সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান হবিগঞ্জ সীমান্তে পুশইন সতর্ক ৫৫ বিজিবি, পাহারায় চা বাগানের শ্রমিকরাও সংবাদপত্র হকার্স সমবায় সমিতির বার্ষিক বনভোজন ও পুনর্মিলনী সিলেট কাষ্টঘরে বিশেষ অভিযান, উদ্ধার ৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা বড়ি ও নগদ ১ লাখ ৮৬ হাজার ২০৬টাকাসহ গ্রেফতার ১ সিলেটে মাদক আস্তানায় গ্রেফতার ২ সিলেটে পুলিশের চিরুনি অভিযান, গ্রেফতার ৯৪ সিলেট অস্ত্র ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক উদ্ধার সিলেটে নতুন জেলা প্রশাসক- রেজা হাসান সিলেটে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু,নগরবাসীর সহযোগিতা চাইলেন সিসিক প্রশাসক আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার- শিক্ষামন্ত্রী লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প

১৯৭১ সালে ডিসেম্বরের শুরু থেকেই শত্রুমুক্ত হতে থাকে একের পর এক এলাকা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১৯ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

১৯৭১ সালে ডিসেম্বরের শুরু থেকেই ধীরে ধীরে শত্রুমুক্ত হতে থাকে একের পর এক এলাকা। রণাঙ্গনে তখন অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। হায়েনার থাবা থেকে প্রিয় মাতৃভূমিকে পরিপূর্ণভাবে মুক্ত করতে তারা দুর্বার গতিতে এগিয়ে যেতে থাকেন। নানা প্রান্তে চলতে থাকে সম্মুখ লড়াই। অর্জিত হয় একের পর এক সাফল্য। সব জায়গাতেই পরাজয়ের মুখে পিছু হটছিল পাকিস্তানি বাহিনী। বিজয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় বীর বাঙালি। শত্রুদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে তারা এ মাসেই ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতার লাল সূর্য।

৭ ডিসেম্বর ছিল মঙ্গলবার। এদিনে মুক্তিবাহিনী দেশের বেশ কয়েকটি জেলা শত্রুমুক্ত করে। দেশের বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে আসতে থাকে বিজয়ের খবর। আর মিত্র বাহিনী মুক্ত করে সিলেট শহরকে। ঝিনাইদহ ও মৌলভীবাজারও এদিন মুক্ত হয়। যৌথ বাহিনী চান্দিনা ও জাফরগঞ্জ অধিকার করে। কুমিল্লা ও লাকসামে তুমুল যুদ্ধ হয়। এদিকে ভারত ও ভুটানের স্বীকৃতিতে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয় সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। সশস্ত্র যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক যুদ্ধে পরাজয়ের কারণে বিপর্যন্ত হয়ে পড়ে পাকিস্তান সামরিক শাসকরা।

ডিসেম্বরের ৬-৭ তারিখের কোনো এক সময় যুদ্ধ পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে জেনারেল নিয়াজি গোপন বার্তা পাঠান রাওয়ালপিন্ডি হেডকোয়ার্টার্সে। এর মধ্যেই যশোরে পতন হয়, যা পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে নাড়া দেয়। সাত তারিখেই গভর্নর আবদুল মালেক পূর্বাঞ্চলের সেনাপ্রধান লে. জে. নিয়াজির অভিমত উদ্ধৃত করে এক বার্তায় ইয়াহিয়াকে জানান, যশোরের বিপর্যয়ের ফলে প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের পতন প্রায় সম্পন্ন এবং মেঘনার পূর্বদিকের পতনও কেবল সময়ের ব্যাপার। এ অবস্থায় ‘আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে যদি প্রতিশ্রুত বৈদেশিক সামরিক সহায়তা না পৌঁছায়’ তাহলে জীবন রক্ষার জন্য বরং ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে আলোচনা শুরু করা বাঞ্ছনীয়।

