সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প সিলেটের সংবাদপত্র এজেন্ট এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ইসমাইলের মৃত্যুতে শোকবার্তা সিলেটে জলাবদ্ধতা নিরসনে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ – বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেট শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ডিসির দেয়া ৫ লাখ টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ১২ সদস্যের কমিটি গঠন কারবালার যুদ্ধে ইমাম হুসাইন (রাঃ) ও মাওলা আবুল ফজল আব্বাস আলামদার (আঃ)-এর শাহাদাত হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দানবাক্স বিতর্ক আর এক রহস্যময় বার্তা দিলেন সাবেক সিটি মেয়র ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমের বিত্তান্ত তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট মহানগর শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন,আরিফ সামাদ সভাপতি, মাহমুদুর রহমান সাধারণ সম্পাদক

ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পর্ক, মুখ খুললেন ঢাবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩০:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭৬ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ইস্যুতে যখন আলোচনা তুঙ্গে তখন দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম না চালাতে পারা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা প্রকাশ্যে আসছেন। প্রথমে ঢাবি শাখার ছাত্রশিবিরের সভাপতি পরে সেক্রেটারি প্রকাশ্যে আসার পর আলোচনা থেরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। 

গতকাল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ৯দফার ঘোষক কাদের যখন শিবির সেক্রেটারিকে পরিচয় করিয়ে দেন তখন সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রলীগের একটি কিমিটির তালিকা প্রকাশ হয় যেখানে এসএম ফরহাদ নামে একজনের নাম উঠে আসে। তবে ছাত্রশিবির সেক্রেটারি বলছেন কবি জসীম উদ্‌দীন হল এবং সমাজকল্যাণ ইন্সটিটিউট ছাত্রলীগের কোন কর্মসূচি ও কার্যক্রমের সাথে আমার (এস এম ফরহাদ) কোন সম্পৃক্ততা নেই। 

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কোন পদপদবীর জন্য কোন সিভি আমি কখনো কাউকে দিইনি। কখনো আমি নিজেকে ছাত্রলীগ হিসেবে কোনো মাধ্যমে পরিচয়ও দেইনি। হল বা ডিপার্টমেন্টের কমিটিতে কাকে রাখা হবে সেটা সংশ্লিষ্ট ছাত্রলীগের সিদ্ধান্ত। সেখানে আমাকে কেন জড়ানো হচ্ছে যেখানে আমি তাদের কার্যক্রমের সাথে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই। বরং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে অতীতের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে আমি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি। আমাকে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়ানোর বিষয়টিকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের স্পিরিট নষ্ট করার একটি অপচেষ্টা বলে আমি মনে করি।

তিনি আরও বলেন, হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি ও ডিপার্টমেন্ট ডিবেটিং ক্লাবের সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে ডিবেটের বিভিন্ন আয়োজনে ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে আমার উপস্থিত থাকার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে| এগুলোর সবগুলোই ছিল ডিবেট ক্লাব সংশ্লিষ্ট আয়োজন। কোনো রাজনৈতিক আয়োজন নয়।

আমরা আগে থেকেই ছিলাম: ঢাবি ছাত্রশিবির সভাপতি

প্রকাশ্যে কার্যক্রম না চালালেও ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেমে ছিল না বলে জানিয়েছেন ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সভাপতি আবু সাদিক কায়েম।

তিনি বলেন, আমরা আগে থেকেই ছিলাম। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের এত জুলুম-নির্যাতনের পরও আমরা শেষ হয়ে যাইনি। 

২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভর্তি হওয়া কায়েম সম্প্রতি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। গত পাঁচবছর তিনি হলে থেকেই পড়াশোনা করেছেন, গোপনে চালিয়েছেন সাংগঠনিক কার্যক্রমও। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন। 

কায়েম বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন চালিয়ে যেভাবে ভয়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলেছিলো, সেটির কারণেই আমরা এতদিন প্রকাশ্যে আসতে পারিনি। 

কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরুর আগে খাগড়াছড়ির বাসিন্দা কায়েমকে ক্যাম্পাসে অনেকে চিনতেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদের সাবেক সভাপতি এবং হিল সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে।

তবে তিনি স্কুলজীবন থেকেই ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে নিজেই জানিয়েছেন। এরপর চলতি বছরের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পান।

