সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে গ্যাস সংকটে যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধি, ক্ষোভ সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ৩৪ দিনে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা সিলেট রায়নগর রাজবাড়ী মিতালি ১১১ নম্বর বাসায় খুন হওয়া সাত্তার-সুরাইয়ার সন্তানসহ স্বজনদের শান্তনা দেন মন্ত্রী মুক্তাদির ও আরিফ বঙ্গবন্ধুর ৫১ তম শাহাদাত বার্ষিকী ঘিরে গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদার সিলেটে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন সিলেট শাহজালাল (রহ.) মাজারের তৃতীয় দফায় দানবাক্স খুলে টাকা গণনা সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথরে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন গ্যাসের তীব্র সংকট : লাখ লাখ শ্রমিক কর্মহীন সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়

শত শত বাংলাদেশিকে ভারতে পাচার করা কে এই ‘গুরু মাতা’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ৭৯ বার পড়া হয়েছে

অভিযুক্ত বাবু আয়ান খান, ওরফে জ্যোতি, ওরফে ‘গুরু মাতা’।

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক : 

জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে গত ৩০ বছর ধরে ভারতে বসবাস করছিলেন এক বাংলাদেশি রূপান্তরকামী। ২০০ জনের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে ভারতে পাচারের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) মুম্বাই থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে।

অভিযুক্তের নাম বাবু আয়ান খান, ওরফে জ্যোতি, ওরফে ‘গুরু মাতা’। মুম্বাই পুলিশের দাবি, জ্যোতির সাহায্যে পাচার হয়ে ভারতে আসা বাংলাদেশির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত আয়ান খান ওরফে জ্যোতি মুম্বাইয়ের ট্রান্সজেন্ডারদের কাছে ‘গুরু মাতা’ নামে পরিচিত। তিনি সেখানে একজন আধ্যাত্মিক নারী হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিলেন। বলিউডি শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার ৩০০ অনুগামীও ছড়িয়ে আছে।

মুম্বাই পুলিশ জানায়, এই জ্যোতি ওরফে ‘গুরু মাতা’ নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করার জন্য একটি জাল জন্ম সনদ, আধার কার্ড (পরিচয়পত্র) এবং প্যান কার্ড তৈরি করিয়েছিলেন।

তবে, সম্প্রতি পুলিশ যখন তার নথিপত্র যাচাই করে, তখন সেগুলো জাল প্রমাণিত হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

সূত্রের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, ‘গুরু মাতা’র পাচারকারী নেটওয়ার্ক পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়ে ভারতে অবৈধভাবে বাংলাদেশিদের প্রবেশের সুযোগ করে দিত। ভারতে ঢুকে পড়ার পর সেই বাংলাদেশিদের কয়েকদিনের জন্য কলকাতায় রাখা হত। সেখানে তাদের জন্ম সনদ এবং স্কুল ছাড়ার সার্টিফিকেট তৈরি করা হত। এরপর তাদের মুম্বাইয়ে নিয়ে আসা হত এবং শিবাজি নগরে রাখা হত। প্রতি ঘরে ৩-৪ জন বাংলাদেশি থাকত এবং তারা ‘গুরু মাতা’কে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা করে মাসিক ভাড়া দিত।

তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো- পাচার করে আনা বাংলাদেশিদের অনেককেই তিনি পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করেছিলেন। 

মুম্বাই পুলিশ আরও জানিয়েছে, জ্যোতি ওরফে ‘গুরু মাতা’ মহারাষ্ট্র হাউজিং অ্যান্ড এরিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (MHADA) অধীনে নিবন্ধিত ফ্ল্যাট দখলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

জানা গেছে, তিনি ২০০টিরও বেশি বাড়ি দখল করেন এবং সেগুলো ভাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শত শত বাংলাদেশিকে ভারতে পাচার করা কে এই ‘গুরু মাতা’

আপডেট সময় : ০১:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

অভিযুক্ত বাবু আয়ান খান, ওরফে জ্যোতি, ওরফে ‘গুরু মাতা’।

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক : 

জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে গত ৩০ বছর ধরে ভারতে বসবাস করছিলেন এক বাংলাদেশি রূপান্তরকামী। ২০০ জনের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে ভারতে পাচারের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) মুম্বাই থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে।

অভিযুক্তের নাম বাবু আয়ান খান, ওরফে জ্যোতি, ওরফে ‘গুরু মাতা’। মুম্বাই পুলিশের দাবি, জ্যোতির সাহায্যে পাচার হয়ে ভারতে আসা বাংলাদেশির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত আয়ান খান ওরফে জ্যোতি মুম্বাইয়ের ট্রান্সজেন্ডারদের কাছে ‘গুরু মাতা’ নামে পরিচিত। তিনি সেখানে একজন আধ্যাত্মিক নারী হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিলেন। বলিউডি শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার ৩০০ অনুগামীও ছড়িয়ে আছে।

মুম্বাই পুলিশ জানায়, এই জ্যোতি ওরফে ‘গুরু মাতা’ নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করার জন্য একটি জাল জন্ম সনদ, আধার কার্ড (পরিচয়পত্র) এবং প্যান কার্ড তৈরি করিয়েছিলেন।

তবে, সম্প্রতি পুলিশ যখন তার নথিপত্র যাচাই করে, তখন সেগুলো জাল প্রমাণিত হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

সূত্রের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, ‘গুরু মাতা’র পাচারকারী নেটওয়ার্ক পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়ে ভারতে অবৈধভাবে বাংলাদেশিদের প্রবেশের সুযোগ করে দিত। ভারতে ঢুকে পড়ার পর সেই বাংলাদেশিদের কয়েকদিনের জন্য কলকাতায় রাখা হত। সেখানে তাদের জন্ম সনদ এবং স্কুল ছাড়ার সার্টিফিকেট তৈরি করা হত। এরপর তাদের মুম্বাইয়ে নিয়ে আসা হত এবং শিবাজি নগরে রাখা হত। প্রতি ঘরে ৩-৪ জন বাংলাদেশি থাকত এবং তারা ‘গুরু মাতা’কে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা করে মাসিক ভাড়া দিত।

তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো- পাচার করে আনা বাংলাদেশিদের অনেককেই তিনি পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করেছিলেন। 

মুম্বাই পুলিশ আরও জানিয়েছে, জ্যোতি ওরফে ‘গুরু মাতা’ মহারাষ্ট্র হাউজিং অ্যান্ড এরিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (MHADA) অধীনে নিবন্ধিত ফ্ল্যাট দখলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

জানা গেছে, তিনি ২০০টিরও বেশি বাড়ি দখল করেন এবং সেগুলো ভাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেন।