সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান ‎শিশু ফাহিমা হত্যা ‎ঘাতক জাকিরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকরের দাবিতে সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন সিলেট বিভাগের মানববন্ধন দৈনিক ঘোষণার ২০২৬ বর্ষেসেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদক শ্রেষ্ঠ ও সংগঠক সাদিক হোসেন এপলু। যেসব অভ্যাস মেনে চললে কিডনি নিয়ে কখনোই ভাবতে হবে না হবিগঞ্জে ডিজিটাল জামিননামা কার্যক্রম নিয়ে আইনজীবী সহকারীদের প্রশিক্ষণ হবিগঞ্জ মাধবপুরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত পোল্ট্রি খামারিরা হবিগঞ্জ চৌধুরী বাজারে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ অভিযান সিলেট ওসমানী হাসপাতালের পাঁচ তলা থেকে পড়ে রোগীর আত্মহত্যা ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মহাসচিব মনোনয়ন গ্রহণ থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর সাথে থাই প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ সিলেটে এসএসসিতে শিক্ষাবোর্ডে পাশের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ফেল ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ

আওয়ামী লীগের জন্য সামনে যত চ্যালেঞ্জ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫ ১২৩ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পরও বিরুদ্ধ পরিবেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম আর রাজপথের তৎপরতা এভাবে পুরোপুরি থমকে দাঁড়ায়নি। একজন পুরনো রাজনীতিবিদ এ কথা বলেছেন।

জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে যা হয়েছে, তা একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন। গত ৫ আগস্ট থেকে তছনছ অবস্থায় আছে দলটি। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেছেন, দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রায় সবাই রয়েছেন আত্মগোপনে। এখন নেতাদের জনগণের সামনে যাওয়াই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

আওয়ামী লীগ বলছে, কর্মসূচির মাধ্যমে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হওয়ার কথা। সেরকম পরিস্থিতিও অনেক চ্যালেঞ্জের হবে বলে মনে করছেন দলের নেতারা। বাস্তবে দলটির জন্য বহু চ্যালেঞ্জ দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

১. প্রশাসনিক বাধা, গ্রেফতার এবং মামলার আতঙ্ক আছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

২. অভ্যুত্থানের পর দলটির ভঙ্গুর সাংগঠনিক কাঠামো।

৩. দলীয় নেতাদের অনুপস্থিতি।

৪. গণহত্যার অভিযোগ।

রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন আওয়ামী লীগের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দেখছেন, দলটি জনগণের মুখোমুখি কীভাবে হবে তা নিয়ে।

তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, আওয়ামী লীগ জনগণের সামনে কীভাবে আবার দাঁড়াবে। কী কৌশল নিয়ে দাঁড়াবে, কী বার্তা নিয়ে নিয়ে দাঁড়াবে, কী উদ্দেশ্য নিয়ে দাঁড়াবে এবং কী কর্মসূচি নিয়ে দাঁড়াবে। আবার জনগণের সামনে আসলেও জনগণ তাদের বার্তাকে কীভাবে নেবে সেটা দেখার বিষয়।

তার মতে, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু তাদের জন্য পরিস্থিতি এখন বেশ কঠিন।

এই বিশ্লেষক আরও বলেন, একটা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যখন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়, তখন এরকম একটি দলকে জনগণের কাছে নানারকম জবাবদিহিমূলক অবস্থায় থাকতে হয়। তো সেখানে আওয়ামী লীগ জনগণকে কীভাবে ফেস করবে, কীভাবে আসলে জনগণের কাছে রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে যাবে, সেটা কিন্তু তাদের জন্য রাজনৈতিক দল হিসেবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এই মুহূর্তে।

আওয়ামী লীগের জন্য বাস্তবতা প্রতিকূল- তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এমনকি গত ৫ আগস্টের পর দলটিকে নিষিদ্ধ করার মতো দাবিও উঠেছে বিভিন্ন পক্ষ থেকে। যদিও কোনো কোনো রাজনৈতিক দল আবার এর বিরোধিতাও করেছে।