কায়েম আরও বলেন, এখন যেহেতু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে, সেহেতু তারা বাদে বাকি সব সংগঠনের সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে ক্যাম্পাসে আমরা সুস্থধারার রাজনীতি করতে চাই। 

ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেছেন, খুব শিগগিরই নামগুলো প্রকাশ করা হবে।

ছাত্রদলের ত্যাগের কথাও জানাল ঢাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ইস্যুতে যখন আলোচনা তুঙ্গে তখন দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম না চালাতে পারা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা প্রকাশ্যে আসছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোটা সংস্কার ইস্যু থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার পতনের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার।

গতকাল (২২ সেপ্টেম্বর) ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ৯ দফার ঘোষক আব্দুল কাদের বিষয়টি সামনে আনেন।

প্রথমে বর্তমান ঢাবি শাখার সভাপতি সাদিক কায়েম পরে সেক্রেটারি এস এম ফরহাদের পরিচয়। এবার সামনে এসেছে ২০২২-২৩ সনের ঢাবি ছাত্রশিবির সভাপতির নাম। জানা গেছে তার নাম সিবগাতুল্লাহ। বর্তমানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন তিনি।  

জুলাইয়ের আন্দোলনে তার ভূমিকাও ছিল যথেষ্ট। বর্তমান সভাপতি সাদিক কায়েম প্রকাশ্যে আসার পর তিনি একটি ফেসবুক পোস্ট করেন যেখানে কায়েম এবং আন্দোলনে ছাত্রদলের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। 

সিবগাতুল্লাহ বলেন- আপনি নিশ্চয়ই জানেন, ফ্যাসিবাদের আশ্রয়দাতারা আরও বড় ষড়যন্ত্র করছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার কারণেই ফ্যাসিবাদ পরাজিত হয়েছে। আসেন, জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সবাই এক হয়ে কাজ করি। ঐক্য ছাড়া এ লড়াই প্রায় অসম্ভব। শুধু নামের কারণে আর অপপ্রচারের কারণে কাউকে আলাদা না করে ফেলি। 

ছাত্রদল ইস্যুতে তিনি বলেন, ছাত্রদল ইতোমধ্যে লড়াইয়ের মাঠে পরীক্ষা দিয়েছে। আমি নিজে সভাপতি রাকিব ভাইয়ের শরীরে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন দেখেছি। বাম, মধ্যপন্থি ও ইসলামী দলগুলোর অবদানও জাতি উদ্ধারে ব্যাপক।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বাস করেন দেশের স্বার্থে যে তরুণরা সবচেয়ে অবদান রাখবে তাদের মধ্যে সাদিক কায়েমেরা অন্যতম। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের স্বাধীনতা নিয়ে তরুণ প্রজন্মের ঐক্য অনিবার্য। ঐক্যের জন্য অনেক বড় হৃদয় লাগে। কিন্তু আমরা কি পারবো এতটা উদার হতে?

১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন ছিল জুলাই বিপ্লবের জ্বালানি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েম বলেছেন, জুলাই বিপ্লব ছিল সর্বস্তরের নিপীড়িতের চূড়ান্ত সম্মিলিত বিক্ষুব্ধ বিস্ফোরণ। ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন ছিল তার জ্বালানি। এই গণবিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছেন আমাদের শহীদরা। খোদা প্রদত্ত জানকে কোরবানি করে তারা সাম্য ও ইনসানিয়াতভিত্তিক একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার জিম্মাদারি আমাদের হাতে অর্পণ করে গেছেন। 

সোমবার সকালে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

সাদিক কায়েম আরও বলেন, এই আন্দোলন শহীদ আবু সাঈদের রক্তের ওপর দাঁড়ানো আন্দোলন, শহীদ মীর মুগ্ধের স্মৃতির ওপর দাঁড়ানো আন্দোলন। যে রিকশাওয়ালা ভাই ক্রমাগত দুঃশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে শহীদ হয়েছেন তার কোরবানির ওপর দাঁড়ানো আন্দোলন। 

