সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস’ এবং ‘জাতীয় প্রবাসী দিবস’ উদযাপনের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত সিলেট ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দু’আ মাহফিল পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুকরণীয় মডেল-বিভাগীয় কমিশনার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ১০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের সাজা ‘সমন্বিত উদ্যোগেই গড়ে উঠবে আধুনিক সিলেট’ – বাণিজ্যমন্ত্রী ত্রিতরঙ্গের বাদল সাঁঝের বর্ণাঢ্য আয়োজন ‘শ্রাবনের মেঘগুলো’ সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই সিলেটি সিলেট আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩৫১ জন

নারী দিবসে থিম রঙ ‘বেগুনি’ব্যবহারের ইতিহাস কী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ১১৬ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ রোববার (৮ মার্চ) পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। 

আন্তর্জাতিক নারী দিবস এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন প্রচারণা পোস্টার এবং আয়োজনগুলোতে একটি রঙ বারবার সামনে আসে—বেগুনি বা পার্পল। অনেকেই এদিন বেগুনি পোশাক পরেন, ব্যাজ বা রিবন ব্যবহার করেন। কিন্তু কেন এ রঙ নারী দিবসের প্রতীক হয়ে উঠল—তা অনেকেরই অজানা।

নারী অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে এর সূত্র পাওয়া যায় বিংশ শতাব্দীর শুরুতে। সেই সময় যুক্তরাজ্যে নারীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করছিল একটি সংগঠন—উইমেনস সোশ্যাল অ্যান্ড পলিটিকাল ইউনিয়ন। তাদের আন্দোলনের প্রতীক ছিল তিনটি রঙ—বেগুনি, সাদা ও সবুজ। সংগঠনটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বেগুনি ছিল মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক, সাদা পবিত্রতার এবং সবুজ আশার প্রতীক।

পরবর্তীতে এ রঙগুলো ধীরে ধীরে নারী অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনের ক্ষেত্রেও বেগুনি রঙ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিসরে নারী দিবসের প্রতীকী রঙ হিসেবে বেগুনিকেই বেশি ব্যবহার করা হয়, যা নারীর মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়নের বার্তা বহন করে।

বেগুনি রঙের গুরুত্ব শুধু আন্দোলনের ইতিহাসেই সীমাবদ্ধ নয়। সংস্কৃতি ও শিল্পকলার ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে এই রঙকে বিশেষ অর্থবহ হিসেবে দেখা হয়। ঐতিহাসিকভাবে বেগুনি রাজকীয়তা ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। অনেক সংস্কৃতিতে এটি শক্তি, আত্মমর্যাদা এবং সৃজনশীলতার প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

মনোবিজ্ঞানের গবেষণাতেও রঙের প্রভাব নিয়ে আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, রঙ মানুষের অনুভূতি ও আচরণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বেগুনি রঙকে অনেক সময় সৃজনশীলতা, সংবেদনশীলতা এবং মর্যাদাবোধের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। মনোবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণেও বলা হয়, রঙ মানুষের আবেগ ও উপলব্ধির সঙ্গে প্রতীকী সম্পর্ক তৈরি করতে সক্ষম।

তাই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বেগুনি রঙ ব্যবহার করা শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি নারী অধিকার আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস, সংগ্রাম এবং সমতার ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার একটি প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হয়। বেগুনি রঙের একটি ব্যাজ বা পোশাক তাই অনেক সময় একটি সামাজিক আন্দোলনের স্মারক হয়ে ওঠে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নারী দিবসে থিম রঙ ‘বেগুনি’ব্যবহারের ইতিহাস কী

আপডেট সময় : ০৩:১৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ রোববার (৮ মার্চ) পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। 

আন্তর্জাতিক নারী দিবস এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন প্রচারণা পোস্টার এবং আয়োজনগুলোতে একটি রঙ বারবার সামনে আসে—বেগুনি বা পার্পল। অনেকেই এদিন বেগুনি পোশাক পরেন, ব্যাজ বা রিবন ব্যবহার করেন। কিন্তু কেন এ রঙ নারী দিবসের প্রতীক হয়ে উঠল—তা অনেকেরই অজানা।

নারী অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে এর সূত্র পাওয়া যায় বিংশ শতাব্দীর শুরুতে। সেই সময় যুক্তরাজ্যে নারীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করছিল একটি সংগঠন—উইমেনস সোশ্যাল অ্যান্ড পলিটিকাল ইউনিয়ন। তাদের আন্দোলনের প্রতীক ছিল তিনটি রঙ—বেগুনি, সাদা ও সবুজ। সংগঠনটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বেগুনি ছিল মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক, সাদা পবিত্রতার এবং সবুজ আশার প্রতীক।

পরবর্তীতে এ রঙগুলো ধীরে ধীরে নারী অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনের ক্ষেত্রেও বেগুনি রঙ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিসরে নারী দিবসের প্রতীকী রঙ হিসেবে বেগুনিকেই বেশি ব্যবহার করা হয়, যা নারীর মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়নের বার্তা বহন করে।

বেগুনি রঙের গুরুত্ব শুধু আন্দোলনের ইতিহাসেই সীমাবদ্ধ নয়। সংস্কৃতি ও শিল্পকলার ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে এই রঙকে বিশেষ অর্থবহ হিসেবে দেখা হয়। ঐতিহাসিকভাবে বেগুনি রাজকীয়তা ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। অনেক সংস্কৃতিতে এটি শক্তি, আত্মমর্যাদা এবং সৃজনশীলতার প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

মনোবিজ্ঞানের গবেষণাতেও রঙের প্রভাব নিয়ে আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, রঙ মানুষের অনুভূতি ও আচরণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বেগুনি রঙকে অনেক সময় সৃজনশীলতা, সংবেদনশীলতা এবং মর্যাদাবোধের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। মনোবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণেও বলা হয়, রঙ মানুষের আবেগ ও উপলব্ধির সঙ্গে প্রতীকী সম্পর্ক তৈরি করতে সক্ষম।

তাই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বেগুনি রঙ ব্যবহার করা শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি নারী অধিকার আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস, সংগ্রাম এবং সমতার ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার একটি প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হয়। বেগুনি রঙের একটি ব্যাজ বা পোশাক তাই অনেক সময় একটি সামাজিক আন্দোলনের স্মারক হয়ে ওঠে।