সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান শ্রমিক আন্দোলনের ছবি তুললেই হামলা, কারণ কী? ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা বিভাগে সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সিলেটে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ সিলেটে আরও একজনের প্রাণ হানি পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রে প্তা রি পরোয়ানা সিলেটে ৫ বছরে সব রাস্তা পাকাকরণের আশ্বাস – সিসিক প্রশাসক সিলেট জৈন্তাপুরে ৬৮ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার, আটক ৩ সিলেট ৪১ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসকনগরীর কোনো রাস্তা কাঁচা থাকবে না

হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দানবাক্স বিতর্ক আর এক রহস্যময় বার্তা দিলেন সাবেক সিটি মেয়র ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ ১৩৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি :

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মাজারের দানবাক্স, ডেগ সিলগালা, অর্থ গণনা এবং জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের বদলিকে কেন্দ্র করে যখন সিলেটজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন মন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে একদিকে স্বচ্ছতার পক্ষে অবস্থান, অন্যদিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন।

বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগে কিছুটা তাড়াহুড়ো হয়েছে। তিনি বলেন, এটি ৭০০ বছরের একটি ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল।

এর আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, “সারওয়ার আলম আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। আমরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবো।” এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

মাজার ইস্যুতে শুরু থেকেই একটি অভিযোগ জোরালোভাবে উঠে এসেছে। সমালোচকদের দাবি, জেলা প্রশাসন সিলেটের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সংসদ সদস্য, সুশীল সমাজ, আলেম-ওলামা, মাজার কর্তৃপক্ষ এবং ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের বিস্তৃত আলোচনা বা মতবিনিময় ছাড়াই একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। ফলে স্বচ্ছতার উদ্যোগের চেয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়েই বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

অনেকের মতে, মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনার বিষয়ে সিলেটে খুব কম মানুষই দ্বিমত পোষণ করেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, শতাব্দীপ্রাচীন একটি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে গেলে কেন স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে বসা হলো না? কেন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে সম্পৃক্ত করা হয়নি?

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিষয়টি আরও সমন্বয়ের মাধ্যমে করা হলে বিতর্কের মাত্রা হয়তো এতটা বাড়ত না। তিনি বলেন, সরকার মাজারের হিসাব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তবে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অনেক বাস্তবতা সামনে নিয়ে এসেছে। অতীতে কোনো অনিয়ম বা ভুলত্রুটি থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনা এমনভাবে পরিচালিত হবে যাতে জনগণের আস্থা অটুট থাকে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয় এবং প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পরে দানবাক্স ও ডেগ খুলে প্রায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার৫৪৯ টাকার বেশি নগদ অর্থ, ৭আনা স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

তার বদলির প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণাও দেখা যায়। অন্যদিকে মাজার সংশ্লিষ্ট একটি অংশ প্রশাসনের পদক্ষেপকে ঐতিহ্যে হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেয়।

সব মিলিয়ে মাজারের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক এখন শুধু অর্থ ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রশ্ন উঠছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, অংশীজনদের সম্পৃক্ততা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের ধরন নিয়েও। আর সেই বিতর্কের মাঝেই মন্ত্রীর বক্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দানবাক্স বিতর্ক আর এক রহস্যময় বার্তা দিলেন সাবেক সিটি মেয়র ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

আপডেট সময় : ০৪:৩৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি :

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মাজারের দানবাক্স, ডেগ সিলগালা, অর্থ গণনা এবং জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের বদলিকে কেন্দ্র করে যখন সিলেটজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন মন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে একদিকে স্বচ্ছতার পক্ষে অবস্থান, অন্যদিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন।

বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগে কিছুটা তাড়াহুড়ো হয়েছে। তিনি বলেন, এটি ৭০০ বছরের একটি ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল।

এর আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, “সারওয়ার আলম আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। আমরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবো।” এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

মাজার ইস্যুতে শুরু থেকেই একটি অভিযোগ জোরালোভাবে উঠে এসেছে। সমালোচকদের দাবি, জেলা প্রশাসন সিলেটের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সংসদ সদস্য, সুশীল সমাজ, আলেম-ওলামা, মাজার কর্তৃপক্ষ এবং ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের বিস্তৃত আলোচনা বা মতবিনিময় ছাড়াই একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। ফলে স্বচ্ছতার উদ্যোগের চেয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়েই বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

অনেকের মতে, মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনার বিষয়ে সিলেটে খুব কম মানুষই দ্বিমত পোষণ করেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, শতাব্দীপ্রাচীন একটি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে গেলে কেন স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে বসা হলো না? কেন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে সম্পৃক্ত করা হয়নি?

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিষয়টি আরও সমন্বয়ের মাধ্যমে করা হলে বিতর্কের মাত্রা হয়তো এতটা বাড়ত না। তিনি বলেন, সরকার মাজারের হিসাব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তবে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অনেক বাস্তবতা সামনে নিয়ে এসেছে। অতীতে কোনো অনিয়ম বা ভুলত্রুটি থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনা এমনভাবে পরিচালিত হবে যাতে জনগণের আস্থা অটুট থাকে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয় এবং প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পরে দানবাক্স ও ডেগ খুলে প্রায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার৫৪৯ টাকার বেশি নগদ অর্থ, ৭আনা স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

তার বদলির প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণাও দেখা যায়। অন্যদিকে মাজার সংশ্লিষ্ট একটি অংশ প্রশাসনের পদক্ষেপকে ঐতিহ্যে হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেয়।

সব মিলিয়ে মাজারের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক এখন শুধু অর্থ ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রশ্ন উঠছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, অংশীজনদের সম্পৃক্ততা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের ধরন নিয়েও। আর সেই বিতর্কের মাঝেই মন্ত্রীর বক্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।