সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমের বিত্তান্ত তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট মহানগর শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন,আরিফ সামাদ সভাপতি, মাহমুদুর রহমান সাধারণ সম্পাদক জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে,পরিকল্পনা সভায় সিসিক প্রশাসক মার্কিন আধিপত্যের অবসান,বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার এখন চীনের হাতে বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাধবপুরে অপহরণকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ সিলেটে ৪২ লাখ টাকার ভারতীয় জিরাসহ গ্রেফতার ১, সিলেট অঞ্চলে আবারও বাড়ছে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটে অসামাজিক কার্যকলাপ,দুটি আবাসিক হোটেল সিলগালা সিলেট সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৭৫ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ চোরাইপণ্য জব্দ,আটক ১

চারখাই হাসপাতালে নেই চিকিৎসক-সরঞ্জাম, চরম অব্যবস্থাপনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৩:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫ ৯৫ বার পড়া হয়েছে

 বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি :

যেকোনো রোগের জন্য সাধারণ মানুষের প্রথম ভরসাস্থল নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রই যদি অবহেলা আর অব্যবস্থাপনায় ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয় তখন দুঃখ-দুর্দশার অন্ত থাকে না সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর। এমনই একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই মেডিকেল সাব-সেন্টার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। যেখানে রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক কিংবা চিকিৎসাখাতে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই। এ যেন এক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নামে নিদারুণ প্রহসনের প্রতিচ্ছবি।

জানা যায়, দীর্ঘ দুই বছর ধরে এই হাসপাতালটিতে নেই কোনো রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক। অদক্ষ হাতুড়ে ডাক্তার দিয়েই চলছে নাম মাত্র চিকিৎসা কার্যক্রম। রয়েছে ফ্যামেলী ওয়েলফেয়ার ভিজিটর পদেরও সঙ্কট। দীর্ঘদিন থেকে প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে চারখাই মেডিকেল সাব-সেন্টার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্ব সিলেটের ছয়টি উপজেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত এই হাসপাতালটি চারখাই ইউনিয়নের প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ অবকাঠামোগত দিক থেকেও রয়েছে ভয়াবহ অবনতি। মূল ভবনের দেয়ালে ফাটল, বিভিন্ন জায়গার পলেস্তারা খসে পড়া, গ্রিলে জং (মরিচিকা), জানালার কাঁচ ভাঙা—সব মিলিয়ে করুণ চিত্রে এক ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। বর্ষায় থই থই করে বৃষ্টির পানি ঢুকে ভেতরের আসবাবপত্র নষ্ট হয়। হালকা বৃষ্টিতে ঔষধ বিতরণ কক্ষের মেঝেতে ফাটল ধরে বাহিরের পানি অনায়াসে ভিতরে প্রবেশ করে। নিরাপত্তাহীনতা এবং দূষিত পরিবেশের জন্য দুর্ভোগ বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ভবনের নিচতলায় থাকা তিনটি টয়লেটের মধ্যে একটি পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এই চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যেও প্রতিদিন এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন প্রায় শতাধিক রোগী। দুর্ঘটনার রোগীর সংখ্যা দৈনিক গড়ে ১০-১৫ জন, যারা বিভিন্ন উপজেলায় যাতায়াতের সময় দুর্ঘটনায় আহত হন। কিন্তু সেই তুলনায় সীমিত আকারে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।

রোগীদের অভিযোগ, ‘ডাক্তার কক্ষে নেই যথাযথ পর্দা। এক্সামিনেশন বেডের পর্দাও এতটাই সরু যে, বাইরের কেউ সহজেই ভেতরের কার্যক্রম দেখতে পারে। এতে অনেক রোগীই পড়েন বিব্রতকর অবস্থায়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ‘চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল সঙ্কটই মূল সমস্যা। পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় স্যাঁতস্যাঁতে ও নোংরা পরিবেশেই রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। নেই টিকিট ক্লার্ক, নেই কোনো নিরাপত্তাকর্মী। ফলে সন্ধ্যা হলেই মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয় হাসপাতাল চত্বর। ভবনের পাশে ২-৩ ফুট উচ্চতায় জন্ম নিয়েছে আগাছা, যা পরিচর্যার অভাবে দিন দিন আরও ছড়িয়ে পড়ছে।

চিকিৎসা সেবার অন্যতম ন্যূনতম চাহিদাগুলোই যেখানে পূরণ হচ্ছে না, সেখানে স্থানীয়দের প্রশ্ন—এটি কি আদৌ একটি কার্যকর হাসপাতাল, নাকি এক অপদার্থ প্রতিষ্ঠানের নামমাত্র অস্তিত্ব?

