সিলেট বেদখলে ফুটপাত, নগরজুড়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ
- আপডেট সময় : ০৫:৫১:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১০৯ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার :
সরকার পরিবর্তনের পর হকাররা আরও এক ধাপ এগিয়ে দখল করে বসেছেন একেবারে মাঝরাস্তা পর্যন্ত। যানবাহনগুলো কোনোরকমে রাস্তার একপাশ দিয়ে চলাচল করছে। এতে যানজটের মাত্রা আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। এ অবস্থায়ও নীরব ভ‚মিকায় দেখা গেছে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের। এ নিয়ে জনমনেও ক্ষোভ বাড়ছে।
সিলেট নগরেজুড়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখলে নিয়েছে হকাররা। দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রাস্তার দুপাশ দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছে কয়েক হাজার ভাসমান হকার। নগরীর সড়কগুলোতে এখন হেঁটেচলাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। তার মাঝে সিএনজিচালিত অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড দুর্ভোগের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এ বিষয়টি নিয়ে নিরব ভ‚মিকায় মহানগর পুলিশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন ৫ আগস্ট প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের আগে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্বে ছিলেন। ফলে নগরীর পরিস্থিতি অনেকখানি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর এলোমেলো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, নগরের বন্দরবাজার, সিটি পয়েন্ট, সুরমা মার্কেট, জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, লালদীঘিরপাড়, মদিনা মার্কেট, আম্বরখানা, উপশহর ও টিলাগড় এলাকার ফুটপাত এবং মূল সড়কের দুই পাশ দখল করে ভাসমান ব্যবসায়ীরা নিজেদের পসরা সাজিয়েছেন। এ অবস্থায় পথচারীদের হেঁটেচলাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এসব এলাকা ছাড়াও নগরের আম্বরখানা থেকে সুরমা পয়েন্ট, তালতলা থেকে ধোপাদিঘীরপাড় পুরোটাই হকারদের দখলে চলে গেছে। এখন ফুটপাতে শাকসবজি, ফলমূল, কাপড়চোপড়, জুতা ও প্রসাধনসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। মূল রাস্তার উপর গাড়ি দাঁড় করে অবৈধ স্ট্যান্ড ও যাত্রী উঠা-নামা করছে পরিবহণ শ্রমিকরা।
নগর ভবনের সামনের সড়কের ফুটপাত দখলের পাশাপাশি মূল সড়কেও বসানো হয়েছে দোকান। বন্দরবাজার, জেলরোডের সামনের সড়ক, মহাজনপট্টি, ওসমানী শিশু পার্ক পর্যন্ত এলাকার অবস্থা আরও ভয়াবহ। আধা কিলো সড়কের দুপাশ দখল করে দোকান বসানো হয়েছে।
আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে বিমানবন্দর সড়ক, দরগাহ মাজার সড়কের কোথাও একপাশ আবার কোথাও দুপাশ দখল হয়ে গেছে। বাকি রাস্তায় অবৈধ স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। মূল সড়কে যানবাহন দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হচ্ছে। এ অবস্থায় পুরো পুরো নগরীজুড়েই তৈরি হয়েছে যানজট। মাত্র পাঁচ মিনিটে অতিক্রম করা যাবে এমন সড়ক পার হতে লাগছে আধা ঘণ্টা।
বিশৃঙ্খল পরিবেশ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও পথচারীরা। তারা বলছেন, শহরের প্রাণকেন্দ্রে এমন যাচ্ছেতাই অবস্থা মেনে নেওয়ার নয়। মনে হচ্ছে দেখার কেউ নেই। এই দোকানগুলো রাস্তা ও ফুটপাত দখল করায় পথচারীদের চলাচলে যেমন অসুবিধা হয়, তেমনি যানজট বাড়ে এবং নগরীর সৌন্দর্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৫ আগস্টের পর আবার আগের অবস্থা ফিরে এসেছে। এখন সব ফুটপাতই দখল হয়ে গেছে।
জিন্দাবাজার এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানান, এখন ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আগের মতো অভিযান চালানো হচ্ছেনা। মূলত দুপুরের পর থেকে হকাররা পসরা বসাতে শুরু করেন। সন্ধ্যার পর পুরো ফুটপাত হকারদের দখলে চলে যায়।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাম্মদ রজাই রাফিন সরকার বলেন, ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত রাখতে সকলের সদিচ্ছার প্রয়োজন। দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় হকাররা ফুটপাত দখল করে ফেলছেন। তবে পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সিটি করপোরেশন শিগগিরই অভিযানে নামবে। সিলেট মেট্রোপলিটন উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার কাজ মূলত সিটি করপোরেশনের। তবু আমরা জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করি।
























