সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান ট্রাফিক সপ্তাহ-২০২৬ এর সফল বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য সিলেট মহানগরীর সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ডিসি সারওয়ারকে পদায়ন করল সরকার সিলেটে ভারী বর্ষণ, সুরমা ও কুশিয়ারার ১২ দশমিক ০২ মিটার উচ্চতায় পানি বাড়ছে সিলেটের দুই মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, নতুন দানবাক্স স্থাপন ও পূর্বের ডেগ ও দানবাক্স সিলগালা সিলেটে ভারতের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও ঢলের কারণে তলিয়ে গেছে পর্যটনকেন্দ্র, সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যাহার সিলেটে হামের উপসর্গে প্রাণ গেল তিন শিশুর সিলেটে শুভ উপনয়ন-সংস্কার অনুষ্ঠান ১৯ জুন মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান; যুবক আটক সিসিকের প্রশাসককে স্মারক উপহার দিল ইউএস বাংলা 

সিলেটের নগরজীবনে ফিরেছে পুরানো সমস্যা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫ ৫২ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

আবারও নতুন রূপে পুরানো সমস্যা ফিরেছে সিলেটের নাগরিক জীবনে। আর এ সমস্যার আগুনে পুড়ছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। এমনকি নিম্ন, মধ্যবিত্তের জীবনও এখন রীতিমতো অতিষ্ঠ। কারণ, রিকশাভাড়া অসহায় নাগরিকদের কাছ থেকে এখন দ্বিগুণ বা আড়াই গুণ ভাড়া আদায় করছে প্যাডেলচালিত রিকশা চালকরা। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ চাইছেন সাধারণ নগরবাসী।

সিলেটের নাগরিক জীবনে স্বাচ্ছন্দ নিশ্চিতে ও যানজটমুক্ত নগরী গড়তে মহানগরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। শুধু নিষিদ্ধই নয়, সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে প্রচুর ব্যাটারিচালিত রিকশা ডাম্পিং করা হয়েছে। এমনকি, গ্যারেজেও অভিযান চালিয়ে চার্জিং পয়েন্ট, বিদ্যুতের মিটার জব্দ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টদের এমন অভিযানের প্রেক্ষিতে স্বস্তি নেমে আসে নাগরিক অভিযানে। অনেক রিকশাচালক তাদের রিকশা ট্রাকে বা ভ্যানে করে সরিয়ে নিয়েছেন অন্য কোথাও। মোটামুটি সিলেট মহানগরীতে এখন আর ব্যাটারিচালিত রিকশা তেমন আতঙ্কের নয়, যদিও রাতে এবং ছুটির দিনগুলোতে এখনো এ জাতীয় যানবাহনগুলোর দেখা মিলছে।

এমন যখন অবস্থা, তখন নতুন রূপে ফিরে এসেছে পুরানো সমস্যা। অন্তত নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন এখন রীতিমতো অসহনীয় অবস্থায় পৌঁছেছে। কারণ, প্যাডেলচালিত রিকশা চালকদের অযৌক্তি ভাড়া দাবি।

যেমন, এক মাস আগে নগরীর ইলেক্ট্রি সাপ্লাই রোডের নূরে আলা কমিউনিটি সেন্টারের সামনা থেকে জিন্দবাজার বারুতখানা পয়েন্ট পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত রিকশার ভাড়া ছিল ৩০ টাকা। এখন প্যাডেলচালিত রিকশার ভাড়া চাওয়া হয় ৬০ টাকা। কমপক্ষে ৫০ টাকায় রফা হয়। আবার কাজিটুলা বাজার থেকে বারুতখানা পয়েন্টের ভাড়া আগে ২০ টাকায় হয়ে গেলেও এখন দিতে হয় ৪০ টাকা। একেবারে কম হলেও দিতে হচ্ছে ৩০ টাকা।

আর সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের সম্পর্কেতো সবাই অবগত। ঝুপ বুঝে কোপ মারতে তারা ওস্তাদ। দু’একজন ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সবাই ১০টাকার ভাড়া ২০ টাকা আর ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা আদায় তাদের কাছে খুবই স্বাভাবিক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর প্রায় সব রাস্তাতেই রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে এমন নৈরাজ্য চলছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় দেখছেন না নিম্ন আয়ের মানুষ।

তাছাড়া নতুন করে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নির্ধারণ করাও জরুরী।

তবে ভাড়া নির্ধারণ করলেও সিলেটের রিকশা বা সিএনজিচালকদের নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব। তারা সবসময়ই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে তৎপর। তাদের নিয়ন্ত্রণ করার তেমন কোনো উপায়ও নেই।

সচেতন মহল মনে করছেন, গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নির্ধরণ করতে হবে। আর সেই নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া চাইলে চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার একটা ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাহলেই কেবল তাদের এমন নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজা-ই রাফিন সরকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। জেলা প্রশাসন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ প্রশাসন মিলে সবার সঙ্গে আলোচনা করে আমরা একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করব। যতদ্রত সম্ভব তা করা হবে।

এদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরুর সময় সিলেটের নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নতুন করে নির্ধারণ করা হবে।

