সুনামগঞ্জে সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে অভিযোগ বিভাগীয় কমিশনারের আদেশ গ্রহন করলেন ডিসি
- আপডেট সময় : ০২:৩৮:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ২২৬ বার পড়া হয়েছে
রুহুল আমীন তালুকদার, সিলেট :
স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের, ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়), সুনামগঞ্জ জেলার সদর উপজেলাধীন মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের হাওর এলাকার উন্নয়নের নামে ক্ষতিগ্রস্হ বাধ মেরামত নদী/খাল পূনঃ খনন বাস্তবায়নে উপজেলার জালালপুর পানি ব্যবস্হাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড-এ ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও হাওর পাড়ের নিরীহ কৃষকদের মালিকানা কৃষি জমি জরব দখল ও মৎস্য খামার স্হাপনের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করতে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের আদেশের অনুলিপি পেলেন জেলা প্রশাসক।
৯ডিসেম্বর( সোমবার) দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্হিত হয়ে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের আদেশের অনুলিপি ও অভিযোগের ছায়ালিপি জেলা প্রশাসকের কাছে দেন অভিযোগকারী ডাঃ সেলিম আহমদ ও এখলাছুর রহমান। তিনি আদেশের কপি পেয়ে তাৎক্ষণিক উপজেলার জালালপুর পানি ব্যবস্হাপনা সমবায় সমিতির, উপ-প্রকল্পগুলোর চুড়ান্ত কিস্তির (অর্থ) বিল পাস না করতে সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার জালালপুর সাকিনের- মৃত সুনু মিয়ার ছেলে, ডাঃ সেলিম আহমদ, মৃত কুদ্রত আলীর ছেলে, একলাছুর রহমান, আব্দুল মতলিবের মেয়ে, শাফিয়া বেগম, শহীদুল হকের স্ত্রী, মেহেরুন নেছা, মৃত কমর আলীর ছেলে,ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান, আকিকুর রহমান, ইউছুফ জামান ও দুর্লভপুর সাকিনের- মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে, (ইমাম) মতিউর রহমান, রতনপুর সাকিনের- শাহনুর মিয়ার ছেলে, হেলাল উদ্দিন, সাদকপুর সাকিনের- মৃত ইদ্রিস আলীর, ছেলে ইলিয়াস আলী, ভবানীপুর সাকিনের- মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে, শামিম মিয়া। গত-১১নভেম্বর সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার বরাররে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হলো, আবু সৈয়দ মোঃ সাহেদুর রাহিম, (প্রকল্প পরিচালক), ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়), এলজিইডি, সদর দপ্তর ঢাকা, রওশন আরা বেগম (সভাপতি), জালালপুর পানি ব্যবস্হাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড, স্বামী নজির আহমদ, সাকিন- জালালপুর, ইউ/পি- মোল্লাপাড়া, উপজেলা- সনামগঞ্জ সদর, জেলা- সুনামগঞ্জ, হাবিবুর রহমান (সাধারণ সম্পাদক), জালালপুর পানি ব্যবস্হাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড, পিতা মৃত আব্দুল মনাফ, সাকিন- জালালপুর, ইউ/পি- মোল্লাপাড়া, উপজেলা- সুনামগঞ্জ সদর, জেলা- সুনামগঞ্জ, নূরুল হক (চেয়ারম্যান), মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, পিতা সিতারা মিয়া, সাকিন- লালপুর, ইউ/পি- মোল্লাপাড়া, উপজেলা- সুনামগঞ্জ সদর, জেলা- সুনামগঞ্জ, মোঃ মাহবুুব আলম (নির্বাহী প্রকৌশলী), ঠিকানা- কর্মস্হল সুনামগঞ্জ এলজিইডি অফিস, সুনামগঞ্জ, আনোয়ার হোসেন (উপজেলা প্রকৌশলী), ঠিকানা- কর্মস্হল, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা এলজিইডি অফিস, জেলা- সুনামগঞ্জ, শাহিন আলম (সার্ভেয়ার), সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা (ভূমি) অফিস, জেলা- সুনামগঞ্জ।
ভূক্তভোগীদের অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি)’র ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়), বিভিন্ন হাওর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্হ বাধ মেরামত নদী/ খাল পূনঃ খননের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের স্কীম প্রস্তুত ও বাস্তবায়নের লক্ষে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো- অপারেশন এজেন্সী (জাইকা) নীতিমালা ২০১৮ এর ১৪নং অনুচ্ছেদ মোতাবেক জাইকা স্কীম প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন কল্পে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের নদী/খাল পূনঃ খনন ও ফ্রেমের উভয় পাশে বৃক্ষ রোপন রেফারেন্স বেডব্লক বাস্তবায়ন করতে উপজেলার জালালপুর পানি ব্যবস্হাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড এর ১১টি উপ-প্রকল্পকে স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে (এক কোটি পঞ্চাশ লক্ষ পঞ্চান্ন হাজার আটশত চুয়ান্ন) টাকা বরাদ্ধ অনুমোদন দেয়া হয়।