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. তানভীরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ফোন কলটি রিসিভ করেন নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চারখাই হাসপাতালে নেই চিকিৎসক-সরঞ্জাম, চরম অব্যবস্থাপনা

আপডেট সময় : ০৫:২৩:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫

 বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি :

যেকোনো রোগের জন্য সাধারণ মানুষের প্রথম ভরসাস্থল নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রই যদি অবহেলা আর অব্যবস্থাপনায় ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয় তখন দুঃখ-দুর্দশার অন্ত থাকে না সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর। এমনই একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই মেডিকেল সাব-সেন্টার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। যেখানে রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক কিংবা চিকিৎসাখাতে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই। এ যেন এক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নামে নিদারুণ প্রহসনের প্রতিচ্ছবি।

জানা যায়, দীর্ঘ দুই বছর ধরে এই হাসপাতালটিতে নেই কোনো রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক। অদক্ষ হাতুড়ে ডাক্তার দিয়েই চলছে নাম মাত্র চিকিৎসা কার্যক্রম। রয়েছে ফ্যামেলী ওয়েলফেয়ার ভিজিটর পদেরও সঙ্কট। দীর্ঘদিন থেকে প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে চারখাই মেডিকেল সাব-সেন্টার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্ব সিলেটের ছয়টি উপজেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত এই হাসপাতালটি চারখাই ইউনিয়নের প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ অবকাঠামোগত দিক থেকেও রয়েছে ভয়াবহ অবনতি। মূল ভবনের দেয়ালে ফাটল, বিভিন্ন জায়গার পলেস্তারা খসে পড়া, গ্রিলে জং (মরিচিকা), জানালার কাঁচ ভাঙা—সব মিলিয়ে করুণ চিত্রে এক ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। বর্ষায় থই থই করে বৃষ্টির পানি ঢুকে ভেতরের আসবাবপত্র নষ্ট হয়। হালকা বৃষ্টিতে ঔষধ বিতরণ কক্ষের মেঝেতে ফাটল ধরে বাহিরের পানি অনায়াসে ভিতরে প্রবেশ করে। নিরাপত্তাহীনতা এবং দূষিত পরিবেশের জন্য দুর্ভোগ বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ভবনের নিচতলায় থাকা তিনটি টয়লেটের মধ্যে একটি পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এই চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যেও প্রতিদিন এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন প্রায় শতাধিক রোগী। দুর্ঘটনার রোগীর সংখ্যা দৈনিক গড়ে ১০-১৫ জন, যারা বিভিন্ন উপজেলায় যাতায়াতের সময় দুর্ঘটনায় আহত হন। কিন্তু সেই তুলনায় সীমিত আকারে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।

রোগীদের অভিযোগ, ‘ডাক্তার কক্ষে নেই যথাযথ পর্দা। এক্সামিনেশন বেডের পর্দাও এতটাই সরু যে, বাইরের কেউ সহজেই ভেতরের কার্যক্রম দেখতে পারে। এতে অনেক রোগীই পড়েন বিব্রতকর অবস্থায়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ‘চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল সঙ্কটই মূল সমস্যা। পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় স্যাঁতস্যাঁতে ও নোংরা পরিবেশেই রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। নেই টিকিট ক্লার্ক, নেই কোনো নিরাপত্তাকর্মী। ফলে সন্ধ্যা হলেই মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয় হাসপাতাল চত্বর। ভবনের পাশে ২-৩ ফুট উচ্চতায় জন্ম নিয়েছে আগাছা, যা পরিচর্যার অভাবে দিন দিন আরও ছড়িয়ে পড়ছে।

চিকিৎসা সেবার অন্যতম ন্যূনতম চাহিদাগুলোই যেখানে পূরণ হচ্ছে না, সেখানে স্থানীয়দের প্রশ্ন—এটি কি আদৌ একটি কার্যকর হাসপাতাল, নাকি এক অপদার্থ প্রতিষ্ঠানের নামমাত্র অস্তিত্ব?

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. তানভীরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ফোন কলটি রিসিভ করেন নি।