তিনি বলেন, এই আন্দোলনে যেমন অবদান ছিল সমাজের উঁচুতলার মানুষের, আবার আন্দোলনের ভ্যানগার্ড ছিল সমাজের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীরাও। ইংলিশ মিডিয়ামের টেক স্যাভি কিড থেকে শুরু করে কওমি-আলিয়ার তালেবে এলেম, শাহবাগ-ধানমন্ডি-মিরপুর-উত্তরা-সাভার থেকে শুরু করে বাংলার স্টালিনগ্রাদ হয়ে ওঠা যাত্রাবাড়ী, শহর-নগর, গ্রাম-গ্রামান্তরে এই বিপ্লব ছিল আপনার, আমার, সবার।

ঢাবি শিবির সভাপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনা থেকে বিপ্লবের আওয়াজ ছড়িয়ে পড়েছিল প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়-স্কুল-কলেজে। এ আওয়াজ রুদ্ধপ্রচেষ্টা রুখে দিয়েছিল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। আর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হয়ে উঠেছিল গণমানুষের কণ্ঠস্বর। এই বিপ্লব ছিল শ্রমিক, দিনমজুরের। আন্দোলন ছিল সাহসী সাংবাদিক, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসী ভাইবোনদেরও। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রবাসীরা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন দেশ ও জাতির মুক্তির স্লোগান তুলে।

তিনি আরও বলেন, যারা আমাদের পছন্দ করেন, অপছন্দ করেন, ঘৃণা করেন; যারা আমার সংগঠন ছাত্রশিবিরকে ভালোবাসেন, অবজ্ঞা করেন, ঘৃণা করেন- কার্যত সবার অবদানেই আমরা পেয়েছি ৩৬শে জুলাইয়ের মহাবিজয়। ফতহে মক্কা, ফতহে বাঙ্গালা, ফতহে কুসতুনতিনিয়ার সিলসিলা ধরে আমরা পেয়েছি ফতহে গণভবন- যেদিন গণভবন সত্যিই গণের ভবনে পরিণত হয়।

সাদিক কায়েম বলেন, প্রতিটা ইনসান রাস্তায় নেমে এসেছিলো, ‘আমার ভাই মরলো কেন’ সওয়ালের জবাব চাইতে। এই প্রশ্নের প্রতিউত্তরে যখন তাদের ওপর হায়েনার মত হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়া হয়েছে, তখনই আমাদের শহীদেরা দাঁড়িয়ে গেছেন লড়াইয়ের ভ্যানগার্ড হিসেবে। এই আন্দোলনের সমস্ত কৃতিত্ব আমাদের শহীদ ও হাত-পা-চোখ হারানোসহ নানাভাবে আহত ভাই-বোনের। যাদেরকে বুলেটের গুলি কিংবা জুলুম কোনকিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি। তারা একজন শহীদ হওয়ার পরে আরেকজন দাঁড়িয়ে গেছেন দুঃশাসন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষাকে বুকে নিয়ে।

তিনি বলেন, শত জুলুম এবং স্লো পয়জনিংয়ের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপির নির্বাচনে না যাওয়া, জামায়াতে ইসলামীসহ দেড় যুগ ধরে তিলে তিলে ইনকিলাবের জমিন চাষ করা মজলুম সব বিরোধী দল, ইলিয়াস আলী, মাইকেল চাকমা, ব্যারিস্টার আরমান ও জেনারেল আযমি থেকে শুরু করে ফাঁসি-গুম-ক্রসফায়ারে হারিয়ে যাওয়া আমাদের সব সিপাহসালার ও সহযোদ্ধা, শাপলা-শাহবাগ দ্বন্দ্বকে পাশে রেখে শহুরে মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর সমর্থন, ভাইদের হেফাজতের ঢাল হিসেবে বোনদের বুনইয়ানুম মারসুস তথা সিসাঢালা প্রাচীর হিসেবে দাঁড়িয়ে যাওয়া, ফ্যাসিস্টদের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও সর্বপ্রকার ব্ল্যাকমেইলকে উপেক্ষা করে পাহাড়-সমতলের ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুদের সহযোদ্ধা হয়ে ওঠা, মাদরাসার তালেবে এলেম এবং আলেম-উলামার অকাতরে জান-মালের কোরবানি এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী সব ছাত্র সংগঠনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই ইনকিলাবের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।

