. হাসানুজ্জামান, শিবপাশা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে ডা. হোসেনুজ্জামান এবং পয়লা মার্চ বদলপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে ডা. অপূর্ব শর্মা মহালদারকে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে কর্মস্থলে ওই তিন চিকিৎসকের একজনকেও পাওয়া যায়নি। এছাড়া, কাকাইলছেও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গত ১০ এপ্রিল বদলিজনিত কারণে চিকিৎসক পদ শূন্য হয়।

এলাকাবাসী জানান, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকায় তারা উপজেলা সদরসহ জেলায় গিয়ে প্রাইভেট চিকিৎসাসেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রেগুলোতে চিকিৎসা কর্মকর্তা খাতা-কলমে থাকলেও তারা দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বদলপুর, জলসুখা ও শিবপাশা ইউনিয়নে প্রায় দেড়লাখ মানুষের বাস। কিন্তু সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক না থাকায় তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সরেজমিনে জলসুখা ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান গেইট বন্ধ থাকায় সেবা গ্রহিতারা ফেরত যাচ্ছেন। ভেতরে প্রবেশ করে কাউকে পাওয়া যায়নি। সবকটি কক্ষই ফাঁকা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলা থেকে সেকমো ফারুক আহমেদ নেমে আসেন।তিনি জানান, রোগী না থাকায় তিনি রুমে গিয়েছিলেন। এখানে প্রতিদিন ৪০-৫০ জন এসে সেবা নেন। ডাক্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান মাঝে মধ্যে আসেন। তবে শেষবার কবে ডাক্তার এসেছিলেন তিনি তা বলতে পারেন নি।

শিবপাশা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান গেইট লাগানো। ভিতরে প্রবেশ করে দেখা গেলো বন্ধ রয়েছে দরজা জানালাও। এসময় কোয়ার্টারে থাকা এক আয়া জানান, কেন্দ্রটি দিনরাত খোলা থাকার কথা থাকলেও কয়েকদিন ধরে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা না থাকায় কেন্দ্রটি বন্ধ আছে। তবে এখানে কোন ডাক্তার নেই।পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা নিলুফা ইয়াসমিন জানান, তার কেন্দ্রে কোন ডাক্তার নেই।বদলপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে মহিলারা আসছে সেবা গ্রহণের জন্য কিন্তু কাউকে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।ওই কেন্দ্রের আয়া রিমা রাণী দাস জানান, তিনি ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা জেরিন আক্তার ছাড়া আর কোন লোক নেই। তবে পরিদর্শিকা ছুটিতে যাওয়ায় রিমা একা দায়িত্ব পালন করছেন। শিবপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা শরিফ উদ্দিন বলেন, তাদের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক নেই। প্রায় সময়ই বন্ধ থাকে কেন্দ্রটি। অসুস্থ হলে আমাদেরকে চিকিৎসা নেয়ার জন্য প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বা ৩০ কিলোমিটার দূরে জেলা সদর হাসপাতালে যেতে হয়।জলসুখা ইউনিয়নের সাইদুল আমিন জানান, আমাদের এলাকা থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার।

জলসুখা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক নিয়মিত আসলে আমরা চিকিৎসাসেবা পেতাম। এখন চিকিৎসাসেবা পেতে আমাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়।জলসুখা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফয়েজ আহমেদ খেলু জানান, এ ইউনিয়নে একটি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও চিকিৎসক নিয়মিত না আসায় ইউনিয়নবাসী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।বদলপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সুষেনজিৎ চৌধুরী জানান, এ ইউনিয়নের লোকজন অনেক দুর্গম এলাকায় বসবাস করে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কে›্র্ের প্রায় দু’বছর পূর্বে মাঝে মধ্যে চিকিৎসক আসতেন,প্রায় দেড় বছর ধরে আসেন না। মানুষের দুর্ভোগের কথা বিভিন্ন সভায় তুলে ধরেছি কিন্তু কাজ হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইকবাল হোসেনের মোবাইলে কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুরুল হক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আজমিরীগঞ্জে ৪টি সরকারি স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রে নেই চিকিৎসক

আপডেট সময় : ০৬:১৫:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০২৩

আজমিরীগঞ্জ,হবিগঞ্জ :