আগেরমত নগরীর প্রায় সব রাস্তার পাশে প্রতিটি পয়েন্টে রিকশা ও সিএনজিচালিত ভাড়ার তালিকার সাইনবোর্ড করে দেয়া হলে কোন যান চালক অতিরিক্ত ভাড়া নিতে পারবে না। বিষয়টি সচেতন মহল মনে করেন রিকশাভাড়াও পূণঃনির্ধারণ করা বা নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো সমাধানের ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগ নেয়া জরুরী আবশ্যক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটের নগরজীবনে ফিরেছে পুরানো সমস্যা

আপডেট সময় : ০১:৫৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার :

আবারও নতুন রূপে পুরানো সমস্যা ফিরেছে সিলেটের নাগরিক জীবনে। আর এ সমস্যার আগুনে পুড়ছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। এমনকি নিম্ন, মধ্যবিত্তের জীবনও এখন রীতিমতো অতিষ্ঠ। কারণ, রিকশাভাড়া অসহায় নাগরিকদের কাছ থেকে এখন দ্বিগুণ বা আড়াই গুণ ভাড়া আদায় করছে প্যাডেলচালিত রিকশা চালকরা। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ চাইছেন সাধারণ নগরবাসী।

সিলেটের নাগরিক জীবনে স্বাচ্ছন্দ নিশ্চিতে ও যানজটমুক্ত নগরী গড়তে মহানগরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। শুধু নিষিদ্ধই নয়, সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে প্রচুর ব্যাটারিচালিত রিকশা ডাম্পিং করা হয়েছে। এমনকি, গ্যারেজেও অভিযান চালিয়ে চার্জিং পয়েন্ট, বিদ্যুতের মিটার জব্দ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টদের এমন অভিযানের প্রেক্ষিতে স্বস্তি নেমে আসে নাগরিক অভিযানে। অনেক রিকশাচালক তাদের রিকশা ট্রাকে বা ভ্যানে করে সরিয়ে নিয়েছেন অন্য কোথাও। মোটামুটি সিলেট মহানগরীতে এখন আর ব্যাটারিচালিত রিকশা তেমন আতঙ্কের নয়, যদিও রাতে এবং ছুটির দিনগুলোতে এখনো এ জাতীয় যানবাহনগুলোর দেখা মিলছে।

এমন যখন অবস্থা, তখন নতুন রূপে ফিরে এসেছে পুরানো সমস্যা। অন্তত নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন এখন রীতিমতো অসহনীয় অবস্থায় পৌঁছেছে। কারণ, প্যাডেলচালিত রিকশা চালকদের অযৌক্তি ভাড়া দাবি।

যেমন, এক মাস আগে নগরীর ইলেক্ট্রি সাপ্লাই রোডের নূরে আলা কমিউনিটি সেন্টারের সামনা থেকে জিন্দবাজার বারুতখানা পয়েন্ট পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত রিকশার ভাড়া ছিল ৩০ টাকা। এখন প্যাডেলচালিত রিকশার ভাড়া চাওয়া হয় ৬০ টাকা। কমপক্ষে ৫০ টাকায় রফা হয়। আবার কাজিটুলা বাজার থেকে বারুতখানা পয়েন্টের ভাড়া আগে ২০ টাকায় হয়ে গেলেও এখন দিতে হয় ৪০ টাকা। একেবারে কম হলেও দিতে হচ্ছে ৩০ টাকা।

আর সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের সম্পর্কেতো সবাই অবগত। ঝুপ বুঝে কোপ মারতে তারা ওস্তাদ। দু’একজন ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সবাই ১০টাকার ভাড়া ২০ টাকা আর ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা আদায় তাদের কাছে খুবই স্বাভাবিক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর প্রায় সব রাস্তাতেই রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে এমন নৈরাজ্য চলছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় দেখছেন না নিম্ন আয়ের মানুষ।

তাছাড়া নতুন করে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নির্ধারণ করাও জরুরী।

তবে ভাড়া নির্ধারণ করলেও সিলেটের রিকশা বা সিএনজিচালকদের নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব। তারা সবসময়ই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে তৎপর। তাদের নিয়ন্ত্রণ করার তেমন কোনো উপায়ও নেই।

সচেতন মহল মনে করছেন, গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নির্ধরণ করতে হবে। আর সেই নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া চাইলে চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার একটা ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাহলেই কেবল তাদের এমন নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজা-ই রাফিন সরকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। জেলা প্রশাসন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ প্রশাসন মিলে সবার সঙ্গে আলোচনা করে আমরা একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করব। যতদ্রত সম্ভব তা করা হবে।

এদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরুর সময় সিলেটের নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নতুন করে নির্ধারণ করা হবে।

আগেরমত নগরীর প্রায় সব রাস্তার পাশে প্রতিটি পয়েন্টে রিকশা ও সিএনজিচালিত ভাড়ার তালিকার সাইনবোর্ড করে দেয়া হলে কোন যান চালক অতিরিক্ত ভাড়া নিতে পারবে না। বিষয়টি সচেতন মহল মনে করেন রিকশাভাড়াও পূণঃনির্ধারণ করা বা নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো সমাধানের ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগ নেয়া জরুরী আবশ্যক।