ঢাবি শিবির সভাপতি আরও বলেন, বিডিআর বিদ্রোহ থেকে আয়নাঘর, শাপলা থেকে শুরু করে মোদিবিরোধী আন্দোলন, শেয়ারবাজারে নিঃস্ব মজলুম পরিবার থেকে শুরু করে সাংবাদিক সাগর-রুনির সন্তান মেঘ- ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন ছিল জুলাই ইনকিলাবের (বিপ্লব) জ্বালানি। আর শহীদরা ছিলেন সীমাহীন উজ্জ্বল স্ফুলিঙ্গ।

সাদিক কায়েম বলেন, শহীদ-গাজীর স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা যারা জিন্দা আছি তাদের সামনে এক সুদীর্ঘ পথ। আমাদের শহীদদের স্বপ্ন পূরণের জন্য একটি সুখী এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে। আমরা কামিয়াব না হলে বিফল হয়ে যাবে ’৪৭, ’৭১ ও ’২৪ এর সব শহীদের রক্ত। আমাদের দৃষ্টিশক্তি হারানো ভাইদের দৃষ্টিশক্তি কোরবানি বিফলে চলে যাবে, যদি আমরা বৈষম্যহীন স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে না পারি।

সর্বশেষ তিনি বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের শহীদদের প্রত্যেককে শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন। তাদের রক্তের হক আদায় করে, আমাদের একটি সুখী-সমৃদ্ধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ এবং ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার তৌফিক দিন। আমিন।

এবার প্রকাশ্যে ঢাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সিবগাতুল্লাহ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ইস্যুতে যখন আলোচনা তুঙ্গে তখন দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম না চালাতে পারা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা প্রকাশ্যে আসছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোটা সংস্কার ইস্যু থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার পতনের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার। গতকাল (২২ সেপ্টেম্বর) ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ৯ দফার ঘোষক আব্দুল কাদের বিষয়টি সামনে আনেন।

কাদেরের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘৯ দফা প্রচার-প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল ছাত্রশিবির। যেহেতু নেট নেই, গোলাগুলি-কারফিউয়ের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সশরীরে হাউসে হাউসে পৌঁছে দিয়েছে, বিদেশি সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা তারাই করেছে।’

শুধু তাই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রশিবির সেক্রেটারি ফরহাদের সাথে আলোচনা করে এই ৯ দফা তৈরি হয়েছিল বলেও জানান এই সমন্বয়ক।

কাদেরের এই ঘোষণার আগেই সামনে আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েমের নাম। নিজেই ফেসবুক পোস্টে নিজের পরিচয় তুলে ধরেন। এরপর থেকেই শুরু হয় ছাত্রশিবিরকে নিয়ে আলোচনা।

দেশের মানুষ যখন স্বৈরাচার হাসিনা থেকে মুক্তির দিন গুনছিলেন তখন ছাত্রশিবিরের ছেলেরাই পরিচয় গোপন করে একের পর এক কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের  ব্যানারে। 

দীর্ঘ ১৭ বছর পর যখন ঢাবি ছাত্রশিবির শাখার কথা প্রকাশ্যে এলো তখন অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে শুরু করেছে যে, এতো বছর ঢাবিতে ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে কারা ছিলেন। এমনই প্রেক্ষাপটে এবার প্রকাশ্যে আসছেন শিবিরের ঢাবি শাখার বর্তমান ও আগে দায়িত্ব পালন করা নেতারা।

ঢাবি শাখার বর্তমান সভাপতি সাদিক কায়েম প্রকাশ্যে আসার পর একদিন পর গতকাল রোববার প্রকাশ পায় সেক্রেটারি নাম। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সন্বয়ক আব্দুল কাদের হাসিনা পতনে ছাত্রশিবিরের সাহসী ভূমিকা প্রকাশ করতে গিয়ে জানান, ঢাবি ছাত্রশিবির শাখার বর্তমান সেক্রেটারি এস এম ফরহাদ।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় এক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংগঠনটির ঢাবি শাখা কখনই নেতৃত্বহীন ছিল না। প্রতিবছরই কমিটি গঠন হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে এখন  সময় এসেছে সবাইকে সামনে আনা হবে।

