সংবাদ শিরোনাম ::

দীর্ঘদিন থেকে ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে (বাংকার) থেকে পাথর লুটপাট হচ্ছে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ ১১০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি :

দীর্ঘদিন থেকে লুটপাট হচ্ছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে (বাংকার) থেকে পাথর লুটপাট। এবার লুটপাটকারীদের দৃষ্টি পড়েছে দেশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে। সেখান থেকে নৌকা দিয়ে লুট হচ্ছে পাথর।

পাথর খেকোদের লোলুপ দৃষ্টি এড়াতে না পারলে ধ্বংস হয়ে যাবে সাদাপাথর। সাদাপাথরবাহী নৌকা থেকে চাঁদাবাজি করছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহল।

এবারের মৌসুমের প্রথম ঢল নামে মঙ্গলবার দিবাগত-রাতে। বৃষ্টির পানিতে পাহাড়ি ঢল নামায় রোপওয়ে ছেড়ে পাথর খেকোরা শুরু করে সাদাপাথর লুটপাট। বুধবার সকাল থেকে কয়েকশত নৌকা দিয়ে পাথর লুটপাট করে এই লুটেরা। এসব নৌকা থেকে কালাইরাগ, কালিবাড়ি ও উত্তর রাজনগরের কয়েকজন যুবক ৫’শ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করছে। তাদের চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় কলাবাড়ি গ্রামের কয়েকজন নৌকা চালককে মারধর করে চাঁদাবাজ চক্র। তাদের মারধরে গুরুতর আহত হয়েছেন বদরুল নামে এক নৌকা চালক। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গত প্রায় ৮ মাস থেকে ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে (বাংকার) খুঁড়ে পাথর লুটপাট চলছে। এছাড়া প্রায় ৩০-৪০টি সেইব মেশিন দিয়েও প্রতিদিন চলছে পাথর উত্তোলন। পাথর উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে বড় অংকের চাঁদাবাজি করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। তারা সেইব মেশিন থেকে ১৫ হাজার টাকা ও পাথর বুঝাই নৌকা থেকে ৩’শ টাকা হারে চাঁদা উত্তোলন করছে।

প্রশাসনের বিভিন্ন বাহিনীর নাম ভাঙ্গিয়ে এসব টাকা তুলছে ঐ প্রভাবশালী মহল। বিজিবি’র ৩ ক্যাম্পের সামনে এসব চাঁদাবাজি করলেও তাদের বাঁধা দিচ্ছে না বিজিবি। এছাড়া পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করছে এই প্রভাবশালী মহল। পুলিশ ও বিজিবি জানিয়েছে এসব চাঁদাবাজির বিষয়ে তাদের জানা নাই। তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ এমনটি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুননাহার বলেন, সাদাপাথর এলাকায় পাথর লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। সাদাপাথর রক্ষায় আরো কঠোর নজরদারি বাড়ানো হবে। এর সাথে যারা জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিলেট ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ নাজমুল হক জানান, পর্যটন কেন্দ্র সাদাপাথর থেকে পাথর লুটপাটের খবর পেয়ে আমি স্থানীয় বিজিবি সদস্যদের ব্যবস্থা নিতে বলেছি। সাদাপাথর জাতীয় সম্পদ, এটা কোন ভাবে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। এর সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দীর্ঘদিন থেকে ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে (বাংকার) থেকে পাথর লুটপাট হচ্ছে

আপডেট সময় : ০৯:১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫

নিজস্ব প্রতিনিধি :

দীর্ঘদিন থেকে লুটপাট হচ্ছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে (বাংকার) থেকে পাথর লুটপাট। এবার লুটপাটকারীদের দৃষ্টি পড়েছে দেশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে। সেখান থেকে নৌকা দিয়ে লুট হচ্ছে পাথর।

পাথর খেকোদের লোলুপ দৃষ্টি এড়াতে না পারলে ধ্বংস হয়ে যাবে সাদাপাথর। সাদাপাথরবাহী নৌকা থেকে চাঁদাবাজি করছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহল।

এবারের মৌসুমের প্রথম ঢল নামে মঙ্গলবার দিবাগত-রাতে। বৃষ্টির পানিতে পাহাড়ি ঢল নামায় রোপওয়ে ছেড়ে পাথর খেকোরা শুরু করে সাদাপাথর লুটপাট। বুধবার সকাল থেকে কয়েকশত নৌকা দিয়ে পাথর লুটপাট করে এই লুটেরা। এসব নৌকা থেকে কালাইরাগ, কালিবাড়ি ও উত্তর রাজনগরের কয়েকজন যুবক ৫’শ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করছে। তাদের চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় কলাবাড়ি গ্রামের কয়েকজন নৌকা চালককে মারধর করে চাঁদাবাজ চক্র। তাদের মারধরে গুরুতর আহত হয়েছেন বদরুল নামে এক নৌকা চালক। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গত প্রায় ৮ মাস থেকে ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে (বাংকার) খুঁড়ে পাথর লুটপাট চলছে। এছাড়া প্রায় ৩০-৪০টি সেইব মেশিন দিয়েও প্রতিদিন চলছে পাথর উত্তোলন। পাথর উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে বড় অংকের চাঁদাবাজি করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। তারা সেইব মেশিন থেকে ১৫ হাজার টাকা ও পাথর বুঝাই নৌকা থেকে ৩’শ টাকা হারে চাঁদা উত্তোলন করছে।

প্রশাসনের বিভিন্ন বাহিনীর নাম ভাঙ্গিয়ে এসব টাকা তুলছে ঐ প্রভাবশালী মহল। বিজিবি’র ৩ ক্যাম্পের সামনে এসব চাঁদাবাজি করলেও তাদের বাঁধা দিচ্ছে না বিজিবি। এছাড়া পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করছে এই প্রভাবশালী মহল। পুলিশ ও বিজিবি জানিয়েছে এসব চাঁদাবাজির বিষয়ে তাদের জানা নাই। তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ এমনটি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুননাহার বলেন, সাদাপাথর এলাকায় পাথর লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। সাদাপাথর রক্ষায় আরো কঠোর নজরদারি বাড়ানো হবে। এর সাথে যারা জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিলেট ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ নাজমুল হক জানান, পর্যটন কেন্দ্র সাদাপাথর থেকে পাথর লুটপাটের খবর পেয়ে আমি স্থানীয় বিজিবি সদস্যদের ব্যবস্থা নিতে বলেছি। সাদাপাথর জাতীয় সম্পদ, এটা কোন ভাবে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। এর সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।