এদিন রাত ১০টায় আকাশবাণী থেকে হিন্দি, উর্দু ও পশতু ভাষায় জেনারেল মানেকশ বাংলাদেশে দখলদার বাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তোমাদের বাঁচার কোনো পথ নেই। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্য তোমাদের ঘিরে রেখেছে। তোমরা যে নিষ্ঠুর আচরণ করেছ, তারা তার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। অনেক দেরি হওয়ার আগেই তোমরা আত্মসমর্পণ করো।’ আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্র থেকেও বাংলা সংবাদ বুলেটিন প্রচার করা হয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সকাল-সন্ধ্যায় যুদ্ধের খবরাখবর, দেশাত্মবোধক গান ও চরমপত্র প্রচার করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

১৯৭১ সালে ডিসেম্বরের শুরু থেকেই শত্রুমুক্ত হতে থাকে একের পর এক এলাকা

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

১৯৭১ সালে ডিসেম্বরের শুরু থেকেই ধীরে ধীরে শত্রুমুক্ত হতে থাকে একের পর এক এলাকা। রণাঙ্গনে তখন অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। হায়েনার থাবা থেকে প্রিয় মাতৃভূমিকে পরিপূর্ণভাবে মুক্ত করতে তারা দুর্বার গতিতে এগিয়ে যেতে থাকেন। নানা প্রান্তে চলতে থাকে সম্মুখ লড়াই। অর্জিত হয় একের পর এক সাফল্য। সব জায়গাতেই পরাজয়ের মুখে পিছু হটছিল পাকিস্তানি বাহিনী। বিজয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় বীর বাঙালি। শত্রুদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে তারা এ মাসেই ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতার লাল সূর্য।

৭ ডিসেম্বর ছিল মঙ্গলবার। এদিনে মুক্তিবাহিনী দেশের বেশ কয়েকটি জেলা শত্রুমুক্ত করে। দেশের বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে আসতে থাকে বিজয়ের খবর। আর মিত্র বাহিনী মুক্ত করে সিলেট শহরকে। ঝিনাইদহ ও মৌলভীবাজারও এদিন মুক্ত হয়। যৌথ বাহিনী চান্দিনা ও জাফরগঞ্জ অধিকার করে। কুমিল্লা ও লাকসামে তুমুল যুদ্ধ হয়। এদিকে ভারত ও ভুটানের স্বীকৃতিতে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয় সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। সশস্ত্র যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক যুদ্ধে পরাজয়ের কারণে বিপর্যন্ত হয়ে পড়ে পাকিস্তান সামরিক শাসকরা।

ডিসেম্বরের ৬-৭ তারিখের কোনো এক সময় যুদ্ধ পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে জেনারেল নিয়াজি গোপন বার্তা পাঠান রাওয়ালপিন্ডি হেডকোয়ার্টার্সে। এর মধ্যেই যশোরে পতন হয়, যা পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে নাড়া দেয়। সাত তারিখেই গভর্নর আবদুল মালেক পূর্বাঞ্চলের সেনাপ্রধান লে. জে. নিয়াজির অভিমত উদ্ধৃত করে এক বার্তায় ইয়াহিয়াকে জানান, যশোরের বিপর্যয়ের ফলে প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের পতন প্রায় সম্পন্ন এবং মেঘনার পূর্বদিকের পতনও কেবল সময়ের ব্যাপার। এ অবস্থায় ‘আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে যদি প্রতিশ্রুত বৈদেশিক সামরিক সহায়তা না পৌঁছায়’ তাহলে জীবন রক্ষার জন্য বরং ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে আলোচনা শুরু করা বাঞ্ছনীয়।

এদিন রাত ১০টায় আকাশবাণী থেকে হিন্দি, উর্দু ও পশতু ভাষায় জেনারেল মানেকশ বাংলাদেশে দখলদার বাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তোমাদের বাঁচার কোনো পথ নেই। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্য তোমাদের ঘিরে রেখেছে। তোমরা যে নিষ্ঠুর আচরণ করেছ, তারা তার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। অনেক দেরি হওয়ার আগেই তোমরা আত্মসমর্পণ করো।’ আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্র থেকেও বাংলা সংবাদ বুলেটিন প্রচার করা হয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সকাল-সন্ধ্যায় যুদ্ধের খবরাখবর, দেশাত্মবোধক গান ও চরমপত্র প্রচার করা হয়।