জানা যায়, ২০২২-২৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন সিবগাতুল্লাহ। বর্তমানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন তিনি। এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সিবগাতুল্লাহ। বর্তমান ঢাবি শাখার নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রের নিয়মিত যোগাযোগ এবং আন্দোলনের রোডম্যাপ তৈরি সবটুকুই তিনি সমন্বয় করেন। সিবগাতুল্লাহর সঙ্গে সে সময় সেক্রেটারি ছিলেন মো. শাহিনুর রহমান।  

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পর্ক, মুখ খুললেন ঢাবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি

আপডেট সময় : ০৩:৩০:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ইস্যুতে যখন আলোচনা তুঙ্গে তখন দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম না চালাতে পারা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা প্রকাশ্যে আসছেন। প্রথমে ঢাবি শাখার ছাত্রশিবিরের সভাপতি পরে সেক্রেটারি প্রকাশ্যে আসার পর আলোচনা থেরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। 

গতকাল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ৯দফার ঘোষক কাদের যখন শিবির সেক্রেটারিকে পরিচয় করিয়ে দেন তখন সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রলীগের একটি কিমিটির তালিকা প্রকাশ হয় যেখানে এসএম ফরহাদ নামে একজনের নাম উঠে আসে। তবে ছাত্রশিবির সেক্রেটারি বলছেন কবি জসীম উদ্‌দীন হল এবং সমাজকল্যাণ ইন্সটিটিউট ছাত্রলীগের কোন কর্মসূচি ও কার্যক্রমের সাথে আমার (এস এম ফরহাদ) কোন সম্পৃক্ততা নেই। 

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কোন পদপদবীর জন্য কোন সিভি আমি কখনো কাউকে দিইনি। কখনো আমি নিজেকে ছাত্রলীগ হিসেবে কোনো মাধ্যমে পরিচয়ও দেইনি। হল বা ডিপার্টমেন্টের কমিটিতে কাকে রাখা হবে সেটা সংশ্লিষ্ট ছাত্রলীগের সিদ্ধান্ত। সেখানে আমাকে কেন জড়ানো হচ্ছে যেখানে আমি তাদের কার্যক্রমের সাথে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই। বরং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে অতীতের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে আমি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি। আমাকে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়ানোর বিষয়টিকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের স্পিরিট নষ্ট করার একটি অপচেষ্টা বলে আমি মনে করি।

তিনি আরও বলেন, হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি ও ডিপার্টমেন্ট ডিবেটিং ক্লাবের সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে ডিবেটের বিভিন্ন আয়োজনে ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে আমার উপস্থিত থাকার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে| এগুলোর সবগুলোই ছিল ডিবেট ক্লাব সংশ্লিষ্ট আয়োজন। কোনো রাজনৈতিক আয়োজন নয়।

আমরা আগে থেকেই ছিলাম: ঢাবি ছাত্রশিবির সভাপতি

প্রকাশ্যে কার্যক্রম না চালালেও ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেমে ছিল না বলে জানিয়েছেন ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সভাপতি আবু সাদিক কায়েম।

তিনি বলেন, আমরা আগে থেকেই ছিলাম। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের এত জুলুম-নির্যাতনের পরও আমরা শেষ হয়ে যাইনি। 

২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভর্তি হওয়া কায়েম সম্প্রতি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। গত পাঁচবছর তিনি হলে থেকেই পড়াশোনা করেছেন, গোপনে চালিয়েছেন সাংগঠনিক কার্যক্রমও। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন। 

কায়েম বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন চালিয়ে যেভাবে ভয়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলেছিলো, সেটির কারণেই আমরা এতদিন প্রকাশ্যে আসতে পারিনি। 

কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরুর আগে খাগড়াছড়ির বাসিন্দা কায়েমকে ক্যাম্পাসে অনেকে চিনতেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদের সাবেক সভাপতি এবং হিল সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে।

তবে তিনি স্কুলজীবন থেকেই ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে নিজেই জানিয়েছেন। এরপর চলতি বছরের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পান।

কায়েম আরও বলেন, এখন যেহেতু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে, সেহেতু তারা বাদে বাকি সব সংগঠনের সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে ক্যাম্পাসে আমরা সুস্থধারার রাজনীতি করতে চাই। 

ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেছেন, খুব শিগগিরই নামগুলো প্রকাশ করা হবে।

