গোয়েন্দা নজরদারিতে সিলেটের সাবেক এসপি ফরিদ
- আপডেট সময় : ০৩:০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১৫০ বার পড়া হয়েছে
ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :
২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সিলেটের পুলিশ সুপারের (এসপি) দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
সিলেটে থাকা অবস্থায় চোরাকারবারিদের সঙ্গেও গড়ে তুলেছিলেন বিশেষ সখ্য। সেসময় পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বেশ কয়েকটি ঘটনাও ঘটে। এসপি থাকাকালীন অবস্থায় পদোন্নতি পেয়ে হয়েছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি। সিলেট থেকে বদলি হয়ে দায়িত্ব পান র্যাব ১০-এর অধিনায়ক পদে। এ দায়িত্বে থাকাবস্থায় জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় আলোচনায় আসেন আলোচিত-সমালোচিত ফরিদ উদ্দিন।
অভিযোগ রয়েছে, গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী হটস্পটে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে পরিচালিত ক্র্যাকডাউনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ফরিদ উদ্দিন। আন্দোলনচলাকালে তিনি ছাত্র-জনতাকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন-আন্দোলন ক্লিয়ার করতে ১০ মিনিট লাগবে। একটি হত্যা মামলায় ফরিদ উদ্দিনকে ‘গণহত্যার পাহারাদার’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের বরাত দিয়ে জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফরিদ উদ্দিন পলাতক রয়েছেন। তবে তাকে ধরতে গোয়েন্দাদের একটি টিম কাজ করছে। যদিও যুগান্তরের কাছে পুলিশের এ কর্মকর্তা দাবি করেন, তিনি অসুস্থতাজনিত ছুটিতে আছেন।
জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের সময় যাত্রাবাড়ী এলাকায় দেওয়া তার একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে বদলি করা হয় এপিবিএন পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায়। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি হত্যা মামলা হয়েছে।
ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের শুরু থেকেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলন দমনে তার ভূমিকা ছিল খুবই অপেশাদার ও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর স্বৈরাচারের এই ‘দোসর’ পান বাংলাদেশ পুলিশ (বিপিএম) পদক। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের পক্ষে তার অবদান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। খিলগাঁও, রামপুরা এবং যাত্রাবাড়ী থানায় তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলা করা হয়েছে (যদিও খিলগাঁও ও রামপুরা র্যাব-৩ এর অধিভুক্ত এলাকা)। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে তার গভীর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি পুলিশের সবাই জানতেন।
দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বহুবিধ গুরুতর অপরাধের কারণে তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতেই হবে। তবে ফরিদ উদ্দিন সবই মিথ্যা এবং ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ বলে দাবি করে গত মঙ্গলবার তিনি জানান, অসুস্থতাজনিত কারণে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এক মাসের ছুটিতে রয়েছেন।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকারদলীয় ক্যাডারের মতো ভূমিকা রাখার বিষয়ে ফরিদ উদ্দিন বলেন, এসব আন্দোলনে ডিএমপি সব সময় মূল ভূমিকা পালন করে। র্যাব ছিল একটি সাপোর্টিং ফোর্স। আন্দোলনের শুরুতে আমরা যাত্রাবাড়ী থানার সামনেই ছিলাম। সেখানে র্যাবের পক্ষ থেকে কোনো গুলি কিংবা মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার যে বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে, সেখানেও আমি বলেছি, ‘আমরা কোনো প্রাণহানি চাই না। প্রাণহানি চাইলে এটা ক্লিয়ার করতে ১০ মিনিট সময় লাগবে। কিন্তু আমরা কোনো প্রাণহানি করব না। প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করব না। আমরা চাই প্রাণহানি ছাড়াই সবাই ঘরে ফিরে যাক। রাস্তা ক্লিয়ার হয়ে যাক।’ তবে যাত্রবাড়ীতে এত হতাহত কেন হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের সময় আমরা কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ব্যবহার করেছি। ভিডিও ফুটেজে সব অ্যাকশন দেখা গেছে পুলিশের। র্যাবের কোনো অ্যাকশন ছিল না। শেষদিকে আমাদের কোনো ফোর্স মোতায়েনও ছিল না। ১ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত র্যাবের কোনো ডেপ্লয়মেন্ট বাইরে ছিল না।
এ ব্যাপারে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি আবু নাসের মোহাম্মদ খালেদ বলেন, ‘অতিরিক্ত ডিআইজি ফরিদ উদ্দিন ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পলাতক আছেন। আমরা তাকে খুঁজছি।
একই ধরনের তথ্য জানিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন্স) রেজাউল করিম বলেন, ‘বেশ কয়েকটি হত্যা মামলার আসামি ফরিদ উদ্দিনকে গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছি।
বহুল আলোচিত ফরিদ উদ্দিন বর্তমানে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসাবে এপিবিএনের পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্মরত। তিনি পুলিশে এএসপি হিসাবে নিয়োগ পান ২০০৫ সালে। স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের আমলে বিসিএস (পুলিশ) ২৪তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা একাধিক প্রাইজ পোস্টিংয়ে কর্মরত ছিলেন। র্যাব ১০-এর অধিনায়ক হিসাবে ২০২২ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০১৯ সাল থেকে টানা ৩ বছর ছিলেন সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি)। আগের ৩ বছর ছিলেন ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি)। ওয়ারীতে ডিসি হিসাবে যোগদানের আগে ছিলেন মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি)। ডিএমপিতে পদায়নের আগে ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত এসপি।


























