সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান হবিগঞ্জ সীমান্তে পুশইন সতর্ক ৫৫ বিজিবি, পাহারায় চা বাগানের শ্রমিকরাও সংবাদপত্র হকার্স সমবায় সমিতির বার্ষিক বনভোজন ও পুনর্মিলনী সিলেট কাষ্টঘরে বিশেষ অভিযান, উদ্ধার ৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা বড়ি ও নগদ ১ লাখ ৮৬ হাজার ২০৬টাকাসহ গ্রেফতার ১ সিলেটে মাদক আস্তানায় গ্রেফতার ২ সিলেটে পুলিশের চিরুনি অভিযান, গ্রেফতার ৯৪ সিলেট অস্ত্র ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক উদ্ধার সিলেটে নতুন জেলা প্রশাসক- রেজা হাসান সিলেটে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু,নগরবাসীর সহযোগিতা চাইলেন সিসিক প্রশাসক আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার- শিক্ষামন্ত্রী লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প

১৭ দিন থেকে তামাবিল স্থলবন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০৭ বার পড়া হয়েছে

 গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :

ব্যস্ততম এ স্থলবন্দরে পাথর, কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবিরতা নেমে এসেছে। তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ১৭ দিন ধরে কয়লা- পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। পাথরবাহী ট্রাকে কাদামাটি ও আবর্জনাসহ  ওয়েট  স্কেলে ওজন  জটিলতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্ব  ব্যবসায়ীরা আমদানি বন্ধ রেখেছেন।বিশেষ করে এ কয়দিনে আমদানি বন্ধ থাকায় সরকার  কোটি টাকার  রাজস্ব  থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পাথরবাহী ট্রাকে কাদামাটি ময়লা ও আবর্জনা থাকলেও ওয়েট স্কেলে কড়াকড়ি ওজন নিয়ন্ত্রণের কারণে কয়লা-পাথর আমদানি থেকে বিরত রয়েছেন তারা। এ অবস্থায় কয়লা পাথর আমদানি  অব্যাহত রাখলে পাথরবাহী  প্রতি ট্রাকে নুন্যতম ১০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে।বিষয়টি নিয়ে কাস্টম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললেও কোন সুরাহ পাচ্ছেন না আমদানি কারকরা। ওই কারণে বাধ্য হয়ে আমদানি বন্ধ রেখেছেন তারা।

জানা যায়,সরকারের রাজস্ব আয়ে অন্যতম   সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল স্থলবন্দর। কিন্তু গত ১৭ দিন ধরে ওই স্থলবন্দরে নেই কোন ব্যস্ততা।ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও আমদানি বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানালেও কোন পদক্ষেপ নেই কর্তৃপক্ষের । এতদিন সুরাহার জন্য কাস্টম কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপে যায়নি কিন্ত ওয়েট স্কেল নিয়ে কড়াকড়ি জটিলতার সমাধান করেন নি।এরকম বিদ্যমান পরিস্থিতিতে  স্থানীয় কয়েক শতাধিক বিনিয়োগকারী আমদানি বন্ধ রাখায় প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এই পরিস্থিতির অবসানে আমদানিকারকরা বাংলাদেশ  স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে বারবার  যোগাযোগ করেও কোন লাভ হয়নি।

মেসার্স রেজা এন্টারপ্রাইজ স্বত্বাধিকারী ইলিয়াস উদ্দিন লিপু জানান, ওজন জটিলতায় আমরা পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছি।লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে পাথর আমদানি করে যেখানে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। ওপারে পাথর কয়লাবাহী শতশত ট্রাক লাইনে দাঁড়িয়ে আছে, রপ্তানিকারকরা আমাদের কাছে এসব পণ্য বাহী ট্রাকের (ক্ষতিপূরণ) দাবী করছে।

তামাবিল স্থলবন্দর পাথর আমদানি গ্রুপের আহবায়ক, হেনরি লামিন জানান, তামাবিল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ  থেকে পাথর আমদানিতে  কোন বাঁধা নেই। ভারত থেকে পাথরবাহী ট্রাকটি যান্ত্রিকভাবে লোড হওয়াতে  কাদামাটি ও ময়লা আবর্জনা নিয়ে আসে। কাদামাটি ও ময়লা আবর্জনার ওয়েট স্কেলে দামটাও পেমেন্ট দিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।আগে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ কাদামাটি ও ময়লা আবর্জনার ওজনের  বিষয়ে  কিছুটা ছাড় দিলেও বর্তমানে কর্তৃপক্ষ ওজনে এক কেজিও ছার দিতে রাজি  না।এতে করে  ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। লোকসানের জন্যই ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ অবস্থান  থেকেই  গত ১৭ দিন ধরে  কয়লা- পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন।