ছাত্রদলের ত্যাগের কথাও জানাল ঢাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ইস্যুতে যখন আলোচনা তুঙ্গে তখন দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম না চালাতে পারা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা প্রকাশ্যে আসছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোটা সংস্কার ইস্যু থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার পতনের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার।

গতকাল (২২ সেপ্টেম্বর) ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ৯ দফার ঘোষক আব্দুল কাদের বিষয়টি সামনে আনেন।

প্রথমে বর্তমান ঢাবি শাখার সভাপতি সাদিক কায়েম পরে সেক্রেটারি এস এম ফরহাদের পরিচয়। এবার সামনে এসেছে ২০২২-২৩ সনের ঢাবি ছাত্রশিবির সভাপতির নাম। জানা গেছে তার নাম সিবগাতুল্লাহ। বর্তমানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন তিনি।  

জুলাইয়ের আন্দোলনে তার ভূমিকাও ছিল যথেষ্ট। বর্তমান সভাপতি সাদিক কায়েম প্রকাশ্যে আসার পর তিনি একটি ফেসবুক পোস্ট করেন যেখানে কায়েম এবং আন্দোলনে ছাত্রদলের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। 

সিবগাতুল্লাহ বলেন- আপনি নিশ্চয়ই জানেন, ফ্যাসিবাদের আশ্রয়দাতারা আরও বড় ষড়যন্ত্র করছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার কারণেই ফ্যাসিবাদ পরাজিত হয়েছে। আসেন, জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সবাই এক হয়ে কাজ করি। ঐক্য ছাড়া এ লড়াই প্রায় অসম্ভব। শুধু নামের কারণে আর অপপ্রচারের কারণে কাউকে আলাদা না করে ফেলি। 

ছাত্রদল ইস্যুতে তিনি বলেন, ছাত্রদল ইতোমধ্যে লড়াইয়ের মাঠে পরীক্ষা দিয়েছে। আমি নিজে সভাপতি রাকিব ভাইয়ের শরীরে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন দেখেছি। বাম, মধ্যপন্থি ও ইসলামী দলগুলোর অবদানও জাতি উদ্ধারে ব্যাপক।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বাস করেন দেশের স্বার্থে যে তরুণরা সবচেয়ে অবদান রাখবে তাদের মধ্যে সাদিক কায়েমেরা অন্যতম। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের স্বাধীনতা নিয়ে তরুণ প্রজন্মের ঐক্য অনিবার্য। ঐক্যের জন্য অনেক বড় হৃদয় লাগে। কিন্তু আমরা কি পারবো এতটা উদার হতে?

১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন ছিল জুলাই বিপ্লবের জ্বালানি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েম বলেছেন, জুলাই বিপ্লব ছিল সর্বস্তরের নিপীড়িতের চূড়ান্ত সম্মিলিত বিক্ষুব্ধ বিস্ফোরণ। ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন ছিল তার জ্বালানি। এই গণবিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছেন আমাদের শহীদরা। খোদা প্রদত্ত জানকে কোরবানি করে তারা সাম্য ও ইনসানিয়াতভিত্তিক একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার জিম্মাদারি আমাদের হাতে অর্পণ করে গেছেন। 

সোমবার সকালে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

সাদিক কায়েম আরও বলেন, এই আন্দোলন শহীদ আবু সাঈদের রক্তের ওপর দাঁড়ানো আন্দোলন, শহীদ মীর মুগ্ধের স্মৃতির ওপর দাঁড়ানো আন্দোলন। যে রিকশাওয়ালা ভাই ক্রমাগত দুঃশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে শহীদ হয়েছেন তার কোরবানির ওপর দাঁড়ানো আন্দোলন। 

তিনি বলেন, এই আন্দোলনে যেমন অবদান ছিল সমাজের উঁচুতলার মানুষের, আবার আন্দোলনের ভ্যানগার্ড ছিল সমাজের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীরাও। ইংলিশ মিডিয়ামের টেক স্যাভি কিড থেকে শুরু করে কওমি-আলিয়ার তালেবে এলেম, শাহবাগ-ধানমন্ডি-মিরপুর-উত্তরা-সাভার থেকে শুরু করে বাংলার স্টালিনগ্রাদ হয়ে ওঠা যাত্রাবাড়ী, শহর-নগর, গ্রাম-গ্রামান্তরে এই বিপ্লব ছিল আপনার, আমার, সবার।

