সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান নাতি-নাতনিদের সঙ্গ বাড়াতে পারে আয়ু, মানতে হবে যেসব শর্ত শনিবার থেকে সব বাসে জিপিএস বাধ্যতামূলক ইউপি নির্বাচনে এসএসসি-এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলক হয়েছে কিনা, যা জানা গেল এমএসএফের প্রতিবেদন জুলাইয়ে বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যা সিলেটে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ ফোরামের আলোচনা সভা সম্পন্ন ‘ইউথহাব সিলেট’র উদ্যোগে অসহায়দের মধ্যে খাবার বিতরণ এসপিএসের তৃতীয় জাতীয় আলোকচিত্র প্রদর্শনী সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আত্ম প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন ‘‌জাতীয় অতিথি ও প্রশাসনের অংশগ্রহণে রথযাত্রা মহামিলনমেলায় পরিণত’ সরকারে ৫ মাসেই তারেক রহমান, দেশ চালাতে ব্যর্থ হয়েছেন- সিলেটে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী

চিনি ছিনতাইয়ে আরেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪ ১৪৬ বার পড়া হয়েছে

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি :

সিলেটের বিয়ানীবাজারে ৪০০’শ বস্তা চিনি ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিয়ানীবাজার উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির পৌর   ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম শাকেলকে গ্রেফতার করেছে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ। শুক্রবার (২১ জুন) উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের কালাইউরা গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিশ থাকে গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে শাকেল, তাহমিদসহ চারজন’কে গ্রেফতার করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃত আশরাফুল আলম শাকেল পৌর এলাকার শ্রীধরা গ্রামের মৃত ছাইফুল আলমের ছেলে।

গত ৮ জুন উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের লালপুর এলাকায় ৪০০’শ বস্তা ভারতীয় চিনি সরকারি নিলামে কেনা এক ব্যবসায়ীর ট্রাক ভর্তি মালসহ চালক ও তার সহযোগীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুট করে নিয়ে যায় উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা। উক্ত ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরাফুল আলম শাকেল কে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৬ জুন বিয়ানীবাজার উপজেলায় অস্ত্রের মুখে চিনি লুটের কর্মকাণ্ডে বিয়ানীবাজার উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক তাহমিদ ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম শাকেলসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেবদুলাল ধর গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামী জাহিদুল হক তাহমিদকে তদন্তের স্বার্থে বিজ্ঞ আদালতে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, ট্রাকভর্তি চিনি ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার ও অবশিষ্ট ৩২০ বস্তা চিনি উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। বিয়ানীবাজার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেবদুলাল ধর গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চিনি ছিনতাইয়ের ঘটনায় সন্দেহের ভিত্তিতে থাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে। জেলা ও থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত সাকেলকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত অন্য আসামীদের মতো তাকেও রিমাণ্ডের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ট্রাকভর্তি চিনি ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার ও অবশিষ্ট ৩২০ বস্তা চিনি উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। এদিকে, এর আগে এ ঘটনায় গত সোমবার ৮০ বস্তা চিনি ও একটি পিকআপ ভ্যান উদ্ধার এবং গত মঙ্গলবার এজাহারভুক্ত দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তারা হচ্ছে- মো. লিটন মিয়া (২৬)। অন্য আরেক আসামী হাসান (২১)।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (৮ জুন) ভোর ৬টার দিকে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের বিয়ানীবাজার অংশের চারখাই লালপুর এলাকায় সরকারি নিলাম থেকে কেনা বদরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীর ২৪ লাখ টাকার ৪’শত বস্তা চিনি ও চিনি বহনকারী একটি ট্রাক অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত। এরপর থেকে ঝড় উঠে সমগ্র উপজেলাজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। চিনি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় সর্বত্র তোলপাড় শুরু হলেও ঘটনার চারদিন পর ৪’শ বস্তার চিনির বৈধ মালিক দাবি করা ব্যবসায়ী বদরুল ইসলাম থানা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ঘটনার সাথে জড়িত ১১ জনের নামোল্লেখ্যসহ অজ্ঞাত আরো ৭-৮ জনকে আসামী করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চিনি ছিনতাইয়ে আরেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৩:০৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি :

সিলেটের বিয়ানীবাজারে ৪০০’শ বস্তা চিনি ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিয়ানীবাজার উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির পৌর   ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম শাকেলকে গ্রেফতার করেছে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ। শুক্রবার (২১ জুন) উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের কালাইউরা গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিশ থাকে গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে শাকেল, তাহমিদসহ চারজন’কে গ্রেফতার করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃত আশরাফুল আলম শাকেল পৌর এলাকার শ্রীধরা গ্রামের মৃত ছাইফুল আলমের ছেলে।

গত ৮ জুন উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের লালপুর এলাকায় ৪০০’শ বস্তা ভারতীয় চিনি সরকারি নিলামে কেনা এক ব্যবসায়ীর ট্রাক ভর্তি মালসহ চালক ও তার সহযোগীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুট করে নিয়ে যায় উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা। উক্ত ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরাফুল আলম শাকেল কে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৬ জুন বিয়ানীবাজার উপজেলায় অস্ত্রের মুখে চিনি লুটের কর্মকাণ্ডে বিয়ানীবাজার উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক তাহমিদ ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম শাকেলসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেবদুলাল ধর গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামী জাহিদুল হক তাহমিদকে তদন্তের স্বার্থে বিজ্ঞ আদালতে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, ট্রাকভর্তি চিনি ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার ও অবশিষ্ট ৩২০ বস্তা চিনি উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। বিয়ানীবাজার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেবদুলাল ধর গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চিনি ছিনতাইয়ের ঘটনায় সন্দেহের ভিত্তিতে থাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে। জেলা ও থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত সাকেলকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত অন্য আসামীদের মতো তাকেও রিমাণ্ডের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ট্রাকভর্তি চিনি ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার ও অবশিষ্ট ৩২০ বস্তা চিনি উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। এদিকে, এর আগে এ ঘটনায় গত সোমবার ৮০ বস্তা চিনি ও একটি পিকআপ ভ্যান উদ্ধার এবং গত মঙ্গলবার এজাহারভুক্ত দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তারা হচ্ছে- মো. লিটন মিয়া (২৬)। অন্য আরেক আসামী হাসান (২১)।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (৮ জুন) ভোর ৬টার দিকে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের বিয়ানীবাজার অংশের চারখাই লালপুর এলাকায় সরকারি নিলাম থেকে কেনা বদরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীর ২৪ লাখ টাকার ৪’শত বস্তা চিনি ও চিনি বহনকারী একটি ট্রাক অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত। এরপর থেকে ঝড় উঠে সমগ্র উপজেলাজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। চিনি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় সর্বত্র তোলপাড় শুরু হলেও ঘটনার চারদিন পর ৪’শ বস্তার চিনির বৈধ মালিক দাবি করা ব্যবসায়ী বদরুল ইসলাম থানা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ঘটনার সাথে জড়িত ১১ জনের নামোল্লেখ্যসহ অজ্ঞাত আরো ৭-৮ জনকে আসামী করা হয়।