তামাবিল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে।মিথানল,চাল, মিডিয়াম পেপার  আমদানি হচ্ছে। স্বল্প কিছু সংখ্যক মাঝে মাঝে রপ্তানি ও হচ্ছে।তবে  স্থলবন্দরের প্রধান প্রডাক্ট  কয়লা- পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে  বন্ধ নেই। শুনেছি কাদামাটি ময়লা আবর্জনাসহ ওয়েট  স্কেলে নিয়েও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়লা- পাথর আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা আমদানি বন্ধ করেছেন। আমরা তাদের সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

১৭ দিন থেকে তামাবিল স্থলবন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ

আপডেট সময় : ০২:১৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৪

 গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :

ব্যস্ততম এ স্থলবন্দরে পাথর, কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবিরতা নেমে এসেছে। তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ১৭ দিন ধরে কয়লা- পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। পাথরবাহী ট্রাকে কাদামাটি ও আবর্জনাসহ  ওয়েট  স্কেলে ওজন  জটিলতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্ব  ব্যবসায়ীরা আমদানি বন্ধ রেখেছেন।বিশেষ করে এ কয়দিনে আমদানি বন্ধ থাকায় সরকার  কোটি টাকার  রাজস্ব  থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পাথরবাহী ট্রাকে কাদামাটি ময়লা ও আবর্জনা থাকলেও ওয়েট স্কেলে কড়াকড়ি ওজন নিয়ন্ত্রণের কারণে কয়লা-পাথর আমদানি থেকে বিরত রয়েছেন তারা। এ অবস্থায় কয়লা পাথর আমদানি  অব্যাহত রাখলে পাথরবাহী  প্রতি ট্রাকে নুন্যতম ১০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে।বিষয়টি নিয়ে কাস্টম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললেও কোন সুরাহ পাচ্ছেন না আমদানি কারকরা। ওই কারণে বাধ্য হয়ে আমদানি বন্ধ রেখেছেন তারা।

জানা যায়,সরকারের রাজস্ব আয়ে অন্যতম   সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল স্থলবন্দর। কিন্তু গত ১৭ দিন ধরে ওই স্থলবন্দরে নেই কোন ব্যস্ততা।ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও আমদানি বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানালেও কোন পদক্ষেপ নেই কর্তৃপক্ষের । এতদিন সুরাহার জন্য কাস্টম কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপে যায়নি কিন্ত ওয়েট স্কেল নিয়ে কড়াকড়ি জটিলতার সমাধান করেন নি।এরকম বিদ্যমান পরিস্থিতিতে  স্থানীয় কয়েক শতাধিক বিনিয়োগকারী আমদানি বন্ধ রাখায় প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এই পরিস্থিতির অবসানে আমদানিকারকরা বাংলাদেশ  স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে বারবার  যোগাযোগ করেও কোন লাভ হয়নি।

মেসার্স রেজা এন্টারপ্রাইজ স্বত্বাধিকারী ইলিয়াস উদ্দিন লিপু জানান, ওজন জটিলতায় আমরা পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছি।লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে পাথর আমদানি করে যেখানে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। ওপারে পাথর কয়লাবাহী শতশত ট্রাক লাইনে দাঁড়িয়ে আছে, রপ্তানিকারকরা আমাদের কাছে এসব পণ্য বাহী ট্রাকের (ক্ষতিপূরণ) দাবী করছে।

তামাবিল স্থলবন্দর পাথর আমদানি গ্রুপের আহবায়ক, হেনরি লামিন জানান, তামাবিল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ  থেকে পাথর আমদানিতে  কোন বাঁধা নেই। ভারত থেকে পাথরবাহী ট্রাকটি যান্ত্রিকভাবে লোড হওয়াতে  কাদামাটি ও ময়লা আবর্জনা নিয়ে আসে। কাদামাটি ও ময়লা আবর্জনার ওয়েট স্কেলে দামটাও পেমেন্ট দিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।আগে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ কাদামাটি ও ময়লা আবর্জনার ওজনের  বিষয়ে  কিছুটা ছাড় দিলেও বর্তমানে কর্তৃপক্ষ ওজনে এক কেজিও ছার দিতে রাজি  না।এতে করে  ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। লোকসানের জন্যই ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ অবস্থান  থেকেই  গত ১৭ দিন ধরে  কয়লা- পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন।

তামাবিল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে।মিথানল,চাল, মিডিয়াম পেপার  আমদানি হচ্ছে। স্বল্প কিছু সংখ্যক মাঝে মাঝে রপ্তানি ও হচ্ছে।তবে  স্থলবন্দরের প্রধান প্রডাক্ট  কয়লা- পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে  বন্ধ নেই। শুনেছি কাদামাটি ময়লা আবর্জনাসহ ওয়েট  স্কেলে নিয়েও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়লা- পাথর আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা আমদানি বন্ধ করেছেন। আমরা তাদের সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।