ঢাবি শিবির সভাপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনা থেকে বিপ্লবের আওয়াজ ছড়িয়ে পড়েছিল প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়-স্কুল-কলেজে। এ আওয়াজ রুদ্ধপ্রচেষ্টা রুখে দিয়েছিল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। আর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হয়ে উঠেছিল গণমানুষের কণ্ঠস্বর। এই বিপ্লব ছিল শ্রমিক, দিনমজুরের। আন্দোলন ছিল সাহসী সাংবাদিক, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসী ভাইবোনদেরও। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রবাসীরা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন দেশ ও জাতির মুক্তির স্লোগান তুলে।

তিনি আরও বলেন, যারা আমাদের পছন্দ করেন, অপছন্দ করেন, ঘৃণা করেন; যারা আমার সংগঠন ছাত্রশিবিরকে ভালোবাসেন, অবজ্ঞা করেন, ঘৃণা করেন- কার্যত সবার অবদানেই আমরা পেয়েছি ৩৬শে জুলাইয়ের মহাবিজয়। ফতহে মক্কা, ফতহে বাঙ্গালা, ফতহে কুসতুনতিনিয়ার সিলসিলা ধরে আমরা পেয়েছি ফতহে গণভবন- যেদিন গণভবন সত্যিই গণের ভবনে পরিণত হয়।

সাদিক কায়েম বলেন, প্রতিটা ইনসান রাস্তায় নেমে এসেছিলো, ‘আমার ভাই মরলো কেন’ সওয়ালের জবাব চাইতে। এই প্রশ্নের প্রতিউত্তরে যখন তাদের ওপর হায়েনার মত হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়া হয়েছে, তখনই আমাদের শহীদেরা দাঁড়িয়ে গেছেন লড়াইয়ের ভ্যানগার্ড হিসেবে। এই আন্দোলনের সমস্ত কৃতিত্ব আমাদের শহীদ ও হাত-পা-চোখ হারানোসহ নানাভাবে আহত ভাই-বোনের। যাদেরকে বুলেটের গুলি কিংবা জুলুম কোনকিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি। তারা একজন শহীদ হওয়ার পরে আরেকজন দাঁড়িয়ে গেছেন দুঃশাসন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষাকে বুকে নিয়ে।

তিনি বলেন, শত জুলুম এবং স্লো পয়জনিংয়ের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপির নির্বাচনে না যাওয়া, জামায়াতে ইসলামীসহ দেড় যুগ ধরে তিলে তিলে ইনকিলাবের জমিন চাষ করা মজলুম সব বিরোধী দল, ইলিয়াস আলী, মাইকেল চাকমা, ব্যারিস্টার আরমান ও জেনারেল আযমি থেকে শুরু করে ফাঁসি-গুম-ক্রসফায়ারে হারিয়ে যাওয়া আমাদের সব সিপাহসালার ও সহযোদ্ধা, শাপলা-শাহবাগ দ্বন্দ্বকে পাশে রেখে শহুরে মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর সমর্থন, ভাইদের হেফাজতের ঢাল হিসেবে বোনদের বুনইয়ানুম মারসুস তথা সিসাঢালা প্রাচীর হিসেবে দাঁড়িয়ে যাওয়া, ফ্যাসিস্টদের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও সর্বপ্রকার ব্ল্যাকমেইলকে উপেক্ষা করে পাহাড়-সমতলের ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুদের সহযোদ্ধা হয়ে ওঠা, মাদরাসার তালেবে এলেম এবং আলেম-উলামার অকাতরে জান-মালের কোরবানি এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী সব ছাত্র সংগঠনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই ইনকিলাবের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।

ঢাবি শিবির সভাপতি আরও বলেন, বিডিআর বিদ্রোহ থেকে আয়নাঘর, শাপলা থেকে শুরু করে মোদিবিরোধী আন্দোলন, শেয়ারবাজারে নিঃস্ব মজলুম পরিবার থেকে শুরু করে সাংবাদিক সাগর-রুনির সন্তান মেঘ- ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন ছিল জুলাই ইনকিলাবের (বিপ্লব) জ্বালানি। আর শহীদরা ছিলেন সীমাহীন উজ্জ্বল স্ফুলিঙ্গ।