উপ-প্রকল্পগুলোর অধীন হাওর পাড়ের কৃষক ও স্হানীয়দের সাথে আলাপ আলোচনা করে তাদের মতামতের ভিত্তিতে এলসিএস সদস্য নিয়োগ করে তাদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাটির কাজ করার উপযুক্ত করে গড়ে তুলে খাল পুনঃ খনন বাস্তবায়নের জন্য জালালপুর পানি ব্যবস্হাপনা সমবায় সমিতির, প্রকল্প পরিচালক, নির্বাহী প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলী, ও এলসিএস গ্রুপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে গত- ১৭ জানুয়ারী চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হয়।
চুক্তিপত্রে উল্লেখ আছে তালিকাভূক্ত ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সদস্য ছাড়া অন্য কোন সদস্য প্রকল্পগুলোতে মাটির কাজ করতে পারবে না। প্রতিপক্ষ নূরুল হক এলাকার প্রভাবশালী, স্হানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক দল বিএনপি’র নেতা হওয়ায় তার সকল অপকর্মের সহচর প্রতিপক্ষ সমিতির, সভাপতি রওশন আরা, সাধারণ সম্পাদক, হাবিবুর রহমান তাদের প্রভাব খাটাইয়া অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার মাধ্যমে প্রতিপক্ষ প্রকল্প পরিচালক, সাহেদুর, নির্বাহী প্রকৌশলী, মাহবুব, উপজেলা প্রকৌশলী, আনোয়ার, সার্ভেয়ার, শাহিনকে তাদের অস্তবসে নিয়ে নূরুল হক, রওশন আরা ও হাবিবুরের বাধ্যগত নিকটআত্মীয় ও একই গোষ্টিয় লোক নিয়ে নামে মাত্র লোক দেখানো এলসিএস গ্রুপ গঠন করিয়া মুলত প্রকল্পগুলোর মাটির কাজ করা হয়েছে যান্ত্রিক যন্ত্র দিয়ে শ্রমিক দিয়ে নয়। এতে হাওর পাড়ের কৃষকরা যে সুবিধা/উপকার পাওয়ার কথা ছিল তা থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করে লাভবান হয়েছে দুর্নীতিবাজ সমিতির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ও ইউ/চেয়ারম্যান।
প্রকল্পগুলোর মাটির কাজ/খাল খনন বাস্হবায়ন শেষে ৬.০৩৭ কিলোমিটারে ফ্রেমের উভয় পার্শ্বে বৃক্ষ রোপন ও রেফারেন্স বেডব্লক স্হাপন সিডিউলে থাকলেও প্রতিপক্ষরা সিডিউল অনুযায়ী কাজ করে নাই অভিযোগকারীগণের দাবী করছেন।প্রতিপক্ষগণ একে অপরের যোগসাজসে প্রকল্পগুলোর কাজ সমাপ্ত না করেই তড়িগড়ি করে এলসিএস’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মাধ্যমে চুড়ান্ত কিস্তির অর্থ উত্তোলন করে আত্মসৎ করার হীন পায়তারা করছে।
প্রতিপক্ষ নূরুল হক, রওশন আরা ও হাবিবুর তাদের অসৎ উদ্দেশে তলদেশ খনন না করে শুধু মাত্র পাড়ের মাটি কেটে প্রস্হ বাড়ানোর সুবিধার্থে অভিযোগকারীগণ ও আশপাশের নিরীহ কৃষকদেরকে প্রাণ নাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলায় জেল জুলুমের ভয়ভীতি দেখাইয়া তাদের স্বত্ব দখলীয় মালিকানাধীন কৃষি জমি জরব দখল করে মৎস্য খামার স্হাপন করেছে।
সরকারী প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ আছে মালিকানাধীন জমির মালিকগণ স্ব- ইচ্ছায় তাদের জমিতে মাটি ফেলতে বা উত্তোলন করতে বাধা দেয় তাহলে জমির প্রকৃত মুল্য পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক প্রতিপক্ষগণ সরকারী প্রজ্ঞাপনের তোয়াক্কা করেনি। অভিযোগকারীগন তারা দাবী করছেন তাদের জমি জবর দখল ও ফলানো ফসল নষ্ট করে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতিসাধ করেছে প্রতিপক্ষরা।
শুধু তাই নয়, প্রতিপক্ষ নূরুল হক এত জঘন্য ও ভয়ষ্কর প্রকৃতির দুর্নীতিবাজ পর পর (দুই) বার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় দুর্নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে থাকে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্হ বাধ মেরামত নদী/খাল পূনঃ খননের জন্য স্কীম প্রস্তুত ও বাস্তবায়নের লক্ষে কাবিকা নীতিমালা ২০১৭ এর ২.২ অনুচ্ছেদ মোতাবেক কাবিকা স্কীম প্রনয়নে ও বাস্তবায়ন কল্পে সদর উপজেলার ৫টি প্রকল্পে ডেকার হাওরে (এক কোটি তিরাশি লক্ষ) টাকা দুর্নীতি করায় তার বিরুদ্ধে উপজেলা জালালপুর সাকিনের মৃত লাল মিয়ার ছেলে, আজাদ মিয়া বাদী হয়ে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালত, সুনামগঞ্জ-এ দন্ডবিধি আইনের ৪০৯/১০৬ তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করেন। যাহার স্পেশাল পিটিশন মামলা নং- ১২/২০১৮ইং, ২আগস্ট ২০১৮খ্রিঃ মামলাটি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয়, ঢাকা, তদন্তাধীন রয়েছে।
























