সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করা হচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন
- আপডেট সময় : ০২:২৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার :
নাগরিক সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিলেট সিটি করপোরেশনকে পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। প্রায় ৭৯ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মহানগরীর বাসিন্দারা এখন হাতের কাছেই পাবেন নাগরিক সেবা। জোন অফিস থেকে সেরে নিতে পারবেন প্রয়োজনীয় কাজ। জোন অফিসেই মিলবে নাগরিক সেবা। ফলে সকল কাজে আর ছুটে আসতে হবে না নগরভবনে। এতে নগরভবনের উপর কমবে কাজের চাপ। প্রতিটি অঞ্চলের দায়িত্বে থাকবেন একজন করে উপসচিব মর্যাদার কর্মকর্তা।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) উপসচিব রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, মাত্র ২৬.৫ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। আয়তনে ছোট হওয়ায় নগরভবন কেন্দ্রিক সকল কার্যক্রম পরিচালনায় খুব বেশি বেগ পেতে হত না সংশ্লিষ্টদের। ২০২১ সালে ২৭ ওয়ার্ডের সিটি করপোরেশন উন্নীত হয় ৪২ ওয়ার্ডে। আয়তন বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯.৫০ বর্গকিলোমিটার।
প্রায় তিনগুণ আয়তন বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরভবন থেকে সেবা পেতে একদিকে যেমনি নাগরিকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়, তেমনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও সেবা নিশ্চিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ছোট খাটো কাজেও দূর-দূরান্ত থেকে নগরবাসীকে ছুটে আসতে হয় নগরভবনে। এই অবস্থায় সিলেট নগরবাসীর সেবা সহজলভ্য ও মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিসিককে ৫টি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬০ নং আইন) এর ধারা ৪৭-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সিসিকের ১, ২, ৩, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে অঞ্চল-১ গঠন করা হয়েছে।
অঞ্চল-২ এ রয়েছে ২১, ২২, ২৩, ২৪, ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড। ওয়ার্ড ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ৩৪, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে অঞ্চল-৩। সিলেট-৪ অঞ্চলে রয়েছে ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং সিলেট-৫ অঞ্চলে রয়েছে ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড।
সূত্র জানায়, প্রতিটি আঞ্চলিক জোন অফিসের দায়িত্বে থাকবেন উপসচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা। এছাড়া নগরভবন থেকে প্রয়োজনীয় জনবল আঞ্চলিক জোন অফিসে পদায়িত করে সেবা কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে।
সিসিক সূত্র আরও জানায়, আঞ্চলিক জোনাল অফিসে সেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে- প্রশাসনিক কাজ, হিসাব রক্ষণ, পূর্ত কাজসমূহ ও রক্ষণাবেক্ষণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, দাতব্য চিকিৎসালয়, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনকরণ, মশক নিধন, সিটি কর নির্ধারণ ও আদায়, লাইসেন্স প্রদান ও ফি আদায়, আবর্জনা পরিস্কার ও পরিচ্ছন্নকরণ কাজ।
এ প্রসঙ্গে সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী জানান, আঞ্চলিক অফিসগুলো চালু হলে নগরবাসীকে কষ্ট করে আর নগরভবনে আসতে হবে না। ঘরের কাছেই তারা কাঙ্খিত সেবা পেয়ে যাবেন। জোনাল অফিসে সেবা নিশ্চিতে যে জনবল প্রয়োজন, আপাতত নগরভবন থেকে তাদেরকে পদায়ন করা হবে।
সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, তারেক রহমানরে নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক সেবা ছড়িয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবন্ধ। এর অংশ হিসেবে সিসিকের সেবা কার্যক্রম বিকেন্দ্রিকরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।