সাদিক কায়েম বলেন, শহীদ-গাজীর স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা যারা জিন্দা আছি তাদের সামনে এক সুদীর্ঘ পথ। আমাদের শহীদদের স্বপ্ন পূরণের জন্য একটি সুখী এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে। আমরা কামিয়াব না হলে বিফল হয়ে যাবে ’৪৭, ’৭১ ও ’২৪ এর সব শহীদের রক্ত। আমাদের দৃষ্টিশক্তি হারানো ভাইদের দৃষ্টিশক্তি কোরবানি বিফলে চলে যাবে, যদি আমরা বৈষম্যহীন স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে না পারি।

সর্বশেষ তিনি বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের শহীদদের প্রত্যেককে শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন। তাদের রক্তের হক আদায় করে, আমাদের একটি সুখী-সমৃদ্ধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ এবং ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার তৌফিক দিন। আমিন।

এবার প্রকাশ্যে ঢাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সিবগাতুল্লাহ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ইস্যুতে যখন আলোচনা তুঙ্গে তখন দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম না চালাতে পারা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা প্রকাশ্যে আসছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোটা সংস্কার ইস্যু থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার পতনের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার। গতকাল (২২ সেপ্টেম্বর) ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ৯ দফার ঘোষক আব্দুল কাদের বিষয়টি সামনে আনেন।

কাদেরের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘৯ দফা প্রচার-প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল ছাত্রশিবির। যেহেতু নেট নেই, গোলাগুলি-কারফিউয়ের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সশরীরে হাউসে হাউসে পৌঁছে দিয়েছে, বিদেশি সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা তারাই করেছে।’

শুধু তাই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রশিবির সেক্রেটারি ফরহাদের সাথে আলোচনা করে এই ৯ দফা তৈরি হয়েছিল বলেও জানান এই সমন্বয়ক।

কাদেরের এই ঘোষণার আগেই সামনে আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েমের নাম। নিজেই ফেসবুক পোস্টে নিজের পরিচয় তুলে ধরেন। এরপর থেকেই শুরু হয় ছাত্রশিবিরকে নিয়ে আলোচনা।

দেশের মানুষ যখন স্বৈরাচার হাসিনা থেকে মুক্তির দিন গুনছিলেন তখন ছাত্রশিবিরের ছেলেরাই পরিচয় গোপন করে একের পর এক কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের  ব্যানারে। 

দীর্ঘ ১৭ বছর পর যখন ঢাবি ছাত্রশিবির শাখার কথা প্রকাশ্যে এলো তখন অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে শুরু করেছে যে, এতো বছর ঢাবিতে ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে কারা ছিলেন। এমনই প্রেক্ষাপটে এবার প্রকাশ্যে আসছেন শিবিরের ঢাবি শাখার বর্তমান ও আগে দায়িত্ব পালন করা নেতারা।

ঢাবি শাখার বর্তমান সভাপতি সাদিক কায়েম প্রকাশ্যে আসার পর একদিন পর গতকাল রোববার প্রকাশ পায় সেক্রেটারি নাম। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সন্বয়ক আব্দুল কাদের হাসিনা পতনে ছাত্রশিবিরের সাহসী ভূমিকা প্রকাশ করতে গিয়ে জানান, ঢাবি ছাত্রশিবির শাখার বর্তমান সেক্রেটারি এস এম ফরহাদ।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় এক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংগঠনটির ঢাবি শাখা কখনই নেতৃত্বহীন ছিল না। প্রতিবছরই কমিটি গঠন হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে এখন  সময় এসেছে সবাইকে সামনে আনা হবে।

জানা যায়, ২০২২-২৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন সিবগাতুল্লাহ। বর্তমানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন তিনি। এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সিবগাতুল্লাহ। বর্তমান ঢাবি শাখার নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রের নিয়মিত যোগাযোগ এবং আন্দোলনের রোডম্যাপ তৈরি সবটুকুই তিনি সমন্বয় করেন। সিবগাতুল্লাহর সঙ্গে সে সময় সেক্রেটারি ছিলেন মো. শাহিনুর রহমান।