তবে আদালতে জুলাই গণহত্যার বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে বিচারিকভাবেই নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি আছে আওয়ামী লীগের। ফলে তেমন পরিস্থিতিতে পড়ার আগেই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মতো সাংগঠনিক অবস্থা তৈরি করতে চায় আওয়ামী লীগ।

দলটি মনে করছে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তাদের ভাষায় ‘জনরোষ এখন সময়ের ব্যাপার’। ফলে বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠে নামার পর সেখানে জনসমর্থন পাওয়া যাবে বলেই আশাবাদী আওয়ামী লীগ। যদিও রাজনীতির জটিল সমীকরণ যে এতো সরলভাবে মিলে যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।-বিবিসি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আওয়ামী লীগের জন্য সামনে যত চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পরও বিরুদ্ধ পরিবেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম আর রাজপথের তৎপরতা এভাবে পুরোপুরি থমকে দাঁড়ায়নি। একজন পুরনো রাজনীতিবিদ এ কথা বলেছেন।

জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে যা হয়েছে, তা একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন। গত ৫ আগস্ট থেকে তছনছ অবস্থায় আছে দলটি। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেছেন, দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রায় সবাই রয়েছেন আত্মগোপনে। এখন নেতাদের জনগণের সামনে যাওয়াই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

আওয়ামী লীগ বলছে, কর্মসূচির মাধ্যমে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হওয়ার কথা। সেরকম পরিস্থিতিও অনেক চ্যালেঞ্জের হবে বলে মনে করছেন দলের নেতারা। বাস্তবে দলটির জন্য বহু চ্যালেঞ্জ দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

১. প্রশাসনিক বাধা, গ্রেফতার এবং মামলার আতঙ্ক আছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

২. অভ্যুত্থানের পর দলটির ভঙ্গুর সাংগঠনিক কাঠামো।

৩. দলীয় নেতাদের অনুপস্থিতি।

৪. গণহত্যার অভিযোগ।

রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন আওয়ামী লীগের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দেখছেন, দলটি জনগণের মুখোমুখি কীভাবে হবে তা নিয়ে।

তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, আওয়ামী লীগ জনগণের সামনে কীভাবে আবার দাঁড়াবে। কী কৌশল নিয়ে দাঁড়াবে, কী বার্তা নিয়ে নিয়ে দাঁড়াবে, কী উদ্দেশ্য নিয়ে দাঁড়াবে এবং কী কর্মসূচি নিয়ে দাঁড়াবে। আবার জনগণের সামনে আসলেও জনগণ তাদের বার্তাকে কীভাবে নেবে সেটা দেখার বিষয়।

তার মতে, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু তাদের জন্য পরিস্থিতি এখন বেশ কঠিন।

এই বিশ্লেষক আরও বলেন, একটা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যখন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়, তখন এরকম একটি দলকে জনগণের কাছে নানারকম জবাবদিহিমূলক অবস্থায় থাকতে হয়। তো সেখানে আওয়ামী লীগ জনগণকে কীভাবে ফেস করবে, কীভাবে আসলে জনগণের কাছে রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে যাবে, সেটা কিন্তু তাদের জন্য রাজনৈতিক দল হিসেবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এই মুহূর্তে।

আওয়ামী লীগের জন্য বাস্তবতা প্রতিকূল- তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এমনকি গত ৫ আগস্টের পর দলটিকে নিষিদ্ধ করার মতো দাবিও উঠেছে বিভিন্ন পক্ষ থেকে। যদিও কোনো কোনো রাজনৈতিক দল আবার এর বিরোধিতাও করেছে।

তবে আদালতে জুলাই গণহত্যার বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে বিচারিকভাবেই নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি আছে আওয়ামী লীগের। ফলে তেমন পরিস্থিতিতে পড়ার আগেই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মতো সাংগঠনিক অবস্থা তৈরি করতে চায় আওয়ামী লীগ।

দলটি মনে করছে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তাদের ভাষায় ‘জনরোষ এখন সময়ের ব্যাপার’। ফলে বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠে নামার পর সেখানে জনসমর্থন পাওয়া যাবে বলেই আশাবাদী আওয়ামী লীগ। যদিও রাজনীতির জটিল সমীকরণ যে এতো সরলভাবে মিলে যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।-বিবিসি