সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে সেমিনারে সিসিক প্রশাসক সিলেট থেকে শুরু ‘রবি বোলারহান্ট’-এর ট্রায়াল শুরু বাউল বশিরউদ্দিন স্মরণ অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক সিলেটে আসা পর্যটকদের ভ্রমণ তালিকার শীর্ষে জাফলং,পর্যটনকেন্দ্র থেকে অবাধে পাথরলুট ও পরিবেশ ধ্বংসের কারণে প্রকৃতির বিনাশ- সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ারগানের অনাকাঙ্ক্ষিত ফায়ারে ক্লিনার আহত সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে পাখি তাড়াতে গুলি, আহত পরিচ্ছন্নতাকর্মী অসময়ে মেলা আয়োজন করলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে’- মন্ত্রী আরিফুল হক সিলেটে আটক ২৭ যানবাহন, মামলা ২১ সিলেট জকিগঞ্জ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ,আটক ২ সাক্ষরতার হার ও শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে সিলেট পিছিয়ে রয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী 

বাউল বশিরউদ্দিন স্মরণ অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৪:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেটের বাউল-সাধকদের সৃষ্টি
নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন।

সিলেটের বাউল-সাধক ও গীতিকবিদের গান শুধু সিলেট বা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; পশ্চিমবঙ্গসহ বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছেও এসব গান ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। সিলেটের বাউল-সাধকদের গান ও সৃষ্টির যথাযথ সংরক্ষণ এবং গবেষণার মাধ্যমে এই সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট নজরুল একাডেমী মিলনায়তনে বাউল বশিরউদ্দিনের শ্রদ্ধা ও স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এসব কথা বলেন।

সিসিক প্রশাসক বলেন, সিলেটের পরিচয়ের সঙ্গে চা, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদের পাশাপাশি এ অঞ্চলের বাউল-সাধক ও গীতিকবিদের সৃষ্টিও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। আব্দুল করিমসহ সিলেটের বহু বাউল ও গীতিকবি তাঁদের গান ও সুরের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন, দর্শন ও অনুভূতিকে তুলে ধরেছেন। তাঁদের গান দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

তিনি বলেন, সিলেটের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির এই সমৃদ্ধ ধারাকে আরও গভীরভাবে জানতে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গবেষক এবং একাডেমিশিয়ানদের এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সিলেটের গীতিকবি, সুরকার ও বাউল-সাধকদের জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রামাণ্য গবেষণা হলে তাঁদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ভালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ইতোমধ্যে যারা সিলেটের লোকসংগীত ও বাউলগান নিয়ে গবেষণা করেছেন, তাঁদের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। এ ধরনের গবেষণা আরও বিস্তৃত হলে সিলেটের মাটিতে কীভাবে এসব গান ও লোকসংগীতের সৃষ্টি হয়েছে, কীভাবে তা মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে—সে ইতিহাস সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, সিলেটের বাউল ও লোকসংগীতের ঐতিহ্য সংরক্ষণে আয়োজিত যেকোনো উদ্যোগে তাঁর অবস্থান থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। ডিসেম্বর মাসে বাউল মেলা বা বাউল সম্মেলন আয়োজনের যে উদ্যোগের কথা অনুষ্ঠানে বলা হয়েছে, সেটিও সফল করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, যারা এই সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে দিয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তাঁদের স্মরণ করা আমাদের দায়িত্ব। তাঁদের সৃষ্টি ও কর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার মধ্য দিয়েই তাঁদের প্রতি যথাযথ সম্মান জানানো সম্ভব।

উস্তাদ নিশিকান্ত দাস শিল্পী গোষ্ঠী আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক সুমনকুমার দাশ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আমিরুল ইসলাম চৌধুরী বাবু, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের প্রধান পরিচালক শামসুল বাসিত শেরো প্রমুখ।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বাউল শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাউল বশিরউদ্দিন স্মরণ অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক

আপডেট সময় : ০৮:৫৪:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেটের বাউল-সাধকদের সৃষ্টি
নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন।

সিলেটের বাউল-সাধক ও গীতিকবিদের গান শুধু সিলেট বা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; পশ্চিমবঙ্গসহ বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছেও এসব গান ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। সিলেটের বাউল-সাধকদের গান ও সৃষ্টির যথাযথ সংরক্ষণ এবং গবেষণার মাধ্যমে এই সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট নজরুল একাডেমী মিলনায়তনে বাউল বশিরউদ্দিনের শ্রদ্ধা ও স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এসব কথা বলেন।

সিসিক প্রশাসক বলেন, সিলেটের পরিচয়ের সঙ্গে চা, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদের পাশাপাশি এ অঞ্চলের বাউল-সাধক ও গীতিকবিদের সৃষ্টিও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। আব্দুল করিমসহ সিলেটের বহু বাউল ও গীতিকবি তাঁদের গান ও সুরের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন, দর্শন ও অনুভূতিকে তুলে ধরেছেন। তাঁদের গান দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

তিনি বলেন, সিলেটের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির এই সমৃদ্ধ ধারাকে আরও গভীরভাবে জানতে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গবেষক এবং একাডেমিশিয়ানদের এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সিলেটের গীতিকবি, সুরকার ও বাউল-সাধকদের জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রামাণ্য গবেষণা হলে তাঁদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ভালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ইতোমধ্যে যারা সিলেটের লোকসংগীত ও বাউলগান নিয়ে গবেষণা করেছেন, তাঁদের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। এ ধরনের গবেষণা আরও বিস্তৃত হলে সিলেটের মাটিতে কীভাবে এসব গান ও লোকসংগীতের সৃষ্টি হয়েছে, কীভাবে তা মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে—সে ইতিহাস সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, সিলেটের বাউল ও লোকসংগীতের ঐতিহ্য সংরক্ষণে আয়োজিত যেকোনো উদ্যোগে তাঁর অবস্থান থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। ডিসেম্বর মাসে বাউল মেলা বা বাউল সম্মেলন আয়োজনের যে উদ্যোগের কথা অনুষ্ঠানে বলা হয়েছে, সেটিও সফল করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, যারা এই সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে দিয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তাঁদের স্মরণ করা আমাদের দায়িত্ব। তাঁদের সৃষ্টি ও কর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার মধ্য দিয়েই তাঁদের প্রতি যথাযথ সম্মান জানানো সম্ভব।

উস্তাদ নিশিকান্ত দাস শিল্পী গোষ্ঠী আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক সুমনকুমার দাশ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আমিরুল ইসলাম চৌধুরী বাবু, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের প্রধান পরিচালক শামসুল বাসিত শেরো প্রমুখ।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বাউল শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।