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার চারটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় সেবাবঞ্চিত হচ্ছে জনগণ। এসব মানুষ উপজেলা ও জেলা সদরে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার জলসুখা ও কাকাইলছেও ইউনিয়নে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং শিবপাশা ও বদলপুর ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে একজন করে এমবিবিএস চিকিৎসক খাতা-কলমে দায়িত্বে থাকলেও বাস্তবে তারা কর্মস্থলে নেই।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়,গত বছরের ১৩ জুলাই জলসুখা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডা. হাসানুজ্জামান, শিবপাশা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে ডা. হোসেনুজ্জামান এবং পয়লা মার্চ বদলপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে ডা. অপূর্ব শর্মা মহালদারকে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে কর্মস্থলে ওই তিন চিকিৎসকের একজনকেও পাওয়া যায়নি। এছাড়া, কাকাইলছেও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গত ১০ এপ্রিল বদলিজনিত কারণে চিকিৎসক পদ শূন্য হয়।

এলাকাবাসী জানান, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকায় তারা উপজেলা সদরসহ জেলায় গিয়ে প্রাইভেট চিকিৎসাসেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রেগুলোতে চিকিৎসা কর্মকর্তা খাতা-কলমে থাকলেও তারা দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বদলপুর, জলসুখা ও শিবপাশা ইউনিয়নে প্রায় দেড়লাখ মানুষের বাস। কিন্তু সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক না থাকায় তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সরেজমিনে জলসুখা ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান গেইট বন্ধ থাকায় সেবা গ্রহিতারা ফেরত যাচ্ছেন। ভেতরে প্রবেশ করে কাউকে পাওয়া যায়নি। সবকটি কক্ষই ফাঁকা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলা থেকে সেকমো ফারুক আহমেদ নেমে আসেন।তিনি জানান, রোগী না থাকায় তিনি রুমে গিয়েছিলেন। এখানে প্রতিদিন ৪০-৫০ জন এসে সেবা নেন। ডাক্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান মাঝে মধ্যে আসেন। তবে শেষবার কবে ডাক্তার এসেছিলেন তিনি তা বলতে পারেন নি।

শিবপাশা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান গেইট লাগানো। ভিতরে প্রবেশ করে দেখা গেলো বন্ধ রয়েছে দরজা জানালাও। এসময় কোয়ার্টারে থাকা এক আয়া জানান, কেন্দ্রটি দিনরাত খোলা থাকার কথা থাকলেও কয়েকদিন ধরে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা না থাকায় কেন্দ্রটি বন্ধ আছে। তবে এখানে কোন ডাক্তার নেই।পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা নিলুফা ইয়াসমিন জানান, তার কেন্দ্রে কোন ডাক্তার নেই।বদলপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে মহিলারা আসছে সেবা গ্রহণের জন্য কিন্তু কাউকে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।ওই কেন্দ্রের আয়া রিমা রাণী দাস জানান, তিনি ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা জেরিন আক্তার ছাড়া আর কোন লোক নেই। তবে পরিদর্শিকা ছুটিতে যাওয়ায় রিমা একা দায়িত্ব পালন করছেন। শিবপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা শরিফ উদ্দিন বলেন, তাদের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক নেই। প্রায় সময়ই বন্ধ থাকে কেন্দ্রটি। অসুস্থ হলে আমাদেরকে চিকিৎসা নেয়ার জন্য প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বা ৩০ কিলোমিটার দূরে জেলা সদর হাসপাতালে যেতে হয়।জলসুখা ইউনিয়নের সাইদুল আমিন জানান, আমাদের এলাকা থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার।

জলসুখা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক নিয়মিত আসলে আমরা চিকিৎসাসেবা পেতাম। এখন চিকিৎসাসেবা পেতে আমাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়।জলসুখা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফয়েজ আহমেদ খেলু জানান, এ ইউনিয়নে একটি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও চিকিৎসক নিয়মিত না আসায় ইউনিয়নবাসী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।বদলপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সুষেনজিৎ চৌধুরী জানান, এ ইউনিয়নের লোকজন অনেক দুর্গম এলাকায় বসবাস করে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কে›্র্ের প্রায় দু’বছর পূর্বে মাঝে মধ্যে চিকিৎসক আসতেন,প্রায় দেড় বছর ধরে আসেন না। মানুষের দুর্ভোগের কথা বিভিন্ন সভায় তুলে ধরেছি কিন্তু কাজ হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইকবাল হোসেনের মোবাইলে কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুরুল হক।