সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ৬ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো ভারত নিরাপদ আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে- সিলেটে গৃহায়ণ মন্ত্রী সিলেটে পরকীয়া’ নিয়ে কথার জেরে ব্যবসায়ী খুন সিলেটের জকিগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১ আলোর দিশারী হয়ে এসেছিলেনহযরত মুহাম্মদ (সা.) আলোচনা সভায় সিসিক প্রশাসক সিলেটের বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের অভিযানে ৭৫০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ হবিগঞ্জ সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল (ডিবি) কর্তৃক টাকা ও মোবাইল উদ্ধার সিলেট মঙ্গলবার আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী– সিলেট ২৪ ঘন্টায় বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৯ মেয়েদের সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর উদ্যোগ

হবিগঞ্জে কৃষি ও মৎস্যখাতে ৭০ কোটি টাকার ক্ষতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ৬৬ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় আউশ ধানের ক্ষেত, শাকসবজি, ফলের বাগান এবং সহস্রাধিক মাছের ঘের ও পুকুর। 

কৃষি ও মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে এই দুই খাতে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ৭০ কোটি টাকারও বেশি। তবে পুরো এলাকার পানি নেমে গেলে বাড়বে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষীরা আবারো ঘুরে দাড়াতে দ্রুত সরকারি সহায়তা দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায় জেলায় আকষ্মিক বন্যায় বাড়ির ঘরসহ নানা ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে সবছেয়ে বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে কৃষি ও মৎস্যখাতে। বন্যার পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় বিস্তীর্ণ জমি ও মৎস্য ঘের তলিয়ে যায়। পানির নিচে চলে যায় আউশ ধানের ক্ষেত, শাকসবজির আবাদ মাছের ঘের ও বিভিন্ন ফলের বাগান। 

হবিগঞ্জ কৃষি বিভাগের দেয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় প্রায় ৬৯৭ হেক্টর আউশ ধান, ১৩১ হেক্টর শাকসবজি এবং ২০ হেক্টর ফলের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষি খাতেই ২০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষকের মৌসুমজুড়ে করা পরিশ্রমের ফসল এক নিমিষেই নষ্ট হয়ে গেছে।

শুধু কৃষিই নয়, ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে মৎস্য খাতও। বন্যার পানিতে সহস্রাধিক মাছের খামার, পুকুর ও ঘের তলিয়ে গেছে। প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে চাষ করা মাছ। মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, মাছ ভেসে যাওয়ায় অন্তত ৫০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকটে পড়েছেন শত শত মৎস্যচাষী। যদিও মৎস্য চাষীরা সরকারের দ্রুত সহযোগীতা কামনা করেছেন। 

হবিগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরীফুল আলম বলেন, জেলার ৪টি উপজেলায় ১ হাজার ৪শত ৫৩টি মাছের পুকুর ঘের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে ৬শ ১৩ মেট্রিকটন মাছ ভেসে গেছে। এছাড়াও বন্যার পানিতে প্রায় সাড়ে ৪শত কোটি পোনা ভেসে গেছে। তিনি বলেন- প্রাথমিক ভাবে ৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমান আরো বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্থদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে। বরাদ্দ সাপেক্ষ সহায়তা প্রদান করা হবে।  

হবিগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম বলেন, আউশ ধান, শাকসবজি এবং ফলের বাগানসহ হাঁস-মুরগি, পোল্ট্রি খামারের ক্ষতি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে এখনও চলছে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজ। তবে এরই মধ্যে যতটুকু জানা গেছে কৃষিখাতে অন্তত ২০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হবিগঞ্জে কৃষি ও মৎস্যখাতে ৭০ কোটি টাকার ক্ষতি

আপডেট সময় : ০১:৪৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় আউশ ধানের ক্ষেত, শাকসবজি, ফলের বাগান এবং সহস্রাধিক মাছের ঘের ও পুকুর। 

কৃষি ও মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে এই দুই খাতে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ৭০ কোটি টাকারও বেশি। তবে পুরো এলাকার পানি নেমে গেলে বাড়বে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষীরা আবারো ঘুরে দাড়াতে দ্রুত সরকারি সহায়তা দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায় জেলায় আকষ্মিক বন্যায় বাড়ির ঘরসহ নানা ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে সবছেয়ে বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে কৃষি ও মৎস্যখাতে। বন্যার পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় বিস্তীর্ণ জমি ও মৎস্য ঘের তলিয়ে যায়। পানির নিচে চলে যায় আউশ ধানের ক্ষেত, শাকসবজির আবাদ মাছের ঘের ও বিভিন্ন ফলের বাগান। 

হবিগঞ্জ কৃষি বিভাগের দেয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় প্রায় ৬৯৭ হেক্টর আউশ ধান, ১৩১ হেক্টর শাকসবজি এবং ২০ হেক্টর ফলের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষি খাতেই ২০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষকের মৌসুমজুড়ে করা পরিশ্রমের ফসল এক নিমিষেই নষ্ট হয়ে গেছে।

শুধু কৃষিই নয়, ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে মৎস্য খাতও। বন্যার পানিতে সহস্রাধিক মাছের খামার, পুকুর ও ঘের তলিয়ে গেছে। প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে চাষ করা মাছ। মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, মাছ ভেসে যাওয়ায় অন্তত ৫০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকটে পড়েছেন শত শত মৎস্যচাষী। যদিও মৎস্য চাষীরা সরকারের দ্রুত সহযোগীতা কামনা করেছেন। 

হবিগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরীফুল আলম বলেন, জেলার ৪টি উপজেলায় ১ হাজার ৪শত ৫৩টি মাছের পুকুর ঘের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে ৬শ ১৩ মেট্রিকটন মাছ ভেসে গেছে। এছাড়াও বন্যার পানিতে প্রায় সাড়ে ৪শত কোটি পোনা ভেসে গেছে। তিনি বলেন- প্রাথমিক ভাবে ৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমান আরো বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্থদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে। বরাদ্দ সাপেক্ষ সহায়তা প্রদান করা হবে।  

হবিগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম বলেন, আউশ ধান, শাকসবজি এবং ফলের বাগানসহ হাঁস-মুরগি, পোল্ট্রি খামারের ক্ষতি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে এখনও চলছে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজ। তবে এরই মধ্যে যতটুকু জানা গেছে কৃষিখাতে অন্তত ২০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।