সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট ভারতীয় পণ্য ও গ্রেফতার দুই সিলেটে মাদক ব্যবসায়ীসহ গ্রেপ্তার ৮৪ সিলেটে গত ২৪ ঘন্টায় হামে ১ শিশুর মৃত্যু হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর বাঁধ ভাঙন, ফসলি জমি প্লাবিত সিলেটে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা সুরমা নদীর তীর উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসকঐতিহ্য রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর কুলাউড়া উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে কুলাউড়া গোগালী ছড়া বাঁধ ভেঙে ১৫ গ্রাম প্লাবিত সিলেট ভারতীয় মসলার চালান উদ্ধার সিলেটের পীরমহল্লা থেকে অস্ত্রসহ আটক ১ সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ১, ভর্তি ৪৩

সিলেটে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জালিয়াতি, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

এমবিবিএস কোর্সে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে দরিদ্র ও অনগ্রসর কোটায় জালিয়াতির মাধ্যমে সিলেটের পার্কভিউ মেডিক্যাল কলেজে তারিক হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। ওই শিক্ষার্থীকে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির ব্যাপারে সহযোগীতা করেন মেডিক্যাল কলেজের এক টেকনোলজিস্ট। যার জন্য তার মেয়েকে বিয়ে দেয়া হয় ওই শিক্ষার্থীর সাথে।

জানা গেছে, মো. তারিফ হোসেন (রোল: ৩৮০৫৭১৫) নামে ওই শিক্ষার্থী দরিদ্র কোটায় পার্কভিউ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ৪৮ হাজার ২৩৪। টেস্ট স্কোর ছিল ৫৪ আর মেরিট স্কোর ২৪৯। মেধা তালিকা অনুযায়ী কলেজটিতে ভর্তির জন্য তাঁর অবস্থান নিচের দিকে ছিল।

অভিযোগে বলা হয়েছে, দরিদ্র বা অনগ্রসর কোটায় ভর্তির যোগ্যতা না থাকার পরও তথ্য গোপন ও জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি ওই কোটায় ভর্তি হন এবং বর্তমানে সেখানে অধ্যয়ন করছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, এ কাজে কলেজের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. শহিদুল ইসলামের সহযোগিতা ছিল। ভর্তির বিনিময়ে ওই টেকনোলজিস্টের অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে বিয়ে করতে তাঁকে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এই অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ভর্তির সুযোগ না পাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-১ শাখা থেকে গত ২৭ জানুয়ারি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। 

চিঠিতে বলা হয়, দরিদ্র ও মেধাবী অসচ্ছল কোটায় ভর্তির যোগ্যতা না থাকার পরও তথ্য গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে মো. তারিফ হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী পার্কভিউ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছেন। চিঠিতে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় তথ্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে পার্কভিউ মেডিকেল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক দিলীপ কুমার ভৌমিক বলেন, বিষয়টি মনে নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। তবে দরিদ্র কোটায় ভর্তি হলে শিক্ষার্থীদের দেওয়া কাগজপত্র যাচাই করা হয়।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তারিফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। 

পার্কভিউ মেডিকেল কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ডা. শাহাবুদ্দিন বলেন, এমন অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জালিয়াতি, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

আপডেট সময় : ১১:৩২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার :

এমবিবিএস কোর্সে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে দরিদ্র ও অনগ্রসর কোটায় জালিয়াতির মাধ্যমে সিলেটের পার্কভিউ মেডিক্যাল কলেজে তারিক হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। ওই শিক্ষার্থীকে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির ব্যাপারে সহযোগীতা করেন মেডিক্যাল কলেজের এক টেকনোলজিস্ট। যার জন্য তার মেয়েকে বিয়ে দেয়া হয় ওই শিক্ষার্থীর সাথে।

জানা গেছে, মো. তারিফ হোসেন (রোল: ৩৮০৫৭১৫) নামে ওই শিক্ষার্থী দরিদ্র কোটায় পার্কভিউ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ৪৮ হাজার ২৩৪। টেস্ট স্কোর ছিল ৫৪ আর মেরিট স্কোর ২৪৯। মেধা তালিকা অনুযায়ী কলেজটিতে ভর্তির জন্য তাঁর অবস্থান নিচের দিকে ছিল।

অভিযোগে বলা হয়েছে, দরিদ্র বা অনগ্রসর কোটায় ভর্তির যোগ্যতা না থাকার পরও তথ্য গোপন ও জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি ওই কোটায় ভর্তি হন এবং বর্তমানে সেখানে অধ্যয়ন করছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, এ কাজে কলেজের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. শহিদুল ইসলামের সহযোগিতা ছিল। ভর্তির বিনিময়ে ওই টেকনোলজিস্টের অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে বিয়ে করতে তাঁকে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এই অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ভর্তির সুযোগ না পাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-১ শাখা থেকে গত ২৭ জানুয়ারি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। 

চিঠিতে বলা হয়, দরিদ্র ও মেধাবী অসচ্ছল কোটায় ভর্তির যোগ্যতা না থাকার পরও তথ্য গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে মো. তারিফ হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী পার্কভিউ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছেন। চিঠিতে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় তথ্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে পার্কভিউ মেডিকেল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক দিলীপ কুমার ভৌমিক বলেন, বিষয়টি মনে নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। তবে দরিদ্র কোটায় ভর্তি হলে শিক্ষার্থীদের দেওয়া কাগজপত্র যাচাই করা হয়।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তারিফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। 

পার্কভিউ মেডিকেল কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ডা. শাহাবুদ্দিন বলেন, এমন অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।